প্রতিরক্ষামন্ত্রক
সর্বশেষ স্টিলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস তারাগিরি’ আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হল
প্রকাশিত:
03 APR 2026 3:51PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রজেক্ট ১৭এ শ্রেণীর চতুর্থ যুদ্ধ জাহাজ আইএনএস তারাগিরি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হল। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে আজ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং-এর উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশীয় আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণে এটি একটি মাস্টারক্লাস বা অনন্য উদাহরণ স্বরূপ। প্রায় ৬৬৭০ টনের এই সর্বশেষ যুদ্ধ জাহাজের নকশা করেছে ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো এবং এটি নির্মাণ করেছে মাঝগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড। বহু উদ্দেশ্যসাধক এই যুদ্ধ জাহাজে এমএসএমই ক্ষেত্রগুলিও নানাভাবে সাহায্য করেছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত এই যুদ্ধ জাহাজ রাডারের নজর এড়িয়ে যেতে পারবে এবং এর প্রভূত বিধ্বংসী ক্ষমতা রয়েছে।
প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই যুদ্ধ জাহাজটি নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই নির্মিত হয়েছে। আইএনএস তারাগিরি ভারতের যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতার এক উজ্বল দৃষ্টান্তস্বরূপ। সরকারি ও বেসরকারি যৌথ সহযোগিতার ভিত্তিতেই তা গড়ে উঠেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আইএনএস তারাগিরির বর্ণনায় বলেন, এটি কেবলমাত্র একটি যুদ্ধ জাহাজই নয়, বরং ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত শক্তি, আত্মনির্ভরতা এবং পরাক্রমশালী নৌ-শক্তিকে তুলে ধরে। এই যুদ্ধ জাহাজ অনেক বেশি সময় ধরে সমুদ্রে থাকতে সক্ষম। শত্রুর গতিবিধি সঠিকভাবে নজর রাখতে পারবে এবং প্রয়োজনে নিজের রক্ষায় ও তৎপর জবাব দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে। এতে আধুনিক রাডার এবং মিসাইল ব্যবস্থা রয়েছে। ব্রাহ্মস এবং ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এই যুদ্ধ জাহাজ সক্ষম সামুদ্রিক সুরক্ষার পাশাপাশি জলদস্যু মোকাবিলা, উপকূল নজরদারি, বিভিন্ন মানবিক অভিযানে যোগদান করতে পারবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ভারতে ১১,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি উপকূলবর্তী এলাকা রয়েছে। তিন দিক থেকে যা সমুদ্রে ঘেরা। দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ বাণিজ্য এই সমুদ্র পথেই সম্পন্ন হয় এবং জ্বালানি সুরক্ষাও বস্তুত এই সমুদ্র পথের ওপরেই নির্ভরশীল। ফলে দেশের নৌশক্তিকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি জানান। উদ্ভুত প্রতিরক্ষা মানচিত্রে সমুদ্রপথে শক্তি বিস্তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে তিনি বলেন, অনিশ্চিত এই ভূ-পরিস্থিতির মধ্যে ভারত মহাসাগরীয় এলাকা জুড়ে ভারতীয় নৌবাহিনী দিবারাত্র সতর্ক প্রহরায় রয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক ডিজিটাল সময়কালে বিশ্বের বেশি সংখ্যক ডেটা সমুদ্র গভীরে ইন্টারনেট কেবিলের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। এর কোনওরকম বিপর্যয় ঘটলে বিশ্ব শৃঙ্খলকে তা ভঙ্গ করবে। সমসাময়িক প্রয়োজনের দিকে তাকিয়ে এবং ভবিষ্যৎ বান্ধব পরিকাঠামো গড়ে তুলতে যাবতীয় প্রয়াস নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। আইএনএস তারাগিরির মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ সমগ্র এলাকার শান্তি এবং সমৃদ্ধি রক্ষার কাজে ব্যাপৃত থাকবে।
শ্রী রাজনাথ সিং আরও বলেন, ত্রাণ এবং উদ্ধারের মতো যে কোনওরকম সঙ্কটে বা মানবিক সাহায্যের ক্ষেত্রেও ভারতীয় নৌবাহিনী সবসময় সামনের সারিতে থেকে কাজ করে। এটি ভারতের চিরন্তন মূল্যবোধ এবং অবিচল দায়বদ্ধতা পালনের এক প্রতীক। এই যুদ্ধ জাহাজ ভারতীয় নৌবাহিনীর দায়বদ্ধতা পালনের পাশাপাশি, মূল্যবোধ এবং নৌ শক্তির প্রসার ঘটাবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারতের প্রতিরক্ষা নির্মাণ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান এতে একদিকে যেমন শক্তিশালী হচ্ছে, তার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে নিজেদের সুরক্ষা এবং এই নৌ নকশা আমরা নিজেরাই করতে পারছি বলে তিনি জানান।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডিপিএসইউ-গুলি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রগুলির প্রশংসা করে বলেন, আর্থিক বছর ২০২৫-২৬-এ ভারতে প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৬৮,৪২৪ কোটি টাকার সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছে। তিনি বলেন, ১৩-১৪ বছর আগেও যেখানে আমাদের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ছিল কেবল ১২০০ কোটি টাকা, আজ তা প্রায় ৩৯,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ভারত যে এক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগোচ্ছে, এটা তার এক প্রমাণস্বরূপ।
নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠি আইএনএস তারাগিরির সমৃদ্ধ পরম্পরার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে লিয়েন্ডার-ক্লাস ফ্রিগেট ভারতীয় নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ১৯৮০ সালে এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধ ক্ষমতায় তা ভারতকে অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছিল বলে তিনি জানান। নৌবাহিনীর প্রধান বলেন,দেশ যুদ্ধের জন্য সদা প্রস্তুত। যে কোনও জায়গায়, যে কোনও পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যৎ বান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
আইএনএস তারাগিরির নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত আনুষ্ঠানিকভবে কমিশনিং পেন্যান্ট মাস্তুলে স্থাপনের পর জাহাজে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়। সেনা সর্বাধিনায়ক জেনারেল অনিল চৌহান, পূর্বাঞ্চল নৌবাহিনীর ফ্ল্যাগ অফিসার কম্যান্ডিং ইন চিফ, ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় ভাল্লা, মাঝগাঁও ডক শিপ বিল্ডার্স লিমিটিডের সিএমডি, ক্যাপ্টেন(অবসরপ্রাপ্ত) জগমোহন অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
SC/AB/NS
(রিলিজ আইডি: 2248894)
ভিজিটরের কাউন্টার : 15