PIB Backgrounder
ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (EBP) কর্মসূচি
प्रविष्टि तिथि:
10 JUL 2026 5:51PM by PIB Kolkata
১০ জুলাই, ২০২৬
ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (EBP) কর্মসূচি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উদ্যোগ। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা, কৃষকদের সহায়তা করা এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমানোই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক ২০২৬ সালের ২৩ জুন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করে, যেখানে বিভিন্ন উদ্বেগের বিষয়ের উত্তর দেওয়া হয়। এছাড়াও, ৪ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলিও এ বিষয়ে নিজেদের ব্যাখ্যা দেয়।
এসব ব্যাখ্যা সত্ত্বেও EBP কর্মসূচি নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উদ্বেগ এখনও সামনে আসছে। নিচে দেওয়া প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)-তে এসব বিষয়ের তথ্যভিত্তিক ও প্রমাণসমর্থিত উত্তর তুলে ধরা হয়েছে।
ইথানল নীতি কি তড়িঘড়ি করে চালু করা হয়েছে?
প্রশ্ন ১. ইথানল কি ভারতের উদ্ভাবিত বা তড়িঘড়ি চালু করা একটি নতুন জ্বালানি?
না। ইথানল কোনো নতুন জ্বালানি নয়। এক শতাব্দীরও বেশি আগে হেনরি ফোর্ড তাঁর মডেল টি (Model T) গাড়িটি ইথানলে চালানোর উপযোগী করে তৈরি করেছিলেন। ব্রাজিল এবং যুক্তরাষ্ট্র-এর মতো দেশ বহু দশক ধরে পেট্রোলে ইথানল মিশিয়ে ব্যবহার করে আসছে।
ভারতে ইথানলের ব্যবহারও বর্তমান সরকারের অনেক আগে শুরু হয়েছিল। এটি দুই দশকেরও বেশি সময়জুড়ে চলা একটি যাত্রা। এর সংক্ষিপ্ত সময়রেখা নিচে দেওয়া হল:
- ২০০১: পরীক্ষামূলকভাবে ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচি শুরু হয়।
- ২০০৪: কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০৬: একাধিক রাজ্যে E5, অর্থাৎ ৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল চালু হয়।
- ২০১৩-র জানুয়ারি: ভারত গেজেট-এ নীতিগত কাঠামো প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
- তা সত্ত্বেও, ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইথানল মিশ্রণের হার প্রায় ১.৫ শতাংশেই আটকে ছিল, কারণ শুধুমাত্র আখ থেকে দেশের প্রয়োজনীয় পরিমাণ ইথানল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছিল না।
- ২০১৮-র মে: জাতীয় জৈব জ্বালানি নীতি (National Policy on Biofuels)-র মাধ্যমে আখের পাশাপাশি, ভুট্টা ও উদ্বৃত্ত শস্যকেও ইথানল উৎপাদনের কাঁচামাল হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে, ইথানল উৎপাদন একটি সর্বস্তরের সরকারি উদ্যোগে পরিণত হয়।
- জুন ২০২১: নীতি আয়োগ গাড়ি নির্মাতা সংস্থা, তেল বিপণন সংস্থা এবং কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রকাশ করে।
- ২০২১-এর আগস্ট: IOCL, BPCL এবং HPCL নিশ্চিত ক্রয়চুক্তি ও ব্যাঙ্ক ঋণের সুবিধা-সহ ডেডিকেটেড ইথানল প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ আহ্বান করে।
প্রশ্ন ২. ভারত কিভাবে এত দ্রুত ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যে পৌঁছাল?
২০২১ সালে, ১০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভারতে বছরে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি লিটার ইথানলের প্রয়োজন ছিল। নতুন বিনিয়োগের ফলে, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়তে থাকায় বার্ষিক ইথানলের প্রাপ্যতা প্রায় ১,২০০ কোটি লিটারে পৌঁছে যায়। পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পর ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণে এগিয়ে যাওয়া ছিল একটি যৌক্তিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। ইথানল মিশ্রণের হার বৃদ্ধির এই যাত্রাই প্রমাণ করে যে, এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, ধাপে ধাপে গৃহিত পরিকল্পনা ও ভারসাম্যপূর্ণ অগ্রগতির ফল।
|
ইথানল সরবরাহ বর্ষ
|
অর্জিত মিশ্রণের হার
|
|
২০২০–২১
|
প্রায় ৮.১%
|
|
২০২১–২২
|
১০.০%
|
|
২০২২–২৩
|
১২.১%
|
|
২০২৩–২৪
|
১৪.৬%
|
|
২০২৪–২৫
|
১৯.২%
|
|
২০২৫–২৬ (নভেম্বর থেকে জুন)
|
২০%
|
ব্রাজিল বিশ্বের প্রথম বৃহৎ ইথানলভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তুলেছিল, যা স্বাভাবিকভাবেই কয়েক দশক সময় নিয়েছিল। ভারত সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বাইরে থেকে যেটিকে দ্রুত অগ্রগতি বলে মনে হচ্ছে, বাস্তবে তা ছিল দুই দশকের প্রস্তুতি এবং তার পর সুপরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বাস্তবায়নের ফল।
যানবাহনের সামঞ্জস্যতা ও গূরাহকের পছন্দ
প্রশ্ন ৩. প্রিমিয়াম পেট্রোলের মতো আমি কেন পাম্পে গিয়ে সাধারণ পেট্রোল, E10 এবং E20-এর মধ্যে পছন্দ করতে পারি না?
ভারতে শোধনাগার, টার্মিনাল ও পাইপলাইনের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক লক্ষেরও বেশি খুচরা জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালিত হয়। সারা দেশে তিন ধরনের পৃথক বেস জ্বালানি মজুত রাখতে গেলে ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং প্রতিটি পাম্পে গুণমান নিয়ন্ত্রণও আরও জটিল হয়ে পড়বে।
প্রিমিয়াম পেট্রোলের সঙ্গে এর তুলনা করা যথাযথ নয়। এটি সীমিত পরিমাণে বিক্রি হওয়া একটি বিশেষ সংযোজনযুক্ত (additive-enhanced) জ্বালানি, যা বেশি দামে বিক্রি হয়। এটি সারা দেশের জন্য পৃথক একটি বেস জ্বালানি নয়।
এছাড়াও ইতিমধ্যে গড়ে ওঠা অবকাঠামোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি ইথানল কারখানা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সরবরাহ অবকাঠামো গড়ে তুলতে বছরে প্রায় ₹১ লক্ষ কোটি টাকার অর্থায়ন করেছে। এখন আবার E10-এ ফিরে গেলে এই বিপুল বিনিয়োগ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে এবং যেসব কৃষক ও উদ্যোক্তা আস্থা রেখে এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছেন, তাঁরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
প্রশ্ন ৪. E20 চালুর আগে কি সত্যিই গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল?
হ্যাঁ। এই পরিবর্তনের শুরু থেকেই, অর্থাৎ E20 চালুর অনেক আগেই গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল। ২০২০-২১ সালেই নির্মাতাদের সঙ্গে E10-এর সামঞ্জস্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং ভারত ২০২২ সালের জুন মাসে, নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মাস আগেই, E10-এর লক্ষ্য পূরণ করে।
E20-এর ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি ছিল আরও বিস্তৃত ও কঠোর। ইঞ্জিনের ক্যালিব্রেশন, জ্বালানি ব্যবস্থা, রাবারের বিভিন্ন উপাদান, নির্গমন এবং জ্বালানি দক্ষতা- সবকিছুই একাধিক ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়, তারপরই E20 পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ করা হয়। E20-এর নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলি কখনও এই জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি বহাল রাখত না।
প্রশ্ন ৫. E20 ব্যবহারে কি আমার গাড়ির মাইলেজ কমবে বা কার্যক্ষমতা হ্রাস পাবে?
কিছু গাড়ির ক্ষেত্রে জ্বালানি সাশ্রয়ের হার ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে, বাস্তব পরিস্থিতিতে গাড়ির মাইলেজ মূলত চালানোর অভ্যাস, টায়ারের বায়ুচাপ, নিয়মিত সার্ভিসিং এবং এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ওপর বেশি নির্ভর করে, জ্বালানির ধরনের ওপর নয়। তাই মাইলেজই পুরো বিষয়টি নির্ধারণ করে না।
জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি, E20-এর আরও বেশ কয়েকটি কর্মক্ষমতা ও পরিবেশগত সুবিধা রয়েছে-
- এর রিসার্চ অকটেন নম্বর (Research Octane Number - RON) প্রায় ১০৮.৫, যেখানে সাধারণ পেট্রোলের ক্ষেত্রে তা ৮৪.৪।
- এটি ভারতীয় পেট্রোলের কার্যকর অকটেন রেটিং প্রায় ৯৫-এ উন্নীত করে, ফলে আধুনিক ইঞ্জিনে জ্বালানির দহন আরও উন্নত হয়।
- E20-এর জন্য উপযোগী করে তৈরি গাড়িগুলি আরও মসৃণ ত্বরণ (acceleration) প্রদান করে।
- E20-এর অ্যান্টি-নক (anti-knock) বৈশিষ্ট্য আরও উন্নত।
- এটি ইঞ্জিনকে আরও পরিচ্ছন্নভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে এবং ক্ষুদ্র কণাজাতীয় দূষণ (particulate emissions) উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।
- E20 ব্যবহারে সমগ্র জীবনচক্রে (lifecycle) কার্বন নিঃসরণ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
প্রশ্ন ৬. আমার গাড়ির ম্যানুয়ালে 'E10 compatible' লেখা আছে। এর অর্থ কি E20 আমার গাড়ির জন্য নিরাপদ নয়?
না। কোনো গাড়ির ম্যানুয়ালে যে জ্বালানির মান (fuel standard) উল্লেখ থাকে, তা গাড়িটির সার্টিফিকেশন হওয়ার সময়কার প্রচলিত মানকে নির্দেশ করে। এর অর্থ এই নয় যে, বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের মাধ্যমে জ্বালানির মান উন্নীত হওয়ার পর সেই গাড়ি হঠাৎ করেই অনিরাপদ হয়ে পড়বে।
E20 চালুর আগে সরকার ARAI, SIAM, গাড়ি নির্মাতা সংস্থা এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছিল। ২০২১ সালের নীতি আয়োগের রোডম্যাপে E10 থেকে E20-এ রূপান্তরের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল এবং গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলিকে এ জন্য কয়েক বছর আগেই প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
প্রশ্ন ৭. E20 কি পুরনো গাড়ির রাবারের যন্ত্রাংশ, ফুয়েল লাইন বা ইঞ্জিনের ক্ষতি করবে?
E15-এর বেশি ইথানলযুক্ত জ্বালানি ইতিমধ্যেই সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সারা ভারতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাজারে আসার আগে E20-র ওপর ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব, ক্ষয়প্রতিরোধ ক্ষমতা (corrosion resistance) এবং গাড়ি চালানোর সক্ষমতা (drivability) নিয়ে বিস্তৃত পরীক্ষাগারভিত্তিক পরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ে মূল্যায়ন করা হয়েছিল।
এর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায় বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে মারুতি সুজুকি মোট ২.৮৪ কোটি গাড়ির সার্ভিসিং করেছে, যার মধ্যে ১.৫ কোটি ছিল এমন পুরানো গাড়ি, যেগুলি কখনও E20-এর জন্য সার্টিফায়েড ছিল না। তবুও E20-জনিত কোনো ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদি E20 সত্যিই রাবারের পাইপ, ফুয়েল লাইন বা ইঞ্জিনের ক্ষতি করত, তাহলে, বিপুল সংখ্যক ওয়ারেন্টি দাবি এবং অভিযোগ সামনে আসত। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি।
এছাড়া, ভারতে ইথানল সরবরাহ ব্যবস্থাও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। ইথানল এবং ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলকে BIS-এর কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে হয় এবং ডিস্টিলারি থেকে ডিপো হয়ে খুচরা জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে এর গুণমান পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি, জ্বালানিতে ভেজাল রোধে সব রাজ্যের মুখ্য সচিবদের শূন্য সহনশীলতার (zero tolerance) নীতি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মূল্য নির্ধারণ ও অর্থের যথাযথ মূল্য
প্রশ্ন ৮. ইথানল তো তুলনামূলকভাবে সস্তা জ্বালানি। তাহলে E20-এর দাম সাধারণ পেট্রোলের চেয়ে কম নয় কেন?
সরকার নিশ্চিত করে যে এই কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা ইথানলের জন্য কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান। উদাহরণস্বরূপ, ভুট্টাভিত্তিক ইথানল প্রতি লিটার প্রায় ₹৭১.৮৬ দরে কেনা হয়। এর সঙ্গে GST, পরিবহণ এবং সংরক্ষণ ব্যয় এখনও যুক্ত হয় না।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭০ মার্কিন ডলার থাকে, তাহলে E20 উৎপাদনের খরচ সাধারণ পেট্রোলের সমান বা কখনও কখনও তার চেয়েও বেশি হতে পারে। অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ মার্কিন ডলার বা তার বেশি হলে তবেই ইথানল তুলনামূলকভাবে সস্তা বিকল্প হয়ে ওঠে।
তবুও, E20-এর দাম সাধারণ পেট্রোলের সমান হলেও গ্রাহকরা এর সুবিধা পান। বর্তমানে, ভারতে বিক্রি হওয়া প্রতি লিটার পেট্রোলের প্রায় ২০ শতাংশই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ইথানল। অপরিশোধিত তেলের মতো ইথানলের দাম ব্রেন্ট ক্রুড-এর দামের ওঠানামা, যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক পরিবহণ ব্যবস্থার বিঘ্নের ওপর নির্ভরশীল নয়।
অর্থাৎ, আপনার গাড়ির প্রতিটি ফুয়েল ট্যাঙ্কের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখন স্থিতিশীল দেশীয় উৎস থেকে আসে। এর ফলে, আন্তর্জাতিক তেলের দামের ধাক্কার প্রতি ভারতের নির্ভরতা কমে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়।
প্রশ্ন ৯. ইথানল মিশ্রণ কি অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে পেট্রোলের দাম আরও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে?
হ্যাঁ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে জ্বালানির দামের পরিবর্তনই এর স্পষ্ট প্রমাণ।
|
দেশ
|
পেট্রোলের দাম, জুন ২০২২
|
পেট্রোলের দাম, জুন ২০২৬
|
বৃদ্ধি
|
|
পাকিস্তান
|
৯২.৬৪
|
১২৯.৪৮
|
৩৯.৭৭%
|
|
বাংলাদেশ
|
৭৬.৯৭
|
১০৯.৮২
|
৪২.৬৯%
|
|
শ্রীলঙ্কা
|
৯০.৪৩
|
১২৩.৫৯
|
৩৬.৬৬%
|
|
নেপাল
|
১১৩.৯৯
|
১৩৭.১৯
|
২০.৩৫%
|
|
ফ্রান্স
|
১৭৪.১৮
|
২০৫.০৮
|
১৭.৭৪%
|
|
জার্মানি
|
১৬৩.১৮
|
১৯৪.২৬
|
১৯.০৫%
|
|
ইতালি
|
১৬৬.৮৫
|
১৯৭.৫২
|
১৮.৩৯%
|
|
ভারত (দিল্লি)
|
৯৬.৭২
|
১০২.১২
|
৫.৫৮%
|
দাম প্রতি লিটার (₹)।
পেট্রোলে মেশানো প্রতিটি লিটার ইথানলের অর্থ চারটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা- কম অপরিশোধিত তেল আমদানি, কম বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়, ভারতীয় কৃষকদের বেশি আয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে আরও স্থিতিশীল পেট্রোলের দাম।
ইথানল মিশ্রণ একটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত প্রথা
ইথানল মিশ্রণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারত একা নয়। বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত একটি জ্বালানি নীতি। বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রধান অর্থনীতি তাদের জ্বালানি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে ইথানলকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র: সারা দেশে E10-ই হল, প্রচলিত ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি। মার্কিন সরকারের সহায়তায় E15-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ ফ্লেক্স-ফুয়েল যানবাহন রয়েছে, যেগুলি E85 পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে চলতে সক্ষম।
ব্রাজিল: ইথানল ব্যবহারে ব্রাজিল এখনও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ। বর্তমানে সেখানে E27 মানক পেট্রোল হিসেবে বাধ্যতামূলক এবং তা বাড়িয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বিক্রি হওয়া গাড়ির ৮০ শতাংশেরও বেশি ফ্লেক্স-ফুয়েল যানবাহন, যা E27, E30 অথবা বিশুদ্ধ জলযুক্ত (হাইড্রাস) ইথানলে চলতে পারে।
জাপান: জাপানও ধাপে ধাপে E10 চালুর মাধ্যমে তাদের জ্বালানি ব্যবস্থায় ইথানলকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এছাড়াও কানাডা, থাইল্যান্ড এবং ইউরোপের একাধিক দেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কৌশলের অংশ হিসাবে ইথানল মিশ্রণ গ্রহণ করেছে।
জ্বালানি নিরাপত্তার এক পরীক্ষিত পথ
ভারতে ইথানলের যাত্রা দুই দশকেরও বেশি সময়ের। ২০০১ সালে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে এর সূচনা হয় এবং পরবর্তীকালে নীতিগত সংস্কার, শিল্পক্ষেত্রের সহযোগিতা ও ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এটি বিকশিত হয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য অর্জন কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফল নয়, বরং সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক বাস্তবায়নের নির্দেশক।
E20 চালুর প্রতিটি ধাপে গাড়ি নির্মাতা সংস্থা, পরীক্ষণ সংস্থা, জ্বালানি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান এবং কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। ইঞ্জিন বা যন্ত্রাংশের ক্ষতির দাবিগুলি মারুতি সুজুকি ও হিরো মোটোকর্প-এর রক্ষণাবেক্ষণাধীন কোটি কোটি গাড়ির সার্ভিস সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। উপলব্ধ তথ্যপ্রমাণে এই দাবিগুলির সমর্থন মেলেনি।
ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (EBP) কর্মসূচি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করেছে, অপরিশোধিত তেল আমদানি কমিয়েছে, দূষণ হ্রাস করেছে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করেছে। E20 একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং সুপরীক্ষিত জ্বালানি, যা বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন এবং শিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। এটি আত্মনির্ভর, সুস্থায়ী এবং জ্বালানি-নিরাপদ ভারত গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তথ্যসূত্র
Click to See PDF
SSS/RP...
(रिलीज़ आईडी: 2283754)
आगंतुक पटल : 10