PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

“সাদা সোনা: ভারতের তুলোর কাহিনি”

“বীজ থেকে পোশাক”

प्रविष्टि तिथि: 20 JUL 2026 1:05PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ২০ জুলাই, ২০২৬

 

ভারতের কৃষি ও শিল্প অর্থনীতিতে তুলোর একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। স্বীকৃত চারটি তুলোর প্রজাতিরই চাষ হয় একমাত্র ভারতে। তুলো চাষের জমির পরিমাণে ভারত বিশ্বের প্রথম এবং উৎপাদন ও ব্যবহারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ২০২৫–২৬ সালে (অস্থায়ী হিসাব অনুযায়ী) দেশে তুলোর উৎপাদন হয়েছে ২৯০.৯১ লক্ষ বেল। একই সময়ে দেশে তুলোর ব্যবহার পৌঁছেছে ৩২৮ লক্ষ বেলে। বিশ্বে মোট তন্তু (ফাইবার) উৎপাদনের প্রায় ১৯ শতাংশ আসে এই ক্ষেত্র থেকে। সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলির মূল লক্ষ্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, গুণমান উন্নয়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং মূল্য সংযোজন। বাজারদর কমে গেলেও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP)-এর মাধ্যমে কৃষকদের মূল্য সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। মিশন ফর কটন প্রোডাক্টিভিটি-র লক্ষ্য ২০৩১ সালের মধ্যে তুলোর উৎপাদন ৪৯৮ লক্ষ বেলে উন্নীত করা। প্রযুক্তি প্রদর্শন, ডিজিটাল সংগ্রহ ব্যবস্থা এবং ট্রেসেবিলিটি উদ্যোগ তুলো ক্ষেত্রের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এধরণের উদ্যোগ উৎপাদনশীলতা ও গুণমান বৃদ্ধি করার পাশাপাশি, বিশ্বে তুলো-কেন্দ্রিক অর্থনীতির  ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।

 

যে সুতোয় জড়িয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন

ভাবুন, ভারতের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ফুটে থাকা ছোট ছোট সাদা তুলোর ফুল, যা সূর্যের আলোয় ধীরে ধীরে নরম তুলোর মেঘে পরিণত হয়। সেই মাঠ থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ যাত্রা—যা সুতা কাটার কারখানা, তাঁতশিল্প পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের পোশাকে। তুলো শুধু একটি ফসল নয়, এটি এমন এক সুতো, যা কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে।

তুলো ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ফসল। বিশ্বে মোট তন্তু (ফাইবার) উৎপাদনের প্রায় ২৩ শতাংশ আসে তুলো থেকে। এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৬০ লক্ষ তুলোচাষির জীবিকা। পাশাপাশি, তুলো প্রক্রিয়াকরণ, বাণিজ্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে এই ক্ষেত্র। পোশাক তৈরির কাঁচামাল হওয়ার পাশাপাশি, তন্তু, সুতা, কাপড় ও তৈরি পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও তুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের অর্থনীতিতে এর বিশেষ গুরুত্বের কারণে তুলোকে "সাদা সোনা" (White Gold) বলেও অভিহিত করা হয়।

ভারতের তুলো ক্ষেত্র বৈচিত্র্য ও গতিময়তার এক অনন্য উদাহরণ। এর শক্তির মূল ভিত্তি হলো জৈব বৈচিত্র্য, ব্যাপক চাষাবাদ এবং শক্তিশালী বস্ত্রশিল্পের পরিকাঠামো। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) কার্যক্রম, মিশন ফর কটন প্রোডাক্টিভিটি এবং কস্তুরি কটন ভারত-এর মতো সরকারি উদ্যোগ এই ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার, বাজার সংস্কার এবং গুণমান উন্নয়নের প্রচেষ্টা তুলো ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রাতে আরও গতির সঞ্চার করেছে।

স্বদেশি থেকে আত্মনির্ভর ভারত

ভারতে তুলোর ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরোনো। একসময় ভারতীয় উপমহাদেশ ছিল তুলোর বস্ত্র উৎপাদন ও বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কেন্দ্র। এখানকার বস্ত্র পূর্ব ও ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি হতো। প্রাচীনকালে তুলোর কাপড় বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবেও ব্যবহৃত হতো। এর মাধ্যমে তুলোর অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার পরিচয় পাওয়া যায়।

আধুনিক তুলো শিল্পের বিকাশ শুরু হয় ঊনবিংশ শতাব্দীতে, যখন কলকাতা, মুম্বই এবং আহমেদাবাদে বস্ত্রকল স্থাপিত হয়। এর মধ্যে আহমেদাবাদ "ভারতের ম্যানচেস্টার" নামে পরিচিতি লাভ করে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এই শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটে। স্বদেশি আন্দোলন ব্রিটিশ পণ্যের মোকাবিলায় স্বদেশি মিল প্রতিষ্ঠাকে উৎসাহিত করে। পাশাপাশি, দুটি বিশ্বযুদ্ধের সময় বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলে, দেশীয় বস্ত্রশিল্প আরও গতি পায়। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সারা দেশে বস্ত্রকলের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে এর ফলে, তুলোর বস্ত্রের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা ভারতের তুলো শিল্পের ক্রমবর্ধমান পরিসর ও দৃঢ়তার প্রতিফলন।

ভারতের তুলো ক্ষেত্রটির বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্য

ভারতই একমাত্র দেশ, যেখানে স্বীকৃত তুলোর চারটি প্রজাতিরই চাষ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে G. Arboreum এবং G. Herbaceum, যেগুলি সাধারণভাবে এশীয় তুলো (Asian cotton) নামে পরিচিত। অন্য দুটি প্রজাতি হল G. Barbadense, যা মিশরীয় তুলো (Egyptian cotton) নামে পরিচিত, এবং G. Hirsutum, যা আমেরিকান আপল্যান্ড তুলো (American upland cotton) নামে পরিচিত। এর মধ্যে G. Hirsutum ভারতে উৎপাদিত মোট হাইব্রিড তুলোর প্রায় ৯০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। বর্তমানে দেশে চাষ হওয়া সব Bt তুলো হাইব্রিডই এই প্রজাতির অন্তর্গত।

Bt বলতে Bacillus thuringiensis-কে বোঝায়, যা মাটিতে স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় এমন একটি ব্যাকটেরিয়া। Bt তুলো একটি জিনগতভাবে পরিবর্তিত (Genetically Modified) তুলো ফসল, যাতে এই ব্যাকটেরিয়ার জিন সংযোজন করা হয়েছে। এই জিনগুলি বলওয়ার্ম (bollworm) নামক তুলোর প্রধান ক্ষতিকর পোকামাকড়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে। ২০০২ সালে ভারতে বাণিজ্যিকভাবে Bt তুলো চালু হওয়ার পর বলওয়ার্মের আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজনও হ্রাস পায়। অধিক ফলন এবং কীটপতঙ্গ দমনের ব্যয় কমে যাওয়ার ফলে Bt তুলো গ্রহণের পর কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

উদ্ভিদগত বৈচিত্র্যের পাশাপাশি, ভারতে তুলোকে স্টেপল (তন্তু) দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতেও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এই দৈর্ঘ্যই তন্তুর গুণমান এবং তার ব্যবহার নির্ধারণ করে। দেশে সব ধরনের স্টেপল শ্রেণীর তুলো উৎপাদিত হয়।

স্টেপল শ্রেণী

স্টেপল দৈর্ঘ্য (মিলিমিটারে)

স্বল্প স্টেপল

২০ এবং তার কম

মধ্যম স্টেপল

২০.৫ থেকে ২৪.৫

মধ্যম-দীর্ঘ স্টেপল

২৫.০ থেকে ২৭.০

দীর্ঘ স্টেপল

২৭.৫ থেকে ৩২.০

অতিদীর্ঘ স্টেপল

৩২.৫ এবং তার বেশি

 

তুলো চাষের ভৌগোলিক বিস্তার

ভারতে তুলোর উৎপাদন মূলত নয়টি প্রধান রাজ্যে কেন্দ্রীভূত, যেগুলিকে তিনটি পৃথক কৃষি-জলবায়ুগত অঞ্চলে (Agro-ecological Zones) ভাগ করা হয়েছে—

  • উত্তরাঞ্চল – পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থান
  • মধ্যাঞ্চল – গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রদেশ
  • দক্ষিণাঞ্চল – তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কর্ণাটক

এছাড়াও, ওডিশা এবং তামিলনাড়ুতেও তুলো চাষ করা হয়।

আয়তন, উৎপাদন ও ব্যবহারে ভারতের তুলো খাতের শক্তি

তুলো চাষের জমির পরিমাণে ভারত বিশ্বের প্রথম স্থানে রয়েছে। দেশে ১১৪.৮৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে তুলো চাষ হয়, যা বিশ্বের মোট ৩০৪.০৮ লক্ষ হেক্টর তুলো চাষের জমির প্রায় ৩৮ শতাংশ। দেশের তুলো উৎপাদনের একটি বড় অংশ বৃষ্টিনির্ভর। মোট উৎপাদনের প্রায় ৬২ শতাংশ বৃষ্টিনির্ভর এলাকায় হয়, আর অবশিষ্ট ৩৮ শতাংশ সেচনির্ভর জমিতে চাষ করা হয়।

তুলো উৎপাদন ও ব্যবহারে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এটি দেশের ব্যাপক চাষাবাদ এবং শক্তিশালী বস্ত্রশিল্পের পরিচয় বহন করে। তুলোর উৎপাদন সাধারণত বেল (Bale) এককে হিসাব করা হয়, যা তুলো বাণিজ্যে ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক মানের একক। এক বেলের ওজন ১৭০ কিলোগ্রাম। ২০২৪–২৫ তুলো মরশুমে দেশের তুলো উৎপাদন ছিল ২৯৭.২৪ লক্ষ বেল (৫.০৬ মিলিয়ন টন), যা বিশ্বে মোট তুলো উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ।

২০২৫–২৬ সালে (অস্থায়ী হিসাব অনুযায়ী) দেশে তুলো উৎপাদন হয়েছে ২৯০.৯১ লক্ষ বেল (৪.৯৫ মিলিয়ন টন)। একই সময়ে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), অ-MSME এবং অ-বস্ত্র ক্ষেত্রসহ মোট দেশীয় ব্যবহার ছিল ৩২৮ লক্ষ বেল (৫.৫৮ মিলিয়ন টন)। এই পরিসংখ্যান বিশ্ব তুলো অর্থনীতিতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।

তুলো রপ্তানি ও বিশ্ব বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান

বিশ্ব তুলো বাণিজ্যে ভারত তার শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছে। ২০২৪–২৫ সালে দেশ থেকে আনুমানিক ১৮ লক্ষ বেল তুলো রপ্তানি হয়েছে, যা ০.৩১ মিলিয়ন মেট্রিক টনের সমান। এটি বিশ্বের মোট ৫৪১.৬৯ লক্ষ বেল (৯.২১ মিলিয়ন মেট্রিক টন) তুলো রপ্তানির প্রায় ৩.৩৭ শতাংশ। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তুলো বাজারে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিকারক হিসেবে অবস্থান প্রতিফলিত হয়।

এছাড়া, ভারত বিশ্বের বিভিন্ন প্রধান বাজারে তুলো রপ্তানি করে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় তুলোর শক্তিশালী ও বহুমুখী চাহিদার পরিচয় বহন করে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে (FY25) মূল্যমানের হিসাবে তুলো রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১.৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতীয় তুলোর কাপড় ও তৈরি পণ্যের (cotton fabrics and made-ups) বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যার অংশ ছিল মোট তুলো রপ্তানির ২৬.৩৫ শতাংশ। এর পরে রয়েছে বাংলাদেশ (১৯.৮১ শতাংশ) এবং শ্রীলঙ্কা (৫.১১ শতাংশ)। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য (২.৩৮ শতাংশ) এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (২.৩২ শতাংশ)।

এই রপ্তানির ধারা আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় তুলোর বহুমুখী চাহিদার পরিচয় দেয় এবং দেশের কৃষি ও বস্ত্র অর্থনীতিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে সুদৃঢ় করে।

প্রতিযোগিতামূলক তুলো বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলা

বহুমুখী কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে দেশের তুলো খাতের উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর প্রধান অগ্রাধিকারগুলির মধ্যে রয়েছে মূল্য সহায়তা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজারকে আরও শক্তিশালী করা। কৃষকদের আয় সুরক্ষিত রাখা এবং ভারতীয় তুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নিচে উল্লেখিত একাধিক লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) কার্যক্রম

তুলো চাষকে সুস্থায়ী রাখতে স্থিতিশীল আয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) ব্যবস্থা তুলোচাষিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। বাজারদর ঘোষিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নিচে নেমে গেলে এই ব্যবস্থা কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে। প্রতি তুলো বর্ষ (অক্টোবর থেকে সেপ্টেম্বর) শুরুর আগে কৃষি ব্যয় ও মূল্য কমিশন (Commission for Agricultural Costs and Prices – CACP) MSP-এর সুপারিশ করে। মিডিয়াম স্টেপল এবং লং স্টেপল জাতের কাপাস (বীজযুক্ত কাঁচা তুলো)-এর জন্য MSP ঘোষণা করা হয়। এর উদ্দেশ্য কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ের ওপর অন্তত ৫০ শতাংশ লাভ নিশ্চিত করা।

তুলোর MSP কার্যক্রম ও CCI-এর ভূমিকা

সরকার কটন কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (CCI)-কে তুলো ক্রয়ের MSP কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। বাজারে কাপাসের দাম MSP-এর নিচে নেমে গেলে CCI হস্তক্ষেপ করে। কেন্দ্রীয় নোডাল ক্রয়কারী সংস্থা হিসাবে CCI ধীরে ধীরে তাদের কার্যক্রমের পরিধি বাড়িয়েছে। ২০২৪–২৫ সালে যেখানে ক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৫০৮টি, তা ২০২৫–২৬ সালে বেড়ে ৫৭১টি হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলি ১১টি তুলো উৎপাদনকারী রাজ্যের ১৫২টি জেলায় বিস্তৃত।

MSP-এর মাধ্যমে তুলোচাষিদের আরও শক্তিশালী করা

২০২৫–২৬ সালের জন্য মিডিয়াম স্টেপল তুলোর MSP নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রতি কুইন্টাল ₹৭,৭১০ এবং লং স্ট্যাপল তুলোর MSP ছিল প্রতি কুইন্টাল ₹৮,১১০। ২০২৬–২৭ সালের জন্য তা বৃদ্ধি করে যথাক্রমে প্রতি কুইন্টাল ₹৮,২৬৭ এবং ₹৮,৬৬৭ করা হয়েছে। অর্থাৎ, উভয় প্রজাতির ক্ষেত্রেই MSP প্রতি কুইন্টালে ₹৫৫৭ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

২০২৫–২৬ তুলো মরশুমে, কটন কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (CCI) MSP কার্যক্রমের আওতায় তুলোচাষিদের কাছ থেকে ২৪ লক্ষ ক্রয় লেনদেনের মাধ্যমে ১০৫.০৯ লক্ষ বেল তুলো সংগ্রহ করেছে, যার মোট মূল্য ₹৪১,৫৩০ কোটি।

মিশন ফর কটন প্রোডাক্টিভিটি

তুলো ক্ষেত্রের সুস্থায়ী উন্নয়নের জন্য শুধু ন্যায্য মূল্যই নয়, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০২৫–২৬ সালে সারা দেশে তুলো উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পাঁচ বছর মেয়াদী ‘মিশন ফর কটন প্রোডাক্টিভিটি’ চালু করা হয়েছে।

₹৫,৬৫৯.২২ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে এই মিশনের মূল লক্ষ্য হলো গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণমূলক সহায়তা জোরদার করা। এর মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল, কীটপতঙ্গ-প্রতিরোধী এবং অধিক ফলনশীল তুলোর জাত উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে এক্সট্রা লং স্টেপল (ELS) তুলোর উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। এই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে উন্নত ব্রিডিং ও জৈবপ্রযুক্তি (Biotechnology)-র ব্যবহার করা হবে।

‘৫এফ’ (Farm, Fibre, Factory, Fashion and Foreign) ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই উদ্যোগের লক্ষ্য কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা এবং উন্নত মানের তুলোর নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত করা। এই মিশনের আওতায় ১৪টি তুলো উৎপাদনকারী রাজ্যের ১৪০টি জেলায় প্রায় ২৪ লক্ষ হেক্টর জমি অন্তর্ভুক্ত হবে এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৩২ লক্ষ কৃষক উপকৃত হবেন।

আগামী কয়েক বছরের জন্য এই মিশনে উচ্চাভিলাষী উৎপাদন লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে তুলো উৎপাদন ২৯৭ লক্ষ বেল থেকে ৪৯৮ লক্ষ বেলে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেলে দেশে তুলোর প্রাপ্যতা বাড়বে, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের বস্ত্রশিল্প আরও শক্তিশালী হবে।

জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা মিশনের (NFSM) অধীনে তুলো কেন্দ্রিক বিশেষ প্রকল্প

মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তির প্রদর্শনী তুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০২৩–২৪ সাল থেকে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা মিশন (National Food Security Mission – NFSM)-এর অধীনে তুলো বিষয়ক একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পে বিভিন্ন কৃষি-জলবায়ুগত অঞ্চলের (Agro-ecological Zones) উপযোগী প্রযুক্তির বৃহৎ পরিসরে প্রদর্শনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এটি দেশের আটটি প্রধান তুলো উৎপাদনকারী রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই পাইলট উদ্যোগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলি হলো হাই-ডেনসিটি প্ল্যান্টিং সিস্টেম (High-Density Planting System), ক্লোজার স্পেসিং প্ল্যান্টিং সিস্টেম (Closer Spacing Planting System) এবং এক্সট্রা লং স্টেপল (ELS) তুলো উৎপাদন প্রযুক্তি। এর উদ্দেশ্য, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, তন্তুর গুণমান উন্নয়ন এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা।

২০২৩–২৪ সালে ₹৪১.৮৭ কোটি ব্যয়ে ৯,১৭৫ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। ২০২৪–২৫ সালে ₹৫০.৯৮ কোটি ব্যয়ে প্রায় ১৪,৭৪০ হেক্টর জমিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। মাঠপর্যায়ের প্রদর্শনীতে হাই-ডেনসিটি প্ল্যান্টিং সিস্টেম (HDPS)-এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ক্লোজার স্পেসিং প্ল্যান্টিং সিস্টেম-এর মাধ্যমে ৩২ শতাংশেরও বেশি ফলন বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এই ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫–২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুত ব্যয়সহ মোট ₹৬০.৩২ কোটি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রাপ্ত এই উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল প্রমাণ করে যে, লক্ষ্যভিত্তিক প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ তুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আয় উন্নয়নে বাস্তব ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কাপাস কিষান অ্যাপ

তুলো সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করে তুলতে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। কাপাস কিষান মোবাইল অ্যাপটি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP)-এর আওতায় তুলো সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে এবং কৃষকদের এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তুলোচাষিরা স্ব-নিবন্ধন (Self-registration) করতে পারেন এবং চার সপ্তাহের রোলিং ভিত্তিতে তুলো বিক্রির জন্য সময়স্লট বুক করতে পারেন। এর ফলে, অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং সংগ্রহকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনের সমস্যা দূর হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ৪১ লক্ষেরও বেশি কৃষক এই অ্যাপে নিবন্ধিত হয়েছেন। এর ফলে MSP কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাপটির মাধ্যমে আগাম সময়স্লট বুকিং, আধার-সংযুক্ত অর্থপ্রদান এবং রিয়েল-টাইম SMS বার্তার সুবিধা পাওয়া যায়। নিবন্ধন, তুলো সংগ্রহ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত অর্থপ্রদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই এই পরিষেবাগুলি প্রদান করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাল করার মাধ্যমে এই অ্যাপ তুলো সংগ্রহ ব্যবস্থাকে কাগজবিহীন (Paperless) এবং কৃষকবান্ধব করে তুলেছে।

ভারতীয় তুলোর ব্র্যান্ডিং - কস্তুরি কটন ভারত

কস্তুরি কটন ভারত কেন্দ্র সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ। এর লক্ষ্য ট্রেসেবিলিটি (Traceability), সার্টিফিকেশন এবং ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে ভারতীয় তুলোর মূল্য বৃদ্ধি করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা। এই কর্মসূচি বস্ত্র মন্ত্রক (Ministry of Textiles), কটন কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (CCI) এবং কটন টেক্সটাইলস এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল (TEXPROCIL)-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ₹৩০ কোটি, যার মধ্যে ₹১৫ কোটি বাণিজ্য ও শিল্প সংস্থাগুলি প্রদান করছে এবং বাকি ₹১৫ কোটি দিচ্ছে বস্ত্র মন্ত্রক।

মূল বৈশিষ্ট্য

  • কস্তুরি কটন ভারত-এর ওয়েবসাইট (https://www.kasturicotton.com/) তথ্য, সর্বশেষ আপডেট এবং জিনার (Ginner) নিবন্ধনের জন্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চালু করা হয়েছে। এছাড়াও, এটি কস্তুরি কটন ভারত-এর স্বতন্ত্র কার্যপ্রণালিগুলিও তুলে ধরে।
  • ৪১টি জিনার এবং ৭৫টি সাপ্লাই চেইনের সদস্য-সহ মোট ১১৬টি ইউনিট তাদের নিবন্ধন নবীকরণ করেছে।
  • ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩,২৯,৫৫০ বেল তুলো সার্টিফায়েড হয়েছে, যার মধ্যে CCI-এর ৩,২২,৪০০ বেল অন্তর্ভুক্ত।
  • ২৮ মিমি বা তার বেশি স্ট্যাপল দৈর্ঘ্যের লং-স্ট্যাপল তুলো এবং ৩৫ মিমি বা তার বেশি স্ট্যাপল দৈর্ঘ্যের এক্সট্রা লং স্টেপল (ELS) তুলো এই সার্টিফিকেশনের আওতায় আসে। এই জাতগুলির পরীক্ষা NABL (ন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড ফর টেস্টিং অ্যান্ড ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরিজ)-স্বীকৃত সংস্থার মাধ্যমে করা হয়।
  • QR-ভিত্তিক সার্টিফিকেশন এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তি উৎপাদন থেকে শেষ পর্যায় পর্যন্ত (end-to-end) সম্পূর্ণ ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করে।

কস্তুরি ভিলেজ, সচেতনতামূলক কর্মশিবির, ব্র্যান্ডিং, ট্রেসেবিলিটি এবং সুস্থায়ী চর্চার মতো আরও বিভিন্ন উদ্যোগ এই কর্মসূচিকে শক্তিশালী করছে। এর ফলে, ভারতীয় তুলো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতা, গুণমান এবং টেকসই উৎপাদনের প্রতীক হিসাবে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

তাঁতের বাইরেও তুলো: তুলোর বহুমুখী ব্যবহার

তুলো শুধু পোশাক তৈরির তন্তুর উৎসই নয়। এই ফসল থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন উপ-পণ্য খাদ্য, পশুখাদ্য এবং গ্রামীণ জ্বালানির চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাঁচা তুলোবীজের (Cottonseed) প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অংশে থাকে তন্তু (Lint) এবং দুই-তৃতীয়াংশ অংশ থাকে বীজ। এই বীজে প্রায় ১৮ শতাংশ ভোজ্য তেল থাকে, আর অবশিষ্ট অংশের খৈল (Meal) গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

তুলোবীজের তেলকে প্রায়ই "হার্ট অয়েল" বলা হয়। এতে প্রায় ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যেখানে অনেক প্রচলিত ভোজ্য তেলে এই পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ। এই উপাদান হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক বলে বিবেচিত হয়। তেল নিষ্কাশনের পর অবশিষ্ট অংশ প্রক্রিয়াজাত করে ডি-অয়েল্ড কেক (Deoiled Cake) তৈরি করা হয়, যা পশুখাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অন্যান্য উপ-পণ্যের মধ্যে রয়েছে লিন্টারস (Linters) এবং হালস (Hulls)। শুকনো তুলোর গাছের কাণ্ড গ্রামীণ এলাকায় বায়োমাস জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

তুলোর তন্তুর চিকিৎসাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। সুতা তৈরির জন্য অনুপযুক্ত স্বল্প-স্ট্যাপল তন্তু প্রক্রিয়াজাত করে শোষক তুলো (Absorbent Cotton) বা সার্জিক্যাল কটন তৈরি করা হয়। উচ্চ শোষণক্ষমতা এবং বিশুদ্ধতার কারণে এগুলি স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

তুলোর এই বহুমুখী ব্যবহার পুষ্টি, পশুপালন, শিল্প এবং স্বাস্থ্যসেবা—সব ক্ষেত্রেই এর গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে তুলে ধরে। এর বিস্তৃত ব্যবহারিক মূল্য দেশের কৃষি অর্থনীতি এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তুলোর গুরুত্বকে আরও সুস্পষ্ট করে।

ঐতিহ্য ও পরিবর্তনের সুতোয় গাঁথা

ভারতে তুলোর ইতিহাস একদিকে যেমন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বহন করে, তেমনি অন্যদিকে পরিবর্তনেরও সাক্ষী। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা চাষাবাদ ও বাণিজ্যের ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে এই খাত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং লক্ষ্যভিত্তিক সরকারি নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষকদের আয় শক্তিশালী করা, সংগ্রহ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি—এই প্রচেষ্টাগুলি আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল তুলো বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলছে। খামার থেকে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যন্ত তুলো ভারতের কৃষি ও শিল্প ব্যবস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। নতুন নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে গুণমান, সুস্থায়ী উৎপাদন এবং মূল্য সংযোজন আরও সম্প্রসারিত হওয়ায়, আগামী দিনে এই ক্ষেত্র জীবিকা, শিল্প এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

তথ্যবিবরণী

 

Ministry of Agriculture and Farmers Welfare

https://seednet.gov.in/cms/home/readyreckoner/Seed_4/19_Cotton_Seeds_Price_Control_Order_2015.PDF

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2042234&reg=3&lang=2

https://ecotton.dac.gov.in/HomeController/about_project

https://ecotton.dac.gov.in/high-density-planting-system

https://ecotton.dac.gov.in/closer-spacing-planting-system

https://ecotton.dac.gov.in/extra-long-staple

https://cotton.dac.gov.in/circular.aspx

https://cotton.dac.gov.in/Mis/Docs/636990420200358183-d6fe6a24-6bfd-463f-b1e3-f3505913aa8822.1._Publication-Status_Paper_of_Indian_Cotton-compressed.pdf

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2258187&reg=3&lang=1

Ministry of Textiles

https://www.texmin.gov.in/static/uploads/2025/07/db767d1d1501e27672906cd8c320c5f4.pdf

https://cotcorp.org.in/faq

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2227424&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2099411&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2146756&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleseDetail.aspx?PRID=2217001&reg=1&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2241807&reg=3&lang=2#:~:text=In%20a%20significant%20step%20towards,of%20India%20(CCI)%20for%20the

https://www.texmin.gov.in/static/uploads/2026/05/5c48e80d2180ca3194b9e9b01340696d.pdf

Ministry of Culture

https://www.indianculture.gov.in/digital-district-repository/district-repository/establishment-swadeshi-mill-or-model-mill-1890

Ministry of Commerce and Industry

https://www.investindia.gov.in/team-india-blogs/cotton-textile-industry-india

https://www.ibef.org/exports/cotton-industry-india

Click here to see pdf

 

SSS/RP........


(रिलीज़ आईडी: 2287000) आगंतुक पटल : 7
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: Gujarati , Tamil , English , हिन्दी , Assamese , Urdu