PIB Backgrounder
ভারতের বিচারব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর
प्रविष्टि तिथि:
07 AUG 2026 12:32PM by PIB Kolkata
e-Courts মিশন মোড প্রজেক্ট
ই-কোর্টস মিশন মোড প্রকল্প ভারতের কাগজনির্ভর বিচারব্যবস্থাকে একটি ডিজিটাল ও নজরদারি-সক্ষম ন্যায়বিচার প্রদান ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করেছে। ২০১৪ সাল থেকে মামলা দায়ের এবং নিষ্পত্তি—উভয়ই প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং প্রতি বছর আদালতগুলিতে দায়ের হওয়া মামলার তুলনায় বেশি মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। ৭৫৩ কোটিরও বেশি পৃষ্ঠা আদালতের নথি ডিজিটাইজ করা হয়েছে। পাশাপাশি, হাজার হাজার ই-সেবা কেন্দ্র বিচার পরিষেবায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজিটাল বিভাজন কমাতে সহায়তা করছে। এই সংস্কারগুলির সম্মিলিত প্রভাবে বিচারব্যবস্থা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সকলের জন্য সহজলভ্য হয়ে উঠছে।
ভারতের বিচারব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর
একশো কোটিরও বেশি মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতকারী ভারতের বিচারব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে কাগজের নথি এবং প্রচলিত আদালতকেন্দ্রিক পরিকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল ছিল। নিজেদের মামলা বা নথি সংক্রান্ত কাজের জন্য আদালত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে গিয়ে বহু নাগরিককে অতিরিক্ত ভ্রমণ ও অন্যান্য খরচ বহন করতে হতো। পুরানো ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রদান প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছিল ধীর, জটিল এবং ব্যয়বহুল।
এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় সরকার ২০০৭ সালে ই-কোর্টস মিশন মোড প্রকল্প চালু করে। এই মিশনের লক্ষ্য হল বিভিন্ন আদালত-সংক্রান্ত কার্যক্রম ও নথি ডিজিটাইজ করার মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়াকে সুসংবদ্ধভাবে আরও দ্রুত করা। একই সঙ্গে আইনজীবী, বিচারক এবং আদালতের কর্মীসহ বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকলের জন্য এই ব্যবস্থা আরও সাশ্রয়ী, সহজলভ্য এবং স্বচ্ছ করে তোলা হচ্ছে। বর্তমানে তৃতীয় পর্যায়ে থাকা এই মিশন প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের বিচারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য রূপান্তর এনেছে।
প্রথম পর্যায় (২০১১–২০১৫) এই মিশনের ভিত্তি স্থাপন করে। এই পর্যায়ে ১৪,০০০-এরও বেশি আদালতকে কম্পিউটারভিত্তিক করা হয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিচার পরিষেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক নেটওয়ার্ক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়।
দ্বিতীয় পর্যায় (২০১৫–২০২৩) নাগরিককেন্দ্রিক বিভিন্ন পরিষেবা চালুর মাধ্যমে এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। এই পর্যায়ে ন্যাশনাল জুডিশিয়াল ডেটা গ্রিড (NJDG), ই-ফাইলিং এবং ই-সেবাকেন্দ্র (ডিজিটাল আদালত পরিষেবা প্রদানের জন্য একটি শারীরিক সহায়তা কেন্দ্র) চালু করা হয়। একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিং পরিকাঠামো পাঁচগুণেরও বেশি সম্প্রসারিত করা হয়, যার ফলে, ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
প্রকল্পটি বর্তমানে তৃতীয় পর্যায়ে (২০২৩–২০২৭) রয়েছে। এই পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ নথি ডিজিটাইজ করা, ভার্চুয়াল শুনানির আরও ব্যাপক ব্যবহার, বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উন্নত আন্তঃসংযোগ এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), অ্যানালিটিক্স ও অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (OCR)-সহ উদীয়মান প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থাকে ডিজিটাল, কাগজবিহীন এবং আরও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই পর্যায়ের দুটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হল:
|
ক্র. নং
|
উপাদানের নাম
|
সাফল্য
|
|
১
|
সম্পূর্ণ কার্যকর ই-সেবাকেন্দ্র
|
আদালত চত্বরগুলিতে ১,৮০৬টি ই-সেবাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে
|
|
২
|
কাগজবিহীন আদালত গড়ে তোলার পরিকাঠামো স্থাপন
|
৪৭৪টি আদালতে প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার সরবরাহ করা হয়েছে
|
|
৩
|
শক্তিশালী ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তুলে মামলার শুনানির জন্য ভার্চুয়াল আদালত সম্প্রসারণ
|
৫৩৮টি আদালত সজ্জিত
|
|
৪
|
আদালতের মামলায় ই-ফাইলিং ব্যবস্থা চালু
|
৪,৫১৯টি আদালত
|
|
৫
|
ভিডিও কনফারেন্সিং (VC) পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ
|
আদালত, জেল এবং হাসপাতাল-সহ ৭,৫৫৩টি প্রতিষ্ঠানে VC পরিষেবা রয়েছে
|
|
৬
|
ICT পরিকাঠামোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ পরিকাঠামো
|
১,৬২৬টি আদালত চত্বর সজ্জিত
|
|
৭
|
ন্যাশনাল সার্ভিস অ্যান্ড ট্র্যাকিং অফ ইলেকট্রনিক প্রসেসেস (NSTEP) পরিষেবা
|
৬,৮৯৫টি আদালতে NSTEP পরিষেবা রয়েছে
|
|
৮
|
সমস্ত হাইকোর্ট এবং জেলা আদালতের ওয়েবসাইট S3WAAS প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর
|
৭৩৪টি আদালতের ওয়েবসাইট স্থানান্তরিত
|
|
৯
|
দ্বিতীয় পর্যায়ে আদালত ও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের অতিরিক্ত হার্ডওয়্যার প্রদান
|
১৮,৩৮০টি আদালতকে সরঞ্জাম সরবরাহ
|
|
১০
|
ইন্টার-অপারেবল ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম (ICJS)-এর সঙ্গে সংযুক্তিকরণ, যাতে আদালত, পুলিশ, জেল এবং ফরেনসিক ল্যাবের মতো বিভিন্ন স্তরের মধ্যে তথ্য ও নথি নির্বিঘ্নে আদান-প্রদান করা যায়
|
সমস্ত হাইকোর্টে ICJS বাস্তবায়িত
|
|
১১
|
সংশ্লিষ্ট সকলের প্রশিক্ষণ
|
২,৩৭২টি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
|
|
১২
|
জ্ঞান ব্যবস্থাপনা
|
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, মাদ্রাস একটি লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (LMS) তৈরি করছে
|
|
১৩
|
সংযোগ ব্যবস্থা
|
সফটওয়্যার ডিফাইন্ড ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (SDWAN) প্রযুক্তির মাধ্যমে ১৭৪টি সাইট সংযুক্ত
|
আদালতের ডিজিটাল ব্যবস্থার সুবিধা
ভার্চুয়াল আদালত, ভিডিও কনফারেন্সিং পরিষেবা, মামলা ট্র্যাকার এবং বিচারাধীন ও নিষ্পত্তি হওয়া মামলার তথ্য প্রদর্শনকারী ড্যাশবোর্ড-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যবস্থা আদালতের কার্যপ্রণালীকে আরও সুসংগঠিত ও দ্রুত করেছে। এই সংস্কারগুলি বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সকল পক্ষকে উপকৃত করছে।
ন্যাশনাল জুডিশিয়াল ডেটা গ্রিডের মাধ্যমে বিচারাধীন ও নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় স্বচ্ছতা
দ্বিতীয় পর্যায়ের অধীনে চালু হওয়া ন্যাশনাল জুডিশিয়াল ডেটা গ্রিড (NJDG) হল একটি অনলাইন পাবলিক ড্যাশবোর্ড, যেখানে আদালতের আদেশ, রায় এবং মামলার তথ্য রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করা হয়। এতে বিচারব্যবস্থার সমস্ত স্তরের বিচারাধীন মামলার তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
NJDG-তে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট এবং জেলা আদালত-এর জন্য তিনটি পৃথক ড্যাশবোর্ড রয়েছে। এগুলি একসঙ্গে দেশের আদালতগুলির কার্যপ্রণালী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। এর মাধ্যমে ট্র্যাক করা হয়:
- দেশের হাইকোর্ট এবং অধস্তন আদালতগুলিতে বিচারাধীন ও নিষ্পত্তি হওয়া মামলার সংখ্যা।
- মামলার শ্রেণী এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায় অনুযায়ী মামলার বণ্টন, যেমন গ্রহণ, শুনানি, রায় এবং নিষ্পত্তি।
- মামলা বিলম্বের কারণ, যার মধ্যে রয়েছে পক্ষগুলির অনুপস্থিতি, নথি বাকি থাকা, আদালতের স্থগিতাদেশ এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াগত কারণ; পাশাপাশি, এই ধরনের বিলম্বের সময়কালও।
NJDG বিচারাধীন মামলাগুলির তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে। এটি হাইকোর্টের বিচারপতি, জেলা বিচারক এবং হাইকোর্টের রেজিস্ট্রির বিচারিক পরিকল্পনা, নজরদারি এবং দূরবর্তী প্রশাসনেও সহায়তা করেছে।
ই-ফাইলিং-এর মাধ্যমে প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি
আগে নাগরিক এবং আইনজীবীদের অভিযোগ, লিখিত বিবৃতি, জবাব এবং অন্যান্য আবেদন-সহ আদালতের নথি ব্যক্তিগতভাবে গিয়ে জমা দিতে হত। ই-ফাইলিং ব্যবস্থা এখন এই প্রয়োজনীয়তা দূর করেছে এবং যেকোনও স্থান থেকে অনলাইনে নথি জমা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে এই ব্যবস্থা ইংরেজির পাশাপাশি, আঞ্চলিক ভাষাগুলিকেও সমর্থন করে এবং জেলা আদালত, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে কার্যকর রয়েছে।
ই-ফাইলিং ব্যবস্থায় রয়েছে:
- অনলাইনে অর্থপ্রদানের সুবিধা
- অনলাইনে ওকালতনামা জমা দেওয়ার সুবিধা
- নথিতে ই-স্বাক্ষরের সুবিধা
- শপথের অনলাইন ভিডিও রেকর্ডিং
- অনলাইনে আবেদন জমা
- আইনজীবী ও মামলাকারীদের পোর্টফোলিও পরিচালনা
- সহকর্মী, জুনিয়র এবং অন্যান্যদের অংশীদার হিসাবে যুক্ত করে যৌথভাবে মামলা পরিচালনার সুবিধা
- নিষ্পত্তি হওয়া ও বিচারাধীন সমস্ত মামলার অবস্থা ট্র্যাক করার ড্যাশবোর্ড
- নিয়মিত দাখিল করা বিভিন্ন ধরনের আবেদনের জন্য প্রস্তুত টেমপ্লেট
- শুরু থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত:
- ১.২৫ কোটিরও বেশি মামলা ই-ফাইলিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দায়ের হয়েছে।
- ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা আদালত ফি বাবদ ₹১,৪০৪ কোটি এবং জরিমানা বাবদ ₹৭৫ কোটি মূল্যের লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ করেছে।
দক্ষতার সঙ্গে মামলা খোঁজা ও সংরক্ষণের জন্য পুরানো আদালতের নথির ডিজিটাইজেশন
মিশনের তৃতীয় পর্যায়ের অধীনে কোটি কোটি পুরনো আদালতের নথি ডিজিটাইজ করা হচ্ছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলিকে শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং নথি খোঁজা ও গবেষণার কাজ আরও দ্রুত ও দক্ষ হয়ে উঠছে।
রিমোট শুনানির মাধ্যমে সাশ্রয়ীভাবে আদালতের কার্যপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ
মামলাকারী, আইনজীবী, সাক্ষী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ এখন ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দূরবর্তীভাবে শুনানিতে অংশ নিতে পারেন। এর ফলে আদালতে যাওয়ার জন্য ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা কমেছে, বিভিন্ন শহর ও রাজ্য থেকে আদালতে সহজে পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার আরও উন্নত হয়েছে।
- আদালত, কারাগার এবং হাসপাতাল-সহ ৭,৫৫৩টি প্রতিষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর সুবিধা সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
- এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের আদালতগুলিতে ৪.১৮ কোটিরও বেশি রিমোট হিয়ারিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- ১১টি হাইকোর্টে আদালতের কার্যক্রমের লাইভস্ট্রিমিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
- ট্রাফিক চালানের অনলাইন নিষ্পত্তির জন্য ৩১টি ভার্চুয়াল কোর্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই ভার্চুয়াল কোর্টগুলিতে ১১.৩৩ কোটি চালান জমা পড়েছে, যার মোট মূল্য ১,১৩৫.৭৯ কোটি টাকা।
- Inter-operable Criminal Justice System (ICJS)-এর অধীনে ২০২৪ সালে চালু হওয়া Nyaya Shruti-এর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি, সাক্ষী, পুলিশ আধিকারিক, সরকারি কৌঁসুলি, বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞ এবং বন্দিরা ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে ভার্চুয়ালি উপস্থিত হতে এবং সাক্ষ্য দিতে পারেন। এর ফলে সময় ও সম্পদের সাশ্রয় হয় এবং মামলার নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও দ্রুততর হয়।
কানেক্টিং পুলিশ, কোর্টস, প্রিজনস অ্যান্ড ফরেনসিক্স
ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে এখন শুধু কোর্ট নয়, সমগ্র ক্রিমিনাল জাস্টিস চেইন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- আইসিজেএস (ইন্টারঅপারেবল ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম) – এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে পুলিশ, কোর্ট, প্রিজন, ফরেনসিক এবং প্রসিকিউশন বিভাগ ইলেকট্রনিকভাবে এফআইআর, চার্জশিট, অর্ডার এবং রিপোর্ট আদান-প্রদান করতে পারে।
- সিসিটিএনএস (ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিমিনাল ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সিস্টেম) – এফআইআর থেকে চার্জশিট পর্যন্ত পুলিশি প্রক্রিয়াগুলিকে কম্পিউটারাইজ করে এবং ইনভেস্টিগেটিং অফিসারদের জন্য ন্যায় সংহিতা-ভিত্তিক ডেডলাইন অ্যালার্ট প্রদান করে।
- আইটিএসএসও (ইনভেস্টিগেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম ফর সেক্সুয়াল অফেন্সেস) – মহিলা ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে চার্জশিট দাখিলের সময়সীমা অনুযায়ী তদন্তের অগ্রগতি ট্র্যাক করার জন্য একটি ড্যাশবোর্ড।
- ই-সাক্ষ্য – ডিজিটাল এভিডেন্স সংগ্রহ ও পরিচালনার জন্য একটি সিকিওর অ্যাপ, যা এভিডেন্স সংগ্রহ থেকে কোর্ট পর্যন্ত তার ইন্টিগ্রিটি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- ই-সমনস – কোর্ট সমনস ইলেকট্রনিকভাবে জেনারেট, ট্রান্সমিট এবং এক্সিকিউট করার ব্যবস্থা।
- মেডলিপ্র (মেডিকো লিগ্যাল এক্সামিনেশন অ্যান্ড পোস্টমর্টেম রিপোর্টিং) – মেডিকো-লিগ্যাল এক্সামিনেশন এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্টের জন্য হাসপাতালগুলির অনলাইন সিস্টেম।
- ন্যায় শ্রুতি – অ্যাকিউজড, উইটনেস, পুলিশ, প্রসিকিউটর এবং ফরেনসিক এক্সপার্টদের ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে ভার্চুয়ালি টেস্টিফাই করার সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম।
- ই-ফরেনসিক – ফরেনসিক ল্যাবগুলির মধ্যে এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটাল কেস হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা।
- ই-প্রিজন – প্রিজন এবং প্রিজনার ম্যানেজমেন্টের জন্য ক্লাউড-বেসড ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক।
- ই-প্রসিকিউশন – সময়মতো লিগ্যাল ওপিনিয়ন দেওয়ার জন্য পুলিশ ও প্রসিকিউশনকে যুক্ত করা ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো।
- নাফিস (ন্যাশনাল অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) – ক্রিমিনাল রেকর্ডের সঙ্গে রিয়েল-টাইম ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচিংয়ের জন্য একটি সেন্ট্রালাইজড বায়োমেট্রিক ডেটাবেস।
এনেবলিং সিমলেস ট্র্যাকিং অফ জুডিশিয়াল বিজনেস থ্রু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মস
লইয়ার্স, লিটিগ্যান্টস, জাজেস এবং অন্যান্যরা এখন অ্যাপস, মাল্টিলিঙ্গুয়াল ই-কোর্টস সার্ভিসেস পোর্টাল, ইমেল এবং এসএমএস-এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ট্র্যাক কেস স্ট্যাটাস অ্যান্ড আপডেটস করতে পারেন। এই পরিষেবাগুলি ট্র্যাকিং ও ট্রান্সপেরেন্সি বৃদ্ধি করেছে, কোর্টে ফিজিক্যাল ভিজিটের প্রয়োজন কমিয়েছে এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস ডেলিভারি আরও সহজ করেছে।
- প্রতিদিন ৪ লক্ষেরও বেশি এসএমএস, ৬ লক্ষ ইমেল পাঠানো হয়।
- মাল্টিলিঙ্গুয়াল ই-কোর্টস সার্ভিসেস পোর্টাল-এ প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লক্ষ হিট হয়।
- ই-কোর্টস সার্ভিসেস মোবাইল অ্যাপ (৩.৮৪ কোটি ডাউনলোড) লইয়ার্স ও লিটিগ্যান্টসদের কেস স্ট্যাটাস, কজ লিস্ট ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করে।
- জাস্টআইএস অ্যাপ (২২,৫৯৪ ডাউনলোড) বিচারকদের জন্য একটি ম্যানেজমেন্ট টুল, যা তাঁদের বিচারবিভাগীয় কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা ও নজরদারি করতে সাহায্য করে।
- ন্যাশনাল সার্ভিস অ্যান্ড ট্র্যাকিং অফ ইলেকট্রনিক প্রসেসেস ফর জিপিএস-ট্র্যাকড ডেলিভারি অফ সমনস:
- বেইলিফরা এনএসটিইপি — একটি সেন্ট্রালাইজড, জিপিএস-এনেবলড ওয়েব অ্যান্ড মোবাইল অ্যাপ — ব্যবহার করে সমনস ও নোটিস ইলেকট্রনিকভাবে এবং রিয়েল-টাইমে সার্ভ করেন। এনএসটিইপি পূর্ববর্তী ধীর, পেপার-বেসড প্রক্রিয়ার পরিবর্তে একটি ট্রান্সপারেন্ট, ট্র্যাকেবল ডিজিটাল সিস্টেম চালু করেছে, যা বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্ট ও স্টেট জুড়ে দ্রুত সার্ভিস নিশ্চিত করছে।
ইমপ্রুভড আন্ডারস্ট্যান্ডিং অফ লিগ্যাল প্রসেস থ্রু ই-সেবা কেন্দ্রস
কোর্ট কমপ্লেক্সের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ই-সেবা কেন্দ্র নাগরিক-বান্ধব অ্যাসিস্ট্যান্স সেন্টার হিসাবে কাজ করে। এখানে মানুষ বিভিন্ন আইনি কাজকর্ম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে গাইডেন্স পেতে পারেন। এই কিয়স্কগুলিতে নিম্নলিখিত ফ্যাসিলিটিগুলি রয়েছে:
- কেস স্টেটাস, নেক্সট হিয়ারিং ডেট এবং সংশ্লিষ্ট কেস ডিটেলস সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া।
- সার্টিফায়েড কপির জন্য অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন প্রসেস করা।
- পিটিশনের ই-ফাইলিংয-এ সহায়তা করা — হার্ড কপি স্ক্যান করা, ই-সিগনেচার সংযুক্ত করা, সিআইএস-এ আপলোড করা এবং ফাইলিং নম্বর জেনারেট করা।
- ই-স্ট্যাম্প পেপার এবং ই-পেমেন্টের অনলাইন পারচেজে সহায়তা করা।
- লিটিগ্যান্টসদের আধার-বেসড ডিজিটাল সিগনেচারের জন্য আবেদন ও তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করা।
- ই-কোর্টস মোবাইল অ্যাপ (অ্যান্ড্রয়েড/আইওএস) ডাউনলোডে প্রচার ও সহায়তা করা।
- জেলের আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ই-মুলাকাত অ্যাপয়েন্টমেন্টস বুক করা।
- জাজেসদের লিভ শিডিউল সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া।
- ডিস্ট্রিক্ট, হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিজ/কমিটিজের মাধ্যমে ফ্রি লিগ্যাল এইড পাওয়ার বিষয়ে লিটিগ্যান্টসদের গাইড করা।
- ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে ট্রাফিক চালান ডিসপোজাল-এ সহায়তা করা, যার মধ্যে চালান ও অন্যান্য পেটি অফেন্সের অনলাইন কম্পাউন্ডিং অন্তর্ভুক্ত।
- ভিডিও-কনফারেন্স হিয়ারিং কীভাবে সেট আপ ও জয়েন করতে হয় তা ব্যাখ্যা করা।
- ইমেল, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে জাজমেন্ট/অর্ডারের কপি শেয়ার করা।
- এ বছর ৩০ জুন পর্যন্ত, সমস্ত হাই কোর্টে ৪৯টি ই-সেবা কেন্দ্র এবং ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট বা জেলা আদালতগুলিতে ২,৫৩৫টি ই-সেবা কেন্দ্র কার্যকর রয়েছে।
অ্যাডভান্সিং ডিজিটাল জাস্টিস থ্রু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মেশিন লার্নিং
এআই অ্যান্ড মেশিন লার্নিং ইন হাই কোর্টস থ্রু ২০২৭ হল মিশনের ফেজ III-এর পরবর্তী পদক্ষেপ। মোট ৭,২১০ কোটি টাকার আউটলের মধ্যে ৫৩.৫৭ কোটি টাকা এই ডেভেলপমেন্টের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিগুলির ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে লিগ্যাল রিসার্চ, কেস ম্যানেজমেন্ট, ট্রান্সক্রিপশন, ট্রান্সলেশন এবং জুডিশিয়াল ডিসিশন-মেকিং সাপোর্ট আরও উন্নত হচ্ছে।
পাইলট টেস্টিং-এর অধীনে থাকা প্রধান উদ্যোগগুলি হল:
- এআই অ্যান্ড এমএল টুলস কনস্টিটিউশনাল বেঞ্চের মামলায় ওরাল আর্গুমেন্টস বা আইনি বাদানুবাদ ট্রান্সক্রাইব করে এবং এই ট্রান্সক্রিপ্টস সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
- লেগ্রাএ (লিগ্যাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস অ্যাসিস্ট্যান্ট) জাজেসদের লিগ্যাল রিসার্চ এবং ডকুমেন্ট অ্যানালিসিসে সহায়তা করে।
- ডিজিটাল কোর্টস ২.১ জাজেস এবং জুডিশিয়াল অফিসারদের পেপারলেস ফরম্যাটে কেস ম্যানেজ করতে দেয় এবং সমস্ত কেস-রিলেটেড ইনফরমেশন ও টাস্কের জন্য একটি সিঙ্গল উইন্ডো প্রদান করে।
- এতে ভয়েস-টু-টেক্সট (এএসআর-শ্রুতি) এবং ট্রান্সলেশন (পাণিনি) টুলস রয়েছে, যা অর্ডার ও জাজমেন্ট ডিক্টেশনে সহায়তা করে।
- ই-এসসিআর পোর্টাল-এর মাধ্যমে জাজমেন্টস ১৮টি ইন্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজে ট্রান্সলেট করা হচ্ছে। ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৮৩,০০০-এরও বেশি জাজমেন্ট ট্রান্সলেট করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬,৩৪৪টি হিন্দিতে (মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত)।
- আইআইটি চেন্নাই-এর সঙ্গে তৈরি একটি এআই টুল ই-ফাইল করা পিটিশন বা আপিলে ত্রুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্ল্যাগ করে এবং কেস ডেটা/মেটাডেটা বের করে। ২০০ জন অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ডকে প্রোটোটাইপ অ্যাক্সেস দেওয়া হয়েছে। ই-ফাইলিং সিস্টেম এবং কোর্টের কেস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার (আইসিএমআইএস)-এর সঙ্গে এর ইন্টিগ্রেশন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।
অ্যান ওভারহলড জুডিশিয়াল সিস্টেম
ই-কোর্টস মিশন ভারতের জুডিশিয়াল সিস্টেমকে মডার্নাইজ এবং ডিজিটাইজ করেছে। ইন-পার্সন কোর্ট ভিজিট এবং ফিজিক্যাল পেপারওয়ার্কের মতো টেডিয়াস প্রসেসের পরিবর্তে এখন আরও সহজ, ট্র্যাকেবল এবং এফিশিয়েন্ট ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। নতুন এআই টুলস বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করছে। এই ইন্টারভেনশনগুলির মাধ্যমে যে কেউ যেকোনও জায়গা থেকে জুডিশিয়াল সার্ভিসেস অ্যাক্সেস করতে পারেন। জাস্টিস ডেলিভারি এখন সাধারণ মানুষের জন্য আরও ট্রান্সপারেন্ট, ফাস্টার এবং অ্যাফোর্ডেবল।
আরও সহজলভ্য, স্বচ্ছ ও দক্ষ বিচারব্যবস্থা
ই-কোর্টস মিশন ঐতিহ্যগতভাবে পেপার-হেভি, প্রসেস-ড্রিভেন এবং ওপেক জুডিশিয়ারিকে আরও অ্যাক্সেসিবল, ট্রান্সপারেন্ট এবং টেকনোলজি-এনেবলড অনলাইন সিস্টেমে রূপান্তরিত করেছে। ন্যাশনাল জুডিশিয়াল ডেটা গ্রিড প্রথমবারের মতো পেন্ডিং কেসগুলিকে দৃশ্যমান করেছে। বস্তুত, ৭৫৩ কোটিরও বেশি পৃষ্ঠার পুরনো কোর্ট রেকর্ড ডিজিটাইজ করা হয়েছে এবং সার্চযোগ্য করে তোলা হয়েছে।
এই নতুন সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে বিচার বিভাগ আরও যথাযথভাবে বৃদ্ধি পাওয়া মামলার বোঝা পরিচালনা করতে সক্ষম হচ্ছে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত তৃতীয় পর্যায়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এমন একটি বিচার বিভাগীয় দৃষ্টিডঙ্গি এগিয়ে চলেছে, যেটি স্থান বা পরিস্থিতি নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করে।
তথ্যবিবরণী
Press Information Bureau:
Ministry of Law and Justice & Others:
Click here to see pdf
SSS/RP........
(रिलीज़ आईडी: 2296150)
आगंतुक पटल : 11