ক্রেতা, খাদ্যএবংগণবন্টনমন্ত্রক
পাইকারি ক্রেতাদের জন্য চিনি মজুত রাখার সময়সীমা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৩০ দিন করলো সরকার; তবে অতিরিক্ত মজুত শুধুমাত্র 'অ্যাডভান্স অথরাইজেশন স্কিম' (AAS) এবং 'ট্যারিফ রেট কোটা' (TRQ)-এর আওতায় আমদানি করা চিনি থেকেই সংগ্রহ করতে হবে
প্রকাশিত:
18 SEP 2026 2:47PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি,১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পাইকারি ক্রেতাদের জন্য চিনি মজুত রাখার সময়সীমা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৩০ দিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে শর্ত হলো, ১৫ দিনের সাধারণ সীমার অতিরিক্ত যে পরিমাণ চিনি মজুত রাখা হবে, তা অবশ্যই 'অ্যাডভান্স অথরাইজেশন স্কিম' (AAS) এবং 'ট্যারিফ রেট কোটা' (TRQ)-এর আওতায় আমদানি করা চিনি হতে হবে। খোলা বাজার থেকে কেনার ক্ষেত্রে মজুত রাখার সময়সীমা অপরিবর্তিত থাকবে। এছাড়া, সরকার পাইকারি ক্রেতাদের জন্য প্রতি শুক্রবার 'খাদ্য ও গণবণ্টন বিভাগ'-এর অনলাইন পোর্টাল (https://foodstock.dfpd.gov.in/)-এর মাধ্যমে চিনির মজুতের ঘোষণা ও সাপ্তাহিক তথ্য প্রকাশের একটি ব্যবস্থা চালু করেছে।@ https://foodstock.dfpd.gov.in/
চিনির বাজার স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল রাখার লক্ষ্যে সরকার চিনির প্রধান পাইকারি ক্রেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছে এবং তাদের পরামর্শগুলি যথাযথভাবে বিবেচনা করেছে।
বর্তমানে, যেসব পাইকারি ক্রেতা উৎপাদন বা ব্যবহারের কাঁচামাল হিসেবে মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহার বা ভোগ করেন, তাঁদের সর্বোচ্চ ১৫ দিনের ব্যবহারের সমপরিমাণ চিনি মজুত রাখার অনুমতি রয়েছে। পাইকারি ক্রেতারা বিশেষ করে আসন্ন উৎসবের মরসুমের কথা বিবেচনা করে এই সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। অভ্যন্তরীণ সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব যাতে না পড়ে এবং শিল্প-ব্যবহারের জন্য চিনির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ যাতে নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য তাঁরা 'অ্যাডভান্স অথরাইজেশন স্কিম' এবং 'ট্যারিফ রেট কোটা'-র আওতায় চিনি আমদানিকারকদের কাছ থেকে সরাসরি চিনি সংগ্রহের অনুমতি চেয়েছিলেন।
চিনির খুচরা মূল্য ১০% কমেছে
চিনির খুচরো মূল্য তার সর্বোচ্চ পর্যায় (আগস্ট মাসে কেজিপ্রতি ৬৫ টাকা) থেকে প্রায় ১০% কমে ৫৮.৫০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে, কারখানা-পর্যায়ের মূল্য (ex-mill price) ইতিমধ্যে প্রায় ২৫% হ্রাস পেয়েছে। সরকার লক্ষ্য করেছে যে খুচরা বাজারে দাম কমার গতি ধীর; এর থেকে বোঝা যায়, মিল-গেট বা কারখানা-পর্যায়ে চিনির দাম কমানোর সুফল সরবরাহ শৃঙ্খলের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে এখনও পুরোপুরি পৌঁছায়নি।
আজ আইএসএমএ, ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ এবং চিনি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে, খাদ্য ও গণবণ্টন বিভাগের সচিব উল্লেখ করেন যে, মিল-পর্যায়ে চিনির দাম কমানোর বিষয়টি খুচরা বাজারে এখনও পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
মিল-পর্যায়ে চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সুফল অবিলম্বে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার আজ চিনি ব্যবসায়ী, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। আসন্ন উৎসবের মরসুমে চিনি ও চিনি-ভিত্তিক পণ্য যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকে, তা সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করার জন্য সরকার সমগ্র চিনি সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সচিব জোর দিয়ে বলেন, ভারতের চিনি নীতির দুটি প্রধান স্তম্ভ হলো কৃষক ও ক্রেতা। আখ চাষিদের স্বার্থ এবং ক্রেতাদের জন্য চিনির দাম স্থিতিশীল ও যৌক্তিক রাখার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ১লা অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন চিনি মরসুম থেকে আখ চাষিরা কুইন্টাল প্রতি ৩৬৫ টাকা হারে বর্ধিত 'ন্যায্য ও লাভজনক মূল্য' পাবেন। চিনি ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি আখ চাষিদের লাভজনক আয় নিশ্চিত করতে সরকার প্রতি বছরই ন্যায্য মূল্য বাড়িয়ে চলেছে।
সরকার দেশীয় বাজারে চিনির সরবরাহ ও দামের ওপর নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রাখবে এবং প্রয়োজনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে ক্রেতাদের জন্য চিনির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও অন্যান্য শিল্পের চাহিদা পূরণ করাও সম্ভব হয়।
SC/SD/SG
(রিলিজ আইডি: 2312140)
ভিজিটরের কাউন্টার : 2