প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
দিল্লি আইআইটি-র ৫৭তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ
प्रविष्टि तिथि:
08 AUG 2026 2:23PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ৮ অগাস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ আইআইটি দিল্লির ৫৭তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। অনুষ্ঠানের গভীর আবেগঘন পরিবেশের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ক্যাম্পাসের প্রাণবন্ত ও স্বপ্নময় আবহ নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেন। কোভিড অতিমারীর সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়ার কথা স্মরণ করে স্নাতক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত থাকতে পেরে গভীর ব্যক্তিগত সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। শ্রী মোদী বলেন, "আজ এই ক্যাম্পাসে আপনাদের সঙ্গে এই অসাধারণ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াটা আমার কাছেও অত্যন্ত বিশেষ একটি বিষয়।"
শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারকে এই বিশাল শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁদের এই ডিগ্রি কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের প্রতীক নয়, বরং দেশের প্রতি অবদান রাখার এক গুরু দায়িত্বও বটে। তিনি পদকপ্রাপ্তদের বিশেষ প্রশংসা করেন এবং প্রতিষ্ঠানে নতুন এআই উদ্যোগের সূচনার বিষয়টি উদযাপন করেন। শ্রী মোদী বলেন, "দেশের জন্য অনেক কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে আপনারা এখান থেকে পা বাড়াচ্ছেন।"
তিনি শিক্ষার্থীদের মনের নানা আকাঙ্ক্ষার কথাও তুলে ধরেন, যেমন, প্রথম বেতন পাওয়া, স্টার্টআপ গড়ে তোলা কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া। শ্রী মোদী বলেন, "এই অসাধারণ যাত্রা এবং জীবনের এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায় শুরুর যে উদ্দীপনা, তা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে গভীর সন্তুষ্টির সঞ্চার করছে।"
শিক্ষার্থীদের বর্তমান মুহূর্তগুলোকে গভীরভাবে উপভোগ করতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ক্যাম্পাসের প্রিয় সব স্মৃতির কথাও হাস্যরসের ছলে উল্লেখ করেন। শ্রী মোদী বলেন, "ভবিষ্যতে যখন আপনারা বিশাল সব দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবেন, তখন এই জায়গার স্মৃতিগুলো নিশ্চিতভাবেই আপনাদের নতুন উদ্যম জোগাবে।"
প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ব্যবস্থার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী স্নাতক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান, তাঁরা যেন তাঁদের সহপাঠী, অধ্যাপক, পরামর্শদাতা এবং সহায়তা কর্মীদের আজীবন সম্পদ হিসেবে গণ্য করেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "ভবিষ্যতের প্রতিটি সাফল্যে আপনারা এই ব্যক্তিদের কথা গভীরভাবে স্মরণ করবেন এবং তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করবেন।"
দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অব্যাহত গতিকে এই বিশাল বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি দ্রুত পরিবর্তনশীল এই যুগকে অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ এবং বিশাল নতুন সুযোগের এক দ্বৈত ক্ষেত্র হিসেবে অভিহিত করেন। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "এই দ্রুত পরিবর্তনের মাঝে আমার কথা মনে রাখবেন: যিনি প্রতিনিয়ত শেখেন, তিনিই জয়ী হন।"
আইআইটি ডিগ্রির প্রকৃত তাৎপর্য নতুন করে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, এই যোগ্যতা কেবল উচ্চ সিজিপিএ বা আকর্ষণীয় চাকরির প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জটিল সমস্যা সমাধানের উন্নত সক্ষমতার এক চূড়ান্ত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। শ্রী মোদী বলেন, "আপনাদের ডিগ্রি সমগ্র বিশ্বকে জানিয়ে দেয় যে, অত্যন্ত কঠিন সমস্যা কীভাবে সমাধান করতে হয়, তা আপনারা জানেন।"
শিক্ষাজীবনের অধ্যবসায় এবং জীবনের দীর্ঘমেয়াদী সহনশীলতার মধ্যে সাদৃশ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের পরামর্শ দেন, তাঁরা যেন জীবনের বড় বড় চ্যালেঞ্জগুলিকে ছোট ছোট ও সামলানোর মতো অংশে ভাগ করে নিয়ে মোকাবিলা করেন।
শ্রী মোদী বলেন, "জীবনে যদি অনিবার্যভাবে কঠিন পরিস্থিতি আসে, তবে সম্পূর্ণ নতুন সুযোগও তৈরি হবে; আপনাদের কেবল সর্বদা সজাগ থাকতে হবে।"
সুশৃঙ্খল শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ এবং বাস্তব জীবনের অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্নাতকদের সতর্ক করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার মতো নয়, বরং জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলি সম্পূর্ণভাবে 'পাঠক্রমের বাইরে' থেকে আসে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রকৃত সাফল্য কেবল আগে থেকে নির্ধারিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে নিহিত নয়, বরং সমাজ যে সব সমস্যাকে গা-সওয়া বিষয় হিসেবে মেনে নিয়েছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করা ও সমাধান করার মধ্যেই প্রকৃত সাফল্য লুকিয়ে আছে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সাফল্যের মূল কারণ ছিল এই যে, তাঁরা সাহসিকতার সঙ্গে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন চিহ্নিত করেছিলেন, যেগুলিকে বিশ্ব আর প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা বন্ধ করে দিয়েছিল।"
তিনি বর্তমান প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান, তাঁরা যেন আগামী তিন দশকে নিজেদের কর্মজীবনকে সরাসরি দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নিজেদের এক অনন্য উত্তরাধিকার হিসেবে গড়ে তোলেন।
অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও শিল্প ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে সরকারের জোরালো উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবশক্তির ক্ষমতায়নই হল 'বিকশিত ভারত'-এর মূল ভিত্তি। তিনি তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রগুলিকে উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক করার ক্ষেত্রে সরকারের কৌশলগত নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। শ্রী মোদী বলেন, "দেশের যুবসমাজ যত বেশি ক্ষমতায়িত হবে, পুরো দেশও ততটাই শক্তিশালী ও ক্ষমতায়িত হবে।"
সরকারের কৌশলগত সংস্কারের ফলে মহাকাশ ক্ষেত্রে যে অভাবনীয় অগ্রগতি ঘটেছে, তার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তরুণ প্রকৌশলীদের বিশাল সাফল্যের প্রশংসা করেন; যাঁরা এখন নিজেরাই রকেট ডিজাইন ও উৎক্ষেপণ করছেন - এমন এক কাজ যা আগে কেবল গুটিকয়েক দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। শ্রী মোদী বলেন, "আজ সেই মহাকাশ ক্ষেত্রই আমাদের হাজার হাজার তরুণের জন্য নতুন সম্ভাবনার এক বিশাল আকাশে পরিণত হয়েছে।"
সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ উৎপাদনে দেশের দ্রুত অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী অতীতের সংশয়বাদকে নাকচ করে দেন এবং গর্বের সঙ্গে জানান যে, প্রাথমিক উৎপাদন ইউনিটগুলি ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে এবং তা দেশের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শ্রী মোদী বলেন যে, "কোথাও হয়তো কোনও তরুণ পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গর্ব করে বলছেন: 'আমার বংশের মধ্যে আমিই প্রথম ভারতে চিপ তৈরি করছি'।"
ড্রোন ক্ষেত্রের বৈপ্লবিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে কীভাবে তরুণ উদ্ভাবকরা কৃষি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ থেকে শুরু করে জাতীয় প্রতিরক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনছেন, তা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "আজ এই ক্ষেত্রের অত্যন্ত উদ্যমী তরুণরা সক্রিয়ভাবে অবিশ্বাস্য সব নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন।"
ভারতের 'স্টার্টআপ বিপ্লব'-এর চালিকাশক্তি হিসেবে বর্তমান প্রজন্মকে কৃতিত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইউনিকর্ন, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ফিনটেক ক্ষেত্রের অভাবনীয় প্রসারের ফলে সৃষ্ট বিশাল অর্থনৈতিক গতির প্রশংসা করেন; যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, "এই সব বিপ্লব দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণকে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নতুন কিছু করার এক অবিশ্বাস্য সুযোগ করে দিয়েছে।" ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত আধিপত্যের ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সেন্টার, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান ক্ষেত্রগুলির ওপর আলোকপাত করেন।
উন্নতমানের গবেষণার দিকে দেশের ব্যাপক যাত্রাপথের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা ফেলোশিপ’ এবং ‘অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠার মতো বলিষ্ঠ সহায়তামূলক ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন; এর জন্য এক লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত অভূতপূর্ব অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, "আজ দেশে নতুন গবেষণার অত্যন্ত প্রয়োজন এবং গবেষণার বিষয়ে আমাদের প্রশাসনিক মনোযোগও সমানভাবে ও দৃঢ়ভাবে নিবদ্ধ রয়েছে।"
শিক্ষাসংক্রান্ত ও গবেষণার সম্পদ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের বিস্তারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ‘ওয়ান নেশন ওয়ান সাবস্ক্রিপশন’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। এই কর্মসূচির ফলে কোনও অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এমনকি ছোট শহরগুলিতেও বিশ্বমানের মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা জার্নালগুলি পাওয়া সম্ভব হবে। তিনি স্বীকার করেন যে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি রয়েছে, তবে গবেষণার ক্ষেত্রে এই নবজাগরণকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তরুণদের প্রতিশ্রুতির ওপর তিনি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "গবেষণা সংক্রান্ত এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল আপনাদের সকলের অবিচল নিষ্ঠার মাধ্যমেই সফল হতে পারে।"
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগের ক্ষতিকর ও বিভ্রান্তিকর বিষয়গুলি থেকে দূরে থাকার জন্য স্নাতকদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পরামর্শ দেন, তাঁরা যেন নিজেদের বেতন, চাকরিতে নিয়োগ বা স্টার্টআপের সাফল্যের মাইলফলকগুলির সঙ্গে সহপাঠীদের তুলনা করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন। তিনি তাঁদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের আত্ম-উন্নয়নের ওপর কঠোরভাবে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। শ্রী মোদী দৃঢ়ভাবে বলেন, "মনে রাখবেন, জীবন কোনও লিডার-বোর্ড বা প্রতিযোগিতার তালিকা নয়; আপনার আসল লড়াই অন্য কারও সঙ্গে নয়, বরং নিজের সঙ্গেই।"
ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থী, তাঁদের অভিভাবক, শিক্ষক এবং গোটা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কাঠামোর প্রতি অভিনন্দন জানান, যাঁরা তাদের এই মাইলফলক অর্জনে সহায়তা করেছেন। শ্রী মোদী বলেন, "আপনাদের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল হোক এবং আপনারা ক্রমাগত ও সাহসিকতার সাথে সাফল্যের নতুন উচ্চতা স্পর্শ করুন।"
SC/MP/AS
(रिलीज़ आईडी: 2296607)
आगंतुक पटल : 4