উপ-রাষ্ট্রপতিরসচিবালয়
azadi ka amrit mahotsav

ঋষিকেশ এইমস্‌ - এর ষষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপ-রাষ্ট্রপতির ভাষণ

প্রকাশিত: 23 APR 2026 1:58PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ 

 

ভারতের উপরাষ্ট্রপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন আজ উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস’-এর ষষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন । তিনি এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানকে  সদ্য স্নাতক হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য রূপান্তর, আত্মবিশ্লেষণ ও দায়িত্ববোধের এক নির্ণায়ক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
ধ্যান ও নিরাময়ের এক আন্তর্জাতিক কেন্দ্র এবং হিমালয়ের প্রবেশদ্বার হিসেবে ঋষিকেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন উপরাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন যে, এমন একটি পরিবেশ সমাবর্তন অনুষ্ঠান গাম্ভীর্যের দিক থেকে এক গভীরতর অর্থ প্রকাশ করে।
শ্রী সি.পি. রাধাকৃষ্ণন বলেন যে, একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠান কেবল বছরের পর বছর ধরে চলা সুশৃঙ্খল প্রচেষ্টা ও ত্যাগের পরিসমাপ্তিই নির্দেশ করে না, বরং সমাজ ও দেশের প্রতি এক বৃহত্তর দায়িত্বের সূচনাও প্রকাশ করে। তিনি স্নাতকদের প্রতি পূর্ণ নিষ্ঠা ও এক সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যবোধ নিয়ে তাঁদের পেশাগত দায়িত্বসমূহ গ্রহণ করার আহ্বান জানান ।
কোভিড-১৯ অতিমারীর সময় তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করে উপরাষ্ট্রপতি বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত অদম্য সহনশীলতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি ভারতের বৃহৎ পরিসরের টিকাকরণ অভিযানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরে।  উপরাষ্ট্রপতি বলেন, ১৪০ কোটিরও বেশি নাগরিক বিনামূল্যে টিকা গ্রহণ করেছেন। এই টিকাকরন কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সকলের জন্য সমসুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন যে, ভারতের বিজ্ঞানীরা মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যেই এই টিকাগুলো উদ্ভাবন করেছেন।
উপরাষ্ট্রপতি ভারতের ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দায়িত্ববোধের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। এই উদ্যোগের আওতায় বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন যে, এই উদ্যোগটি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (সমগ্র বিশ্বই এক পরিবার)—এই মহান আদর্শেরই প্রতিফলন এবং এটি একটি সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে ভারতের ভূমিকাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের বিষয়টি তুলে ধরে শ্রী সি.পি. রাধাকৃষ্ণন বলেন যে, গত এক দশকে সারা দেশে নতুন নতুন ‘এইমস’ ( এআইআইএমএস) প্রতিষ্ঠান স্থাপন হওয়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যপরিসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগকে আরও সহজলভ্য ও শক্তিশালী করে তুলেছে। তিনি বলেন যে, সুশাসনের মূল মন্ত্রই হলো জনগণের প্রয়োজনসমূহ সঠিকভাবে অনুধাবন করা এবং তাঁদের সেবা করা।
ঋষিকেশ ‘এইমস’-এর ভূয়সী প্রশংসা করে উপরাষ্ট্রপতি বলেন যে, এই প্রতিষ্ঠানটি উন্নতমানের চিকিৎসা পরিসেবা, প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অপূর্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের এক আদর্শ প্রতীক হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি ক্সপ্রতিষ্ঠানটির ‘টেলিমেডিসিন’ উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন এবং বলেন যে, স্বাস্থ্যসেবাকে কেবল হাসপাতালের চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে, তা প্রত্যন্ত ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
উপরাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ কিছু উদ্ভাবনী পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘হেলিকপ্টার জরুরি চিকিৎসা সেবা’ (হেলিকপ্টার এমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিসেস) এবং ‘চার ধাম যাত্রা’ চলাকালীন ও প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহে ওষুধ সরবরাহের জন্য ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার। তিনি এই পদক্ষেপগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা চ্যালেঞ্জগুলোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর সমাধান হিসেবে অভিহিত করেন।
উপরাষ্ট্রপতি এই অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দ্রুত অগ্রগতির বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন; যার মধ্যে ‘দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ে’-র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শ্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বে উত্তরাখণ্ড সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে উৎসাহিত করা, পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মানোন্নয়নের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
শ্রী সি.পি. রাধাকৃষ্ণন জোর দিয়ে বলেন যে, স্বাস্থ্যসেবা হলো একটি জন-আস্থা এবং জাতি গঠনে চিকিৎসা পেশাজীবীরা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি তাঁদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তাঁরা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে অবদান রাখেন; এবং সর্বদা সহমর্মিতা, সততা ও সেবার আদর্শ দ্বারা পরিচালিত হন।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরাখণ্ডের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুরমিত সিং (অব.); উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী পুষ্কর সিং ধামি; কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতি অনুপ্রিয়া প্যাটেল; এইমস (AIIMS) ঋষিকেশের সভাপতি অধ্যাপক রাজ বাহাদুর; ডিন (একাডেমিক) অধ্যাপক সৌরভ; এইমস ঋষিকেশের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মীনু সিং; এবং তাঁদের পাশাপাশি অনুষদ সদস্যবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

 

SC/PM/SB


(রিলিজ আইডি: 2254909) ভিজিটরের কাউন্টার : 12
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Gujarati , Telugu