স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে তিনটি নতুন আইনের ওপর আয়োজিত একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন
প্রকাশিত:
21 AUG 2026 7:26PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ২১ অগাস্ট ২০২৬
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে তিনটি নতুন আইন বিষয়ক একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব শ্রী গোবিন্দ মোহন এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর নির্দেশক শ্রী মহেশ দীক্ষিত-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, সারা দেশে নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর করা শুরু হলেও পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন সরকার এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। তিনি বলেন, আগের সরকার এটি হতে দেয়নি কারণ নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর হলেই এখানকার সিন্ডিকেট, কাট-মানি, টোল ট্যাক্স এবং ভয়ের সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ত। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সময় আমরা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, আমরা ভয়ের পরিবর্তে আস্থার সরকার উপহার দেব। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শ্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে 'নবীন ন্যায় সংহিতা' কার্যকর করার পদক্ষেপ নেন। এর মাধ্যমে ভয়ের পরিবর্তে আস্থার সরকারের সূচনা হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে নতুন ফৌজদারি আইনগুলিতে প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তদন্তের সময় পুলিশকে আরও বেশি প্রযুক্তিগত প্রমাণ জোগাবে এবং এর ফলে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। মামলা পরিচালনা, পুলিশি কাজকর্ম এবং বিচার ব্যবস্থায় যে সময় ব্যয় হয়, তা কমানোর জন্য এই আইনগুলিতে আইনি বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যে 'নবীন ন্যায় সংহিতা' (নতুন বিচার বিধিমালা) পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর, যেকোনো এফআইআর-এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এতে 'জিরো এফআইআর' এবং 'ই-এফআইআর' -এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন রাজ্যের বাইরে পড়াশোনা করা এখানকার মেয়েরা ও বোনেরা এবং ব্যাঙ্কিং প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা ও দেশের যেকোনো প্রান্তে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকরা।
শ্রী অমিত শাহ বলেন, নতুন বিচার ব্যবস্থা শাস্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক। তিনি জানান, এই আইনগুলিতে নারী ও শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যেসব অপরাধের জন্য ৭ বছরের বেশি শাস্তির বিধান রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে ফরেনসিক পরিদর্শন ও প্রতিবেদন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আদালত এখন সমস্ত ই-নথি গ্রহণ করতে আইনত বাধ্য। শিখ দাঙ্গার ক্ষেত্রে তিন দশক পরেও বিচার পাওয়া যায়নি, ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় বিচার পেতে ২৬ বছর এবং আজমের গণধর্ষণ মামলায় ৩২ বছর সময় লেগেছিল। এখন 'টেকনোলজি' (প্রযুক্তি), 'ট্রান্সপারেন্সি' (স্বচ্ছতা) এবং 'টাইমলাইন' (সময়সীমা) - এই তিনটি 'টি' -এর মাধ্যমে সমগ্র বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে চলেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায় মন্ত্রী বলেন যে পশ্চিমবঙ্গে দুটি বিষয় ঘটছে। প্রথমত, বিচার ব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে এবং টোল ট্যাক্স, সিন্ডিকেট, 'কাট মানি' ও দুর্নীতির অবসান ঘটছে। পাশাপাশি সরকারকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আগে এখানে ক্যাডারদের শাসন চলত। এমনকি আগের শাসনামলেও ক্যাডারদেরই রাজত্ব ছিল এবং পূর্ববর্তী সরকারের আমলে গুন্ডা-ক্যাডারদের শাসন ছিল। এখন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু’জির সরকারের অধীনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলা এখন আইনের পথে এগিয়ে চলেছে। তিনি আরও বলেন, এখন আমাদের সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে।
শ্রী অমিত শাহ বলেন, ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আটজন জেলাশাসককে (কালেক্টর) নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছে। সমস্ত শরণার্থীকে অবশ্যই মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে আমাদের সরকারের দৃঢ় সিদ্ধান্ত হলো যে, আমরা রাজ্যের প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে বহিষ্কার করব।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য আমাদের জমির প্রয়োজন ছিল, যা আমরা পেয়েছি। কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রায় ১,১২৯ একর জমি দিয়েছে। জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সংক্রান্ত কমিটির কাজে সহযোগিতার বিষয়েও বাংলা সরকার আশ্বাস দিয়েছে। 'কাট মানি' ও অবৈধ কমিশন নেওয়া বন্ধ করতে শ্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি টোল-ফ্রি নম্বর চালু করেছেন। যারা কাট মানি দাবি করছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে এই নম্বরে ফোন করুন। যারা কাট মানি নিচ্ছে, আমাদের পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের কারাগারে পাঠাবে। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এবং যারা রোড ট্যাক্স আদায় করছে তাদের জন্যও আমরা টোল-ফ্রি নম্বর চালু করেছি। এই তিনটি টোল-ফ্রি নম্বর পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাট মানি, সিন্ডিকেট-রাজ ও টোল ট্যাক্স আদায়ের সংস্কৃতিকে চিরতরে নির্মূল করবে।
শ্রী অমিত শাহ বলেছেন যে আমরা আলুচাষিদের বলেছিলাম, এখন আর কেউ ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহারে আপনাদের আলু নিয়ে যাওয়া আটকাতে পারবে না। সরকার গঠনের প্রথম দিনেই শ্রী শুভেন্দু আলু পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিলেন। রাজ্যের মন্ত্রিসভা এখানে সপ্তম বেতন কমিশন (সেভেন্থ পে কমিশন) বাস্তবায়নের অনুমোদন দিয়েছে। ২০% ডিএ ঘোষণা করা হয়েছে এবং আমাদের বাংলার সরকার যুবকদের জন্য বয়সের ছাড়ও দিয়েছে। প্রত্যেক 'দিদি'-কে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে এবং 'আয়ুষ্মান ভারত' প্রকল্পের আওতায় গরিবদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। মাতঙ্গিনী হাজরা ও রানি শিরোমণি ব্যাটালিয়ন গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে এবং উত্তরবঙ্গে একটি ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।
কৃষকদের ৬,০০০ টাকার পরিবর্তে ৯,০০০ টাকা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম, শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার তা পূরণ করেছে। শ্রী শুভেন্দু অধিকারী পাঁচ বছরের ইশতেহারে উল্লিখিত কাজের ৪৩ শতাংশই মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘদিন পর বাংলায় এমন এক সরকার এসেছে যারা মানুষের কথা শোনে। আগে এখানে ‘শুনানি’ চালাত দুষ্কৃতীরা ।এখন সেই কাজ করেন পুলিশ ও জেলাশাসক, বিধায়ক ও সাংসদ এবং মন্ত্রীরা। আগে বিচার করত তোলাবাজ ও সিন্ডিকেট-চালানো লোকজন, এখন বিচার পাওয়া যায় আদালতে। আগে বোনেরা বা মহিলারা অভিযোগ জানাতে পারতেন না, এখন তাঁরা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে অভিযোগ জানান। পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আমরা বিবেকানন্দজি, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমবাবুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে পারব।
SC/PM/AS
(রিলিজ আইডি: 2302275)
ভিজিটরের কাউন্টার : 14