প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী প্যারিসে বিএপিএস স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাবেশে ভাষণ দিলেন
প্রকাশিত:
06 SEP 2026 11:59PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্যারিসে বিএপিএস স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাবেশে ভাষণ দিলেন। ফরাসি রাজধানীতে এই মহা উদ্বোধনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঐতিহাসিক ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিস্তম্ভ। শ্রী মোদী বলেন, “এই স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দির ভারত এবং ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের একটি নতুন মাইলফলক।”
প্রাজ্ঞ সন্ন্যাসী এবং সনাতন ধর্মের নক্ষত্রদের আশীর্বাদ কামনা করে প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানের পরিবেশকে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের প্রকৃত প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন। বিশ্ব মঞ্চে প্রাচীন দর্শনের প্রতিরূপ এই সমাবেশ জানিয়ে শ্রী মোদী বলেন, “আজ এই মঞ্চ বসুধৈব কুটুম্বকম দর্শনের একটি জাগ্রত মঞ্চ হয়ে উঠেছে।”
ঐশ্বরিক অনুভূতি এবং আধ্যাত্মিক নেতাদের স্নেহের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী এই পবিত্র মাইলফলকের সঙ্গে জড়িত হতে পেরে তিনি যে সৌভাগ্যবান, তা বলেন। “শ্রী মোদী বলেন, এই ধরনের পবিত্র অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়ে আসছি আমি।”
ভিডিও কনফারেন্সে শ্রোতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী জানান, ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না হতে পেরেও এই উৎসবের সঙ্গে তিনি গভীর একাত্মতা অনুভব করছেন। শ্রী মোদী বলেন, “মনে এবং ধ্যানে আমার মনে হচ্ছে আমি আপনাদের মধ্যেই আছি।”
পরমপূজ্য প্রমুখ স্বামীজি মহারাজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক গৌরবকে জাগিয়ে তোলার দূরদর্শী অভিযানকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, কিভাবে এই আন্তর্জাতিক অভিযান বছরের পর বছর ধরে বিপুল গতি অর্জন করেছে। শ্রী মোদী বলেন, “আজ নবজাগরণের আলো ইউরোপ সহ সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে।”
২০২৪ সালে আবুধাবির বিশাল মন্দির উদ্বোধন থেকে বর্তমানের এই চিত্তাকর্ষক মন্দিরের উদ্বোধনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আধ্যাত্মিক নেতাদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং দূরদর্শী প্রয়াসের প্রশংসা করেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “নির্মাণের এই পরম্পরা সাধু সন্ন্যাসীদের সংকল্পের প্রমাণ।”
পরমপূজ্য মহন্ত স্বামী মহারাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক অভিনন্দন জানান বিএপিএস সংস্থা এবং তার লক্ষ লক্ষ ভক্তকে। শ্রী মোদী বলেন, “এই পবিত্র কাজের জন্য আমি আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা মন্দিরগুলি ভারতের প্রাচীন দর্শনকে কীভাবে পৌঁছে দিচ্ছে, তার ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী একটি পথ নির্দেশক নীতির উদাহরণ দেন, যা সমগ্র মানব সমাজের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই মৌলিক মূল্যবোধও স্বাভাবিকভাবেই আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ে। শ্রী মোদী বলেন, “ভারতের ভাবনা বলে যে, আমাদের মন যেন এক হয় এবং আমাদের হৃদয় যেন হৃদয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়।”
সামাজিক বিশাল প্রভাবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জোর দেন এই চমকপ্রদ স্বাপত্য যা একইসঙ্গে স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল এবং অতি বিশিষ্ট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাবে তার ওপর। শ্রী মোদী বলেন, “এই মন্দির নিশ্চিতভাবে ফ্রান্সের বৈচিত্রকে সমৃদ্ধ করবে এবং আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্কে প্রাণ সঞ্চার করবে।”
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কূটনৈতিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বগামী রেখার প্রতিফলনে প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাঁক্রোর পাশাপাশি সহযোগমূলক দূরদর্শী প্রয়াস নেওয়ার ওপর আলোকপাত করেন। শ্রী মোদী বলেন, “দুই দেশ একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক রণকৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে একসঙ্গে।”
এআই, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং জলবায়ু বিষয়ক কর্মক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বহু সুযোগ আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আসন্ন ২০২৬ ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বর্ষ-এর দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেন। তিনি জানান যে, এই সংযুক্ত প্রয়াস অভূতপূর্বভাবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির রাস্তা খুলে দিচ্ছে। শ্রী মোদী বলেন, “আমরা নতুন গতি, নতুন প্রাণশক্তি নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলেছি।”
আধুনিক এই জোটের অভিনবত্বের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এই সাফল্যের কৃতিত্ব দেন দু’দেশের অভিন্ন বহুদিনের ঐতিহাসিক মৈত্রীকে। শ্রী মোদী বলেন, “এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কারণ, এটি রক্ষিত আমাদের প্রাচীন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক জোরালো বন্ধনের ওপর।”
ফ্রান্সের মাটিতে ভারতীয় সেনাদের শৌর্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব মঞ্চে ভারতের ধ্রুপদী ভাষাগুলিকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ফরাসী পণ্ডিতদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। শ্রী মোদী বলেন, “সংস্কৃতকে জনপ্রিয় করে তুলতে তাঁরা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।”
সাহিত্য এবং অধ্যাত্ম জগতে আদান-প্রদানের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ভারতের গূঢ় রহস্য নিয়ে রোমাঁ রোলাঁ-র লেখার উল্লেখ করেন এবং পারস্পরিক উৎসাহের জন্য একটি শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে পুডুচেরিতে শ্রীমার রূপান্তরকারী যাত্রার নিদর্শন দেন। তিনি বলেন, এই ধরনের বৌদ্ধিক কার্যকলাপ দু’দেশের অনুসন্ধিৎসুদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। শ্রী মোদী বলেছেন, “এই আধ্যাত্মিক যোগাযোগ আমাদের সমাজকে আরও কাছে এনেছে বছরের পর বছর ধরে।”
বিশ্বাসের ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিকে দৃষ্টিপাত করে প্রধানমন্ত্রী কয়েক দশক আগে ফ্রান্সে বিখ্যাত আধ্যাত্মিক নেতার আগমনের কথা উল্লেখ করেন। শ্রী মোদী বলেন, “ইস্কনের মাধ্যমে শ্রীল প্রভুপাদ স্বামী আধ্যাত্মিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন।”
আইফেল টাওয়ারের কাছে যোগাসনের আয়োজন এবং এই নতুন মন্দিরের মধ্যে একটি সম্পর্ক আছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষে মানুষে যোগাযোগের এগুলি শক্তিশালী মাধ্যম। শ্রী মোদী বলেন, “এই বিশাল স্বর্গীয় মন্দিরের মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায় যুক্ত হচ্ছে।”
আধ্যাত্মিক ভাষ্যে অর্থনীতির বিশেষ শব্দ জুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী খেলাচ্ছলে এই মন্দির নির্মাণকে আধুনিক দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার সঙ্গে তুলনা করেন। শ্রী মোদী বলেন, “স্বামীনারায়ণ মন্দির যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনায় সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রা যুক্ত করেছে।”
স্থাপত্যের সংমিশ্রণের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কীভাবে ভারতের প্রাচীন স্থাপত্য কৌশল আধুনিক ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সঙ্গে সহজে যুক্ত হয়ে এই মন্দিরকে রূপ দিয়েছে। এই পাথরে যে কারুকলার ছাপ পড়েছে, তা ভারত থেকে এসেছে- একথা তুলে ধরেন তিনি। শ্রী মোদী বলেন, “এই মন্দির প্রকৃতই ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘বিল্ট ইন ফ্রান্স’।”
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সহযোগমূলক স্থাপত্যের এই চমৎকারিত্বের দীর্ঘ ঐতিহ্য বহন করে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। শ্রী মোদী বলেন, “আগামী শতাব্দীর পর শতাব্দী ভারত এবং ফ্রান্সের মধ্যে সহযোগিতা এবং সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে থাকবে এটি।”
একইসঙ্গে আধ্যাত্মিক অনুশীলন এবং সামাজিক কল্যাণ এই দুটি বিষয়কে একই লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “স্বামীনারায়ণ মন্দিরগুলি ভক্তির পাশাপাশি সেবারও একটি মাধ্যম।”
এই কেন্দ্রের আঞ্চলিক প্রভাব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর ধারণা ভারতীয় ঐতিহ্যের মূল্যবোধ আরও ছড়িয়ে পড়বে। তিনি বলেন, যে তিনি নিশ্চিত এই শিক্ষা শুধু প্যারিসে আবদ্ধ থাকবে না, তা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। ভারতীয় সাংস্কৃতিক কন্ঠস্বর এখান থেকে উঠে সমগ্র ইউরোপের মানুষের কল্যাণ করবে। শ্রী মোদী বলেন, “ভবিষ্যতে যখনই আমি সময় পাবো চেষ্টা করব দর্শনের জন্য এই মন্দিরে আসতে।”
সবশেষে, প্রধানমন্ত্রী সভায় উপস্থিতজনকে তাঁদের পরিবারকে, ভক্তদেরকে এবং সমগ্র ভারতীয় সমাজকে শুভেচ্ছা জানান।
SC/AP /CS
(রিলিজ আইডি: 2307342)
ভিজিটরের কাউন্টার : 2