স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ গুজরাটের ভুজ-এ সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন
প্রকাশিত:
30 MAY 2026 1:39PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৩০ মে ২০২৬
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ গুজরাটের ভুজ-এ একটি নিরাপত্তা পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। এই সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন গুজরাটের সীমান্ত ও উপকূলীয় জেলাগুলোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়। এই বৈঠকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্য সচিব, গুজরাটের ডিজিপি এবং রাজ্য সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কচ্ছ, ভাও-থরাদ এবং পাটান জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারগণ উপস্থিত ছিলেন। আরও সুদৃঢ় ও ব্যাপক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, এই বৈঠকে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকাগুলোর চ্যালেঞ্জ, হুমকি এবং উদ্ভূত উদ্বেগগুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়। পাশাপাশি, এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের, বিশেষ করে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বৈঠক চলাকালীন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, সীমান্ত বেড়া, সামুদ্রিক সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রাজ্য সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা গুজরাটের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এক আমূল পরিবর্তন এনেছে। যার ফলে রাজ্যে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে চোরাচালান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত এলাকায় যে কোনো ধরনের অননুমোদিত দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা উচিত এবং সেগুলিকে উচ্ছেদ করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন। তিনি সীমান্ত এলাকাগুলিতে সন্ত্রাসবাদ প্রসারের কেন্দ্রস্থলগুলির ওপর কড়া নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, সীমান্ত জেলাগুলিতে জনসংখ্যার বিন্যাসে পরিবর্তন সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জেলাশাসকদের উচিত এই ধরনের ঘটনাবলির ওপর কঠোর নজরদারি রাখা এবং নিয়মিতভাবে সে বিষয়ে প্রতিবেদন পেশ করা। তিনি উল্লেখ করেন যে, সীমান্ত এলাকাগুলিতে শিল্প কারখানা গড়ে ওঠার ফলে যে 'বিপরীত অভিবাসন' ঘটছে, তা একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও স্বাগতযোগ্য অগ্রগতি। শ্রী শাহ বলেন যে, পুলিশ থেকে শুরু করে পটোয়ারি (ভূমি রাজস্ব কর্মী) পর্যন্ত — সকলকেই একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে ইতিমধ্যে বসতি স্থাপন করে ফেলা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কার নিশ্চিত করা যায়। তিনি আরও বলেন যে, স্থানীয় প্রশাসনকে প্রতিটি সীমান্ত জেলার সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয়তাগুলির কথা মাথায় রেখে 'মানক কার্যপদ্ধতি' বা এসওপি প্রণয়ন করতে হবে যাতে সেখানে বর্তমানে অবস্থানরত অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা এবং ড্রোন ও মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত হুমকিগুলি মোকাবিলা করা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন যে, প্রতিটি জেলায় একটি করে 'নিরাপত্তা সমন্বয় গোষ্ঠী' (সিকিউরিটি কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ) গঠন করা উচিত। এই গোষ্ঠীতে বিএসএফ, কোস্ট গার্ড, আয়কর বিভাগ, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবং সংশ্লিষ্ট জেলার 'লিড ব্যাংক ম্যানেজার'-এর প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তিনি আরও বলেন যে, আয়কর, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং শুল্ক সংক্রান্ত আইনগুলোর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং 'বর্ডার রেঞ্জ'-এর ইন্সপেক্টর জেনারেলের ওপর ন্যস্ত থাকা উচিত।
শ্রী অমিত শাহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে হাওয়ালা লেনদেন, আর্থিক কারবার, 'মিউল অ্যাকাউন্ট' (অন্যের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাব), 'শেল কোম্পানি' (কাগুজে কোম্পানি), সন্দেহজনক যানবাহন এবং জিএসটি আদায়ের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আর্থিক অপরাধ দমনে নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে সীমান্ত এলাকা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সম্পর্কে সর্বদা ও কঠোরভাবে অবহিত রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি, আয়কর বিভাগের উচিত রিজার্ভ ব্যাংকের সহযোগিতায় ব্যাপকভাবে নিরীক্ষণ অভিযান পরিচালনা করা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন যে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমানা রেখার নৈকট্যের কথা বিবেচনা করে উপকূলীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ভারতীয় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও নির্দেশ দেন যে, 'ভাইব্রেন্ট ভিলেজেস' উদ্যোগের পাশাপাশি, সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে কেন্দ্র ও রাজ্য — উভয় সরকারেরই প্রতিটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ১০০ শতাংশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
SC/SB/DM
(রিলিজ আইডি: 2267000)
ভিজিটরের কাউন্টার : 5