স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা-৬ প্রকাশ করেছে
পোস্ট করার দিনক্ষণ:
29 MAY 2026 3:55PM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ২৯ মে, ২০২৬
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক আজ জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা–৬ প্রকাশ করেছে। ২০২৩-২৪ সময়কালে এই সমীক্ষা করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পপুলেশন সায়েন্সেস নোডাল এজেন্সি হিসেবে কাজ করে। দেশের ৭১৫টি জেলায় ৬ লক্ষ ৭৯ হাজার পরিবারে এই সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষা অনুযায়ী স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সামাজিক উন্নয়নের নিরিখে দেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নজরে এসেছে।
এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন হয়েছে। ৯৫.৯ শতাংশ গর্ভবতী মহিলাকে প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে প্রসবের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে এই হার ছিল ৮৮.৬ শতাংশ। এখন তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯০.৬ শতাংশ। প্রসবের সময় দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে আগের থেকে অনেক বেশি। আগে এই হার ছিল ৮৯.৪ শতাংশ। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৯১.৩ শতাংশ হয়েছে। মায়েদের পুষ্টির বিষয়টিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নজরে এসেছে। গর্ভাবস্থায় ১০০ দিন বা তার বেশি সময়কালে আয়রন ফলিক সাপ্লিমেন্ট পাচ্ছেন ৫৪.৯ শতাংশ। আগে এই হার ছিল ৪৪.১ শতাংশ। অন্যদিকে, গর্ভাবস্থায় ১৮০ দিন বা তার বেশি সময়কালে আয়রন ফলিক অ্যাসিডের সাপ্লিমেন্ট এখন পাচ্ছেন ৩৭.৮ শতাংশ গর্ভবতী মহিলা।
জননী সুরক্ষা যোজনা, জননী শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযান, সুরক্ষিত মাতৃত্ব আশ্বাসন, প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা-২.০-র মতো কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে গর্ভাবস্থায় এবং শিশুর জন্মের পর মা এবং শিশুর স্বাস্থ্যের বিষয়ে যথাযথ নজর রাখা হচ্ছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত উদ্যোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। মা ও শিশুর কল্যাণের দিকটি বিবেচনা করে বর্তমানে ৬৯.১ শতাংশ পরিবার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগে সামিল হয়েছে। আগে এই হার ছিল ৬৬.৭ শতাংশ। ‘মিশন পরিবার বিকাশ’ সহ জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরিবার পরিকল্পনার কর্মসূচির কারণেই এই অগ্রগতি।
ভারতে সর্বজনীন টিকাকরণের সাফল্যও নজরকাড়া। ১২-২৩ মাসের শিশুদের ক্ষেত্রে সবরকমের টিকাকরণের হার ৮৩.৮ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৭.১ শতাংশ হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় ৯৫.৬ শতাংশ শিশু এই টিকা গ্রহণ করায় সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি হয়েছে। বর্তমানে ৬ মাসের কম বয়সী ৯৫.৬ শতাংশ শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানো হয়। তিন বছর পর্যন্ত শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর হার ৪১.৮ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫০.১ শতাংশ হয়েছে। বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম, এ ধরনের শিশুর সংখ্যা ৩৫.৫ শতাংশ থেকে কমে ২৯.৩ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে, উচ্চতার নিরিখে রোগা শিশুর হারও ৭.৭ শতাংশ থেকে কমে ৫.২ শতাংশ হয়েছে। পোষণ অভিযান, সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি এবং পোষণ ২.০-এর মতো ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলির কারণেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ৭.২ শতাংশ পরিবার এসেছে। আগে ৪১ শতাংশ পরিবার স্বাস্থ্যবিমা করত। আয়ুষ্মান ভারত – প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার মতো ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের কারণেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা-৬ অনুসারে, মহিলারা এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন কাজ করছেন এবং তাঁদের আর্থিক ক্ষমতায়ন হয়েছে। বর্তমানে ৬৪.৩ শতাংশ মহিলা ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার করেন। আগে এই হার ছিল ৩৩.৩ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাঙ্কে সেভিংস অ্যাকাউন্ট আছে এরকম মহিলার সংখ্যা ৭৮.৬ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৯ শতাংশ হয়েছে। আগে, ৫৩.৯ শতাংশ মহিলা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন। এই হার এখন বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬৩.৬ শতাংশ। রাষ্ট্রীয় কিশোর স্বাস্থ্য কার্যক্রমের আওতায় মেন্সট্রুয়াল হাইজিন স্কিমের মতো উদ্যোগের কারণে ১৫-২৪ বছর বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের ঋতুকালীন সুরক্ষার হার ৭৭.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৯.২ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি পরিযোজনার আওতায় ব্যয়সাশ্রয়ী মূল্যে এখন স্যানিটারি বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়। সার্বিকভাবে সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারত ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। এই সমীক্ষাটির বিষয়ে যাবতীয় তথ্য দেখতে হলে https://master-mohfw-dohfw.digifootprint.gov.in/documents/publications?page=1 – এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।
*****
PS/Agt
(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2266706)
ভিজিটরদের কাউন্টার : 8