প্রতিরক্ষামন্ত্রক
জ্ঞান আহরণ করুন, সাংবিধানিক উপায়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলুন এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে পরিবর্তন আনুন, তরুণদের প্রতি বার্তা প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর
প্রকাশিত:
29 AUG 2026 3:31PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে অবস্থিত বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেডকর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং বলেন, “ড. বি আর আম্বেডকরের ‘শিক্ষিত হোন, আন্দোলন করুন এবং সংগঠিত হোন’ – এই মন্ত্রের অর্থ হল, জ্ঞান অর্জন করা, সহিংসতার পরিবর্তে সাংবিধানিক উপায়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা এবং গণতান্ত্রক পদ্ধতির মাধ্যমে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।” সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক পদ্ধতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন যে, "গণ পরিষদে দেওয়া তাঁর শেষ ভাষণে ড. আম্বেডকর স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলি অবশ্যই সাংবিধানিক উপায়ে অর্জন করতে হবে।" তিনি বলেন, "বাবাসাহেব সতর্ক করেছিলেন যে, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা, নৈরাজ্য বা অসাংবিধানিক পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়; তিনি এ ধরনের পদ্ধতিকে ‘নৈরাজ্যের ব্যাকরণ’ হিসেবে অভিহিত করে তা বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।"
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উচিত ন্যায়বিচার, সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তরুণদের মনন গঠনে মনোযোগ দেওয়া, যাতে তাঁরা দেশ গঠনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেন। সামগ্রিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রকৃত শিক্ষা চিন্তাভাবনা ও বোঝাপড়ার ক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি ব্যবহারিক ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হল, ব্যক্তির মধ্যে মূল্যবোধ ও সংবেদনশীলতা জাগ্রত করার পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞানকে সমাজের কল্যাণে কাজে লাগাতে শেখানো।
শ্রী রাজনাথ সিং চরিত্র ও বিনয়ের ওপর ড. বি আর আম্বেডকরের ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, জ্ঞান ও অর্জনের ভিত্তি অবশ্যই নৈতিক মূল্যবোধ ও আচরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। স্বামী বিবেকানন্দের দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তরুণদের কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের পেছনে না ছুটে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী, সমস্যা সমাধানকারী এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের কারিগর হয়ে ভারতের রূপান্তরে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিত্যনতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে - এ কথা উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নিরন্তর শিক্ষা গ্রহণ ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যাঁরা প্রতিনিয়ত শিখতে এবং নতুন দক্ষতা অর্জন করতে আগ্রহী, তাঁরাই দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত থাকবে।
দেশ গঠনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরে শ্রী রাজনাথ সিং বলেন যে, যদিও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা অগ্রগতির পথে অবদান রাখতে পারে, তবুও ঐক্যবদ্ধ সংকল্প উন্নয়নের গতিকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করতে সক্ষম। তিনি শিক্ষার্থীদের ‘টিম ইন্ডিয়া’-র অংশ হিসেবে কাজ করার এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার অভিন্ন লক্ষ্যে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন যে, সাফল্য প্রায়শই অনুকূল পরিস্থিতিতে নয়, বরং প্রতিকূলতার মোকাবিলা করেই অর্জিত হয়; তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দৃঢ় সংকল্প, সহনশীলতা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব। তিনি জানান, গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার উদ্যোগ গ্রহণ এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, ডিজিটাল গণ পরিকাঠামো, স্টার্ট-আপ ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলিকে সুযোগে পরিণত করার চেষ্টা চালিয়েছে।
মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের কথা তুলে ধরে শ্রী রাজনাথ সিং বলেন যে, সীমিত সম্পদ নিয়ে মিশন পরিচালনার পর্যায় থেকে বেরিয়ে এসে দেশ এখন মানববাহী মহাকাশযান ও নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তৈরির মতো উন্নত কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে। তিনি মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন; বিশেষ করে ভারতীয় মহাকাশ-ভিত্তিক স্টার্ট-আপগুলি উৎক্ষেপণ যান (লঞ্চ ভেহিক্যাল) ও উপগ্রহ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করছে।
গত ১২ বছরে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থায় অর্জিত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে, ৩৪ বছর পর নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি প্রবর্তিত হয়েছে এবং ভারতের তরুণরা আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন, স্টার্ট-আপ চালু, 'ইউনিকর্ন' গড়ে তোলা ও উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য দেখাচ্ছে।
শ্রী রাজনাথ সিং দেশের সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ এবং সেগুলির প্রতি গর্ববোধ করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন যে, 'বিকশিত ভারত' ও 'আত্মনির্ভর ভারত' গড়ার যাত্রাকে কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাপকাঠিতে বিচার করা যায় না। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক শক্তি একটি দেশকে সমৃদ্ধ করে, কিন্তু সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস তাকে মহান করে তোলে; সেই সঙ্গে তিনি ভারতীয় ভাষা, জ্ঞান-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার ওপর আলোকপাত করেন।
তিনি বলেন, "আজকের প্রজন্ম দেশের পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করে, নিজেদের সভ্যতার ওপর আস্থা রাখে এবং ভবিষ্যতের ওপর বিশ্বাস রাখে। 'নতুন ভারত'-এ এটিই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। 'মেক ইন ইন্ডিয়া'-র সাফল্যের মূলে রয়েছে 'বিলিভ ইন ইন্ডিয়া'-র চেতনা।"
অনুষ্ঠানে উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ব্রজেশ পাঠক, লখনউয়ের বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেডকর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রাজ কুমার মিত্তাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
SC/MP/AS
(রিলিজ আইডি: 2304599)
ভিজিটরের কাউন্টার : 2