বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ‘ভাষিনী’ বিভাগ নেপালে ‘ভাষিনী সঙ্গম’ কর্মশালার আয়োজন করেছে; বহুভাষিক এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভারত-নেপাল সহযোগিতাকে জোরদার করেছে
প্রকাশিত:
01 SEP 2026 3:54PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ভারত সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্পোরেশন' -এর 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাষিণী ডিভিশন', কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় কাঠমান্ডুতে 'ভাষিণী সঙ্গম: আন্তর্জাতিক সংযোগ বিষয়ক কর্মশালা (নেপাল)' আয়োজন করেছিল। এই কর্মশালায় সরকার, শিক্ষাজগৎ, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং উদ্ভাবন ক্ষেত্রের অংশীদাররা একত্রিত হয়েছিলেন। তাঁদের আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল বহুভাষিক এবং 'ভয়েস-ফার্স্ট' (কণ্ঠস্বর-ভিত্তিক) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই - এর সম্ভাবনা যাচাই করা। মানুষ যাতে তাদের পছন্দের ভাষায় ডিজিটাল পরিষেবা, তথ্য এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে পেতে পারে তাই এই উদ্যোগ।
ভাষা-ভিত্তিক এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত ও নেপালের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার পথে এই কর্মশালাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। ভাষা প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামো নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ডিআইবিডি এবং কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতাপত্রের উপর ভিত্তি করেই এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছিল। এই অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রযুক্তি, ডেটাসেট এবং স্থানীয়ভাবে প্রাসঙ্গিক অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ যৌথভাবে তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটি উভয় দেশের জনগোষ্ঠীর ভাষাগত চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।
'ভাষিণী সঙ্গম' হলো ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাষিণী ডিভিশনের একটি আন্তর্জাতিক সংযোগমূলক উদ্যোগ। এটি ভাষা-ভিত্তিক এআই-এর সম্ভাবনাকে ভাষাগত ও ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকার, শিক্ষাজগৎ, গবেষক, ডেভেলপার, স্টার্টআপ, ভাষা বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করে। এই উদ্যোগটি বিভিন্ন দেশ ও জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যৌথভাবে ভাষা-ভিত্তিক এআই তৈরির ওপর জোর দেয়। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি ও স্থানীয় জ্ঞানের সমন্বয় ঘটিয়ে এমন সব সমাধান গড়ে তোলা হয় যা সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এছাড়া, ডিজিটাল যুগে ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের বিষয়টিও এর অন্যতম লক্ষ্য—যাতে ভাষার মাধ্যমে বাহিত কণ্ঠস্বর, জ্ঞান এবং পরিচিতি ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে 'ভাষিণী সঙ্গম'-এর লক্ষ্য হলো পারস্পরিক ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সংযোগকে যৌথ উদ্ভাবন, যৌথ সৃষ্টি এবং শক্তিশালী অংশীদারিত্বে রূপান্তর করা, এবং এর ফলে সীমানা ছাড়িয়ে একটি অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুভাষিক এআই পরিমন্ডল গড়ে তোলা।
ভাষিণী টিম তাদের বহুভাষিক এআই সক্ষমতার সরাসরি প্রদর্শনী (লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন) করে। এতে স্পিচ রিকগনিশন (কথা শনাক্তকরণ), রিয়েল-টাইম অনুবাদ, কণ্ঠস্বর-ভিত্তিক মিথস্ক্রিয়া এবং ডকুমেন্ট প্রসেসিংয়ের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হয় এবং দেখানো হয় কীভাবে ভাষা-ভিত্তিক এআই ডিজিটাল পরিষেবার ব্যবহারকে আরও স্বাভাবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে পারে।
একটি বিশেষ 'ভাষা-দান' সেশনে প্রতিনিধিত্বমূলক এআই গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভাষার ডেটা এবং জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা কথা, লেখা এবং ছবির মাধ্যমে অবদান রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
কর্মশালায় নেপালি ও অন্যান্য ভাষায় স্থানীয় অ্যাপ্লিকেশনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। এতে ভারত ও নেপালের জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাসঙ্গিক সমাধান তৈরির লক্ষ্যে ভাষিণীর প্রযুক্তিগত পরিমন্ডল এবং কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও গবেষণা সক্ষমতাকে একত্রিত করা হয়। কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি শ্রী সুমন শেখর বলেন, “ডিআইবিডি এবং কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকটি এই সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি বলিষ্ঠ ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। যৌথভাবে আমাদের সামনে নেপালি, মৈথিলি ও অন্যান্য ভাষায় স্থানীয় অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ তৈরির সুযোগ রয়েছে। এটি ভারত ও নেপালের মানুষের জন্য অর্থবহ সুফল বয়ে আনতে পারে।”
ডিজিটাল ইন্ডিয়া ‘ভাষিনী’ বিভাগের সিইও শ্রী অমিতাভ নাগ বলেন, “ভারত ও নেপালের মধ্যে ভাষা, জনগোষ্ঠী এবং গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের যে মেলবন্ধন রয়েছে, তা যৌথভাবে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ এআই’ বা ভাষা-ভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আমাদের লক্ষ্য কেবল প্রযুক্তিকে নেপালি, নেওয়ারি ও মৈথিলি ভাষা বুঝতে সক্ষম করে তোলা নয়, বরং এই ভাষাগুলো, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী এবং ভাষাভাষী মানুষদের সঙ্গে নিয়ে প্রযুক্তি গড়ে তোলা।”
এই কর্মশালায় গবেষক, শিক্ষার্থী, ভাষাবিদ, ডেভেলপার, স্টার্টআপ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা একত্রিত হয়েছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল ভাষা-ভিত্তিক ডেটাসেট, গবেষণা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য ‘ল্যাঙ্গুয়েজ এআই’ সমাধান নিয়ে ধারণা বিনিময় ও সহযোগিতার ক্ষেত্র অন্বেষণ করা।
‘ভাষিনী সঙ্গম: আন্তর্জাতিক সংযোগ বিষয়ক কর্মশালা (নেপাল)’ ভারত ও নেপালের যৌথ ‘ল্যাঙ্গুয়েজ এআই’ ইকোসিস্টেম বা পরিমন্ডল গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি ভাষাকে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির সেতুবন্ধন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রযুক্তি ক্ষেত্র, শিক্ষাঙ্গন, সরকার এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে এক মঞ্চে নিয়ে আসে।
ডিজিটাল ইন্ডিয়া ‘ভাষিনী’ বিভাগ সম্পর্কে -
ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্পোরেশন’ - এর একটি অংশ হলো ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাষিনী বিভাগ’। এটি এআই-চালিত বহুভাষিক ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। ‘ভাষিনী’ ৩৬টি ভারতীয় লিখিত ভাষা, ২৩টি ভারতীয় কথ্য ভাষা এবং ৩৫টি আন্তর্জাতিক ভাষাকে সহায়তা প্রদান করে। এটি ৮০০টিরও বেশি সরকারি ওয়েবসাইটকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে, ৯০০ কোটিরও বেশি এআই ইনফারেন্স সম্পন্ন করেছে এবং প্রতিদিন ২ কোটি ৪০ লক্ষেরও বেশি এআই ইনফারেন্স প্রক্রিয়াজাত করছে। এর মাধ্যমে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ এআই’-এর সাহায্যে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা ডিজিটাল গণ-পরিকাঠামোকে আরও সহজলভ্য করে তোলা হচ্ছে।
SC/PM/SB
(রিলিজ আইডি: 2305596)
ভিজিটরের কাউন্টার : 3