প্রতিরক্ষামন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

দেশ গত ১২ বছরে বিভিন্ন ঘাটতি থেকে মুক্ত হয়ে বিকশিত ভারত গড়ার দিকে এগিয়ে চলেছে : প্রতিরক্ষা মন্ত্রী

प्रविष्टि तिथि: 04 JUL 2026 2:27PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ৪ জুলাই ২০২৬

 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং ৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে নতুন দিল্লিতে একটি গণমাধ্যম সংস্থার আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। তিনি গত ১২ বছরে দেশের রূপান্তরের মূল দিকগুলো তুলে ধরেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন যে, ২০১৪ সালে যখন ‘মেক-ইন-ইন্ডিয়া চালু করা হয়েছিল তখন  কয়েকজন এটিকে ব্যর্থ বলে আখ্যা দিয়েছিল। কিন্তু এই প্রকল্পটি সাফল্যের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছিল এবং আজও তা করে চলেছে। তিনি বলেন “বিশ্বে ভারতের প্রতি  সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছ”।  তিনি বলেন, “অতীতে বিশ্ব আমাদের কথায় তেমন কান দিত না, কিন্তু এখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়”। তিনি আরও বলেন যে, ২০২১ সালে চালু হওয়া ‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন” নিয়ে প্রাথমিক সংশয় থাকা সত্ত্বেও, ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ পরিকাঠামো মডেলের উপর ভিত্তি করে সেমিকন্ডাক্টর পার্ক স্থাপনের ফলে গত বছর দেশটি নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদন করেছে।

শ্রী রাজনাথ সিং আরও বলেন যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে  বার্ষিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।  ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষের তুলনায় এটি তিনগুণ বেশি। তিনি জানান, প্রতিরক্ষা রপ্তানি বর্তমানে রেকর্ড ৩৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি পৌঁছেছে। এটি ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষের ৬৮৬ কোটি টাকা থেকে প্রায় ৫৭ গুণ বেশি। ‘মেক-ইন-ইন্ডিয়া’ প্ল্যাটফর্মের প্রতি বিশ্বব্যাপী আস্থারই প্রতিফলন রপ্তানীর এই বৃদ্ধি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোবাইল উৎপাদনের সম্প্রসারনের কথা উল্লেখ করে উৎপাদন ও প্রযুক্তিতে ভারতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। ‘মেক-ইন-ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় অটোমোবাইল রপ্তানি, দেশীয় লোকোমোটিভ উৎপাদন এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো কথা উল্লেখ করেন তিনি। ভারতের ডিজিটাল বিপ্লবের বিশেষ উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন যে, এপ্রিল মাসে মোট ২৯ লক্ষ কোটি টাকার ২২.৩৫ বিলিয়ন ইউপিআই লেনদেন হয়েছে এবং এই ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক পরিধি প্রসারিত হচ্ছে। তিনি দেশীয়ভাবে তৈরি ‘মেক-ইন-ইন্ডিয়া’ ৫জি প্রযুক্তির দেশব্যাপী দ্রুত প্রসারের কথাও বলেন এবং ৬জি উন্নয়নের জন্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।

শ্রী রাজনাথ সিং আরও বলেন, ২০১৪ সালের আগে জনকল্যাণমূলক পরিষেবা প্রদানে দুর্নীতি ও অর্থ অপচয়কে অনিবার্য বলে মনে করা হতো। এর ফলে সুবিধাভোগীদের কাছে সুবিধা পৌঁছাত না। তিনি বলেন, সরকার 'জ্যাম ট্রিনিটি' র মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করেছে। এই ট্রিনিটিতে রয়েছে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর,  জন ধন, আধার এবং মোবাইল। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৫১ লক্ষ কোটি টাকা সরাসরি পাঠানো সম্ভব হয়েছে এবং প্রায় ৪.৩ লক্ষ কোটি টাকার অর্থ অপচয় রোধ করা গেছে। তিনি গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (জিএসটি)-এর সফল বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক উদ্বেগ সত্ত্বেও, এটি কেন্দ্র এবং রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার মাধ্যমে সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি মডেলে পরিণত হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল এবং নকশালবাদ নির্মূলের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা সরকারের সমস্যার সমাধানে দৃঢ় সংকল্পের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই সমস্যাগুলিকে একসময় সমাধান-অযোগ্য বলে মনে করা হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, সরকার উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এবং সম্পদ সৃষ্টিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং জন বিশ্বাস সংস্কারের মতো উদ্যোগগুলি ব্যবসা করার সুবিধা উন্নত করেছে ও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার পথে ভারতের অগ্রগতিতে অবদান রেখেছে। তিনি আরও বলেন, “ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্ট-আপ পরিমন্ডলে পরিণত হয়েছে। গত ১২ বছরে স্টার্ট-আপের সংখ্যা ৫০০ থেকে বেড়ে ২ লক্ষেরও বেশি হয়েছে এবং ইউনিকর্নের সংখ্যা চার থেকে বেড়ে ১২৫ হয়েছে।”

শ্রী রাজনাথ সিং জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সংস্কৃতিই এর পরিচয়, ঐক্য এবং জাতীয় চেতনার ভিত্তি তৈরি করে এবং সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তিনি বলেন, কাশী বিশ্বনাথ ধাম করিডোর, মহাকাল লোক, এবং মা কামাখ্যা দিব্য লোক পরিযোজনার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয় পুনরুজ্জীবিত করতে এবং এর হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে। এর পাশাপাশি সংসদে ‘সেনগল’ স্থাপন, ‘বন্দে মাতরম’-এর গৌরব পুনরুদ্ধার, প্রাচীন প্রত্নবস্তু স্বদেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ডিজিটাইজ করার মতো কাজও করা হচ্ছে।

বর্তমান ‘যোগাযোগের প্রাচুর্যের’ যুগে গণমাধ্যমের ভূমিকাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন যে, বর্তমানের চ্যালেঞ্জ তথ্যের অভাব নয়, বরং তার নির্ভুলতা ও নির্ভরযোগ্যতা। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর মতো প্রযুক্তিগত অগ্রগতি  ‘সাংবাদিকতা’-কে প্রভাবিত করেছে কিন্তু এগুলো মানুষের সৃজনশীলতা এবং বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে না। তিনি বলেন। “সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ সাফল্য নির্ভর করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সক্ষমতা এবং মানবিক সহানুভূতির মধ্যে এটি কতটা ভালোভাবে ভারসাম্য ও সমন্বয় স্থাপন করতে পারে তার উপর”।

শ্রী রাজনাথ সিং বলেন, সাংবাদিকতার প্রকৃত শক্তি কেবল তথ্য প্রচারের মধ্যেই নিহিত নয়, বরং সমাজকে সঠিক পথে চালিত করা, সত্যকে সামনে আনা এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার মধ্যেও রয়েছে। তিনি বলেন, ভুল তথ্য সমাজ এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর মনোবলকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি আরও বলেন যে, সাংবাদিকতায় সবার আগে খবর প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সঠিক সংবাদ প্রচার করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “বিশেষ করে যখন বিষয়টি প্রতিরক্ষা বাহিনী, জাতীয় নিরাপত্তা বা দেশের সেবায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারীদের সম্মানের সাথে সম্পর্কিত হয়, তখন প্রতিটি শব্দই জাতীয় দায়িত্বের বিষয় হয়ে ওঠে। গণমাধ্যমকে অবশ্যই সর্বদা নির্ভুল, বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষতার মূল্যবোধকে বজায় রাখতে হবে ” । 
 


SC/PM/AS


(रिलीज़ आईडी: 2281089) आगंतुक पटल : 10
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Marathi , Tamil , Malayalam