প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বঙ্গানুবাদ
প্রকাশিত:
03 SEP 2026 2:29PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লী, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ,
দুই দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ,
মিডিয়ার বন্ধুগণ,
নমস্কার!
প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের প্রথম ভারত সফরে তাঁকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর হলেও ভারতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় দীর্ঘদিনের। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অ্যান্টওয়ার্পের মেয়র ছিলেন এবং অ্যান্টওয়ার্পের বৃহৎ ভারতীয় সম্প্রদায় ও ভারত-বেলজিয়াম হিরে বাণিজ্যকে সবসময় সমর্থন করেছেন।
বন্ধুগণ,
ভারত ও বেলজিয়ামের সম্পর্কের শিকড় ইতিহাসের গভীরে প্রোথিত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বেলজিয়ামে হাজার হাজার ভারতীয় সৈন্যের সাহস ও আত্মত্যাগ আমাদের অভিন্ন স্মৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আজ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাজার অর্থনীতি এবং গভীর জনসম্পর্ক আমাদের স্বাভাবিক অংশীদারে পরিণত করেছে।
বন্ধুগণ,
দশ বছর আগে আমার বেলজিয়াম সফরের সুযোগ হয়েছিল। গত এক দশকে আমাদের অংশীদারিত্ব যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
আজ আমাদের সহযোগিতার পরিধি প্রথাগত ক্ষেত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রতিরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন শক্তির মতো কৌশলগত ক্ষেত্রেও পৌঁছেছে। আমরা ‘জোরাওয়ার’ ট্যাঙ্কের মতো আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছি। অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ায় আমরা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্রিন অ্যামোনিয়া প্রকল্প গড়ে তুলছি।
বন্ধুগণ,
আজ বিশ্ব এক বড় অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খাদ্য, জ্বালানি কিংবা সরবরাহ শৃঙ্খল—প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতেও ভারতের অর্থনীতি কিন্তু তার গতি বজায় রেখেছে। গত ত্রৈমাসিকে আমরা ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি অর্জন করেছি। আজ ভারতের বৃদ্ধির কাহিনি বিশ্বের কাছে আস্থা ও সুযোগের নতুন উৎস হয়ে উঠছে।
বন্ধুগণ,
এই বছরের গোড়ায় আমরা ঐতিহাসিক ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে এই অভূতপূর্ব সহযোগিতা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং অভিন্ন সমৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করবে।
ভারতের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং এই চুক্তি আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আজ আমরা সেই সম্ভাবনাগুলিকে সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পরিণত করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
বন্ধুগণ,
বেলজিয়ামের কোম্পানিগুলির জন্য আমরা ভারতে একটি ‘ইনভেস্টমেন্ট ফাস্ট-ট্র্যাক মেকানিজম’ গঠন করেছি। আমরা ইন্ডিয়া-বেলজিয়াম বিজনেস ফোরামকে একটি নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই দেশের আর্থিক, ফিনটেক এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে।
এই সমস্ত উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য আমরা বাস্তবায়িত করব।
বন্ধুগণ,
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আমাদের সম্পর্কের একটি প্রধান স্তম্ভ। আজ আমরা দুই দেশের মধ্যে সামরিক বিনিময় ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছি।
আমাদের দুই দেশের সরকার ও প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন ও যৌথ উৎপাদনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। আমাদের সংস্থাগুলির মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অপরাধ দমনে সহযোগিতাও আরও জোরদার করা হবে।
বন্ধুগণ,
পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ভবিষ্যৎ এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল আমাদের অভিন্ন অগ্রাধিকার। আজ নবীকরণযোগ্য শক্তি নিয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতাপত্র আমাদের সহযোগিতায় নতুন গতিসঞ্চার করবে। ক্রিটিকাল মিনারেলের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াকরণ ও পুনর্ব্যবহারে আমরা সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে বেলজিয়ামের দক্ষতা এবং ভারতের বিশাল পরিসরের সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক। এই লক্ষ্যে বেলজিয়ামের IMEC ইনস্টিটিউটকে ভারতে সেমিকন্ডাক্টর বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।
বন্ধুগণ,
আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক । আজ আমরা দুই দেশের স্টার্ট-আপগুলির মধ্যে সংযোগ আরও শক্তিশালী করা এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি করার বিষয়ে সম্মত হয়েছি।
আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করব। প্রতিভার অবাধ চলাচলের জন্য আমরা শীঘ্রই ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করব।
বন্ধুগণ,
আজ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ভারত ও বেলজিয়াম—উভয় দেশই আইনের শাসন, সংলাপ ও কূটনীতিতে বিশ্বাসী।
ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া—আমরা সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সমস্ত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি।সন্ত্রাসবাদের প্রত্যেকটি রূপের মুলোচ্ছেদ করা আমাদের অভিন্ন অঙ্গীকার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
গত মাসে বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে হকি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে। এই বিশ্বকাপের চমৎকার আয়োজনের জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাই। আমাদের খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম ও অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য আমি তাঁদের প্রশংসা করি।
হিরে দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও বেলজিয়ামকে একসূত্রে যুক্ত করে রেখেছে। আজ আমরা এই ঐতিহাসিক সংযোগকে একটি বিস্তৃত অংশীদারিত্বের নতুন রূপ দিচ্ছি।
আমার বিশ্বাস, আজকে আমাদের আলোচনা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।
আরও একবার, আপনাকে এবং আপনার প্রতিনিধিদলকে ভারতে আন্তরিক স্বাগত জানাই।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
( দ্রষ্টব্যঃ এটি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের কাছাকাছি বঙ্গানুবাদ। মূল ভাষণটি প্রদত্ত হয়েছিল হিন্দিতে।)
SC/
(রিলিজ আইডি: 2306313)
ভিজিটরের কাউন্টার : 4