পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

৮৪,০৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সমুদ্র মন্থন’ — জাতীয় অফশোর অনুসন্ধান প্রকল্প—অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা

प्रविष्टि तिथि: 01 AUG 2026 9:46AM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১ আগস্ট ২০২৬

 

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরোহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা গতকাল ‘সমুদ্র মন্থন’, অর্থাৎ জাতীয় অফশোর বা তটসন্নিহিত নাতি-গভীর সমুদ্র-অভ্যন্তরস্থ অনুসন্ধান প্রকল্প অনুমোদন করেছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অধীনস্থ এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য ৮৪,০৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এটি ভারতের এযাবৎকালের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী অফশোর অনুসন্ধান অভিযান।

ভারতের হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গৃহীত ধারাবাহিক ও যুগান্তকারী সংস্কারমূলক পদক্ষেপেরই চূড়ান্ত পরিণতি হলো এই অনুমোদন।

‘সমুদ্র মন্থন’ প্রকল্পটির বাস্তব রূপান্তর সেই সংস্কারগুলোকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার যাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।

ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের ভোক্তা; এর বার্ষিক আমদানির পরিমাণ প্রায় ১৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ লক্ষ কোটি টাকা)। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে এটি স্পষ্ট যে, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির জন্য জ্বালানি সম্পদের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্বের বিষয়।

আগামী দশকগুলোতে ভারতে জ্বালানির চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, জ্বালানি ক্ষেত্রে সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো অপরিহার্য।

২০১৪ সাল থেকে সরকার হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উৎপাদনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ বা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে ধারাবাহিক কিছু কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে:

তটসন্নিহিত নাতি-গভীর সমুদ্র বা অফশোর এলাকায় অনুসন্ধানের সুযোগ সৃষ্টি : আগে যেসব এলাকা নিষিদ্ধ বা অগম্য হিসেবে চিহ্নিত ছিল, তার ৯৯%-এরও বেশি এলাকা সেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভারতের 'এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন'-এর দশ লক্ষেরও বেশি বর্গকিলোমিটার এলাকা প্রথমবারের মতো অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।

চুক্তি ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন : ভারত 'উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তি' থেকে সরে এসে 'রাজস্ব-অংশীদারিত্ব চুক্তি' ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর ফলে আর্থিক কাঠামো সহজতর ও স্বচ্ছ হয়েছে এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ হ্রাস পেয়েছে।

আইনগত সংস্কার : 'অয়েলফিল্ডস (রেগুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৫'-এর মাধ্যমে এই খাতের আইনি কাঠামোকে আধুনিক করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় চুক্তির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা, সমন্বিত পেট্রোলিয়াম কার্যক্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালার মাধ্যমে বাস্তবায়ন : 'পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস রুলস, ২০২৫'-এর মাধ্যমে এই সংস্কারগুলোকে কার্যকর করা হয়েছে। এই বিধিমালা ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজতর করা, নিয়ন্ত্রণমূলক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পেট্রোলিয়াম লিজ সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সুবিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিন্ন কাঠামো : সরকার বিভিন্ন চুক্তি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সচিবদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির গঠন ও কার্যপরিধিকে একীভূত বা বিধিসম্মত করেছে। এর ফলে চুক্তির সময়কাল নির্বিশেষে সকল অপারেটরের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

অনুসন্ধান কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব : ওএনজিসি এবং অয়েল ইন্ডিয়া-র কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের মাপকাঠিগুলোকে এমনভাবে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে যাতে অনুসন্ধান কার্যক্রমের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া যায়। এর মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরীণ হাইড্রোকার্বন সম্পদের ভিত্তি সম্প্রসারণে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।

হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান একটি বিপুল পুঁজি-নির্ভর এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া; একটি অনুসন্ধান ব্লকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া পর্যন্ত সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য ধারাবাহিক অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তাকেই এটি তুলে ধরে।

তাছাড়া, চালু তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রগুলোতে প্রতি বছর স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন ৬-৭% হারে হ্রাস পায়। তাই অভ্যন্তরীণ হাইড্রোকার্বন উৎপাদন বজায় রাখার জন্য নিরবচ্ছিন্ন অনুসন্ধান এবং নতুন নতুন খনি আবিষ্কার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

এই সীমাবদ্ধতা বা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় সরকার অনুসন্ধান-ভিত্তিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে। জাতীয় অফশোর (নাতি-গভীর সমুদ্র-অভ্যন্তরীণ) অনুসন্ধান কর্মসূচি ‘সমুদ্র মন্থন’-এর আওতায়, সরকার গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানমূলক কূপ খননের খরচের ৫০% পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। এর ফলে অনুসন্ধানের ঝুঁকি কমবে, বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং ভারতের সমুদ্র-অভ্যন্তরীণ হাইড্রোকার্বন সম্ভাবনার বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।

ভারতের হাইড্রোকার্বনের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা মূলত গভীর সমুদ্র এবং অতি-গভীর সমুদ্রের অববাহিকা, যেমন কৃষ্ণা-গোদাভরী, কাবেরী, মহানদী এবং আন্দামান অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। এই নতুন ও দুর্গম এলাকাগুলোতে অনুসন্ধানের জন্য উন্নত প্রযুক্তি এবং বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন। একটিমাত্র গভীর সমুদ্রের অনুসন্ধানমূলক কূপ খননে প্রায় ১২৫ থেকে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। এ ধরনের অনুসন্ধানের উচ্চ ঝুঁকি ও উচ্চ ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, সরকার বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে, অনুসন্ধান কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে এবং ভারতের সমুদ্র-অভ্যন্তরীণ হাইড্রোকার্বন সম্পদ কাজে লাগাতে ঝুঁকি-অংশীদারিত্ব পদ্ধতি গ্রহণ করছে।

 

অনুসন্ধান কার্যক্রম সফল হলে, ‘সমুদ্র মন্থন’ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ভারতের অভ্যন্তরীণ তেল ও গ্যাস উৎপাদন বার্ষিক প্রায় ৬২ এমএমটিওই থেকে বাড়িয়ে ৮০ এমএমটিওই-তে উন্নীত করা এবং দেশের হাইড্রোকার্বন সম্পদের ভিত্তি ১.৬ বিলিয়ন টিওই থেকে বাড়িয়ে ২.২ বিলিয়ন টিওই-তে সম্প্রসারিত করা। এই অতিরিক্ত উৎপাদনের ফলে অপরিশোধিত তেল আমদানির খরচ বছরে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে, যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে সুদৃঢ় করবে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করবে।

 

উন্নত তথ্য, ঝুঁকি-অংশীদারিত্ব, যৌথ পরিকাঠামো এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে অনুসন্ধানের একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পরিবেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ‘সমুদ্র মন্থন’ ভারতকে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে জাতীয় সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে। পাশাপাশি, এটি আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করবে এবং আমদানির ওপর দীর্ঘমেয়াদী নির্ভরতা কমিয়ে আনবে।

 

SC/SB/DM


(रिलीज़ आईडी: 2293049) आगंतुक पटल : 9
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: Kannada , English , Urdu , हिन्दी , Gujarati , Tamil