অসামরিকবিমানপরিবহণমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু অ্যারোড্রোম উন্নয়নের বিশেষ কর্মসূচীর সূচনা করেছেন

প্রকাশিত: 22 SEP 2026 7:10PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

উড়ান ( উড়ে দেশ কা আম আদমী) প্রকল্পর পরবর্তী পর্যায়ে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে ২১টি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। এর ফলে দেশের যে সব অংশে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে নি, বা এই ব্যবস্থা দুর্বল রয়েছে, সেখানে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলির যৌথভাবে বিমান পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটবে।  

 

নতুনদিল্লির চাণক্যপুরীতে 'দ্য অশোক'-হোটেলে এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী শ্রী কিনজরাপ্পু রামমোহন নাইডু, দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শ্রী মুরলিধর মোহল; মন্ত্রকের সচিব শ্রী সমীর কুমার সিনহা; এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এএআই)-র চেয়ারম্যান শ্রী বিপিন কুমার এবং মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।  

 

শ্রী রাম মোহন নাইডু কিনজরাপ্পু বলেছেন, "এই সমঝোতা পত্রগুলির মাধ্যমে 'টিম ভারত' ভারতের আঞ্চলিক বিমান পরিষেবাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে 'বিকশিত রাজ্য'-ই হলো 'বিকশিত ভারত'-এর ভিত, আর এই যাত্রায় প্রতিটি রাজ্যই সমান অংশীদার।"      

 

'উড়ান' প্রকল্পের সম্পর্কে মন্ত্রী আরও জানান, "সূচনার পর থেকে 'উড়ান' প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৮৭টি রুট ও ৯৫টি অ্যারোড্রোম বা ছোট বিমানবন্দর ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে; এর মাধ্যমে ৩.৬৬ লক্ষেরও বেশি উড়ানে প্রায় ১.৭১ কোটি যাত্রী যাতায়াত করেছেন। তবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এর প্রভাব। ২০১৪ সালে বিমান পরিবহন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান হয়েছিল প্রায় ৩০ লক্ষ। বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৭৭ লক্ষে পৌঁছেছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে তা ২ কোটি ৫০ লক্ষতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের তেজু এবং বিহারের পূর্ণিয়ার মতো বিমানবন্দরগুলি আঞ্চলিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। এগুলি একসময় বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল।"  

   

২০২৬-এ যোধপুরে ৪ জুলাই 'উড়ান'-এর পরবর্তী পর্যায়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ১৬ জুলাই আয়োজিত 'উড়ান' সম্পর্কে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ওই কর্মশালায় অসামরিক বিমান পরিবহন ক্ষেত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য একত্রিত হন।

 

শ্রী নাইডু আরও বলেন, "পরিমার্জিত 'উড়ান' প্রকল্পটি চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এগুলি হল: যাত্রীদের জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী পরিষেবা, কর্মসূচীর মেয়াদ, প্রকল্পের জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্বচ্ছভাবে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা। আমরা সবাই মিলে 'মেড ইন ইন্ডিয়া' কর্মসূচীতে অসামরিক বিমান তৈরির বৃহত্তর লক্ষ্যের বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত একটি পরিবেশ গড়ে তুলছি। 'উড়ান'-এর এই পরবর্তী পর্যায়টিই আমাদের সেই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।" ‘উড়ান’ প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়টি নীতি-নির্ধারণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পর বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পর্যায়ে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: কেন্দ্র ও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করা, বিমান চলাচলের পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ।

 

 অসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী শ্রী মুরলিধর মোহোল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সুদক্ষ নেতৃত্বে ২০১৬ সাল থেকে ‘উড়ান’ প্রকল্প দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অনেক দূর গ্রসর হয়েছে। এখন ‘সংশোধিত উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় আমরা আগামী দশ বছরে ১২০টি নতুন গন্তব্য নির্ধারণ করেছি। আগামী দিনে আরও ৪ কোটি যাত্রী যাতে যাতায়াত করতে পারেন, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করব। ২০টিরও বেশি রাজ্যের যৌঠ উদ্যোগে আমরা এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি এবং ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহন ক্ষেত্রের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছি।”   

 

অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক, অংশগ্রহণকারী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি এবং 'উড়ান' প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা এএআই -এর মধ্যে মোট ২১টি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতাপত্রগুলি কেন্দ্র, রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং AAI-এর মধ্যে সমন্বিত এক কর্মসূচীর মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো গড়ে তুলবে, যার লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির যোগাযোগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে বিমান চলাচলের পরিকাঠামো গড়ে তোলা, প্রয়োজনীয় সম্পদ চিহ্নিত করা, সেগুলির উন্নয়ন নিশ্চিত করা।   

 

অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী ছোট বিমানবন্দরগুলির উন্নয়নের জন্য 'চ্যালেঞ্জ মোড পোর্টাল'-এর সূচনা করেন এবং 'উড়ান' প্রকল্পের রুটের নিলাম প্রক্রিয়ার পরবর্তী পর্যায়ের জন্য নথিপত্র প্রকাশ করেন।

 

অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনগুলি এখন একটি বিশেষ পোর্টালের মাধ্যমে 'উড়ান' প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ে বিমান অবতরণ ক্ষেত্র ও হেলিপ্যাডগুলোর নাম প্রস্তাব করতে পারবে। এর মাধ্যমে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি বিমান পরিবহণের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় স্থানগুলিকে চিহ্নিত করতে পারবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদার ভিত্তিতে বিমান চলাচলের পরিকাঠামো তৈরি ও তার মানোন্নয়ন সহজতর হবে।   

 

রুট নিলাম প্রক্রিয়ায় বিমান সংস্থাগুলিকে 'উড়ান'-এর চিহ্নিত রুটগুলোর জন্য দর প্রস্তাব করার আহ্বান জানানো হবে। এর পর স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় রুট ও অপারেটর নির্বাচনের সুযোগ করে দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়াটি এমন সব অঞ্চলে বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণে সহায়তা করবে যেখানে এখন পর্যন্ত কোনো পরিষেবা নেই বা অপর্যাপ্ত পরিষেবা রয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলগুলির যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে— যা বৃহত্তর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, পর্যটন, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।   

 

অনুষ্ঠানে 'উড়ান' প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ের ওপর একটি কারিগরি আলোচনা পর্বও ছিল। এই আলোচনায় ছোট ছোট বিমানবন্দরগুলির উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে 'উড়ান' রুট নির্বাচনের আসন্ন নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

 

 SC/CB/DM


(রিলিজ আইডি: 2313791) ভিজিটরের কাউন্টার : 6
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Marathi , Tamil , Telugu