PIB Backgrounder
খেলাঘর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে : টয় বিজ ২০২৬-এ ভারতের খেলনা শিল্পের নতুন অধ্যায়
प्रविष्टि तिथि:
07 JUL 2026 7:12PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ০৭ জুলাই, ২০২৬
ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত ১৭তম টয় বিজ আন্তর্জাতিক বিজনেস-টু-বিজনেস (বি২বি) প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনেও ছিল উৎসাহ ও উদ্দীপনার আবহ। রঙিন ধাঁধা, স্টেম (এসটিইএম) কিট, নির্মাণযন্ত্রের আদলে তৈরি খেলনা এবং শিক্ষামূলক খেলনা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। ক্রেতা, খুচরো বিক্রেতা, নির্মাতা এবং উদ্যোগপতিরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে পণ্য পরিদর্শন করেন ও মতবিনিময় করেন।
ব্যবসায়িক বৈঠক, সরাসরি পণ্যের প্রদর্শন এবং নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলেছে দিনভর। স্কুলের প্রতিনিধিরা শিক্ষাসামগ্রী পরখ করে দেখেন, বিদেশি ক্রেতারা রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং উদ্যোগপতিরা তাঁদের নতুন উদ্ভাবন তুলে ধরেন। পণ্যের নকশা, উৎপাদন, রপ্তানি ও উদ্ভাবনকে ঘিরে আলোচনায় উঠে আসে ভারতের খেলনা শিল্পের ক্রমবর্ধমান বৈচিত্র্য।
এই প্রদর্শনী স্পষ্ট করে দিয়েছে, খেলনা এখন আর শুধু বিনোদনের উপকরণ নয়। শেখা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও খেলনার গুরুত্ব বাড়ছে। দেশীয় উৎপাদন, মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানের ভারতীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকারের অগ্রাধিকার এই প্রদর্শনীতে প্রতিফলিত হয়েছে।
উৎপাদক, স্টার্টআপ, শিক্ষক, নকশাবিদ, খুচরো বিক্রেতা ও রপ্তানিকারকদের এক মঞ্চে এনে টয় বিজ ভারতের বিকাশমান খেলনা শিল্পের পরিচয় তুলে ধরেছে। প্রতিটি স্টলই দেশীয় কারুশিল্প, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদনের এক একটি অনন্য উদাহরণ।
কারখানা থেকে প্রদর্শনী মঞ্চ
সবচেয়ে ব্যস্ত স্টলগুলির অন্যতম ছিল ব্যাটারিচালিত নির্মাণযন্ত্র, খেলনা ট্রাক এবং রিমোট নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রপাতির প্রদর্শনী। দর্শনার্থীরা সরাসরি প্রদর্শনী দেখেছেন এবং ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এখানে অন্যতম আকর্ষণ ছিল জয়পুরের সংস্থা ভিইউ টয়স - দ্য ইন্ডিয়ান টয়স কোম্পানি। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক শ্রী পঙ্কজ শর্মা জানান, প্রদর্শনীতে থাকা প্রতিটি খেলনাই ভারতে তৈরি। ছাঁচ তৈরি থেকে শুরু করে ইনজেকশন মোল্ডিং পর্যন্ত সমস্ত কাজ সংস্থার নিজস্ব পরিকাঠামোতেই সম্পন্ন হয়।
তিনি জানান, ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোগের জন্য ঋণ গ্যারান্টি তহবিল (সিজিটিএমএসই)-র সহায়তায় সংস্থাটি উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি সহায়তায় এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের কাছে নিজেদের পণ্য তুলে ধরার সুযোগ মিলেছে।
শ্রী শর্মার কথায়, আগে দেশের বাজারে আমদানি করা খেলনার দাপট ছিল। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ভারতীয় নির্মাতারা আন্তর্জাতিক মানের খেলনা প্রতিযোগিতামূলক দামে তৈরি করছেন। দেশীয় খেলনা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী।
শেখার সঙ্গে খেলার মেলবন্ধন
প্রদর্শনীর আরেক প্রান্তে ছিল কাঠের ধাঁধা, অ্যাক্টিভিটি কিট এবং শিক্ষামূলক খেলনার সম্ভার। শেখাকে আরও আকর্ষণীয়, অংশগ্রহণমূলক ও আনন্দদায়ক করে তুলতে নানা ধরনের উদ্ভাবনী খেলনা দর্শকদের নজর কেড়েছে।
এই বিভাগে অংশ নিয়েছে মুম্বইয়ের সংস্থা এডু এজ, যারা প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষামূলক খেলনা তৈরিতে বিশেষ পরিচিত। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও অধিকর্তা শ্রীমতী বেলা দেশাই জানান, মন্টেসরি শিক্ষাপদ্ধতির আদর্শ থেকেই তাঁদের এই উদ্যোগের সূচনা। এ বছর সংস্থাটি প্রায় ১৬টি নতুন স্টেম (এসটিইএম) এবং পরিবেশবান্ধব শিক্ষামূলক খেলনা প্রদর্শন করেছে।
তাঁর কথায়, খেলার মধ্য দিয়ে শিশুদের শেখার সুযোগ করে দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। নতুন খেলনাগুলি শেখাকে আরও সহজ, আকর্ষণীয় ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলবে।
শ্রীমতী দেশাই জানান, টয় বিজের মতো প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার ফলে স্কুল, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগগুলির জন্য কেন্দ্র সরকারের সহায়তায় যাতায়াত ও প্রদর্শনীর খরচ কমে। ফলে, বড় স্টল নিয়ে আরও বেশি পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি, নতুন উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হয়। তিনি জানান, সংস্থার প্রতিটি পণ্যই ভারতে তৈরি। দেশীয় বাজারের পাশাপাশি, ইউরোপেও এই শিক্ষামূলক খেলনা রপ্তানি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় শিক্ষামূলক খেলনার ক্রমবর্ধমান চাহিদারও এটি প্রমাণ।
স্টলে দর্শকদের আগ্রহ স্পষ্ট করে দেয়, অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। শিক্ষামূলক খেলা, বিজ্ঞান কিট এবং অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাসামগ্রী শিশুদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
উদ্ভাবনের নতুন দিগন্ত
প্রদর্শনীর আরেক প্রান্তে টেলিস্কোপ, মাইক্রোস্কোপ এবং ইলেকট্রনিক স্টেম (এসটিইএম) কিট ঘিরে ভিড় জমিয়েছেন শিক্ষক, পরিবেশক ও বিদেশি ক্রেতারা। সরাসরি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিক্ষার সমন্বয়ে তৈরি বিভিন্ন পণ্য সম্পর্কে তাঁরা বিস্তারিত জানার সুযোগ পান।
এই বিভাগে অংশ নিয়েছে কলকাতার সংস্থা ড. ম্যাডিস ইনোভেশন প্রাইভেট লিমিটেড। সংস্থার মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক শ্রী অনির্বাণ গুপ্ত জানান, ইলেকট্রনিক সার্কিটের নকশা, টুলিং, ছাঁচ তৈরি থেকে উৎপাদন - সমস্ত কাজই সংস্থার নিজস্ব পরিকাঠামোয় সম্পন্ন হয়। দীর্ঘদিনের গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলে সংস্থাটি একাধিক পেটেন্ট, নকশা নিবন্ধন এবং স্বত্বাধিকার অর্জন করেছে।
বর্তমানে সংস্থার পণ্য আমেরিকা, ইউরোপ, দুবাই এবং পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। শ্রী গুপ্ত জানান, প্রথমবার টয় বিজে অংশ নেওয়ার সময় প্রায় ৬০টি স্টল ছিল। এখন সেই সংখ্যা ৪০০-রও বেশি। তাঁর মতে, ভারতের খেলনা শিল্পের দ্রুত বিকাশেরই এটি প্রতিফলন।
তিনি বলেন, আগামী দিনে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় সরকারি সহায়তা আরও বাড়লে দেশীয় খেলনা শিল্প আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যাবে। টয় বিজ সেই সুযোগই করে দিচ্ছে, যেখানে ভারতীয় সংস্থাগুলি বিশ্বের সামনে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারছে।
তরুণ উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক লক্ষ্য
প্রদর্শনীর শেষ অংশে নজর কেড়েছে নতুন প্রজন্মের স্টার্টআপগুলি। তাঁদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল আন্তর্জাতিক বাজার, নতুন পণ্য এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।
পুনের কিটয় ক্রিয়েশনস এমনই একটি সংস্থা। মাত্র আড়াই বছরে সম্পূর্ণ দেশীয় নকশা ও উৎপাদনের ভিত্তিতে তারা নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছে। সংস্থার মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক শ্রী কার্তিক জৈন জানান, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগ হিসেবে নিবন্ধনের পর সরকারি সহায়তায় টয় বিজে অংশ নেওয়ার সুযোগ মিলেছে। এর ফলে নতুন ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে এবং বাজার সম্প্রসারণের পথ খুলেছে। তিনি আর-ও জানান, আগামী লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারে 'মেড ইন ইন্ডিয়া' খেলনার উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করা। দেশীয় বাজারের পাশাপাশি, রপ্তানির জন্যও নতুন পণ্য তৈরি করছে সংস্থাটি।
প্রদর্শনীর এই অংশে তরুণ উদ্যোগপতিদের আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। তাঁদের কাছে টয় বিজ শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, নতুন ক্রেতা খোঁজা এবং বিশ্বমানের ভারতীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
গল্প এখনও এগিয়ে চলেছে
ভারত মণ্ডপমে টয় বিজ ২০২৬-এর আরেকটি সফল পর্ব শেষ হলেও প্রদর্শনীর আবহ রয়ে গেল অংশগ্রহণকারীদের মনে। কেউ শেষবারের মতো পণ্য দেখলেন, কেউ বিনিময় করলেন পরিচিতি, আবার কেউ নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে গেলেন।
জয়পুর, মুম্বই, কলকাতা থেকে পুনে - প্রতিটি স্টলই তুলে ধরেছে উদ্ভাবন, দেশীয় উৎপাদন এবং উদ্যোগের আলাদা গল্প। সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, ভারতের খেলনা শিল্প দ্রুত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে।
আগামী বছরের টয় বিজকে সামনে রেখে প্রদর্শক, ক্রেতা ও উদ্ভাবকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। তাঁরা সঙ্গে নিয়ে ফিরেছেন নতুন ভাবনা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।
টয় বিজ আবারও প্রমাণ করল, ভারতের খেলনা শিল্প এখন আর শুধু খেলনা তৈরি করছে না। উদ্ভাবন, নকশা ও মানসম্পন্ন উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলছে এবং বিশ্বের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ খেলনা।
তথ্যবিবরণী
Others
https://newsonair.gov.in/union-minister-piyush-goyal-addresses-17th-toy-biz-international-b2b-expo-in-new-delhi/
https://hcindiatz.gov.in/wn-17-03-2026-01.php
Click here to see PDF
****
SSS/AS.........
(रिलीज़ आईडी: 2282435)
आगंतुक पटल : 2