উপ-রাষ্ট্রপতিরসচিবালয়
বিহারের মোতিহারিতে মহাত্মা গান্ধী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপরাষ্ট্রপতির ভাষণ
প্রকাশিত:
04 APR 2026 3:01PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ৪ এপ্রিল ২০২৬
উপরাষ্ট্রপতি শ্রী সি পি রাধাকৃষ্ণান আজ বিহারের পূর্ব চম্পারণের মোতিহারিতে মহাত্মা গান্ধী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন।
উপরাষ্ট্রপতি বলেন যে, ভারতের ইতিহাসে চম্পারণের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে; কারণ এখানেই মহাত্মা গান্ধী একজন ব্যারিস্টার থেকে ভারতের গ্রাম-মাটির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে এক জননেতায় রূপান্তরিত হয়েছিলেন। এছাড়া চম্পারণ সত্যাগ্রহ সত্য, সাহস ও ন্যায়ের মাধ্যমে গোটা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল।
বিহারের সমৃদ্ধ বৌদ্ধিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, এই পুণ্যভূমিতেই গৌতম বুদ্ধ বোধিলাভ করেছিলেন; এখানে প্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বব্যাপী শিক্ষার এক আলোকবর্তিকা হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল এবং এখানে চাণক্যের মতো মহান চিন্তাবিদের আবির্ভাব ঘটেছিল।
উপরাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণটি অত্যন্ত প্রতীকী; এটি সামাজিক ন্যায়বিচার, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং নৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে গান্ধীর আদর্শের প্রতি গভীর অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে।
উপরাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি 'জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০' কার্যকর করেছে এবং বেশ কিছু নতুন সুসমন্বিত পাঠক্রম চালু করেছে। তিনি ‘ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার প্রশংসা করেন এবং ‘ফিট ইন্ডিয়া আন্দোলন’-এর আওতায় খেলাধুলা ও শারীরিক সুস্থতার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিকেও সাধুবাদ জানান। তিনি আরও আনন্দ প্রকাশ করে বলেন যে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর – উভয় স্তরের পরীক্ষাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করেছেন নারী শিক্ষার্থীরা; তিনি একে দেশে ‘নারীর নেতৃত্বে উন্নয়ন’-এর এক উজ্জ্বল প্রতিফলন হিসেবে আখ্যা দেন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্নাতক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, সমাবর্তন কেবল শিক্ষার সমাপ্তি নয়, বরং এটি হলো আজীবন শেখার এক দীর্ঘ যাত্রার সূচনা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তিচালিত এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ এবং ‘ডেটা সায়েন্স’-এর মতো ক্ষেত্রগুলো উদ্ভাবন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে নতুন নতুন দ্বার উন্মোচন করছে। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁরা যেন দেশগঠনের লক্ষ্যে প্রযুক্তির যথাযথ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার সুনিশ্চিত করেন।
উপরাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের কাছে "দেশই সর্বাগ্রে" নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান এবং মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য তরুণদের কাছে আবেদন জানান। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে গান্ধীজির অহিংসার নীতি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং এই নীতি কেবল আমাদের কর্মকেই নয়, বরং ডিজিটাল জগতেও আমাদেরকে পথ দেখাবে।
অনুষ্ঠানে বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ আতা হাসনাইন; রাজ্যসভার উপ-চেয়ারম্যান শ্রী হরিবংশ; বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সম্রাট চৌধারী; কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি প্রতিমন্ত্রী শ্রী সতীশ চন্দ্র দুবে; বিহারের শিক্ষামন্ত্রী শ্রী সুনীল কুমার; পূর্ব চম্পারণের সাংসদ শ্রী রাধামোহন সিং; বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ড. মহেশ শর্মা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উপরাষ্ট্রপতি মোতিহারিতে 'চরকা পার্ক' এবং 'মহাত্মা গান্ধী সত্যাগ্রহ স্মারক' পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি মহাত্মা গান্ধীর প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
SC/MP/AS
(রিলিজ আইডি: 2248992)
ভিজিটরের কাউন্টার : 14