প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
ভারত-জাপান বাণিজ্য মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ
प्रविष्टि तिथि:
02 JUL 2026 9:48PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি ২ জুলাই ২০২৬
মাননীয়া, আমার ছোট বোন, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি,
আমাদের উভয় দেশের বাণিজ্য জগতের নেতারা,
নমস্কার,
কনিচিওয়া
ভারত-জাপান যৌথ অর্থনৈতিক মঞ্চে আপনাদের সকলের সঙ্গে এখানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
এখানে প্রতিনিধিত্বকারী অনেক সংস্থাই কয়েক দশক ধরে ভারতের সঙ্গে যুক্ত। কোনো কোনো সংস্থা এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ভারতের যাত্রাপথের অংশ হয়ে আছে।
ভারত-জাপান সফলতার গল্পের অংশ হওয়ার জন্য এই মঞ্চে যোগদানকারী আমাদের নতুন অংশীদারদর আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
বন্ধুগণ,
ভারত-জাপান সম্পর্ক সত্যিই বিশেষ।
আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সাফল্যের অনেক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে।
কিছুক্ষণ আগেই আমরা হরিয়ানার খারখোদায় মারুতি সুজুকির নতুন উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছি। বর্তমানে, বিশ্বজুড়ে সুজুকির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ গাড়ি ভারতেই তৈরি হয় এবং ১০০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি, আমি শুনেছি যে আপনি মোটরসাইকেল খুব পছন্দ করেন। আমরা আনন্দিত যে কাওয়াসাকি, ইয়ামাহা এবং হন্ডার মতো ব্র্যান্ডের ভারতে তৈরি মোটরসাইকেল আজ সারা বিশ্বের বাজারে রপ্তানি হচ্ছে।
একইভাবে, এয়ার কন্ডিশনার, পাওয়ার গ্রিড সরঞ্জাম, সুক্ষ্ম উৎপাদন বা চিকিৎসা প্রযুক্তি—যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন, যখন জাপানের দক্ষতা ও বিনিয়োগ ভারতের গতি ও ব্যাপকতার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন সমগ্র বিশ্বই উপকৃত হয়।
বন্ধুগণ,
বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এবং বিশ্বব্যাপী চাহিদার মন্দার মতো সমস্যা মোকাবিলা করছে।
কিন্তু প্রবাদ আছে-
যখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে, তখন দৃঢ়চেতা ব্যক্তিরাই এগিয়ে যায়।
ভারত বিশ্বের দ্রুততম উন্নয়নশীল প্রধান অর্থনীতি।
গত অর্থবছরে ভারতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৭ শতাংশ।
শুধু তাই নয়, বিগত ১২ বছর ধরে আমরা নিরন্তর উন্নতির নীতি ‘কাইজেন’-এর দর্শনকে গ্রহণ করে ভারতের অর্থনৈতিক ডিএনএ-কে রূপান্তরিত করে চলেছি।
মাত্র কয়েক মাস আগে আমরা কর ব্যবস্থা, সুশাসন এবং ব্যবসা করার সরলীকরণের ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের সংস্কার চালু করেছি।
আমরা অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রকে বৃহত্তর অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করে দিচ্ছি।
একই সঙ্গে, আমরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে উৎসাহ ভাতা দিচ্ছি। এথেকে আপনারা সকলে উপকৃত হতে পারবেন।
ঠিক এই কারণেই, টানা চতুর্থ বছরের মতো, জাপান ব্যাঙ্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি)-এর পরিচালিত সমীক্ষায় জাপানি ব্যবসার জন্য ভারতকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে।
আজ আমি আপনাদের সকলকে একটি নতুন উদ্যোগ সম্পর্কেও জানাতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) একটি বিশেষ জাপান বিজনেস উইক-এর আয়োজন করবে। এই উদ্যোগ চলাকালীন, পিএমও-র উচ্চ পদস্থ আধিকাকিররা আপনাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন, আপনাদের উদ্বেগ শুনবেন এবং ভারতে বৃহত্তর জাপানি বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বকে সহজতর করার লক্ষ্যে ব্যবসা করার সুবিধা আরও বাড়ানোর বিষয়ে গভীরভাবে আলোচনা করবেন।
বন্ধুগণ,
আজ প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এবং আমি আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল ও গভীর করার সংকল্প করেছি।
আমরা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিসেবাসহ বিস্তৃত পরিসরে চুক্তি সম্পন্ন করেছি, যা এই অংশীদারিত্বকে ভবিষ্যৎমুখী এবং কার্যত সীমাহীন করে তুলবে।
আমাদের দুই সরকারের মধ্যে কৌশলগত সমন্বয়, পারস্পরিক আস্থা এবং সর্বোপরি স্বচ্ছতা রয়েছে।
বন্ধুগণ,
আগামী দশকে ভারতে জাপানী বিনিয়োগ যেন ১০ লক্ষ কোটি ইয়েনের লক্ষ্যমাত্রা শুধু পূরণ করে না, বরং অতিক্রমও করে আমাদের সম্মিলিতভাবে অবশ্যই এটি নিশ্চিত করতে হবে।
একইসঙ্গে আগামী ১০ বছরে ভারতে আসা জাপানী কোম্পানীর সংখ্যা দ্বিগুণ করার জন্য আমাদের সচেষ্ট হওয়া উচিত।
বন্ধুগণ,
আমি আপনাদের সঙ্গে আমার একটি স্বপ্ন ভাগ করে নিতে চাই।
আমি এমন একটি বিশ্বের স্বপ্ন দেখি যেখানে জাপানের প্রযুক্তি এবং ভারতের বাজার সম্ভাবনা একত্রিত হয়ে বিশ্বকে সেমিকন্ডাক্টর, ঔষধশিল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের ক্ষেত্রে স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খল প্রদান করবে।
যেখানে জাপানের পুঁজি এবং ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা একত্রিত হয়ে জাহাজ নির্মাণ, পরিবহন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব তৈরি করে।
যেখানে ভারত ও জাপানের স্টার্ট-আপ পরিমণ্ডলগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তিতে বিশ্বের পরবর্তী প্রজন্মের সমাধানগুলোকে চালিত করে।
যেখানে মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সহযোগিতা আমাদেরকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় আরও শক্তিশালী অবদান রাখতে সক্ষম করে।
বন্ধুগণ,
আসুন, আস্থা ও আশার ওপর প্রতিষ্ঠিত এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা পারস্পরিক উন্নতি ও বিশ্ব কল্যাণের পথ প্রশস্ত করি।
টয়োটার ভাষায়, “চলুন বিভিন্ন জায়গায় যাই”
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আনুমানিক অনুবাদ। মূল ভাষণটি হিন্দিতে দেওয়া হয়েছিল।
SC/ PM /CS
(रिलीज़ आईडी: 2280699)
आगंतुक पटल : 2