রেলমন্ত্রক
দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের আরামদায়ক যাত্রা ও উন্নত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা প্রদানই রেলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব
প্রকাশিত:
03 APR 2026 5:02PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
রেল, তথ্য ও সম্প্রচার এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি দপ্তরের মন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আজ নতুন দিল্লির রেল ভবনে রেল আধিকারিকদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকে পৌরোহিত্য করেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষকে উন্নত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা প্রদান করাই হলো ভারতীয় রেলের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি আধিকারিকদের এই লক্ষ্য অর্জনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। শ্রী বৈষ্ণব গত এক বছরে তাঁদের প্রশংসনীয় কাজের জন্য সমগ্র রেল পরিবারকে অভিনন্দন জানিয়ে উল্লেখ করেন যে, রেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ঐতিহাসিকভবে কমে যাওয়া এবং রেকর্ড পরিমাণ পণ্য পরিবহণ সারা দেশে ভারতীয় রেলের ভাবমূর্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। উৎসবের মরসুমে বাড়তি চাহিদা মেটাতে বিপুল সংখ্যক বিশেষ ট্রেন সফলভাবে পরিচালনারও তিনি প্রশংসা করেন।
যাত্রী অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে রেল স্টেশনগুলিই হলো ভারতীয় রেলের মুখ। তাই সেগুলোকে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন ও সুপরিচালিত রাখতে হবে। তিনি আধিকারিকদের সব স্টেশনে পরিচ্ছন্নতা ও উন্নত যাত্রী পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। গত এক দশকে রেলের আধুনিকীকরণের জন্য রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেল স্টেশনগুলির রূপান্তর এবং যাত্রী সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ভিড়ের সময়ে বিশেষ করে উৎসবের মরসুমে ভীড় সামলানোর এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে যাত্রীরা কোনো রকম অসুবিধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছতে এবং ট্রেনে উঠতে পারেন।
বকেয়া রেল প্রকল্পগুলির জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত যেসব বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। শ্রী বৈষ্ণব আধিকারিকদের এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার এবং প্রয়োজনে, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
রেললাইনের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষজনের জীবিকা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে নজর রাখার নির্দেশ দেন শ্রী বৈষ্ণব। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয়সাধন করে মানবিক ও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন তিনি।
বৈঠকে রেল আন্ডারপাস নির্মাণের বিষয়ে পূর্বে গৃহীত সিদ্ধান্তটিও পর্যালোচনা করা হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, যেখানে যেখানে সম্ভব—সে স্টেশন চত্বরের ভেতরেই হোক কিংবা বাইরে—রেললাইন পারাপারের ক্ষেত্রে 'ফুট ওভারব্রিজ'-এর পরিবর্তে সুবিধাজনক 'আন্ডারপাস' নির্মাণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই ধরনের আন্ডারপাস নির্মাণের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈঠকে। এগুলির নকশা এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে কেবল পথচারীরাই নয়, বরং সাইকেল, স্কুটার এবং মোটরসাইকেলও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত কাঠামোর মাধ্যমে ট্রাক্টর ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলেরও সুযোগ রাখা হবে। শহুরে ও গ্রামীণ উভয় এলাকার প্রয়োজন মেটানোর উপযোগী করেই এই নকশাগুলি প্রণয়ন করা হবে।
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ট্রেন চলাচলের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রেল জোনের কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। যেসব জোন সময়ানুবর্তিতার উচ্চমান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, তিনি তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
শ্রী বৈষ্ণব পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, সুপরিকল্পনা এবং যাত্রী-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে ভারতীয় রেল দেশ জুড়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা, সেবার গুণমান এবং সামগ্রিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে উত্তরোত্তর উন্নত করে যেতে থাকবে।
SC/SD/SKD
(রিলিজ আইডি: 2248924)
ভিজিটরের কাউন্টার : 2