PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

প্রতিটি স্কুল, একটি আদর্শ স্কুল

পিএম শ্রী এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী স্কুল গড়ে তোলার ভারতের উদ্যোগ

প্রকাশিত: 09 SEP 2026 12:17PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর  চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী স্কুল ফর রাইজিং ইন্ডিয়া (পিএম শ্রী) প্রকল্প-এর লক্ষ্য জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০-এর ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ১৪,৫০০-রও বেশি আদর্শ স্কুল গড়ে তোলা। ২০২২-২৩ থেকে ২০২৬-২৭ পর্যন্ত এই প্রকল্পে মোট ২৭,৩৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। স্কুলের পরিকাঠামো, শিক্ষাদান পদ্ধতি, অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের একবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজনীয় দক্ষতায় প্রস্তুত করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে মোট ১৩,০৯২টি স্কুল নির্বাচিত হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯০ শতাংশ ইতিমধ্যেই পূরণ হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন, নবোদয় বিদ্যালয় সমিতি এবং জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদের অধীন স্কুলগুলিও এর অন্তর্ভুক্ত।

নির্ধারিত গুণমানের মানদণ্ডের ভিত্তিতে তিনটি পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ পদ্ধতিতে স্কুলগুলি নির্বাচন করা হয়। আশপাশের স্কুলগুলির পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিএম শ্রী স্কুলগুলির ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিবর্তে সামগ্রিক, সমতাভিত্তিক এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পিএম শ্রী: দৃষ্টান্ত তৈরি করে নেতৃত্ব দেওয়া স্কুল

ভারতের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটছে। গুণমান, সমতা, অন্তর্ভুক্তি এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী শিক্ষার উপর গুরুত্ব বাড়ছে। দেশে ১৪.৭১ লাখ স্কুলে ২৪.৬৯ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি এবং শিক্ষার ফলাফল উন্নত করার উপর ক্রমশ বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের সামগ্রিক কাঠামো তৈরি করেছে জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০। পিএম শ্রী উদ্যোগ স্কুলস্তরে এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। ২০২২-এর ৭ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী স্কুল ফর রাইজিং ইন্ডিয়া (পিএম শ্রী) প্রকল্প একটি কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প। শিক্ষা মন্ত্রকের স্কুলশিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এই প্রকল্পের লক্ষ্য বিদ্যমান স্কুলগুলির গুণগত উন্নয়ন ঘটানো। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ কার্যকর করার দৃষ্টান্ত হিসেবে এই স্কুলগুলিকে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ২৭,৩৬০ কোটি টাকা। ১৪,৫০০-রও বেশি বিদ্যমান স্কুলকে আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই স্কুলগুলিতে নিরাপদ, উৎসাহব্যঞ্জক এবং স্বাগতপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে থাকবে উন্নতমানের পরিকাঠামো, উপযুক্ত শিক্ষাসামগ্রী এবং বিভিন্ন ধরনের শেখার সুযোগ।

পিএম শ্রী-র কৌশলগত গুরুত্ব

এই প্রকল্পের সহায়তা শুধু পৃথক স্কুলের উন্নয়নে সীমাবদ্ধ নয়। পিএম শ্রী স্কুলগুলিকে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবে। পরামর্শ, সহযোগিতা, সহায়তা এবং স্কুলগুলির সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আশপাশের স্কুলগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এর ফলে, ধীরে ধীরে আরও বেশি স্কুল আদর্শ মানে পৌঁছনোর সুযোগ পাবে।

এই প্রকল্পের মূল ভাবনা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা সারা জীবন শেখার মানসিকতা অর্জন করবে। শেখা, প্রয়োজন অনুযায়ী পুরনো ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা এবং নতুন করে শেখার ক্ষমতা তৈরি হবে।

বৃহত্তর লক্ষ্য হল সক্রিয়, উৎপাদনশীল এবং দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলা। তাঁরা সমতাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বহুত্ববাদী সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন।

পিএম শ্রী-র মাধ্যমে স্কুলশিক্ষা শক্তিশালী করা

প্রধানমন্ত্রী স্কুল ফর রাইজিং ইন্ডিয়া প্রকল্প পাঁচ বছর ধরে ২০২২-২৩ থেকে ২০২৬-২৭ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ২৭,৩৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রের অংশ ১৮,১২৮ কোটি টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্প অনুমোদন বোর্ডের বরাদ্দে কেন্দ্রের অংশ ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ২,৫২০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৫,২২৪ কোটি টাকা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ১০৭ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। পিএম শ্রী স্কুলগুলির উন্নয়নে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি এতে স্পষ্ট।

পিএম শ্রী স্কুল: জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর ভাবনা বাস্তবায়ন

পিএম শ্রী প্রকল্পে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর বিভিন্ন দিক বাস্তবে প্রয়োগের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু জ্ঞানগত বিকাশ নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

এই স্কুলগুলিতে সমতাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক ও ভাষাগত পটভূমি এবং বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাগত সক্ষমতার শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। নিরাপদ ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশে প্রতিটি শিশুকে স্বাগত, যত্ন এবং সহায়তা দেওয়ার উপর গুরুত্ব রয়েছে।

পিএম শ্রী-র অধীনে গুণমান ও উৎকর্ষের প্রধান দিক

পিএম শ্রী স্কুলগুলি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। উন্নতমানের শিক্ষা, আধুনিক পরিকাঠামো, অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর মূল ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা: বিভিন্ন সামাজিক ও ভাষাগত পটভূমি এবং বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাগত সক্ষমতার শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে উচ্চমানের, সমতাভিত্তিক ও আনন্দময় শিক্ষা দেওয়া।

পরামর্শ ও নেতৃত্ব: পিএম শ্রী স্কুলগুলি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অন্যান্য স্কুলকে নেতৃত্ব ও পরামর্শ দেবে।

পরিবেশবান্ধব স্কুল: স্কুলের গুণমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসাবে পরিবেশবান্ধব ও পরিবেশের পক্ষে সহায়ক ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া।

অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা: অভিজ্ঞতা, সামগ্রিক বিকাশ, সমন্বিত শিক্ষা, অনুসন্ধানভিত্তিক পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া। প্রাথমিক পর্যায়ে খেলা ও খেলনা-ভিত্তিক শিক্ষাও এর অন্তর্ভুক্ত।

শিক্ষার ফলাফল: পাঠ্যক্রম, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার ফলাফল ও অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগ শক্তিশালী করা।

উন্নতমানের পরিকাঠামো: পর্যাপ্ততা, কার্যকারিতা, সৌন্দর্য এবং নিরাপত্তার মতো মানদণ্ডে স্কুলের পরিকাঠামো মূল্যায়ন করা।

ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতা: একবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা। স্থানীয় উদ্যোগ ও ব্যবসার পরিবেশের সঙ্গে স্কুলগুলির যোগাযোগ বাড়ানো।

গুণমান মূল্যায়ন: স্কুল কোয়ালিটি অ্যাসেসমেন্ট ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে পিএম শ্রী স্কুলগুলির গুণমান মূল্যায়ন ও নজরদারির একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা তৈরি করা।

পিএম শ্রী স্কুলের ছয়টি স্তম্ভ

পিএম শ্রী স্কুল প্রকল্প জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র নয়টি অধ্যায় থেকে নির্ধারিত ছয়টি প্রধান স্তম্ভের বিভিন্ন উপ-বিষয়ের উন্নয়নের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

পিএম শ্রী স্কুল কিভাবে স্কুলশিক্ষায় পরিবর্তন আনছে
শিশুকে কেন্দ্র করে শিক্ষা

পিএম শ্রী স্কুলগুলি অনুমোদিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সিবিএসই অথবা সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর অধীনে ৫+৩+৩+৪ শিক্ষাক্রম ও শিক্ষাদান কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি জাতীয় পাঠ্যক্রম কাঠামো বা রাজ্য পাঠ্যক্রম কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষাদান করা হয়।

রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে পারে। জাতীয় শিক্ষানীতির মূল ভাবনা এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ বজায় রাখা হয়।

পিএম শ্রী স্কুলগুলিতে ব্যাগবিহীন দিন, স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে শিক্ষানবিশি, স্থানীয় শিল্প, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্য সম্পর্কে পড়াশোনা, গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন এবং স্থানীয় জ্ঞান ও প্রথা সংরক্ষণের মাধ্যমে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষাকেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও বহুভাষিক শিক্ষা

পিএম শ্রী স্কুলগুলি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক শিক্ষা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। গ্রামীণ ও পর্যাপ্ত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত বিভিন্ন জনসমাজের শিক্ষার্থীদের উচ্চমানের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

শিক্ষাগত বৈষম্য কমানোর উপর গুরুত্ব দিয়ে এই স্কুলগুলি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও সমতাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করেছে।

প্রাথমিক শ্রেণীগুলিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মাতৃভাষা, স্থানীয় বা আঞ্চলিক ভাষায় শিক্ষাদানে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ ইউডাইস প্লাস ২০২৫-২৬ তথ্য অনুযায়ী, পিএম শ্রী স্কুলগুলিতে ৬,১০২ জন সংস্কৃত শিক্ষক, ১,৯৯৪ জন উর্দু শিক্ষক এবং ৯,১৫২ জন আঞ্চলিক ভাষার শিক্ষক রয়েছেন।

স্থানীয় ভাষায় শেখার ক্ষেত্রে জনসমাজের অংশগ্রহণকেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি শিশুর প্রাথমিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা

পিএম শ্রী স্কুলগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হল শিক্ষাদান ও শেখার পরিবেশে প্রযুক্তির নিয়মিত ব্যবহার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা, স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ, ডিজিটাল শিক্ষামাধ্যম এবং স্টেম-ভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে আরও সক্রিয়, অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

এই উদ্যোগগুলির ফলে, বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ বাড়ছে। ডিজিটাল সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও বাড়ছে।

ডিআইকেএসএইচএ-র মতো মঞ্চে উচ্চমানের ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী সংরক্ষণ করা হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী ভাগ করে নেওয়া ও পৌঁছে দেওয়ার কাজও হয়। এর ফলে, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাদান পদ্ধতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশ

পিএম শ্রী স্কুলগুলিতে শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাঠ্যশিক্ষার সঙ্গে সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম, খেলাধুলা, শিল্পচর্চা এবং জীবনদক্ষতার শিক্ষা যুক্ত করা হয়েছে।

এই বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে শুধু পরীক্ষার ফল নয়, নেতৃত্বের ক্ষমতা, সৃজনশীলতা, সামাজিক ও আবেগগত দক্ষতা এবং আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতার বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিভিন্ন ধরনের শেখা ও অংশগ্রহণের সুযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের শিক্ষা, পেশা এবং সামাজিক জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজনীয় দক্ষতা, মানসিক দৃঢ়তা ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করা হচ্ছে।

শিক্ষক ও স্কুল নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা

জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির সহায়তায় পরিকল্পিত পেশাগত উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে পিএম শ্রী স্কুলগুলিতে শিক্ষকদের দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব শক্তিশালী করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগে সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচির জন্য প্রতি ডায়েটকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, বিশেষ শিক্ষক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষক এবং প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রতি শিক্ষক সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।

প্রধান শিক্ষকদের শিক্ষাগত নেতৃত্ব, স্কুল পরিচালনা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাদান পরিকল্পনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর ফলে, প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা এবং শিক্ষাগত পরিচালনা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

শিক্ষকদের সামগ্রিক অগ্রগতি পত্র, স্কুলের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা, প্রাথমিক স্তরের পরামর্শদান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে শিক্ষাদানের দক্ষতা বাড়ানো, স্কুল নেতৃত্ব শক্তিশালী করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার কর্মীদের নিয়মিত পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

দেশজুড়ে বাড়ছে পিএম শ্রী-র নেটওয়ার্ক

পিএম শ্রী উদ্যোগে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে মোট ১৩,০৯২টি নির্বাচিত স্কুলের একটি বৃহৎ জাতীয় নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন, নবোদয় বিদ্যালয় সমিতি এবং জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদের অধীন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

এই উদ্যোগের ভৌগোলিক বিস্তারও উল্লেখযোগ্য। দেশের ৭২৫টি জেলা এবং ৮,৩৪০টি ব্লক বা নগর স্থানীয় সংস্থায় এর উপস্থিতি রয়েছে।

গুণমানের মানদণ্ডের ভিত্তিতে নির্বাচন

পিএম শ্রী স্কুল নির্বাচন করা হয় চ্যালেঞ্জ পদ্ধতিতে। আদর্শ স্কুল হিসাবে গড়ে ওঠার জন্য স্কুলগুলি সহায়তা পাওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

তিনটি পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে নির্বাচন করা হয়।

প্রথম পর্যায়: সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর

রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি কেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করে। পিএম শ্রী স্কুলের নির্ধারিত গুণমানের মান পূরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির দায়বদ্ধতা এতে নির্ধারিত থাকে।

দ্বিতীয় পর্যায়: যোগ্য স্কুল চিহ্নিতকরণ

নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড এবং ইউডাইস প্লাস তথ্যের প্রাসঙ্গিক সূচকের ভিত্তিতে পিএম শ্রী স্কুল হিসাবে নির্বাচনের যোগ্য স্কুলগুলির তালিকা তৈরি করা হয়।

তৃতীয় পর্যায়: চ্যালেঞ্জ পদ্ধতিতে নির্বাচন

দ্বিতীয় পর্যায়ে চিহ্নিত যোগ্য স্কুলগুলি নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণের প্রমাণ দেওয়ার জন্য চ্যালেঞ্জভিত্তিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণের ভিত্তিতে স্কুলগুলি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

শর্ত পূরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন অথবা নবোদয় বিদ্যালয় সমিতির কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই ও প্রত্যয়ন করে। এরপর স্কুলগুলির তালিকা শিক্ষা মন্ত্রকের কাছে সুপারিশ করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রকে স্কুলশিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি চূড়ান্তভাবে স্কুল নির্বাচন করে।

স্কুলগুলিকে পাকা ভবন, বাধাহীন প্রবেশাধিকার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পৃথক শৌচাগার, পানীয় জল, হাত ধোয়ার সুবিধা, বিদ্যুৎ, শিক্ষকদের পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে হয়।

প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে স্কুলের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের গড়ের তুলনায় বেশি হতে হয়। পাঠাগার অথবা খেলাধুলার সুবিধাও থাকতে হয়।

চ্যালেঞ্জ পদ্ধতিতে শহরাঞ্চলের স্কুলগুলিকে ন্যূনতম ৭০ শতাংশ নম্বর পেতে হয়। গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর প্রয়োজন।

মূল্যায়নে পরিকাঠামো, শিক্ষার ফলাফল, শিক্ষাদান পদ্ধতি, পিএম পোষণ, বৃত্তিমূলক শিক্ষা, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং অংশীজনের দায়বদ্ধতার মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়।

বৃহত্তর পরিবর্তনের আদর্শ হিসাবে স্কুল

পিএম শ্রী স্কুল উন্নয়নে শুধু পরিকাঠামোকেন্দ্রিক পদ্ধতির পরিবর্তে সামগ্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর ভাবনা ও অগ্রাধিকার স্কুলস্তরে বাস্তবায়ন করছে এই উদ্যোগ। গুণমান ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, শিক্ষকদের নিয়মিত পেশাগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহায়ক স্কুল পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসাবে পিএম শ্রী স্কুলগুলি নতুন শিক্ষাপদ্ধতি ও কার্যকর শিক্ষামূলক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। আশপাশের স্কুলগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী এই পদ্ধতি গ্রহণ ও প্রয়োগ করতে পারবে। এর ফলে,  স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থায় বৃহত্তর পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হবে।

সামগ্রিক লক্ষ্য হল সক্ষম, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল এবং দায়িত্বশীল শিক্ষার্থী গড়ে তোলা। জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে তাঁরা আরও সমতাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী ভারত গঠনে অর্থপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন।

তথ্যসূত্র

Ministry of Education

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2290004&reg=48&lang=2

https://pmshri.education.gov.in/#aboutPmshri

https://pmshri.education.gov.in/assets/pdf/part1_pmshri.pdf

https://pmshri.education.gov.in/faqs

https://pmshri.education.gov.in/#main-content

https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2291330&reg=1&lang=1

https://education.vikaspedia.in/viewcontent/education/policies-and-schemes/pm-schools-for-rising-india-scheme?lgn=en

https://sansad.in/getFile/annex/271/AU1144_1PgQNc.pdf?source=pqars

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2291279&reg=1&lang=1

https://x.com/EduMinOfIndia/status/1567485212476702721

 

NITI Aayog

https://www.niti.gov.in/sites/default/files/2026-05/School-Education-System-in-India.pdf?utm_source=chatgpt.com

Click here to see pdf 

*****
SSS/SS..


(রিলিজ আইডি: 2308439) ভিজিটরের কাউন্টার : 8
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: Tamil , English , Urdu , हिन्दी , Gujarati