প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
৪ জুলাই রাজস্থান ও গুজরাট সফর প্রধানমন্ত্রীর
प्रविष्टि तिथि:
03 JUL 2026 11:25AM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৩ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ৪ জুলাই রাজস্থান ও গুজরাট সফর করবেন। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তিনি যোধপুর বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন করবেন এবং যোধপুরে 'উড়ান' প্রকল্পের সূচনা করবেন। এরপর দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ তিনি বালোত্রা যাবেন এবং প্রায় ১.০৬ লক্ষ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট নাগাদ তিনি আহমেদাবাদের সানন্দে 'সিজি সেমি আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্ট' কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন।
যোধপুরে প্রধানমন্ত্রী
আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিমান চলাচল ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী যোধপুরে 'উড়ান' প্রকল্পের সূচনা করবেন। এটি ভারতের অসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ এবং এর মাধ্যমে "উড়ে দেশ কা আম নাগরিক"-এর লক্ষ্যে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। আগামী ১০ বছরে ২৮,৮৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে এই প্রকল্পটি বিমান চলাচলে উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়কে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।
দেশজুড়ে বিমান চলাচলের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে, বর্তমানে অব্যবহৃত বিমান অবতরণ ক্ষেত্রগুলিকে ১০০টি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে রূপান্তরের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে; এর জন্য ১২,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলির কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে সেগুলির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ২,৫০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া, দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাতায়াত সমস্যার সমাধানে এই প্রকল্পের আওতায় ২০০টি আধুনিক হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় বিমান সংস্থাগুলির জন্য ১০,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের 'ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং' সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা সচল রাখার পাশাপাশি ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে। 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এই উদ্যোগে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান ও হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত অঞ্চলগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যোধপুর বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবনেরও উদ্বোধন করবেন। ৪৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। ২৩,০০০ বর্গমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই নতুন টার্মিনাল ভবনটি বছরে ২০ লক্ষ যাত্রীর সেবা প্রদানের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। যাত্রীদের ভ্রমণ যাতে নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক হয়, তা নিশ্চিত করতে এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে এতে রাজস্থানের রাজকীয় ঐতিহ্যের ছাপ রয়েছে। টার্মিনালটির নকশায় পরিবেশ-বান্ধব ও মজবুত ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে; এতে শক্তি-সাশ্রয়ী ব্যবস্থা, জল সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং 'গ্রিন বিল্ডিং' বা পরিবেশ-বান্ধব নির্মাণশৈলীর মতো বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো 'ফাইভ-স্টার জিআরআইএইচএ' (GRIHA) রেটিং অর্জন করা। যোধপুর বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনাল ভবনের এই উদ্বোধন ওই অঞ্চলে পর্যটন, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে গতি সঞ্চার করবে।
বালোত্রায় প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বালোত্রায় প্রায় ১.০৬ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করবেন। এই প্রকল্পগুলি পেট্রোকেমিক্যাল, নগর পরিবহন, রেলপথ, সড়কপথ, নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং বিদ্যুৎ সংবহনের মতো একাধিক ক্ষেত্র জুড়ে বিস্তৃত।
প্রধানমন্ত্রী বালোত্রার পচপদ্রায় ভারতের প্রথম গ্রিনফিল্ড ইন্টিগ্রেটেড রিফাইনারি-কাম-পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন;
হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং রাজস্থান সরকারের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই গ্রিনফিল্ড রিফাইনারি-কাম-পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন এবং এতে ৭৯,৪৫০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে।
অত্যাধুনিক এই কমপ্লেক্সটিতে তেল শোধন ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে এবং এর পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন ক্ষমতা ২.৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
এই প্রকল্পটি ওই অঞ্চলে একটি পেট্রোকেমিক্যাল ও প্লাস্টিক পার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং এর ফলে সংশ্লিষ্ট ও আনুষঙ্গিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে। এছাড়া, এই শোধনাগারটি উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা ওই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী জয়পুর মেট্রো রেল প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন; এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি। দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় প্রহ্লাদপুরা থেকে টোডি মোড় পর্যন্ত ৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উত্তর-দক্ষিণ মেট্রো করিডোর তৈরি করা হবে, যা ৩৬টি স্টেশনের মাধ্যমে সীতাপুরা এবং বিশ্বকর্মা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার শিল্প ও আবাসিক এলাকাগুলিকে সংযুক্ত করবে। এই করিডোরটি সীতাপুরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া, ভিকেআই, জয়পুর বিমানবন্দর, টঙ্ক রোড, এসএমএস হাসপাতাল, এসএমএস স্টেডিয়াম, আম্বাবাড়ি এবং বিদ্যাধর নগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
প্রথম পর্যায়ে ১১টি স্টেশন সহ ১১.৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো করিডরটি ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চুরু-সাদুলপুর (৫৮ কিমি) এবং চুরু-রতনগড় (৪৬ কিমি) ডবল রেললাইন প্রকল্প দুটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। মোট ১০৪ কিমি দীর্ঘ এই প্রকল্প উত্তর-পশ্চিম রাজস্থানে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। এর ফলে রেললাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে যাত্রী ও মালবাহী ট্রেনের চলাচল আরও সুষ্ঠু, নিরাপদ ও সময়ানুবর্তী হবে এবং রেল নেটওয়ার্কে যানজট বা চাপ কমবে।
পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী এনএইচ-১২৫এ-এর যোধপুর রিং রোড সেকশন-২ (কারওয়ার-ডাঙ্গিয়াওয়াস)-কে চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পেরও উদ্বোধন করবেন। প্রায় ৭৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি যোধপুর ও এর আশেপাশের অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করবে এবং যাতায়াতকে আরও সুষ্ঠু ও নিরাপদ করে তুলবে।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী এসজেভিএন লিমিটেডের ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিকানের সৌরশক্তি প্রকল্পটিও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন; এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নে প্রায় ৫,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই প্রকল্পে ২৪.২২ লক্ষ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সোলার মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এনএইচপিসি-র ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কারনিসার বিকানের সৌরশক্তি কেন্দ্রটিও উৎসর্গ করবেন। এই প্রকল্পে প্রায় ৭.৭৫ লক্ষ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সোলার পিভি সেল ও মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে।
এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী রাজস্থান সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নিযুক্ত প্রায় ৫৪,০০০ তরুণ-তরুণীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেবেন। এঁদের মধ্যে শিক্ষা, শক্তি, স্বরাষ্ট্র, পঞ্চায়েতি রাজ, পরিবহন, উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, পরিকল্পনা, কৃষি, তথ্য প্রযুক্তি এবং প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সানন্দে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী গুজরাটের সানন্দে 'সিজি সেমি'-র আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্ট কেন্দ্রটির উদ্বোধন করবেন। এই কেন্দ্রে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন যাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হচ্ছে। এটি বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। 'ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন'-এর আওতায় অনুমোদিত প্রথম চারটি প্রকল্পের মধ্যে এটি অন্যতম এবং ৭,৫০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে এটি গড়ে তোলা হয়েছে।
পুরোদমে কাজ শুরু হলে এই কেন্দ্রটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) সেমিকন্ডাক্টর চিপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংয়ের দ্রুত অগ্রগতির ফলে মেমোরি ও স্টোরেজ সলিউশনের যে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে এই কেন্দ্রটি সহায়তা করবে। এই কেন্দ্রটি অটোমোটিভ, শিল্প, টেলিযোগাযোগ, ৫জি এবং ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT)-এর মত বিভিন্ন ক্ষেত্রের গ্রাহকদের পরিষেবা প্রদান করবে।
SC/MP/NS…
(रिलीज़ आईडी: 2280702)
आगंतुक पटल : 6