বিজ্ঞানওপ্রযুক্তিমন্ত্রক
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন ফর কাল্টিভেশন অব সায়েন্সের ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে যোগ দিলেন
প্রকাশিত:
26 MAY 2026 5:16PM by PIB Kolkata
দিল্লি, ২৬ মে, ২০২৬
কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় , কর্মীবর্গ, জনঅভিযোগ, পেনশন, পারমাণবিক শক্তি এবং মহাকাশ বিষয়ক মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং আজ কলকাতার "ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স" পরিদর্শন করেন। এখানেই স্যার সি.ভি. রমন তাঁর 'রমন এফেক্টের' গবেষণা চালিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে বিজ্ঞানে ভারতের প্রথম নোবেল পুরষ্কার জয় করে এনেছিল।
ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন ফর কাল্টিভেশন অব সায়েন্সকে স্বাধীনতার আগে ভারতের বৈজ্ঞানিক জাগরণ এবং স্বাধীনতার পরে বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের একটি জীবন্ত প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেন যে, এই প্রতিষ্ঠানটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বৈজ্ঞানিক শ্রেষ্ঠত্ব, উদ্ভাবন এবং জাতি গঠনের একটি অবিচ্ছিন্ন ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। ১৮৭৬ সালে ডা: মহেন্দ্রলাল সরকার প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি জগদীশ চন্দ্র বসু, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বসু এবং স্যার সি.ভি. রমন সহ ভারতের বেশ কয়েকজন মহান বৈজ্ঞানিক মননের চারণভূমি হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা ঔপনিবেশিক যুগের বুদ্ধিবৃত্তিক পুনরুত্থান থেকে শুরু করে 'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর চালিকাশক্তি আজকের উদ্ভাবনী বাস্তুতন্ত্র পর্যন্ত ভারতের বৈজ্ঞানিক বিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
ডঃ জিতেন্দ্র সিং ভারতের প্রথম অ্যামোরফাস সিলিকন সোলার সেল (amorphous silicon solar cell) তৈরির জন্য আইএসিএস-এ তৈরি দেশীয় প্রযুক্তির 'প্লাজমা এনহ্যান্সড কেমিক্যাল ভেপার ডিপোজিশন' (PECVD) সিস্টেমের উদ্বোধন করেন এবং ইনস্টিটিউটের নতুন ইনকিউবেশন সেন্টার “রেটিনা” (RETINA - Research Entrepreneurship for Translation, Innovation and NAvigation)-রও উদ্বোধন করেন। মন্ত্রী আইএসিএস-এর লেখ্যাগার এবং গবেষণা প্রদর্শনী গ্যালারিগুলিও পরিদর্শন করেন, যেখানে প্রতিষ্ঠানের বৈজ্ঞানিক অবদান এবং চলতি গবেষণা প্রকল্পগুলি প্রদর্শন করা হয়েছে।
মন্ত্রী ক্যাম্পাসে ডা: মহেন্দ্রলাল সরকার, স্যার সি.ভি. রমন এবং অধ্যাপক মেঘনাদ সাহার আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এই কর্মসূচিতে আইএসিএস-এর ডিরেক্টর অধ্যাপক কালোবরণ মাইতি, সিনিয়র বিজ্ঞানী, অনুষদের সদস্য, গবেষক, শিক্ষার্থী, বৈজ্ঞানিক ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মহেন্দ্রলাল সরকার হলে সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেন, মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে আধুনিক বিজ্ঞানের চর্চার জন্য ভারতীয়দের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এশিয়ার প্রথম গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভারতের বিজ্ঞান ইতিহাসে ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন ফর কাল্টিভেশন অব সায়েন্স একটি অনন্য স্থান দখল করে আছে। তিনি স্মরণ করেন যে ডঃ মহেন্দ্রলাল সরকার এমন এক সময়ে ভারতীয়দের জন্য বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষার কথা ভাবনাচিন্তা করেছিলেন যখন দেশে বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামো বলে প্রকৃতপক্ষে কিছু ছিল না। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে কাজ করা ডা: সরকারের মাধ্যমে এই ইনস্টিটিউটের সঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণের অনন্য ঐতিহাসিক সংযোগের কথাও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেন, আইএসিএস-এ রমন এফেক্টের আবিষ্কার ভারতের বিজ্ঞান ইতিহাসের অন্যতম প্রধান মাইলফলক। এটি প্রজন্মান্তরের ভারতীয় বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তিনি বলেন যে, এই প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনতার পরেও বিশ্বব্যাপী সমাদৃত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করে চলেছে এবং ভৌত বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, কম্পিউটেশনাল বিজ্ঞান এবং আন্তঃ-বিষয়ক প্রযুক্তির অগ্রবর্তী গবেষণার একটি শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
PECVD সেটআপের উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উন্নত সোলার-সেল তৈরি প্রযুক্তির দেশীয় বিকাশ বৈজ্ঞানিক স্বনির্ভরতা এবং উদ্ভাবনের সেই চেতনাকে প্রতিনিধিত্ব করে যা ভারত এখন “আত্মনির্ভর ভারত”-এর রূপকল্পের অধীনে ত্বরান্বিত করছে। তিনি আরও বলেন যে, অধ্যাপক অশোক কুমার বড়ুয়া নির্মিত এই সিস্টেমটি ভারতে অ্যামোরফাস সিলিকন সোলার-সেল উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল এবং দেশের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় চিহ্নিত করেছিল।
"রেটিনা" (RETINA) ইনকিউবেশন সেন্টারের উদ্বোধনের বিষয়ে ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেন, ভারতের বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলি এখন ক্রমবর্ধমানভাবে মৌলিক গবেষণাকে উদ্যোক্তা বা এন্টারপ্রেনারশিপ, স্টার্টআপ সংস্কৃতি এবং সামাজিক প্রয়োগের সঙ্গে এক করে ফেলেছে। তিনি বলেন যে ভারতীয় বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ নিহিত রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত উপকরণ এবং উন্নয়নের মতো জাতীয় অগ্রাধিকারগুলির সমাধান করতে সক্ষম, পরীক্ষাগারের এরকম আবিষ্কারগুলিকে সাশ্রয়ী এবং বাস্তবায়নযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার মধ্যে।
কোয়ান্টাম মেটেরিয়ালস, ন্যানোটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্যাটারি মেটেরিয়ালস, ক্যান্সার বায়োলজি এবং এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মন্ত্রী আইএসিএস -এর প্রশংসা করেন। তিনি ড্যুশেন মাসকুলার ডিস্ট্রফি (Duchenne Muscular Dystrophy) চিকিৎসার গবেষণা, বায়োসেন্সর এবং শক্তি ক্ষেত্রে আইএসিএস-এর বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিচালিত সাম্প্রতিক কাজের কথাও উল্লেখ করেন।
ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেন, বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলি 'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর জাতীয় রূপকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি রূপান্তরমূলক পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে উদ্ভাবন, শিক্ষাজগৎ, শিল্প এবং স্টার্টআপগুলি ভারতকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতির মধ্যে স্থাপন করতে একসঙ্গে কাজ করবে। তিনি বৈজ্ঞানিক মানসিকতা গড়ে তুলতে এবং সমাজজুড়ে বৈজ্ঞানিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্কুলের শিক্ষার্থী, মহিলা এবং গ্রামীণ সম্প্রদায়ের জন্য ইনস্টিটিউটের প্রচারমূলক উদ্যোগগুলিরও প্রশংসা করেন।
SC/PK
(রিলিজ আইডি: 2265599)
ভিজিটরের কাউন্টার : 21