PIB Headquarters
যক্ষ্মা নির্মূলের পথে দ্রুত এগোচ্ছে ভারত
প্রকাশিত:
24 MAR 2026 6:59PM by PIB Kolkata
প্রধান বিষয়সমূহ
* ২০১৫ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে দেশে বছরে নতুন যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা ২১% কমেছে। একই সময়ে মৃত্যুহার ২৮ শতাংশ কমেছে।
* যক্ষ্মা-মুক্ত ভারত অভিযানের আওতায় ৭ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে ২০ কোটির বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের পরীক্ষা হয়েছে। বস্তুত, ২৮ লক্ষের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।
* ২০২৪ সালে ৪৬,১১৮টির বেশি গ্রাম পঞ্চায়েত যক্ষ্মা-মুক্ত স্বীকৃতি পেয়েছে।
* ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা রোগীদের জন্য বিপিএএলএম পদ্ধতি চালু হয়েছে। এতে চিকিৎসার সময় কমে ছয় মাসে নেমে এসেছে।
* কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কাশি বিশ্লেষণ, এক্স-রে বিশ্লেষণ এবং উচ্চ ঝুঁকির রোগী চিহ্নিত করা হচ্ছে।
ভূমিকা
ভারত যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যে দ্রুত এগোচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে যক্ষ্মার প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সরকারের লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
যক্ষ্মা কি
যক্ষ্মা একটি সংক্রামক রোগ। মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস জীবাণুর কারণে এই রোগ হয়। এটি প্রধানত ফুসফুসে প্রভাব ফেলে, তবে মস্তিষ্ক, কিডনি বা মেরুদণ্ডেও সংক্রমণ হতে পারে।
সংক্রমিত ব্যক্তি সব সময় অসুস্থ হন না। অনেক ক্ষেত্রে সুপ্ত সংক্রমণ থাকে। সঠিক চিকিৎসা না হলে সক্রিয় যক্ষ্মা মারাত্মক হতে পারে।
সংক্রমণের উপায়
যক্ষ্মা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বললে জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে হাত মেলানো, একসঙ্গে খাওয়া বা সাধারণ সামাজিক যোগাযোগে এই রোগ ছড়ায় না।
যক্ষ্মা নির্মূলে কৌশল গ্রহণ
ভারত ২০২৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভর করছে : নির্মাণ, প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা।
জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচি
২০২০ সালে সংশোধিত কর্মসূচির নাম পরিবর্তন করে জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচি করা হয়।
এই কর্মসূচির মূল দিকগুলি হল:
* দ্রুত শনাক্তকরণ
* গুণমানসম্পন্ন চিকিৎসা
* বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণ
* পুষ্টি সহায়তা ও সরাসরি অর্থ সহায়তা
* সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা
যক্ষ্মামুক্ত মুক্ত ভারত অভিযান
এই অভিযান ২০২২ সালে শুরু হয়। এর লক্ষ্য সমাজের সব স্তরের মানুষকে যুক্ত করা।
২০২৪-এর ৭ ডিসেম্বর শুরু হওয়া ১০০ দিনের বিশেষ অভিযানে ব্যাপক পরীক্ষা এবং রোগী শনাক্তকরণ হয়েছে।
পুষ্টি ও সহায়তা
নিক্ষয় পোষণ যোজনার মাধ্যমে রোগীদের প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
নিক্ষয় মিত্র উদ্যোগে ব্যক্তি বা সংস্থা রোগীদের খাদ্য ও মানসিক সহায়তা দেয়।
নতুন উদ্যোগ
নতুন বিপিএএলএম পদ্ধতিতে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার চিকিৎসা দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে।
প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ব্যবস্থাও চালু হয়েছে, যাতে সংক্রমণ সক্রিয় রোগে রূপ না নেয়।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামো
আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহজ চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।
দেশে ৯,৮০০টির বেশি দ্রুত বিশ্লেষণের পরীক্ষাগার এবং ১০৭টি বিশেষ পরীক্ষাগার রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
যক্ষ্মা শনাক্তকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহৃত হচ্ছে। কাশি বিশ্লেষণ, এক্স-রে পরীক্ষা এবং ঝুঁকি নির্ধারণে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
উপসংহার
ভারতে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক অগ্রগতি হয়েছে।
সরকারি উদ্যোগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণ মিলিয়ে দেশ যক্ষ্মা-মুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।
তথ্যসূত্র
Press Information Bureau:
· TB incidence in India drops by 21% from 237 per lakh population in 2015 to 187 per lakh population in 2024 – almost double the rate of decline observed globally: https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2189415
· World Tuberculosis (TB) Day – 2025: https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2114549
· TB is completely curable if right drugs are taken for the right duration - Director, National Tuberculosis Institute: https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1808582
· Mera Yuva Bharat: https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2184456
· India’s 100-Day TB Elimination Campaign: https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2081662
Others:
See in PDF
SSS/AS
(রিলিজ আইডি: 2245474)
ভিজিটরের কাউন্টার : 3