প্রতিরক্ষামন্ত্রক
'অপারেশন সিঁদুর' ভারতের বিশ্বমানের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির নিদর্শন; সরকারের 'দেশ সর্বাগ্রে ' ও 'বাহিনী সর্বাগ্রে’—এই সংকল্পই এই প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী
प्रविष्टि तिथि:
18 JUL 2026 2:19PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই ২০২৬
নতুনদিল্লিতে ১৮ জুলাই, ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং বলেন, “'অপারেশন সিঁদুর' হলো ভারতের আধুনিক ও বিশেষ গুণগত মানসম্মত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের গত ১২ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায়, 'দেশ সর্বাগ্রে’ এবং 'বাহিনী সর্বাগ্রে’—এই মূলমন্ত্র দ্বারা পরিচালিত—প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের যে আমূল পরিবর্তন ও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, তারই ফলস্বরূপ এই সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে।” তিনি 'অপারেশন সিঁদুর'-কে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর অসামান্য বীরত্বের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। তিন বলেন, এই বাহিনী সন্ত্রাসবাদী ও তাদের মদতদাতাদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। এটি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর 'জিরো টলারেন্স' বা 'শূন্য সহনশীলতা'র নীতিকেই প্রতিফলিত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, 'সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা' কেবল একটি মুখের কথা নয়, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা। তিনি পুনরায় বলেন যে, কেবল নিজেদের সীমানার কাছেই নয়, বরং সন্ত্রাসবাদীদের আস্তানায় ঢুকেও তাদের বিরুদ্ধে আঘাত হানার ক্ষমতা ভারতের রয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন যে, 'অপারেশন সিঁদুর'-এর মতো একটি জটিল অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ভারতের রূপান্তরিত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি একে প্রযুক্তি-নির্ভর যুদ্ধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং ভারতীয় শিল্পের ওপর সরকারের আস্থার প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “এই অভিযানের সময় আকাশ তীর ,আকাশ মিসাইল ব্যবস্থা এবং ব্রহ্মোস-এর মতো উন্নত ব্যবস্থার পাশাপাশি অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের কার্যকর ব্যবহার করা হয়েছে। গত ১২ বছরে গড়ে তোলা মজবুত ভিত্তির কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।”
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে 'আত্মনির্ভরতা' বা স্বনির্ভরতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর কথা তুলে ধরে শ্রী রাজনাথ সিং বলেন যে, প্রতিরক্ষা বাহিনী এ পর্যন্ত ৫০৯টি সামগ্রী নিয়ে পাঁচটি 'ইতিবাচক দেশীয়করণ তালিকা' প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো ৫,০১২টি সামগ্রী নিয়ে আরও পাঁচটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, “একটি স্বনির্ভর ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা যখন দৃঢ় সংকল্প ও সুশৃঙ্খল কর্মপদ্ধতি নিয়ে এগিয়ে চলেছি, তখন এই লক্ষ্যকে আরও ত্বরান্বিত করতে শীঘ্রই আরও একটি 'ইতিবাচক দেশীয়করণ তালিকা' ঘোষণা করা হবে।” আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যে নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলে অর্জিত ইতিবাচক ফলাফলগুলো তুলে ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান যে, ২০১৪ সাল নাগাদ বার্ষিক প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা।। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন যে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের রপ্তানি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ৬৮৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৩৮,০০০ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের লক্ষ্য হলো চলতি বছরে ২ লক্ষ কোটি টাকা এবং ২০২৯ সালের মধ্যে ৩ লক্ষ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করা। এছাড়া ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৫০,০০০ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। অগ্রগতির বর্তমান গতিধারা বিবেচনা করে আমি নিশ্চিত যে, আমরা এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হব।”
শ্রী রাজনাথ সিং বলেন যে, গত ১২ বছরে সরকার দেশের নিরাপত্তা প্রয়োজনে দেশীয় উৎপাদনের চেয়ে আমদানির ওপর নির্ভর করার সেই “পুরানো মানসিকতা” পরিবর্তন করেছে। তিনি বলেন, “২০১৪ সাল থেকেই আমাদের প্রচেষ্টা ছিল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তির দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—উভয় ধরনের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আমরা দেশের ভেতরেই একটি প্রতিরক্ষা শিল্প-পরিমন্ডল (ecosystem) গড়ে তুলেছি।”
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন যে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে রূপান্তরের বিষয়ে বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি দেশের সম্ভাবনা ও সক্ষমতা নিয়ে দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি পূর্ববর্তী সরকারের কর্মপদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভরতা-র কে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ভারত কেবল তার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে আধুনিকই করেনি, বরং এমন এক ব্যাপক রূপান্তর ঘটিয়েছে যা পরনির্ভরতা থেকে আত্মনির্ভরতার পথে এবং কেবল উপভোক্তা থেকে উৎপাদক হয়ে ওঠার যাত্রাকেই তুলে ধরে।
শ্রী রাজনাথ সিং বলেন,“কোনো দেশের প্রকৃত শক্তি কেবল তার সামরিক বাহিনীর আকার দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। এটি নির্ভর করে সংকটকালে নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা এবং সৈন্যদের মনোবল বাড়াতে তাদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র তুলে দেওয়ার ওপর। কোনো দেশ যদি অস্ত্র, গোলাবারুদ, নেভিগেশন সিস্টেম, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার, ড্রোন এবং যুদ্ধ-সংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে, তবে তার কৌশলগত ও সামরিক স্বায়ত্তশাসন সীমিত হয়ে পড়ে। আমরা এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
সরকার ভারতের প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ব্যাপক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান । তিনি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে ‘ডিফেন্স এক্সিম পোর্টাল’ অনলাইন অনুমোদন ব্যবস্থা, ‘ওপেন জেনারেল এক্সপোর্ট লাইসেন্স’, ‘গ্রিন চ্যানেল’নীতি এবং ‘সেলফ-সার্টিফিকেশন’বা স্ব-শংসায়িত ব্যবস্থার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি প্রক্রিয়াকে সহজ করা।
শ্রী রাজনাথ সিং বলেন যে, উত্তর প্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর’ বা প্রতিরক্ষা শিল্প করিডোর স্থাপন আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য অর্জনের পথে আরেকটি যুগান্তকারী সংস্কার। তিনি জানান, এই করিডোরগুলোর মধ্যে উন্নতমানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন করা হচ্ছে এবং অনেক কোম্পানি বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই দুটি প্রতিরক্ষা করিডোরের জন্য প্রায় ৭০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব করা হয়েছে । এর মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, উত্তর প্রদেশ প্রতিরক্ষা শিল্প করিডোরটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের সাফল্যের এক শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে”।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রবর্তিত সংস্কারগুলোর কথা তুলে ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, এই পদক্ষেপগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ভারতীয় শিল্পগুলো প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের আধুনিকীকরণের সুফল ভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের জন্য বরাদ্দ বাজেটের ৭৫ শতাংশই ভারতীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। নতুন ‘ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন প্রসিডিউর (ডিএপি)-এর আওতায় ‘ভারতীয় পণ্য ক্রয়—যা দেশীয়ভাবে নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদিত’—এমন পদ্ধতির ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরেই উন্মোচিত হতে যাওয়া এই নতুন ডিএপি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন গতি সঞ্চার করবে,”
শ্রী রাজনাথ সিং জোর দিয়ে বলেন যে, আত্মনির্ভরতা অর্জনের জন্য গবেষণা, উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী পরিমন্ডল বা ইকোসিস্টেম প্রয়োজন। এর নেতৃত্বে থাকবে স্টার্ট-আপ, এমএসএমই এবং তরুণ উদ্ভাবকরা। 'ইনোভেশনস ফর ডিফেন্স এক্সিলেন্স' (আইডিইএক্স), ' আইডিইএক্স প্রাইম' এবং 'অ্যাসিং ডেভেলপমেন্ট অফ ইনোভেটিভ টেকনোলজিস উইথ আইডিইএক্স' -এর মতো উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, সরকার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের উদ্ভাবনের জন্য আর্থিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন যে, স্টার্ট-আপ ও এমএসএমই-গুলোর কাছ থেকে ২,৪০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের পণ্য সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং নতুন প্রযুক্তির জন্য ১,৫০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্প মঞ্জুর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, " আইডিইএক্স -এর মাধ্যমে ৬৭৬টি স্টার্ট-আপ ও উদ্ভাবক যুক্ত হয়েছে এবং ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৫৫১টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশের স্টার্ট-আপগুলো ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, রোবোটিক্স এবং অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। ২০১৮ সালে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যেখানে মাত্র কয়েক ডজন স্টার্ট-আপ ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা ২,০০০ ছাড়িয়ে গেছে।"
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আত্মনির্ভরতা'-র ধারণাটি শুরু হয় মানসিকতার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। এটি নীতি-নির্ধারণ ও ব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করে এবং শেষ পর্যন্ত শিল্পক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, "যখন শিল্পক্ষেত্রের রূপান্তর ঘটে, তখন উৎপাদন বৃদ্ধি পায়; আর উৎপাদন বাড়লে জাতির আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। এটি একটি চক্র। একে সচল না করলে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আত্মনির্ভর করে তোলা অসম্ভব।"
শ্রী রাজনাথ সিং বলেন, অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের কর্পোরেটাইজেশনের লক্ষ্য ছিল পরিবর্তনশীল সময় ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে কারখানাগুলোকে আরও প্রযুক্তি-বান্ধব করে তোলা। তিনি বলেন, "এর উদ্দেশ্য ছিল উৎপাদন বাড়ানো এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা। কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তার ফলাফল স্পষ্ট। লোকসানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে এই কারখানাগুলো এখন লাভজনক শাখায় পরিণত হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বর্তমানে ভারতের তরুণদের কেবল চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন যে, ডিআরডিও এখন শিল্পক্ষেত্র, শিক্ষাজগৎ, স্টার্টআপ এবং বিজ্ঞানীদের মধ্যে সংযোগকারী একটি জাতীয় উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এটি দেশজুড়ে ডিপিএসইউ, বেসরকারি শিল্প, ১৭,০০০-এরও বেশি এমএসএমই এবং হাজার হাজার সরবরাহকারী ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত এক প্রাণবন্ত প্রতিরক্ষা শিল্প-পরিমন্ডল গড়ে তুলতে অবদান রাখছে।
শ্রী রাজনাথ সিং জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমানে ভারত কেবল নিজের প্রয়োজনে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামই তৈরি করছে না, বরং একটি নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে। এর ভূমিকা ভারত মহাসাগর থেকে ভারত-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি, ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে আমূল বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দূরদর্শী চিন্তা ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন ।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাম্প্রতিক ইন্দোনেশিয়া সফরের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রকাশ্যে ভারত সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর অভাবনীয় প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন এবং নিজের দেশেও অনুরূপ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “একটা সময় ছিল যখন উন্নয়নের মডেল খুঁজতে গিয়ে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ বা রাশিয়ার অনুকরণ করতে হতো। এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। বর্তমানে ভারত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে অন্যান্য দেশ ভারতের নীতি অনুসরণ করছে। এটি একটি নতুন যুগের সূচনা।”
শ্রী রাজনাথ সিং আরও বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর করে গুরুত্বপূর্ণ ভারত-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এই সম্পর্কের পরিধি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রাম্বানান মন্দির সংস্কারে সহযোগিতা থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ এবং নিউজিল্যান্ডের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার মতো বিষয়গুলোকে ছুঁয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতি এখন আর কেবল কৌশলগত সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এর আওতায় এখন প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, শিল্পক্ষেত্রের যৌথ উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন যে, এই রূপান্তরের পেছনে রয়েছে ভারতের বিজ্ঞানী, সেনা সদস্য, প্রকৌশলী, স্টার্টআপ, এমএসএমই, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সর্বোপরি দেশের যুবসমাজ।
শ্রী রাজনাথ সিং বলেন, “এটি ‘অমৃত কাল’। এই সময়ের ভারত চ্যালেঞ্জের মুখে পিছু হটে না বরং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে। এই ভারত কেবল নিজের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না, বরং বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতায় গঠনমূলক অবদানও রাখে। ২০৪৭ সালে যখন দেশটি স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করবে, তখন সমগ্র বিশ্ব ভারতকে কেবল বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবেই নয়, বরং একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, আধুনিক ও স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা শক্তি হিসেবেও দেখবে।”
পরিশেষে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার একটি ‘আত্মনির্ভর ও ‘বিকশিত ভারত’গড়ে তোলার সংকল্প নিয়েছে। এ হবে এমন এক ভারত যা একইসঙ্গে শক্তিশালী ও নিরাপদ। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি দেশ গড়ে তোলা যেখানে সৈন্যরা দেশীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন সুযোগ পাবেন, তরুণদের মধ্যে থাকবে উদ্ভাবনী শক্তি এবং শিল্পক্ষেত্রের থাকবে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা। এটিই ‘নতুন ভারত’-এর সংকল্প। এটিই ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার পথ।”
SC/PM/NS
(रिलीज़ आईडी: 2286078)
आगंतुक पटल : 10