সড়কপরিবহণওমহাসড়কমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

জলবায়ু-সহনশীল পাহাড়ি সড়কে উন্নত ভূমিধস প্রতিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ

प्रविष्टि तिथि: 12 JUN 2026 3:43PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি,  ১২ জুন  ২০২৬

 

গত অগাস্ট মাসে উত্তর কাশীর ধারালি ও সুখী টপ এলাকায় বিধ্বংসী মেঘভাঙা বৃষ্টিপাতের ফলে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ের ঢাল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং জনজীবন ও বসতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়; এই ধরনের ঘটনা ভারতের হিমালয়-সংলগ্ন মহাসড়কগুলির সামনে  চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায়, দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভূ-প্রকৃতির এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিকাঠামো সুরক্ষায় সড়ক ও মহাসড়ক পরিবহন মন্ত্রক 
 ক্রমশ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। এই পদক্ষেপগুলির মধ্যে অন্যতম হল, উত্তরাখণ্ডের ‘চার ধাম’ রুটের ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশে ‘ইন্টারফেরোমেট্রিক সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার’ (InSAR)-ভিত্তিক ভূমিধস পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কবার্তা প্রদানকারী ব্যবস্থা চালু করা; এর ফলে কর্তৃপক্ষ মাটির অতি সূক্ষ্ম নড়াচড়া শনাক্ত করতে এবং কোনও বিপর্যয় ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঢালগুলি চিহ্নিত করতে সক্ষম হচ্ছে।

এই প্রচেষ্টার পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশের এনএইচ-৫-এর পারওয়ানো-সোলান অংশে একটি উন্নত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে; এর মাধ্যমে ভূমিধস, ভূমি বসে যাওয়া, ভূগর্ভস্থ জলের প্রবাহ এবং পাথর খসে পড়ার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। মন্ত্রকের এই সম্মিলিত উদ্যোগগুলি দুর্যোগ-পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে দুর্যোগের পূর্বাভাস ও প্রতিরোধের দিকে সরে আসার একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিফলন, যা ভারতের পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে একটি নিরাপদ ও দুর্যোগ-সহনশীল মহাসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।


অনেকগুলি উদ্যোগের মধ্যে, মন্ত্রক বৈজ্ঞানিক সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার করেছে, যার মধ্যে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সাথে টানেল প্রকল্পগুলির ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধান এবং  অধ্যয়নের জন্য ডেটা ভাগ করে নেওয়ার জন্য একটি মউ স্বাক্ষর করা রয়েছে৷ রাস্তার টানেলের নিরাপত্তা এবং কাঠামোগত দৃঢ়তা বাড়াতে, জিএসআই-এর তৈরি ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রকে কাজে লাগানো হচ্ছে।


ভারতের মোট ১,৪৬,৫৭০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে প্রায় ১৬,৭৮৮ কিলোমিটারই রয়েছে পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে; এই অবস্থায় এমন পরিকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, যা নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম। বিশ্বের অন্যতম নবীন পর্বতমালা হিমালয় অঞ্চলটি ভূমিধস, শিলাপাত, আকস্মিক বন্যা, মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং অন্যান্য ভূ-প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

হাইওয়ে নির্মাণ শক্তিশালীকরণ

পাহাড়ে সড়ক প্রকল্পের স্থায়িত্ব বাড়াতে, মন্ত্রক বেশ কিছু  সংস্কার নীতি চালু করেছে। একটি পর্যায়ক্রমে নির্মাণ পদ্ধতি এখন গ্রহণ করা হচ্ছে, যেখানে নির্মাণ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। ঢাল অন্তত একটি বর্ষা মরসুম সুস্থায়ী হওয়ার পরই রাস্তা নির্মাণ শুরু হয়।

বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে ভূ-স্থানিক বুদ্ধিমত্তা  কাজে লাগানোর জন্য, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক  এমন সব কোম্পানির সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেছে, যারা উন্নত উপগ্রহ-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এই প্রযুক্তি উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের পর্যায়ক্রমিক ও ধারাবাহিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভূমিধস বা পাহাড়ের ঢাল ধসে পড়ার অনেক আগেই আগাম সতর্কবার্তা প্রদান, সুনির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনার উন্নয়নে ভূমিকা নিয়ে থাকে। এরই অংশ হিসেবে, মন্ত্রক উত্তরাখণ্ডের ‘চার ধাম’ রুটে ভূমিধস পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ইনসার’ (InSAR) প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করেছে।

পাহাড়ি এলাকায় মহাসড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারের জন্য সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। মাঝারি ধরনের একটি ভূমিধসের ফলে ১০ থেকে ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত মেরামতির কাজে খরচ হতে পারে এবং ২ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পাহাড়ের ঢাল ধসে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি কমিয়ে আনার মাধ্যমে, উপগ্রহ-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা কমাতে পারে।


সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক নির্মাণকাজের সময়সীমা সংক্রান্ত একটি নীতিও প্রবর্তন করেছে; এর আওতায় হিমালয় অঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মতো এলাকাগুলিতে প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

রাস্তার ঢাল যথাযথভাবে স্থিতিশীল রাখা এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় জমির সংস্থান সহ অতিরিক্ত 'রাইট-অফ-ওয়ে' (রাস্তার জন্য নির্ধারিত জমি)-র ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।


কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্থিতিস্থাপকতা নির্মাণ

স্থিতিস্থাপক পরিকাঠামোর জন্য বহুমাত্রিক দক্ষতার প্রয়োজন, এই ভাবনা থেকে  মন্ত্রক টিএইচডিসি ইন্ডিয়া লিমিটেড, জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (জিএসআই), ডিফেন্স জিও-ইনফরমেটিক্স রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্ট (ডিজিআরই), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ রক মেকানিক্স (এনআইআরএম) এবং আইআইটি রুরকি সহ শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করেছে। এই অংশীদারিত্বগুলি ভূ-প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান, নকশা পর্যালোচনা, নিরাপত্তা নিরীক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি স্থাপনে সহায়তা করবে।


ভূমিধস প্রশমন ও ভূ-বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার প্রয়াসকে জোরদার করার লক্ষ্যে, উত্তরাখণ্ড ও অরুণাচল প্রদেশে ভূমিধস প্রশমনের বিশেষভাবে কাজ পরিচালনার জন্য মন্ত্রক  'তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন ইন্ডিয়া লিমিটেড'-এর সঙ্গে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া, জাতীয় মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় ভূ-বিপর্যয় নিরূপণ ও তা প্রশমনের ক্ষেত্রে কারিগরি দক্ষতা ও বৈজ্ঞানিক সহায়তা প্রদানের জন্য মন্ত্রক 'ডিফেন্স জিও-ইনফরমেটিক্স রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্ট'-এর সঙ্গেও অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে।


ঢাল-ভিত্তিক সুরক্ষা ও ঝুঁকি প্রশমনে পদক্ষেপ গ্রহণ

ঢাল স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে
মন্ত্রক একটি বৈজ্ঞানিক ও স্থান-নির্দিষ্ট পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। আইআইটি দিল্লির নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির তৈরি নির্দেশিকা বা কাঠামোগত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, প্রকৌশলীরা এখন উপযুক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আগে প্রতিটি ঢালের বৃষ্টিপাতের ধরন, ভূগর্ভস্থ জলের অবস্থা এবং ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে থাকেন। যেহেতু প্রতিটি ঢালের প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন হয়, তা পাথর, মাটি, ধ্বংসাবশেষ কিংবা আলগা শিলাখণ্ড, যা দিয়েই গঠিত হোক না কেন,
তা এখন সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই সমাধান বার করা  হচ্ছে। ফলে, ঝুঁকিগুলি বড় ধরনের বিপদের রূপ নেওয়ার আগেই তা শনাক্ত করতে এবং বিস্তারিত সমীক্ষা চালাতে ড্রোন, লাইডার (LiDAR - Light Detection and Ranging) সার্ভে ও ডিজিটাল টেরেইন মডেলের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে।


আইআইটি-র প্রতিবেদনে সুস্থায়ী সমাধানের বিষয়গুলিও তুলে ধরা হয়েছে। নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি, এই পদক্ষেপগুলি পাহাড়ি সড়কগুলিকে আরও নিরাপদ ও দুর্যোগ-সহনশীল করে গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।


সুরক্ষা মানের উন্নয়ন

জাতীয় মহাসড়কগুলিতে শিলাপতন প্রশমন ব্যবস্থার কার্যকারিতার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী সর্বোত্তম সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করেছে। মন্ত্রক কিছু সুনির্দিষ্ট মানের প্রস্তাব করেছে। এই কাঠামোটি পণ্যের গুণমানের বাইরেও কঠোর যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু করেছে, যেমন, উপকরণের পরিমাণের সামঞ্জস্য পরীক্ষা, বারকোড-ভিত্তিক শনাক্তকরণযোগ্যতা, প্রস্তুতকারকের পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা, স্থাপিত সিস্টেমের ফিল্ড পর্যায়ে যাচাইকরণ এবং শিলাপতন জালের প্রুফ-টেস্টিং। 


কাজে বাস্তবায়ন

শক্তিশালী পাহাড়ি পরিকাঠামো ইতিমধ্যেই ফল প্রদান করছে। উদাহরণস্বরূপ, শুধুমাত্র উত্তরাখণ্ডে, ৫৮টি ভূমিধস-প্রবণ অবস্থানের চিহ্নিতকরণ করা হয়েছে, ৯৬টি স্থানে বর্তমানে প্রশমনের কাজ চলছে।

পার্বত্য অঞ্চলে সড়কপথ কেবল যাতায়াতের মাধ্যমই নয়, বরং তা এমন এক জীবনরেখা, যা বিভিন্ন জনবসতিকে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ও জীবিকার সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করে। মহাসড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নে বৈজ্ঞানিক ঝুঁকি-মূল্যায়ন পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে গৃহীত এই নতুন পদক্ষেপগুলি এমন নিরাপদ ও দুর্যোগ-সহনশীল পরিবহন করিডোর গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, যা ভারতের বৈচিত্র্যময় এবং  ভঙ্গুর ভূপ্রকৃতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম।

 


SC/MP/NS…


(रिलीज़ आईडी: 2272261) आगंतुक पटल : 11
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Gujarati , Urdu , हिन्दी , Tamil