PIB Backgrounder
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: ভারতের নতুন দিশা
প্রকাশিত:
13 MAY 2026 11:23AM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৩ মে, ২০২৬
মূল বিষয়বস্তু
ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বৃহৎ পরিসরে নিরাপদ ও দক্ষ এআই-ভিত্তিক আর্থিক পরিষেবার ভিত্তি গড়ে তুলছে।
ইউনিফায়েড লেন্ডিং ইন্টারফেস (ULI) একাধিক তথ্যভাণ্ডারে ডিজিটাল প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করছে। ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI) মোবাইল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যে কোনও দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ দিচ্ছে।
ব্যাঙ্কিং শব্দভাণ্ডার, নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা এবং শিল্পক্ষেত্রভিত্তিক প্রয়োগকে একত্রিত করে “ব্যাঙ্কিং ভাষিণী” মডেল গড়ে তোলা হবে।
নিয়ন্ত্রক স্যান্ডবক্সের জন্য সক্ষম কাঠামো দায়িত্বশীল উদ্ভাবনকে উৎসাহ দিচ্ছে। এর ফলে ফিনটেক ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ছে এবং গ্রাহকরা উপকৃত হচ্ছেন।
এআই-চালিত সমাধান প্রচলিত ঋণ মূল্যায়ন পদ্ধতির সীমা অতিক্রম করছে। এর ফলে এমএসএমই-গুলি অনানুষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমাতে পারছে।
ডিজিটাল-প্রথম অর্থনীতিতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন কল্পনা
ভারতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির যাত্রা এক নতুন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। শক্তিশালী ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় এই পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। যে উদ্যোগ একসময় কেবল ব্যাঙ্কিং পরিষেবার প্রসারে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন প্রযুক্তিনির্ভর এক বৃহৎ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য বৃহৎ পরিসরে বুদ্ধিদীপ্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বাস্তবসময়ে আর্থিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। বিপুল ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার, উন্নত বিশ্লেষণ পদ্ধতি এবং সম্মতিভিত্তিক তথ্য ভাগাভাগির কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে এআই আর্থিক পরিষেবার নকশা ও বিতরণ পদ্ধতিকে বদলে দিচ্ছে। এর ফলে, দক্ষতা বাড়ছে, পরিষেবার বিস্তার ঘটছে এবং আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক আর্থিক সমাধান সম্ভব হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে পরিষেবা-বঞ্চিত এবং “নতুন ঋণগ্রহীতা” শ্রেণীর উপর। এর মধ্যে রয়েছে এমএসএমই, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং মহিলা-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ। প্রচলিত ঋণ মূল্যায়ন পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে এবং তথ্যের বৈষম্য কমিয়ে এআই আনুষ্ঠানিক আর্থিক পরিষেবায় প্রবেশের পথ খুলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করছে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করছে। ডিজিটালভাবে সক্ষম অর্থনীতির পথে এগোতে গিয়ে ভারত এআই-এর মাধ্যমে শুধু আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকেই ত্বরান্বিত করছে না, বরং আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও সাড়া-দেওয়া সক্ষম, নিরাপদ এবং ভবিষ্যৎমুখী করে তুলছে।
আর্থিক পরিষেবায় ডিজিটাল সমাধানের রূপান্তরমূলক ভূমিকা
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বলতে দুর্বল শ্রেণি এবং স্বল্প-আয়ের জনগোষ্ঠী-সহ সকলের জন্য সময়মতো, পর্যাপ্ত এবং সাশ্রয়ী আর্থিক পরিষেবা ও ঋণের সুযোগ নিশ্চিত করাকে বোঝায়। ভারতে এই ধারণা এখন আর শুধু নীতিগত লক্ষ্য নয়, বরং ডিজিটাল-প্রথম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। গত এক দশকে আন্তঃসংযুক্ত একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আর্থিক পরিষেবার প্রসারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং বৃহৎ পরিসরে কার্যকর বাস্তবে রূপ দিয়েছে।
এই পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে পরিচয় যাচাই, নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল লেনদেন এবং সরাসরি সরকারি সুবিধা হস্তান্তরের মতো পরিকাঠামো। এই ব্যবস্থাগুলি নিশ্চিত করছে যে আর্থিক পরিষেবা দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর হয়ে উঠছে। সম্মিলিতভাবে এগুলি এমন এক সমন্বিত ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলেছে, যা শেষ মাইল পর্যন্ত সংযোগ নিশ্চিত করছে এবং ভবিষ্যতের উদ্ভাবনের পথ প্রশস্ত করছে।
জ্যাম ত্রয়ী (জন ধন-আধার-মোবাইল)
জ্যাম হল সর্বজনীন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক পরিচয় এবং মোবাইল সংযোগের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এক মৌলিক সমন্বিত ব্যবস্থা। এর লক্ষ্য প্রতিটি নাগরিককে একটি স্বতন্ত্র আর্থিক পরিচয় প্রদান করা এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা, যাতে ভৌগোলিক অবস্থান আর আর্থিক পরিষেবার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নিরাপদ পরিচয় যাচাই-এর জন্য ১৪৪ কোটিরও বেশি আধার নম্বর তৈরি হয়েছে।
২০১৫ সালে জন ধন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৪.৭২ কোটি। ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮.১৬ কোটিতে। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট আমানতের পরিমাণ ৩.০২ লক্ষ কোটি টাকা। এর ফলে, ব্যাঙ্কিং পরিষেবার বাইরে থাকা মানুষও আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
মোবাইল সংযোগ এই ত্রয়ীকে সম্পূর্ণ করেছে। দেশে বর্তমানে ১২৫.৮৭ কোটি ওয়্যারলেস টেলিফোন গ্রাহক রয়েছে। প্রসঙ্গত, ৫জি মোবাইল পরিষেবা দেশের ৯৯.৯ শতাংশ জেলায় পৌঁছে গিয়েছে এবং ৮৫ শতাংশ জনগণ এই পরিষেবার আওতায় এসেছে।
ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI)
ইউপিআই একটি বাস্তবসময়ের পেমেন্ট ব্যবস্থা, যা মোবাইল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যে কোনও দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ দেয়। এর লক্ষ্য কম খরচে, আন্তঃসংযুক্ত এবং নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে ছোট ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ব্যবহারকারী উভয়েই সমানভাবে উপকৃত হন। মার্চ ২০২৬-এ ইউপিআই-এর মাধ্যমে প্রায় ২,২৬৪.১১ কোটি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এর মোট আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ২৯.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা।
বর্তমানে ৬৯১টি ব্যাঙ্ক এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। দেশে মোট খুচরো ডিজিটাল লেনদেনের প্রায় ৮১ শতাংশই ইউপিআই-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি এবং ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী, উভয় ক্ষেত্রেই এটি প্রধান ডিজিটাল লেনদেন পরিকাঠামোয় পরিণত হয়েছে।
ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) বা সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর
ডিবিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি ভর্তুকি এবং কল্যাণমূলক সুবিধা সরাসরি গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এর প্রধান লক্ষ্য স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করা। মধ্যস্থতাকারীকে বাদ দিয়ে কল্যাণমূলক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ফাঁকফোকর ও বিলম্ব দূর করাই এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।
জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি নাগরিকদের কাছে মোট ৪৯.০৯ লক্ষ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। ভুয়ো এবং একাধিক সুবিধাভোগীকে চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার ফলে, সরকারের ৪.৩১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় হয়েছে।
সম্মিলিতভাবে এই ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলি এক শক্তিশালী, আন্তঃসংযুক্ত এবং তথ্যসমৃদ্ধ আর্থিক পরিবেশ গড়ে তুলেছে। এই দৃঢ় ডিজিটাল ভিত্তি শুধু অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক অংশগ্রহণই নিশ্চিত করছে না, বরং আর্থিক পরিষেবায় এআই-চালিত উদ্ভাবনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যভাণ্ডার এবং পরিকাঠামোও তৈরি করছে।
অর্থনীতিতে এআই প্রয়োগ: নীতিগত উৎসাহ এবং সহায়ক পরিকাঠামো
ডিজিটাল ব্যবস্থার সহায়তায় আর্থিক পরিষেবায় এআই-এর অন্তর্ভুক্তিকে সমর্থন করছে নিয়ন্ত্রক উদ্ভাবন, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এবং আর্থিক সচেতনতা কর্মসূচি। এই প্রচেষ্টাগুলির লক্ষ্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহক সুরক্ষা শক্তিশালী করা, পাশাপাশি, প্রযুক্তিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলা। নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই-নির্ভর আর্থিক পরিবেশ গড়ে তুলতে ভারত নীতিনির্ভর একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ভাষিণী
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাষিণী বিভাগ (DIBD) এবং ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর লক্ষ্য ব্যাঙ্কিং এবং আর্থিক পরিষেবায় বহুভাষিক প্রবেশাধিকার বাড়াতে ভাষিণীর ভাষাভিত্তিক এআই মডেলকে সংযুক্ত করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ২২টি তফসিলভুক্ত ভারতীয় ভাষায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, ভাষা এবং স্বাক্ষরতায় থাকা অন্তরায় দূর হবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও বিস্তৃত হবে।
আরবিআই নিয়ন্ত্রক স্যান্ডবক্স
ফিনটেক ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল উদ্ভাবন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহক সুবিধা নিশ্চিত করতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) নিয়ন্ত্রক স্যান্ডবক্স (RS)-এর জন্য সক্ষম কাঠামো চালু করেছে।
ফিনটেক ওয়ার্কিং গ্রুপের সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি এই কাঠামো নিয়ন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে সীমিত পরিবেশে নতুন পণ্য এবং পরিষেবার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সুযোগ দেয়। বৃহত্তর স্তরে প্রয়োগের আগে এর কার্যকারিতা যাচাই করা সম্ভব হয়।
এই ব্যবস্থার লক্ষ্য, আর্থিক পরিষেবায় দায়িত্বশীল উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া, দক্ষতা বাড়ানো এবং গ্রাহকদের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
এর মাধ্যমে ফিনটেক স্টার্টআপ এবং ব্যাঙ্কগুলি এপিআই পরিষেবা, ডিজিটাল কেওয়াইসি এবং সাইবার সুরক্ষা সংক্রান্ত সমাধানের পরীক্ষা চালাতে পারছে। একই সঙ্গে এই কাঠামো নিয়ন্ত্রকদের নতুন প্রযুক্তির সুফল ও ঝুঁকি মূল্যায়নের সুযোগ দিচ্ছে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ও গ্রাহক সুরক্ষাও নিশ্চিত করছে।
মিউলহান্টার.এআই
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইনোভেশন হাব (RBIH) “মিউলহান্টার.এআই” চালু করে। এটি একটি উন্নত এআই-চালিত ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য সাইবার অপরাধে ব্যবহৃত “মিউল” ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
প্রচলিত নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে এটি এআই এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বাস্তবসময়ে লেনদেনের ধরন বিশ্লেষণ করে। এর মাধ্যমে অর্থ পাচার বা বেআইনি বাজির মতো কার্যকলাপের ইঙ্গিতবাহী অস্বাভাবিকতা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
বৃহৎ সরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ইতিবাচক ফল মিলেছে। এর পর আরবিআই সমগ্র ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তির বিস্তৃত প্রয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে, যাতে দেশের আর্থিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়।
ডিজিটাল শ্রমসেতু
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ঘোষিত “মিশন ডিজিটাল শ্রমসেতু” একটি প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যোগ। এর লক্ষ্য, এমন এক এআই-চালিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেটি ভারতের ৪৯ কোটি অসংগঠিত শ্রমিকের কাছে প্রযুক্তিকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর করে তুলবে।
এই মিশন এআই, ব্লকচেন এবং ইমার্সিভ লার্নিং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তা, সীমিত বাজার-প্রবেশ এবং আনুষ্ঠানিক দক্ষতা প্রশিক্ষণের অভাবের মতো দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বাধাগুলি দূর করার চেষ্টা করছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষতাকে আরও প্রসারিত করা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে তাঁদের মর্যাদার সঙ্গে মূল অর্থনীতির অন্তর্ভুক্ত করা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করাও এর উদ্দেশ্য।
সামাজিক সুরক্ষা এবং বাস্তবসময়ের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রদান করে এই মিশনের লক্ষ্য অসংগঠিত শ্রমশক্তিকে “বিকশিত ভারত ২০৪৭”-এর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করা।
সম্মিলিতভাবে এই নীতিগত উদ্যোগগুলি নিশ্চিত করছে যে, এআই-এর ব্যবহার নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বচ্ছ থাকবে। একই সঙ্গে তা ডিজিটালভাবে সক্ষম সমাজ গঠনের ভারতের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখবে।
এআই-ভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন: আনুষ্ঠানিক ঋণের প্রসারে নতুন দিগন্ত
ডিজিটাল অগ্রগতি এবং এআই ভারতের ঋণ ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। এর ফলে ঋণ মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং ঋণপ্রাপ্তির সুযোগও বিস্তৃত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমএসএমই, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক এবং প্রথমবার ঋণগ্রহণকারীদের আনুষ্ঠানিক ঋণ পেতে সমস্যার মুখে পড়তে হত, কারণ, তাঁদের আর্থিক লেনদেনের নির্ভরযোগ্য নথি থাকত না।
এআই-চালিত সমাধান প্রচলিত ঋণ মূল্যায়ন পদ্ধতির বাইরে গিয়ে বিকল্প তথ্য ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য, জিএসটি নথি, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের তথ্য। এই তথ্যের ভিত্তিতে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
ডিজিটাল উপস্থিতিকে গতিশীল ঝুঁকি-প্রোফাইলে রূপান্তরিত করে এআই দ্রুত, আরও নির্ভুল এবং কম খরচে ঋণ মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি, এআই-চালিত ঋণ মডেল ১৩০ থেকে ১৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ ঘাটতি পূরণের সম্ভাবনা তৈরি করছে। এর ফলে, এমএসএমই-গুলি অনানুষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমাতে পারছে।
বিকল্প ঋণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা (এআই-চালিত ঋণদান)
যাঁদের সিবিল স্কোর নেই, সেই অসংখ্য ভারতীয়র কাছে এআই এখন ঋণপ্রাপ্তির নতুন দ্বাররক্ষক হয়ে উঠছে। ইউনিফায়েড লেন্ডিং ইন্টারফেস (ULI)-কে কাজে লাগিয়ে এআই মডেলগুলি “ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট” বিশ্লেষণ করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করছে।
ইউএলআই হল প্রযুক্তিভিত্তিক একটি উদ্যোগ, যার লক্ষ্য প্রত্যেক ভারতীয়র কাছে বাধাহীন ঋণ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। এটি ডিজিটাল ক্ষমতায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং শেষ মাইল পর্যন্ত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার বৃহত্তর সরকারি রূপকল্পের অংশ।
ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে এটি একটি ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) হিসেবে কাজ করছে। মানসম্মত এপিআই-ভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে এটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং তথ্য সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে একত্রিত করছে, যাতে আরও দক্ষ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ঋণ মূল্যায়ন সম্ভব হয়।
অ্যাকাউন্ট অ্যাগ্রিগেটর (AA) কাঠামো
এই অগ্রগতির পরিপূরক হিসাবে রয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক প্রবর্তিত “অ্যাকাউন্ট অ্যাগ্রিগেটর” (AA) কাঠামো। এটি এক ধরণের আর্থিক তথ্য ভাগাভাগির ব্যবস্থা।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সম্মতির ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিরাপদ উপায়ে আর্থিক তথ্য আদানপ্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে, ঋণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের চাপ কমছে এবং অনুমোদনের সময়ও কমে আসছে।
এএ কাঠামো ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন উৎস থেকে তাঁদের আর্থিক তথ্য, যেমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগ, ঋণ সংক্রান্ত তথ্য, একত্রিত করার সুযোগ দেয়। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী, সেই তথ্য ঋণদাতা বা সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থার সঙ্গে ভাগ করা যায়। ঋণ আবেদন বা আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা বিশেষভাবে কার্যকর। এএ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়া সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী। বর্তমানে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ১৭টি সংস্থাকে অ্যাকাউন্ট অ্যাগ্রিগেটর হিসাবে কাজ করার জন্য নিবন্ধনের শংসাপত্র প্রদান করেছে।
ব্যাঙ্কিং, সিকিউরিটিজ বা বিনিয়োগযোগ্য দলিল, বিমা এবং পেনশন ক্ষেত্র জুড়ে এই ব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৬০ কোটিরও বেশি অ্যাকাউন্ট তথ্য ভাগাভাগি করার জন্য সক্ষম হয়েছে। মোট ২৫.২৯ কোটি ব্যবহারকারী তাঁদের অ্যাকাউন্ট এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এএ ব্যবস্থা ভারতের ডিজিটাল ঋণ পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করছে এবং এআই-ভিত্তিক ঋণ সংক্রান্ত মডেলের কার্যকারিতা বাড়াচ্ছে।
উপসংহার
ভারতের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির যাত্রা এখন শুধু পরিষেবা সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধ নেই। তা ধীরে ধীরে বৃহৎ পরিসরে বুদ্ধিদীপ্ত, এআই-চালিত
আর্থিক ক্ষমতায়নের দিকে এগোচ্ছে। উন্নত বিশ্লেষণ পদ্ধতি, বিকল্প তথ্যভাণ্ডার এবং শক্তিশালী ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামো কাজে লাগিয়ে এখন লক্ষ্য আরও গভীর ঋণপ্রবেশ, উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং শক্তিশালী গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ফিনটেক সংস্থাগুলির সমন্বিত প্রচেষ্টা, এবং অ্যাকাউন্ট অ্যাগ্রিগেটরের মতো কাঠামোর সহায়তায় আরও স্বচ্ছ, দক্ষ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। “বিকশিত ভারত ২০৪৭” রূপকল্পের পথে এগোতে গিয়ে এআই-চালিত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে এটি ভারতকে ভবিষ্যৎমুখী, স্থিতিশীল এবং শক্তিশালী আর্থিক পরিকাঠামো গঠনে বিশ্বনেতৃত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত করবে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Finance
https://financialservices.gov.in/beta/en/account-aggregator-framework
https://www.pmjdy.gov.in/home
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2139039®=3&lang=2
https://cga.nic.in/Page/Direct-Beneficiary-Transfer-DBT.aspx
Ministry of Electronics & IT
https://www.psa.gov.in/CMS/web/sites/default/files/publication/WEF_Transforming_Small_Businesses_2025.pdf?utm_source
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2232343®=3&lang=2
https://bhashini.gov.in/about-bhashini
https://bhashini.gov.in/
National Payments Corporation of India
https://www.npci.org.in/
Reserve Bank Of India
https://rbidocs.rbi.org.in/rdocs/PublicationReport/Pdfs/FREEAIR130820250A24FF2D4578453F824C72ED9F5D5851.PDF
https://rbidocs.rbi.org.in/rdocs/Publications/PDFs/0RTP291220258C89B9E5F3F240AEB82AC25A1707A8C6.PDF
https://www.fidcindia.org.in/wp-content/uploads/2019/06/RBI-ENABLING-FRAMEWORK-FOR-REGULATORY-SANDBOX-28-02-24.pdf
https://fintech.rbi.org.in/FS_Publications?id=1262#C2
https://rbi.org.in/Scripts/BS_PressReleaseDisplay.aspx?prid=59245
https://www.rbi.org.in/commonman/Upload/English/Content/PDFs/English_16042021.pdfhttps://www.rbi.org.in/commonman/Upload/English/Content/PDFs/English_16042021.pdf
NITI Aayog
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2176362®=3&lang=2#:~:text=To%20address%20this%2C%20NITI%20Aayog%20has%20called,increase%20productivity%2C%20and%20ensure%20dignity%20in%20work
India AI
https://indiaai.gov.in/article/rbi-s-ai-initiative-mulehunter-ai-ai-solution-to-tackle-digital-fraud-in-india
International Organisations
https://documents1.worldbank.org/curated/en/099031325132018527/pdf/P179614-3e01b947-cbae-41e4-85dd-2905b6187932.pdf
https://www.undp.org/digital/digital-public-infrastructure
PIB Archives
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2235812®=3&lang=1
See In PDF
***
SSS/SS....
(রিলিজ আইডি: 2260623)
ভিজিটরের কাউন্টার : 2