PIB Backgrounder
আরও কঠোর আইন, আরও সুরক্ষিত পরীক্ষা- প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আরও কড়া পদক্ষেপ ভারতের
प्रविष्टि तिथि:
31 JUL 2026 11:57AM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই, ২০২৬
কঠোর কারাদণ্ড, বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত
প্রতি বছর দেশের অগনিত যুবক-যুবতী সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসেন। সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই তাঁরা পরীক্ষায় অংশ নেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে বা সংঘবদ্ধ চক্র পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কারচুপি করলে শুধু আইন ভঙ্গ হয় না। সৎ পরীক্ষার্থীর পরিশ্রম এবং আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সেই আস্থা রক্ষার লক্ষ্যেই সংসদ পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪ প্রণয়ন করেছে। পরীক্ষায় অসদুপায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সংঘবদ্ধ পরীক্ষা জালিয়াতি রোধে এটিই দেশের প্রথম স্বতন্ত্র আইন।
এই আইনকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভায় পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ পেশ করেছে।
নতুন বিলে শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথও আরও সুস্পষ্ট করা হয়েছে।
কেন এই সংশোধন প্রয়োজন
২০২৪ সালের আইন একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছিল।
তা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় অসদুপায়ের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সরকারি পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা এই ঘটনাগুলির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০২৬ সালের সংশোধনী বিল এই সমস্যার সরাসরি মোকাবিলা করবে।
শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। অপরাধ দমনে তার কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে।
তদন্ত এবং বিচার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অপরাধীরা দ্রুত শাস্তি পাবে। পরীক্ষার্থীরাও দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন।
অপরাধীদের জন্য আরও কঠোর শাস্তি
এই সংশোধনী বিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শাস্তির ক্ষেত্রে।
ব্যক্তি, পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের জন্য কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
দ্রুত এবং আরও কার্যকর তদন্ত
২০২৪ সালের আইন অনুযায়ী, ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট পদমর্যাদার বা তার ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক তদন্তের দায়িত্ব পালন করতেন।
প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও মামলার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে পারত।
২০২৬ সালের সংশোধনী বিলে আরও একটি ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে।
এখন কেন্দ্রীয় সরকার পরীক্ষা জালিয়াতির তদন্তে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করতে পারবে।
কোনও মামলার জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন হলে সেই মামলার সম্পূর্ণ তদন্তের দায়িত্ব তাদের উপরই থাকবে। তদন্তের দায়িত্ব একক সংস্থার হাতে থাকবে।
প্রথমবার তদন্তের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অথবা বিশেষ টাস্ক ফোর্স, যে সংস্থাই তদন্ত করুক না কেন, দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।
পুলিশে মামলা নথিভুক্ত হওয়ার দিন থেকে এই সময়সীমা গণনা শুরু হবে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে মামলা তুলে দেওয়া হলে সেই দিন থেকে সময় গণনা শুরু হবে।
বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে সেই দিন থেকেও সময়সীমা কার্যকর হবে।
বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত
এই সংশোধনী বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত।
প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে একটি সেশন আদালতকে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত হিসাবে মনোনীত করতে হবে।
এই আদালতগুলির জন্য একাধিক বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রতিদিন শুনানি হবে। অপ্রয়োজনীয় বিরতি দেওয়া যাবে না।
চার্জশিট জমা পড়ার তিন মাসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
সংশোধনী কার্যকর হওয়ার আগে অন্য আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলিও বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা হবে।
স্থানান্তরের তিন মাসের মধ্যে সেই মামলাগুলির বিচার শেষ করতে হবে।
প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই মামলাগুলির জন্য বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ করা হবে।
পরীক্ষা জালিয়াতির পাশাপাশি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অথবা অন্য কোনও আইনের অধীনে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ থাকলে একই আদালতে একসঙ্গেই বিচার হবে।
একটি মামলার জন্য একাধিক আদালতে যেতে হবে না।
এই ব্যবস্থার ফলে, তদন্ত থেকে বিচার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন হবে।
আপিলের স্পষ্ট অধিকার
বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের নিয়মও প্রথমবার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
রায়, সাজা অথবা অন্য কোনও চূড়ান্ত নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা যাবে। অন্তর্বর্তী নির্দেশ এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না।
দুই বিচারপতির বেঞ্চে আপিলের শুনানি হবে।
আপিল গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা করতে হবে।
জামিন মঞ্জুর অথবা জামিন প্রত্যাখ্যানের নির্দেশের বিরুদ্ধেও সরাসরি উচ্চ আদালতে আপিল করা যাবে।
সাধারণভাবে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে।
যুক্তিসংগত কারণ থাকলে উচ্চ আদালত বিলম্ব মঞ্জুর করতে পারবে।
কোনও অবস্থাতেই ৯০ দিনের পরে আপিল গ্রহণ করা হবে না।
বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে অন্য কোনও আদালতে পৃথক আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।
এই ব্যবস্থা বিচারপ্রক্রিয়াকেপ দ্রুত এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।
অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারী উভয় পক্ষই উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার সম্ভাবনাও কমবে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য এর তাৎপর্য
এই সংশোধনী বিল একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
পরীক্ষা জালিয়াতির মূল্য এখন অপরাধীদের অনেক বেশি দিতে হবে।
তদন্ত দ্রুত হবে।
বিচার দ্রুত হবে।
শাস্তিও দ্রুত কার্যকর হবে।
সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য সৎভাবে প্রস্তুতি নেওয়া পরীক্ষার্থীদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সংঘবদ্ধ জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রয়োজনে ন্যায়বিচার পেতেও আর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য সরকারি পরীক্ষা ব্যবস্থার পথে
পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ ২০২৪ সালের আইনের ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে।
দেশের সরকারি পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আরও সুরক্ষিত এবং আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলাই এই সংশোধনের লক্ষ্য।
দেশের যুবসমাজ তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে যে পরীক্ষা ব্যবস্থার উপর নির্ভর করেন, সেই ব্যবস্থার প্রতি আস্থা সুদৃঢ় করতেই এই পদক্ষেপ।
তথ্যসূত্র
Click here to see PDF
*****
SSS/SS......
(रिलीज़ आईडी: 2292370)
आगंतुक पटल : 6