স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ নতুন দিল্লিতে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো আয়োজিত ‘জাতীয় নিরাপত্তার কৌশল রচনা’ সংক্রান্ত সম্মেলনের সমাপ্তী অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন
প্রকাশিত:
25 AUG 2026 11:20PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ২৫ আগস্ট ২০২৬
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ নতুন দিল্লিতে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর 'জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল রচনা' সংক্রান্ত সম্মেলনের সমাপ্তী অধিবেশনে ভাষণ দেন। দুই দিনের এই সম্মেলনে সারা দেশের ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক, সমস্ত রাজ্যের পুলিশ মহা নির্দেশক এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা ব্যক্তিগত ও ভার্চুয়াল — দু’ভাবেই অংশগ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এই সম্মেলনের আয়োজন এবং এর আলোচ্য বিষয়বস্তু নির্বাচনের জন্য ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো ও তাদের দলের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
শ্রী শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছেন এবং উন্নত ভারতের প্রথম শর্ত হলো শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা। আমরা যদি প্রতিটি ক্ষেত্রে শীর্ষে পৌছাতে চাই, তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
অতীতের সরকারগুলি যদি মাদক সমস্যা, নকশালবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমস্যাগুলো তীব্র আকার ধারণ করার আগেই সে বিষয়ে সচেতন হতে পারত, তবে দেশকে দশকের পর দশক ধরে এর কুফল ভোগ করতে হতো না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান সরকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক এই তিনটি প্রধান সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব সংশ্লিষ্ট সব রাজ্যের পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রাপ্য।
'জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলন'-এর এই মঞ্চে আগামী ১৫-২০ বছরের সম্ভাব্য সমস্যাগুলির পর্যালোচনা করা উচিত এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে ও তা প্রতিরোধের কৌশল কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
আগামী এক বছরের মধ্যে নতুন তিনটি ফৌজদারী আইনের সম্পূর্ণ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে, যাতে ফৌজদারি মামলাগুলোর সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিচারপ্রক্রিয়া তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা যায় এবং অপরাধীদের শাস্তির হার ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
গত আট মাসে স্থলসীমান্তবর্তী সব রাজ্য সফর করে সীমান্ত সুরক্ষার একটি চতুর্মুখী কর্মপরিকল্পনা বা 'কোয়াড্র্যাঙ্গুলার অ্যাপ্রোচ'-এর নথি ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশকে অনুপ্রবেশকারী-মুক্ত করা। মনে রাখা প্রয়োজন এই দেশ কোনো ধর্মশালা নয় এবং এখানে বসবাস করার অধিকার কেবল এ দেশের নাগরিকদেরই রয়েছে; অনুপ্রবেশকারীরা দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জনবিন্যাস সংক্রান্ত কাঠামোর জন্য হুমকি।
শ্রী শাহ বলেন এক রাত্রের মধ্যে পিএফআই -কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তাদের পুরো সংগঠনকে নিষ্ক্রিয় করা কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে চমৎকার সমন্বয়ের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে এবং সন্ত্রাসীদের সব ধরণের নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে 'প্রহার' কর্মসূচিকে কেবল নথিপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে সব রাজ্যের পুলিশকে 'নারকোটিক্স কন্ট্রোল ভিশন ডকুমেন্ট ২০২৬-২০২৯' -কে তৃণমূল স্তরে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং মাদক-মুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে 'ডিটেক্ট' (শনাক্তকরণ), 'ডিসরাপ্ট' (বাধা সৃষ্টি) ও 'ডিস্ট্রয়' (ধ্বংস)—এই 'থ্রি-ডি' নীতি অনুযায়ী কাজ করতে হবে তিনি জানান।
শ্রী শাহ বলেন, সিসিটিএনএস, আইসিজেএস, ন্যাটগ্রিড এবং এনএএফআইএস-এর সমন্বয়ে একটি সমন্বিত তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করা হন্ডা। তরুণ কর্মকর্তাদের উচিত তথ্যগুলিকে একত্র করে ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে কার্যকর গোয়েন্দা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপরাধীদের কার্যপদ্ধতি শনাক্ত করা, যাতে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
বর্তমান সরকার পলাতক অপরাধী-দের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীরা যাতে দেশের আইনের আওতায় আসে, সকল রাজ্যের সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত । কেন্দ্রীয় সরকার 'মাল্টি এজেন্সি সেন্টার' কে উন্নত করেছে।
আন্তর্জাতিক স্তরে অস্থিতিশীলতা, জ্বালানি ও সম্পদের নিরাপত্তাহীনতা, সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটানো, ক্রমবর্ধমান উগ্রপন্থা এবং সাইবার-অপপ্রচার বা ভুল তথ্যের লড়াই—এসব বিষয় বিবেচনা করেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন করা উচিত। শ্রী শাহ বলেন মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সফল লড়াইটি কেবল ভারতই চালাতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রতিটি রাজ্য সরকারের প্রতিটি বিভাগ যৌথভাবে এই লড়াই -এ শামিল হয়ে জয়ী হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দেশজুড়ে এমন এক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমাদের চ্যালেঞ্জগুলোকে শুরুতেই শনাক্ত করা যায় এবং বড় সমস্যা হয়ে ওঠার আগেই সেগুলোকে নির্মূল করা সম্ভব হয়। তাহলেই আমরা একটি নিরাপদ, অনুপ্রবেশকারী-মুক্ত এবং মাদকমুক্ত ভারত গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
SC/CB/DM
(রিলিজ আইডি: 2303513)
ভিজিটরের কাউন্টার : 4