কৃষিমন্ত্রক
ভারতের সভাপতিত্বে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ১৬তম ব্রিকস কৃষিমন্ত্রীদের বৈঠক সমাপ্ত হল
प्रविष्टि तिथि:
13 JUN 2026 7:24PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ১৩ জুন ২০২৬
ভারতের সভাপতিত্বে ১২-১৩ জুন ২০২৬ তারিখে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ১৬তম ব্রিকস কৃষিমন্ত্রীদের বৈঠক সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
গত প্রায় তিন মাস ধরে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে, ব্রিকস কৃষি বিষয়ক কর্মগোষ্ঠী চারটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে:
অগ্রাধিকার ১ : খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং জীবিকা
অগ্রাধিকার ২ : কৃষি বাণিজ্য ও সহযোগিতা
অগ্রাধিকার ৩ : পুনরুৎপাদনশীল কৃষি, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই কৃষি
অগ্রাধিকার ৪ : কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব জোরদার করা
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গি, অভিন্ন প্রতিশ্রুতি এবং ঐকমত্যের প্রতিফলন ঘটিয়ে 'ব্রিকস কৃষিমন্ত্রীদের যৌথ ঘোষণা' সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই বৈঠক সমাপ্ত হয়। (লিঙ্ক: https://d2jiw2zrmmyqt8.cloudfront.net/wp-content/uploads/2026/06/13131357/agriculture-doc.pdf)
এই যৌথ ঘোষণায় কৃষক-কেন্দ্রিক পদ্ধতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এতে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও টেকসই কৃষি চর্চার প্রসারে কৃষকদের - বিশেষ করে ক্ষুদ্রচাষিদের - গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করা হয়েছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রামীণ উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, উদ্ভাবন, স্থায়িত্ব ও সমতার মাধ্যমে কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এতে প্রতিফলিত হয়েছে। নিজেদের সম্মিলিত সংকল্পকে এগিয়ে নিতে মন্ত্রীরা নিম্নলিখিত চারটি প্রধান ফলাফল বা পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছেন:
ঘোষণাটির প্রথম উল্লেখযোগ্য দিক হলো 'অ্যাগ্রো - ইকোলজি (কৃষি-বাস্তুবিদ্যা) ও পুনরুৎপাদনশীল কৃষি বিষয়ক ব্রিকস সেন্টার অফ এক্সিলেন্স নেটওয়ার্ক' প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সমঝোতা; যার প্রাথমিক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে ভারতের মোদিপুরমে অবস্থিত আইসিএআর-এর 'ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ফার্মিং সিস্টেম রিসার্চ' (আইআইএফএসআর)। এই উদ্যোগটি টেকসই, প্রাকৃতিক এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি পদ্ধতির প্রসার ঘটাবে। আইসিএআর-আইআইএফএসআর ভারতে 'প্রাকৃতিক কৃষি বিষয়ক সেন্টার অফ এক্সিলেন্স' হিসেবে কাজ করবে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সর্বোত্তম কর্মপদ্ধতি বিনিময়ের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে।
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি-চালিত কৃষির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে সদস্য দেশগুলো 'ব্রিকস ডিজিটাল কৃষি নেটওয়ার্ক' গড়ে তোলার বিষয়েও সম্মত হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভূ-স্থানিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামো এবং তথ্য-ভিত্তিক কৃষি সমাধানের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করবে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) দিল্লি এই নেটওয়ার্কের প্রাথমিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে এবং কৃষকদের জন্য অত্যাধুনিক উদ্ভাবন ও কৃষিকাজের বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলবে।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলটি হলো ‘গ্লোবাল ফোরাম অন ফার্মার্স রাইটস ইন সিড সিস্টেমস’ (বীজ ব্যবস্থায় কৃষকদের অধিকার বিষয়ক বৈশ্বিক ফোরাম)-এর সূচনা। এর লক্ষ্য হলো কৃষকদের অধিকার রক্ষা ও তার প্রসার ঘটানো এবং একই সাথে তাঁদের প্রথাগত জ্ঞান, বীজের ঐতিহ্য ও কৃষকদের অবদানকে স্বীকৃতি প্রদান করা। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ‘প্রটেকশন অফ প্ল্যান্ট ভ্যারাইটিস অ্যান্ড ফার্মার্স রাইটস অথরিটি-এর মাধ্যমে ভারত প্রাথমিকভাবে এই উদ্যোগটি সমন্বয় করবে; আশা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগটি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও জোরদার করবে।
চতুর্থত, সদস্য দেশগুলো ‘ব্রিকস অ্যাগ্রিন’ কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও সম্মত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো বীজ, কৃষি-উপকরণ এবং জিনগত সম্পদের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। এই কাঠামোটি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, কারিগরি সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে।
সদস্য দেশগুলোর কৃষিমন্ত্রীরা বিদ্যমান দুটি উদ্যোগকে আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। প্রথমত, ব্রিকস সদস্যরা ‘ব্রিকস এগ্রিকালচারাল রিসার্চ প্ল্যাটফর্ম’ (বিএআরপি)-কে শক্তিশালী করতে এবং এটিকে একটি গতিশীল ‘নলেজ-টু-অ্যাকশন হাব’ (জ্ঞান থেকে কার্যক্রমে রূপান্তরের কেন্দ্র)-এ পরিণত করতে সম্মত হয়েছেন; এর লক্ষ্য হলো গবেষণালব্ধ ফলাফলগুলোকে কৃষকদের জন্য কার্যকর ও সম্প্রসারণযোগ্য সমাধানে রূপান্তর করা নিশ্চিত করা।
দ্বিতীয়ত, কৃষি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্রিকস দেশগুলো একটি ন্যায্য, সমতাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বচ্ছ বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভারতের আয়োজনে ‘ব্রিকস গ্রেইন এক্সচেঞ্জ’ (শস্য বিনিময় ব্যবস্থা) বিষয়ক বিশেষ আলোচনাটি এই প্রক্রিয়ার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ গতি সঞ্চার করেছে এবং এর কার্যপদ্ধতি বা পরিচালনগত দিকগুলো নিয়ে একটি যৌথ বোঝাপড়া তৈরিতে সহায়তা করেছে।
টেকসই ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সদস্য দেশগুলো মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু-সহনশীল ও পুনরুৎপাদনশীল কৃষি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া, দক্ষতা, পুষ্টি নিরাপত্তা ও কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাদ্য অপচয় হ্রাস, প্রাণিসম্পদ প্রযুক্তি এবং জলজ চাষাবাদ বিষয়ক কারিগরি আলোচনার ফলাফলগুলোকে ভবিষ্যৎ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও তারা গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
ব্রিকস সদস্যরা কারিগরি বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষি বিষয়ক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ‘দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা’-র প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে; এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থাকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে তাদের সম্মিলিত ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
‘ক্ষুদ্র কৃষক, নারী ও যুবসমাজ: খাদ্য নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ’ শীর্ষক একটি মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রচাষি, নারী ও যুবসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। প্রতিনিধিরা এই গোষ্ঠীগুলোর জন্য বাজার, অর্থায়ন, প্রযুক্তি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
এই বৈঠকটি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে, যা বাজার সুবিধা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনার পথ সুগম করেছে।
সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষকদের ক্ষমতায়ন এবং সবার জন্য একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্রিকস দেশগুলোর সম্মিলিত সদিচ্ছা ও যৌথ দায়িত্ববোধের প্রমাণ হিসেবে এই যৌথ ঘোষণাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এই বৈঠকে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর কৃষিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছিলেন; এতে প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে, এটি ছিল ব্রিকস কৃষিমন্ত্রীদের এমন প্রথম বৈঠক যেখানে সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি সহযোগী দেশগুলোও একত্রিত হয়েছিল। মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা ও ধারাবাহিক দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি, প্রতিনিধিরা ইন্দোরের মেঘদূত উদ্যানে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন; এর মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং আন্তঃপ্রজন্মগত দায়বদ্ধতা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিকস দেশগুলোর সম্মিলিত সংকল্প প্রতিফলিত হয়েছে।
পরিবেশগত স্থায়িত্বের প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে প্রতিনিধিরা ‘ব্রিকস বাটিকা’ নামক বৃক্ষরোপণ উদ্যোগে অংশ নেন, যা জলবায়ু বিষয়ক পদক্ষেপ ও পরিবেশগত সুরক্ষার ক্ষেত্রে সম্মিলিত দায়বদ্ধতাকে তুলে ধরে।
SC/SB/AS
(रिलीज़ आईडी: 2272623)
आगंतुक पटल : 2