প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিমবঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অন্নপূর্ণা যোজনার কিস্তি প্রকাশের সময় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা ভাষান্তর

প্রকাশিত: 17 SEP 2026 2:23PM by PIB Kolkata

দিল্লি, ১৭ সেপ্টেম্বর,২০২৬

 

নমস্কার।

বাংলার সকল মাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম ও শুভেচ্ছা!

আজকের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আপনাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বাংলার মা-বোনেদের কাছ থেকে আমি সবসময়ই অপরিসীম স্নেহ ও ভালোবাসা পেয়েছি। আপনাদের আস্থা ও আন্তরিকতা আমার কাছে এক বিরাট শক্তির উৎস।

 

আজ বিশ্বকর্মা পুজো। বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে আপনাদের সকলকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।

 

বন্ধুগণ,

এই শুভ মুহূর্তে বাংলায় একটি নতুন ঐতিহ্য আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। আজ অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে বাংলার মা-বোনেদের ক্ষমতায়নের সঙ্গে এক নতুন উদ্যোগ যুক্ত হচ্ছে। এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন যে সকল বোন, তাঁদের প্রত্যেককে আমি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।

 

বন্ধুগণ,

আমাদের ঘরে মা-বোনেরা অনেক দায়িত্ব সামলান। ছোট-বড় নানা সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে একজন মহিলা পরিবারের প্রতিটি বিষয়ের যত্ন নেন। আর যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের চিন্তা কিছুটা কমে, তখন তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। অন্নপূর্ণা যোজনা বাংলার মহিলাদের আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি করার এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অর্থ বাংলার বোনেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে—এই অর্থের জন্য তাঁদের কারও কাছে হাত পাততে হয় না। তাঁদের জীবনে এটি এক বড় সহায়তা।

 

বন্ধুগণ,

আজ অন্নপূর্ণা যোজনার চতুর্থ কিস্তি প্রায় দেড় কোটি বোনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা। কোনও মায়ের কাছে এই অর্থ তাঁর সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটাতে সহায়ক হতে পারে। কোনও বোনের কাছে এটি ওষুধপত্র বা সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।

 

বন্ধুগণ,

আমাদের লক্ষ্য হল, বাংলার মহিলাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং এগিয়ে যাওয়ার সাহস আরও শক্তিশালী করা। অন্নপূর্ণা যোজনা এই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অন্নপূর্ণা যোজনার সকল উপভোক্তা মা ও বোনকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

 

বন্ধুগণ,

এই বছর ৪ মে বাংলা পরিবর্তনের এক নতুন পথ বেছে নিয়েছে। আর আমি জানি, এই পরিবর্তনে বাংলার মা ও বোনেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আপনারা জীবনে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন। অনেক কিছুর জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন। তাই আমাদের নতুন সরকারের সামনে প্রথম পরীক্ষা ছিল বাংলার মহিলাদের জীবনকে সহজ করে তোলা, তাঁদের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি করা। সেই কারণেই আমরা যে মূলমন্ত্র গ্রহণ করেছি, তা হল—কথা কম, কাজ বেশি।

 

বন্ধুগণ,

অন্নপূর্ণা যোজনা এই ভাবনা থেকেই শুরু হয়েছিল। সরকার গঠনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে যায়। আর আজ এত বিপুল সংখ্যক মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। কোনও কাটমানি নেই, কোনও মধ্যস্বত্বভোগী নেই!

 

আমাদের সরকারের লক্ষ্য হল, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে যেন একজনও যোগ্য মহিলা বঞ্চিত না হন। এই লক্ষ্যেও দ্রুত কাজ এগিয়ে চলেছে।

 

বন্ধুগণ,

মা, বোন ও কন্যাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত সমস্যার সমাধান করাকে বিজেপি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। গর্ভাবস্থায় শিশুর পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে আমরা মাতৃ বন্দনা যোজনা চালু করেছি এবং মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। গর্ভেই কন্যাসন্তানকে হত্যা রুখতে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’-এর মতো গণআন্দোলন শুরু করেছি। শৌচালয়ের অভাবে যাতে কন্যাদের পড়াশোনা বন্ধ না হয়ে যায়, সেজন্য লক্ষ লক্ষ শৌচালয় নির্মাণ করেছি। তাদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় উচ্চ সুদের সুবিধা দিয়েছি। কন্যারা যাতে সৈনিক স্কুলে পড়াশোনা করতে পারে, সেজন্য সেই স্কুলগুলির দরজা তাদের জন্য খুলে দিয়েছি। কন্যারা যাতে নিজেদের কাজ শুরু করতে পারে, সেজন্য জামানতমুক্ত ঋণের মাধ্যমে মুদ্রা যোজনা চালু করেছি। সন্তান জন্মের পরেও যাতে মায়েরা তাঁদের চাকরি চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছি। গ্রামে নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে রেকর্ড পরিমাণ সহায়তা দিয়েছি। রান্নাঘরের ধোঁয়া থেকে কন্যা ও মহিলাদের মুক্তি দিতে উজ্জ্বলা গ্যাস সংযোগ দিয়েছি। জল আনতে যাওয়ার সংগ্রাম থেকে তাঁদের মুক্তি দিতে ‘হর ঘর নল সে জল’ প্রকল্প চালু করেছি। অন্ধকার থেকে তাঁদের মুক্তি দিতে সৌভাগ্য যোজনার আওতায় বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছি। অর্থের অভাবে যাতে কন্যারা তাঁদের অসুস্থতার কথা গোপন না করেন, সেজন্য আয়ুষ্মান কার্ডের সুরক্ষা দিয়েছি। কন্যাদের ব্যাঙ্কিং পরিষেবার আওতায় আনতে জনধন যোজনার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছি। কন্যাদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়িতে যৌথ মালিকানার ব্যবস্থা করেছি।

 

বন্ধুগণ,

বাংলার অন্যতম বড় যন্ত্রণা হল, গত ১২ বছরে বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প সময়মতো এখানে পৌঁছয়নি। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দরিদ্র পরিবারগুলি। এখন বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর এই থমকে থাকা প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যেমন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় স্থায়ী বাড়ি পাওয়ার জন্য ৫০ লক্ষেরও বেশি নতুন দরিদ্র পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনাও এখানে কার্যকর করা হয়েছে। প্রতিটি বকেয়া প্রকল্প, প্রতিটি আটকে থাকা প্রকল্প এখন বাংলায় নতুন গতি পাচ্ছে।

 

আর এই কাজে বাংলার মহিলা ও সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ বিজেপির সঙ্গে রয়েছে। তাই আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলি—আমরা সকলে মিলে একটি নতুন বাংলা গড়ে তুলব।

 

বন্ধুগণ,

দেশ একটি উন্নত ভারতের সংকল্প গ্রহণ করেছে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, বাংলার মা-বোনেরা উন্নয়নের এই যাত্রাকে আরও গতিশীল করে তুলতে নিরন্তর অবদান রাখবেন। উন্নত বাংলার শক্তিতে উন্নত ভারতের সংকল্প আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

 

বন্ধুগণ,

আপনাদের স্নেহ ও আশীর্বাদ আমাদের নিরন্তর জনসেবায় অনুপ্রাণিত করে। অন্নপূর্ণা দিবস উপলক্ষে আপনাদের সকলকে আবারও জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। বিশ্বকর্মা পুজোর জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা!

 

ধন্যবাদ!

 

SC/


(রিলিজ আইডি: 2312624) ভিজিটরের কাউন্টার : 4
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Assamese , Punjabi , Gujarati , Telugu , Kannada , Malayalam