প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

প্যারিসে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 10 SEP 2026 3:22PM by PIB Agartala

নতুন দিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ, মহামান্য বিশিষ্ট অংশগ্রহণকারীগণ, নমস্কার!

আমি এই প্রথম আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে অংশ নিতে পেরে খুশি। আমি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ-কে ধন্যবাদ জানাই তাঁর সাদর আমন্ত্রণ এবং সময়মাফিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। শতাব্দীর পর শতাব্দী মহাকাশ আমাদের কল্পনাকে উসকে দিয়েছে। আজ, এটি বিশ্বে জীবনকে রূপ দিয়েছে, জলবায়ু ও শস্য থেকে সমুদ্র এবং মানবসমাজকে। মহাকাশের সম্ভাবনা অসীম। আমাদের দায়িত্ব সম্মিলিত দায়িত্ব। যেহেতু কক্ষপথ ভিড়ে আক্রান্ত এবং প্রযুক্তি যখন শক্তিশালী এবং অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা অগুন্তি, তখন আমাদের পছন্দের বিষয়টিকে স্পষ্ট করতেই হবে: সংঘর্ষের জায়গায় সহযোগিতা; স্বল্পমেয়াদি লাভের পরিবর্তে সুস্থায়িত্ব; এবং বর্জনের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তি।

বন্ধুগণ,

ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির মূলে আছে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ অর্থাৎ এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ। এই আদর্শ পৃথিবীর বাইরেও ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। আমরা আন্তর্জাতিক আইন, আলোচনা এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ভিত্তিতে সুরক্ষিত, নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং সুস্থায়ী মহাকাশকে সমর্থন করি। বৈজ্ঞানিক তথ্যের দ্বারা সাধারণের কল্যাণ করতে হবে মুক্ত এবং উদারভঙ্গিতে।

ভারতের মহাকাশ যাত্রায় প্রতিফলিত হয় এই দর্শন। এই যাত্রার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থান করছে যে ইসরো তা তাদের উৎকর্ষ এবং স্বল্পব্যয়ে অভিযানের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছে। এর সক্ষমতা সাহায্য করছে কৃষক ও মৎস্যজীবী, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা এবং নৌচলাচলে। ৩৪টি দেশের ৪৩০-এর বেশি উপগ্রহ ভারতীয় রকেটে চড়ে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছে। ইসরোর প্রযুক্তি এবং অংশীদারিত্ব শুধু ভারতকেই পরিষেবা দিচ্ছে তাই নয়, বৃহত্তর বিশ্বকেও পরিষেবা দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক এই আস্থার পেছনে আছে বহু প্রজন্মের ভারতীয় বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার, এবং প্রযুক্তিবিদদের নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রম। দিনরাত কাজ করে তাঁরা ইসরোর আন্তর্জাতিক খ্যাতি গড়ে তুলেছেন প্রতিটি অভিযানে, প্রতিটি সাফল্যে এবং মহাকাশযাত্রী দেশগুলির মধ্যে ভারতকে দিয়েছেন গর্বের স্থান।

চন্দ্রযান-৩ ভারতকে করেছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে নামা প্রথম দেশ। আদিত্য-এল১ সূর্যের রহস্য উন্মোচন করছে। গত বছর একজন ভারতীয় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ঘুরে এসেছেন। আগামী দিনে আমাদের লক্ষ্য ২০৩৫-এর মধ্যে একটি ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করা এবং ২০৪০-এর মধ্যে একজন ভারতীয়কে চাঁদে পাঠানো। এই সব প্রয়াসে আমাদের পথনির্দেশকারী নীতি খুব স্পষ্ট: এইসবের উপকার যেন পৌঁছয় সকল মানুষের কাছে।

ইসরোর পাশাপাশি, ভারতের বেসরকারি মহাকাশ ক্ষেত্রও এগিয়ে চলেছে বিপুলভাবে। উদ্যোগের প্রাণশক্তি যোগ দিচ্ছে ইসরোর উৎসর্ষের সঙ্গে। ১৯৬০-এ থুম্বায় ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি শুরু হওয়া থেকে ফ্রান্স একজন বিশ্বস্ত অংশীদার। আজ, আমাদের সহযোগিতা পৃথিবী পর্যবেক্ষণ এবং উন্নত প্রযুক্তি জুড়ে বিদ্যমান, বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষকে মিলিয়েছে মানবিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে। আমরা ফ্রান্স এবং সারা বিশ্বকে আমন্ত্রণ জানাই ভারতের পরবর্তী মহাকাশ অভিযানে সহযাত্রী হওয়ার জন্য।

বন্ধুগণ,

প্যারিসের এই মহাকাশ সম্মেলন থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হোক: আমরা একসঙ্গে অন্বেষণ করব, একসঙ্গে উদ্ভাবন করব এবং একসঙ্গে মহাকাশকে রক্ষা করব, সকল মানবসমাজের জন্য এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। আমি সকল অংশগ্রহণকারীকে আমার শুভেচ্ছা জানাই।

ধন্যবাদ।

*****

PS/Agt


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2308795) ভিজিটরদের কাউন্টার : 6
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English , Urdu , हिन्दी , Bengali , Assamese , Manipuri , Gujarati , Telugu , Kannada