MIFF banner

১৯তম এমআইএফএফ (MIFF) ২০২৬-এ মানব চরিত্রের পরিদর্শন

মুম্বই, ১৯ জুন ২০২৬

 

মুম্বই এক আবেগঘন এবং দৃশ্যত মন্ত্রমুগ্ধকর সিনেমাটিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো যখন ১৯তম মুম্বই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (MIFF) ২০২৬-এ ‘ইনি, মিনি, মাইনি, মো!’ (Eeny, Meeny, Miny, Moe!), ‘হায়েনা’ (Hyena) এবং ‘আই লাভ ইউ, আই লিভ ইউ’ (I Love You, I Leave You) নামক তিনটি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হলো। উৎসবের বিশেষ মিড ফেস্ট (Mid Fest) প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে প্রদর্শিত এই চলচ্চিত্রগুলি ছিল এমআইএফএফ-এর সবচেয়ে প্রতীক্ষিত অংশগুলির একটি, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক স্তরের সংক্ষিপ্ত কথাসাহিত্য (short fiction), অ্যানিমেশন এবং তথ্যচিত্রের এক অসাধারণ লাইন-আপ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

‘ইনি, মিনি, মাইনি, মো!’ চলচ্চিত্রটি ইওস (Yios) নামের এক একাকী কাল্পনিক ছেলেকে অনুসরণ করে, যার মাথা সূর্যের মতো জ্বলে। মেঘের মধ্যে থাকা শিশুদের মাঝে খাপ খাইয়ে নেওয়ার লড়াই করতে গিয়ে ইওস নিজেকে বিচ্ছিন্ন এবং ভুল বোঝাবুঝির শিকার হিসেবে আবিষ্কার করে। একটি দুর্ভাগ্যজনক কৌতুকের কারণে সে পৃথিবীতে এসে পড়ে, যেখানে তার সঙ্গে একটি ছোট ছেলের দেখা হয় যে মুহূর্তের মধ্যে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়। যা একটি অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা শীঘ্রই নিজের সম্পর্কে এবং একাত্মতা নিয়ে ইওসের ধারণাকে বদলে দেয়। তার কোমল গল্প বলার ধরণ এবং কাল্পনিক ভিজ্যুয়ালের সঙ্গে ‘ইনি, মিনি, মাইনি, মো!’ সেইসব শিশুদের মানসিক চ্যালেঞ্জগুলি অন্বেষণ করে যারা তাদের সমবয়সীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে অসুবিধা বোধ করে বা যারা প্রায়শই সামাজিক গোষ্ঠী থেকে নিজেদের বাদ পড়া মনে করে। একই সঙ্গে, এটি গ্রহণযোগ্যতা, সহানুভূতি এবং অন্তর্ভুক্তির রূপান্তরকারী ক্ষমতাকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে, যা এটিকে সব বয়সের দর্শকদের জন্য একটি মর্মস্পর্শী চলচ্চিত্রে পরিণত করেছে। এই চলচ্চিত্রের পরিচালক আন্দ্রেয়া জেলেসোভা (Andrea Szelesová) ‘ম্যালাডি’, ‘মন অমি’, ‘অ্যানিডক ১৯ ২০ ১৮’ এবং ‘আফটারনুন টি’-এর মতো কাজের মাধ্যমে সমসাময়িক অ্যানিমেশনে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েশন ফিল্ম ‘সিস্টার্স’ ২০২১ সালে অ্যানসি আন্তর্জাতিক অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক স্তরের ৬০টিরও বেশি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল। এই প্রদর্শনীটি চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ারকে চিহ্নিত করে এবং এতে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রটির লেআউট ও ব্যাকগ্রাউন্ড শিল্পী মিস আন্দ্রেয়া আর্স, যিনি এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের অংশ হতে পেরে তাঁর আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

আলতাই উলান ইয়াং পরিচালিত ম্যান্ডারিন ভাষার একটি সংক্ষিপ্ত কথাসাহিত্যমূলক থ্রিলার ‘হায়েনা’, মিড ফেস্ট অংশের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। এটি ১৯তম মুম্বই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তার ভারতীয় প্রিমিয়ার করেছে। পরিচালকের ষোলো বছর বয়সের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেওয়া এই চলচ্চিত্রটি সহিংসতাকে কেবল উৎপীড়ন হিসেবেই নয়, বরং আদিম মানব আবেগের একটি নান্দনিক অন্বেষণ হিসেবেও তুলে ধরে। এই সংক্ষিপ্ত কথাসাহিত্যে মাস্টার নামের একজন ছাত্র, যে অতীতে উৎপীড়নের শিকার হয়েছিল, তাকে একটি বিচ্ছিন্ন দুর্গে ছেলেদের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীতে যোগ দিতে প্ররোচিত করা হয়, যেখানে সে গ্রহণযোগ্যতার জন্য তার নিজস্ব নৈতিকতা বিসর্জন দেয়। এই গোষ্ঠীটি তখন ‘৯০’ নামের একজন নম্র, প্রতিভাবান নতুন ছাত্রকে লক্ষ্যবস্তু করে, শারীরিক সহিংসতার মাধ্যমে তার শিল্পকর্ম ধ্বংস করে, যে সহিংসতায় শেষ পর্যন্ত মাস্টারও যোগ দেয়। ‘৯০’ তার সহনশীলতার শেষ সীমায় পৌঁছে পাল্টা লড়াই করে। গল্পটি দর্শকদের দলগত মানসিকতা এবং নিষ্ঠুরতার ভয়াবহ ক্ষমতার ওপর চিন্তা করার জন্য ছেড়ে দেয়।

মিড ফেস্ট অংশের শেষ চলচ্চিত্র — ‘আই লাভ ইউ, আই লিভ ইউ’, এমআইএফএফ-এ তার আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ার করেছে, যা সুইজারল্যান্ডের সঙ্গীতশিল্পী ডিনো ব্র্যান্ডাও-এর আত্ম-আবিষ্কারের অন্তরঙ্গ যাত্রা এবং সামাজিক বাধ্যবাধকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের গল্প পর্দায় নিয়ে এসেছে। সুইজারল্যান্ডের চলচ্চিত্র নির্মাতা মরিস ফ্রেইবার্গহাউসের বহুভাষিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে এই প্রথম পরিচালনা জুরিখ চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা তথ্যচিত্রের জন্য মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন আই এবং অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড (দর্শক পুরস্কার) লাভ করে। ফ্রেইবার্গহাউস এমন একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছেন যা পর্যবেক্ষক এবং বিষয়ের মধ্যকার সীমানাকে অস্পষ্ট করে দেয়। চলচ্চিত্রটি ডিনো ব্র্যান্ডাও নামের একজন মুক্তমনা সুইস সঙ্গীতশিল্পীকে অনুসরণ করে, যিনি এমন এক পৃথিবীতে পথ চলছেন যা তাকে তার আসল সত্ত্বাকে দমন করতে বাধ্য করে। ডিনোর ক্ষেত্রে, সঙ্গীত তার মানসিক চাপকে একটি ছন্দ প্রদান করে। সিনেমাটিক সিকোয়েন্স এবং অপরিশোধিত, অসম্পাদিত ফুটেজের এক চমৎকার মিশ্রণের মাধ্যমে, চলচ্চিত্রটি মানুষের আবেগের জটিলতাকে ছাড়িয়ে যায়, যার মধ্যে রয়েছে কেবল নিজের মতো করে বেঁচে থাকার অধিকার। ফ্রেইবার্গহাউস ধীরে ধীরে নিজেকে কাহিনীর মধ্যে যুক্ত করেন, যা এটিকে চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং বিষয়ের মধ্যে একটি যৌথ যাত্রায় পরিণত করে । এই কাজটি সঙ্গীতকে কেবল একটি সাউন্ডট্র্যাক হিসেবে নয়, বরং সুখ এবং মুক্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে, অন্যদিকে এর বৃত্তাকার কাহিনীর গঠন ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং আত্ম-স্বীকৃতির চক্রাকার প্রকৃতিকে প্রতিফলিত করে। চলচ্চিত্রটি অসুস্থ ও সুস্থের বিভাজনের মধ্যে শক্তিশালী দ্বৈততা প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয় এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির দর্শকদের জন্য একটি সময়োপযোগী বার্তা প্রদান করে, যা ‘আই লাভ ইউ, আই লিভ ইউ’ চলচ্চিত্রটিকে পাশাপাশি উপস্থাপিত বক্তব্য এবং সমসাময়িক তথ্যচিত্রের জগতে একটি উল্লেখযোগ্য অসামান্য সৃষ্টি করে তুলেছে।

একসঙ্গে এই তিনটি চলচ্চিত্র মানুষের আবেগের জটিলতাকে প্রতিফলিত করে এমন আকর্ষক গল্প প্রদর্শন করেছে এবং ১৯তম এমআইএফএফ ২০২৬-এ সিনেমাটিক শ্রেষ্ঠত্বের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

 

PK...


Great films resonate through passionate voices. Share your love for cinema with #MIFF2026. Tag us @pibmumbai on X, and we'll help spread your passion! For journalists, bloggers, and vloggers wanting to connect with filmmakers for interviews/interactions, reach out to us at miff.mediadesk@pib.gov.in with the subject line: Take One with PIB.


रिलीज़ आईडी: 2275110   |   Visitor Counter: 9