স্বাস্থ্যওপরিবারকল্যাণমন্ত্রক
সরকার সারা দেশে মরসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে
প্রকাশিত:
25 AUG 2026 6:21PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ২৫ অগাস্ট, ২০২৬
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক —স্বাস্থ্য গবেষণা বিভাগ, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল -এর সহযোগিতায়—একটি শক্তিশালী সর্বভারতীয় নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সারা দেশে ঋতুভিত্তিক শ্বাসযন্ত্রের রোগের প্রবণতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
নতুনদিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্য গবেষণা বিভাগের সচিব তথা আইসিএমআর-এর মহানির্দেশক ডঃ রাজীব বহল জানান যে, ইনফ্লুয়েঞ্জার বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এ নিয়ে আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। বর্তমানে দেশে যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসগুলি ছড়িয়ে রয়েছে, তা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পরিলক্ষিত ঋতুভিত্তিক ধরণ বা প্যাটার্নের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৭৩টি ডিএইচআর-আইসিএমআর ভাইরাস গবেষণা ও রোগনির্ণয় পরীক্ষাগারের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত চলতি জিনোমিক ও অতিমারী-সংক্রান্ত নজরদারি একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বস্ত করার মত বার্তা দিয়েছে।
বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ১এন১) ভাইরাসগুলিকে ‘A/Missouri/11/2025 (H1N1) pdm09-like’ ভাইরাস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। হিম্যাগলুটিনিন জিন বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই ভাইরাসগুলিকে ‘clade 6B.1A.5a2a’ এবং ‘subclade D.3.1.1’-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ডা. বাহল জানিয়েছেন যে, এই নির্দিষ্ট ধরণের ভাইরাস ২০২৫ সাল থেকেই ভারতে ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিলক্ষিত জিনগত পরিবর্তনগুলি মরসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ক্ষেত্রে দেখা যাওয়া স্বাভাবিক ‘অ্যান্টিজেনিক ড্রিফট- এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সময় এ ধরনের সামান্য জিনগত পরিবর্তন নিয়মিতভাবেই ঘটে থাকে এবং এগুলি কোনো নতুন বা বিপজ্জনক স্ট্রেইন আবির্ভাবের ইঙ্গিত দেয় না।
ডা. বাহল জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান পর্যবেক্ষণগুলি ইনফ্লুয়েঞ্জার নতুন কোনো হুমকির ইঙ্গিত দেয় না এবং এগুলি মরসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ১এন১) সহ মরসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা সাধারণত সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একটি মৃদু এবং নিজে থেকেই সেরে যাওয়া শ্বাসতন্ত্রের রোগ। এর সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, ক্লান্তি ও দুর্বলতা।
অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে সহায়ক চিকিৎসা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে লক্ষণগুলির উন্নতি ঘটে। শরীরে এইচ১এন১ ভাইরাসের উপস্থিতি থাকার অর্থ এই নয় যে, ওই ব্যক্তির রোগ গুরুতর আকার ধারণ করবে বা তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। ডা. বাহল বলেন যে, মরসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা সাধারণত মৃদু হলেও কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টির ঝুঁকি বেশি থাকে। এরা হলেন ,বয়স্ক ব্যক্তি, ছোট শিশু, আগে থেকেই কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা একাধিক রোগ (কো-মরবিডিটি) রয়েছে এমন ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। তিনি এ ধরনের ব্যক্তিদের অধিক সতর্কতা অবলম্বনের এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া তিনি সাধারণ জনগণকে শ্বাসতন্ত্রের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের নিয়মিত পদক্ষেপগুলি মেনে চলার পরামর্শ দেন:
কি করবেন:
কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখুন।
সাবান-জল দিয়ে ঘন ঘন হাত ধুয়ে ফেলুন অথবা উপযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতে থাকুন এবং অন্যদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন।
লক্ষণগুলি তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পরীক্ষা বা চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
কি করবেন না :
এইচ১এন১ শনাক্ত হওয়ার কারণে আতঙ্কিত হবেন না।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিভাইরাল বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন না।
রোগের লক্ষণ থাকা অবস্থায় অন্যদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
অপরিচ্ছন্ন হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক, ডিএইচআর, আইসিএমআর এবং এনসিডিসি সারা দেশে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রবণতা পর্যবেক্ষণের জন্য ক্রমাগত অতিমারী সংক্রান্ত, ভাইরাস সংক্রান্ত এবং জিনোমিক নজরদারি বজায় রাখছে। বিস্তৃত ভিআরডিএল নেটওয়ার্কটি প্রচলিত শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসগুলির সময়মতো সনাক্তকরণ এবং বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে সক্ষম করে এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে যেকোনো উদীয়মান প্রবণতার প্রতি যথাযথভাবে সাড়া দিতে সাহায্য করে।
এই নজরদারি ব্যবস্থা ইনফ্লুয়েঞ্জার রকমফের, প্রচলিত স্ট্রেইন এবং রোগের তীব্রতার পরিবর্তনগুলিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকবে।
তবে, বর্তমান প্রমাণগুলি এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জার আচরণে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা একটি নতুন স্ট্রেইনের আবির্ভাবের ইঙ্গিত দেয় না।
অতএব, জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে অবহিত ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মরসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি পরিচিত এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, এবং সাধারণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মেনে চলা, প্রয়োজনে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় ঔষধ পরিহার করা ব্যক্তি ও সম্প্রদায়কে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে।
SC/PM/SKD
(রিলিজ আইডি: 2303422)
ভিজিটরের কাউন্টার : 9