কৃষিমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

দিল্লিতে জাতীয় খরিফ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সাংবাদিক সম্মেলন

প্রকাশিত: 29 MAY 2026 7:45PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ২৯ মে ২০২৬

 

 

কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান আজ বলেছেন, দেশ ২০২৬ সালের খরিফ মৌসুমের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় খরিফ কৃষি সম্মেলন’-এর ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, বিভিন্ন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, বিজ্ঞানী, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে), প্রগতিশীল কৃষক এবং কেন্দ্র ও রাজ্য - উভয়েরই সমগ্র কৃষি পরিকাঠামোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বীজ, সার, শস্য বিমা, কৃষি ঋণ, প্রাকৃতিক কৃষি এবং রাজ্যভিত্তিক কৃষি রূপরেখা প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 

নতুন দিল্লির পুসায় অবস্থিত সুব্রহ্মণ্যম হলে আয়োজিত ‘জাতীয় খরিফ কৃষি সম্মেলন’-এর ফাঁকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলো যৌথভাবে এমনভাবে কাজ করে চলেছে যাতে খরিফ ঋতুটি কেবল চ্যালেঞ্জে জর্জরিত একটি সময় না হয়ে ওঠে, বরং প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং কৃষক-কেন্দ্রিক নীতি প্রণয়নের একটি ঋতু হিসেবে চিহ্নিত হয়। তিনি বলেন, যেকোনো ফসলের সাফল্যের জন্য প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো উন্নত মানের বীজের সহজলভ্যতা; আর তিনি জোর দিয়ে বলেন, খরিফ ২০২৬-এর জন্য বীজের প্রাপ্যতা সম্পূর্ণ সন্তোষজনক। তিনি জানান, সারা দেশে খরিফ ঋতুর জন্য আনুমানিক ১৭৩ লক্ষ কুইন্টাল বীজের প্রয়োজন হয়, অথচ বর্তমানে ১৯২ লক্ষ কুইন্টাল বীজ মজুত রয়েছে। অন্য কথায়, চাহিদার তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি বীজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী বীজ বরাদ্দের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে যে, রাজ্যগুলো যেন যথাসময়ে এই বীজ সংগ্রহ করে নেয়, যাতে খরিফ ফসলের বপন কাজ শুরু হওয়ার আগেই তা কৃষকদের হাতে পৌঁছে যায়।

 

তিনি বলেন, আবহাওয়ার অবস্থার সঙ্গে যুক্ত অনিশ্চয়তাগুলোর কথা মাথায় রেখে, কেন্দ্র ১.৭৪ লক্ষ কুইন্টালের একটি জাতীয় বীজ ভাণ্ডারও প্রস্তুত রেখেছে। আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে যাতে কোনো অঞ্চলে বৃষ্টিপাত দেরিতে হলে, দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিলে কিংবা পুনরায় বীজ বপনের প্রয়োজন হলে কৃষকদের বীজ পেতে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়।

 

শ্রী চৌহান বলেন, সরকারি প্রকল্পগুলোর সুফল কৃষকদের কাছে আরও সহজ, সাবলীল এবং সুনির্দিষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে 'কৃষক আইডি' তৈরির অভিযানকে ত্বরান্বিত করা হয়েছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৯ কোটি ৭৬ লক্ষেরও বেশি 'কৃষক আইডি' তৈরি করা হয়েছে। তাঁর মতে, এর ফলে কৃষকদের বারবার বিভিন্ন নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে এবং সার, আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিতরণে অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে; পাশাপাশি এও নিশ্চিত হবে যে, প্রকৃত সুফলভোগীদের কাছেই যেন সুবিধাগুলো পৌঁছায়।

 

কৃষি ঋণের প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং বলেন, দেশে কৃষি ঋণের গড় পরিমাণ প্রায় ১.৩২ লক্ষ টাকা, যদিও বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চলে এর পরিমাণে উল্লেখযোগ্য তারতম্য রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্ব ভারতে এই গড় পরিমাণ অনেকটাই কম। তিনি জানান, যেসব রাজ্যে কৃষি ঋণের প্রবাহ কম, সেখানকার ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হবে, যাতে কৃষকরা যথাসময়ে পর্যাপ্ত ঋণ পেতে পারেন এবং কৃষিকাজে সময়মতো বিনিয়োগ করতে সক্ষম হন।

 

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক কৃষকের নিজস্ব কৃষি জমি নেই; বরং তাঁরা ইজারা নেওয়া বা ভাড়া করা জমিতে চাষাবাদ করেন। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী জানান, এই ধরনের বর্গাচাষিরাও যেন বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুফল পান - তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজ্যগুলোর সঙ্গে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়েছে। রাজ্যগুলোর গৃহীত কিছু সফল মডেল বা পদ্ধতি পর্যালোচনা করা হবে এবং এই বিষয়ে একটি উপযুক্ত জাতীয় স্তরের রূপরেখা তৈরির প্রচেষ্টা চালানো হবে।

 

শস্য বিমা প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শ্রী চৌহান বলেন, এই প্রকল্পের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক হলেও এতে এখনও কিছু ফাঁকফোকর বা ঘাটতি রয়ে গেছে, যা পূরণ করা প্রয়োজন। তিনি জানান, শস্য কর্তন পরীক্ষা এবং রিমোট সেন্সিং-ভিত্তিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে একটি বিশেষ দল গঠন করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রিমিয়াম প্রদানে রাজ্যগুলোর বিলম্ব এবং বিমা কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্বের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সমস্ত প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরেও যদি ক্ষতিপূরণ প্রদানে কোনো বিলম্ব হয়, তবে সেক্ষেত্রে ১২ শতাংশ হারে সুদ প্রদানের একটি বিধান কার্যকর হবে - যাতে কৃষকরা যথাসময়ে তাঁদের প্রাপ্য সুবিধাগুলো হাতে পান। শ্রী চৌহান রাজ্যগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান, যেন কেন্দ্র কর্তৃক বিভিন্ন কৃষি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয় - যাতে কৃষকদের কাছে এর সুফল পৌঁছাতে কোনো বিলম্ব না ঘটে। নিম্নমানের ও ভেজাল কীটনাশককে একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজ্যগুলোকে নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে, পরীক্ষাগারগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং এনএবিএল (ন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড ফর টেস্টিং অ্যান্ড ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরিজ)-প্রত্যয়িত পরীক্ষাগারগুলোর সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও জানান, ভেজাল কৃষি উপকরণের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপকভিত্তিক অভিযান শুরু করার বিষয়েও সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

 

'পিএম-আশা' প্রকল্পের অধীনে পণ্য সংগ্রহে বিলম্বের প্রসঙ্গ টেনে শ্রী চৌহান বলেন যে, এটি একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছিল; তবে এখন নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পণ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর পাশাপাশি, তিনি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলোকে আরও শক্তিশালী করা, কৃষক উৎপাদক সংগঠন (এফপিও) আন্দোলনকে গতিশীল করা এবং বিভিন্ন ফসলের উপযুক্ত জাত নির্বাচনের ক্ষেত্রে অঞ্চল-ভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণের ওপর জোর দেন।

 

তিনি বলেন, 'তুর' (অড়হর) জাতীয় ফসলের স্বল্পমেয়াদী ও উন্নত জাত উদ্ভাবন এবং বিভিন্ন কৃষি-জলবায়ুগত পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই উপযুক্ত জাত নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাজের গতি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে, তিনি ঘোষণা করেন যে—প্রতিটি রাজ্যের জন্য পৃথক কৃষি রূপরেখা প্রস্তুত করা হবে। এই রূপরেখাগুলোতে মাটির অবস্থা, জলবায়ু, পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা, উপযুক্ত ফসল, বীজের জাত এবং সারের ব্যবহার - প্রভৃতি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে; যাতে কৃষি পরিকল্পনা আরও বেশি বিজ্ঞানসম্মত, বাস্তবসম্মত এবং অঞ্চল-ভিত্তিক হয়ে ওঠে।

 

সম্মেলন চলাকালীন প্রাকৃতিক কৃষি এবং সারের সুষম ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং জানান, প্রায় ৮ লক্ষ হেক্টর জমি জুড়ে প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতির অনুসরণের লক্ষ্যে ২০ লক্ষ কৃষক ইতিমধ্যেই নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন, অনেক কৃষকই তাঁদের চিরাচরিত প্রথা ও পদ্ধতির মাধ্যমে আগে থেকেই প্রাকৃতিক কৃষি চর্চা করে আসছেন। তিনি 'সমন্বিত কৃষি' ব্যবস্থাকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে, কৃষকদের আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই উপায় হয়ে উঠতে পারে।

 

শ্রী চৌহান জানান, গ্রাম পর্যায়ে কৃষকদের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে আগামী ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত 'ক্ষেত বাঁচাও অভিযান' পরিচালনা করবে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে, সরকারি আধিকারিক ও কৃষি দপ্তরের দলগুলো বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সারের সুষম ব্যবহার, 'মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড'-এর সুপারিশসমূহ, প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতি, উন্নত ফসল ব্যবস্থাপনা এবং সরকারের অন্যান্য বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলবে। তিনি আরও বলেন, যেখানে যেখানে সম্ভব - সেখানে 'কিষাণ ক্রেডিট কার্ড', কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সরঞ্জাম, 'মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড' এবং কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলো কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করে তোলার লক্ষ্যেও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ১২ বছরের শাসনকালে কৃষি ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হওয়া বৃহত্তম পরিবর্তনগুলোর কথা উল্লেখ করে শ্রী চৌহান বলেন, এই সময়ের মধ্যে দেশে অভূতপূর্ব কৃষি উৎপাদন সাধিত হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি ক্ষেত্রে ভারত এখন নতুন চিন্তাধারা, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত সমন্বয় এবং কৃষক-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। সামগ্রিকভাবে, জাতীয় খরিফ কৃষি সম্মেলন এই বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছে যে - কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলো এখন কৃষিকে কেবল একটি মৌসুমী কার্যকলাপ হিসেবে নয়, বরং বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন এবং কৃষকদের ক্ষমতায়নের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি জাতীয় অভিযান হিসেবে দেখছে। বীজ থেকে শুরু করে বিমা, ঋণ থেকে মান নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক কৃষি থেকে শুরু করে রাজ্য-নির্দিষ্ট কৃষি রূপরেখা - সব ক্ষেত্রেই সরকার এই আস্থা প্রকাশ করেছে যে, খরিফ ২০২৬-এর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

SC/SB/AS


(রিলিজ আইডি: 2266928) ভিজিটরের কাউন্টার : 4
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , हिन्दी , Gujarati , Kannada