পেট্রোলিয়ামওপ্রাকৃতিকগ্যাসমন্ত্রক
প্রাকৃতিক গ্যাস পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং ব্যবসার স্বাচ্ছন্দ্য বিধানে সরকারের যুগান্তকারী নির্দেশের বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশিত:
24 MAR 2026 9:18PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি ২৪ মার্চ ২০২৬
ভারত সরকার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের মাধ্যমে অত্যাবশ্যক পণ্য আইন ১৯৫৫-র অধীন প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পেট্রোপণ্য বিতরণ নির্দেশ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশে দেশ জুড়ে সহজে সময় বেঁধে গ্যাসের পাইপ লাইন মোতায়েন সংক্রান্ত কার্যক্রমের কথা বলা হয়েছে। অনুমোদনে বিলম্ব হওয়া অথবা জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার উল্লেখ করে নির্দেশে আবাসন এলাকাতেও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
দেশের এক্সট্রা অডিনারি গেজেটে প্রকাশিত এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার মধ্যে দিয়ে দক্ষ গ্যাস বন্টনে সর্বাত্মক, স্বচ্ছ এবং বিনিয়োগ বান্ধব পরিকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে, যাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে সমতাপূর্ণ সুযোগ সকলে পান।
এই নির্দেশের লক্ষ্য হল পাইপ বাহিত প্রাকৃতিক গ্যাস নেটওয়ার্কের প্রসার ঘটানো, সেইসঙ্গে শেষ সীমা পর্যন্ত সংযোগ গড়ে তোলা। রান্না, পরিবহন এবং শিল্পের জন্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের পথ এতে প্রশস্ত হবে। এতে জ্বালানি সুরক্ষাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্যাস ভিত্তিক অর্থনীতিতে ভারতের রূপান্তরের সহায়ক হয়ে উঠতে পারে।
নীতিগত বাস্তবতার দিকে তাকালে ভারতে বর্ধিত জ্বালানির চাহিদা এবং উদ্ভূত বৈশ্বিক জ্বালানির প্রেক্ষাপটে সহনশীল, বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এই নির্দেশ দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জ নিরসনের লক্ষ্যে পরিকাঠামো বিকাশের পথকে প্রশস্ত করবে। নিয়ম মাফিক ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার প্রশ্ন মিটিয়ে অনুমোদন সংক্রান্ত বিলম্বের অবসান ঘটিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাসকে এক পরিবর্তনকামী জ্বালানি হিসেবে জায়গা করে দেবে।
এই সংস্কারের মূলে রয়েছে ব্যবসার স্বাচ্ছন্দ্য বিকাশ এবং তা করতে গিয়ে পদ্ধতিগত সরলীকরণ, নিয়মতান্ত্রিক বাধা হ্রাস এবং অংশীদারিত্বের জন্য স্বচ্ছ পরিচালন ব্যবস্থা গড়ে দেওয়া এর লক্ষ্য।
ব্যবসার স্বাচ্ছন্দ্য বিকাশ গতিশীল করার লক্ষ্যে সময়ভিত্তিক অনুমোদনের পাশাপাশি পদ্ধতিগত বিলম্বের বাধাকেও দূর করবে। সেইসঙ্গে একক সুশৃঙ্খল পরিকাঠামো অনুমতিদানের ক্ষেত্রে এক সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। স্বচ্ছতা এবং অনুমিত খরচ সুনিশ্চিত করা যাবে। বাড়তি কোনো চার্জ প্রদানের প্রয়োজন দূর হবে। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিবাদ বিসংবাদও দূর করা যাবে। সর্বোপরি সরলীকৃত পদ্ধতিগত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বাধ্যবাধকতার বোঝা লাঘব হবে।
এরফলে, সময় বেঁধে পিএনজি সংযোগ প্রদানের সংস্থান গড়ে দেওয়া হচ্ছে, যা পরিষেবা প্রদানের মানকে উন্নত করবে। সেইসঙ্গে যেসব জায়গায় পাইপ লাইন পরিকাঠামো রয়েছে, সেখানে এলপিজি থেকে পিএনজি-তে ক্রমিক পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। এছাড়াও, কারিগরীভাবে যেখানে সংযোগ প্রদান সম্ভব নয়, সেখানে স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখা হবে।
এই ব্যবস্থার এক সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়বে। এতে জ্বালানি সুরক্ষা পরিমন্ডলের প্রসার ঘটবে। গ্যাস বন্টনের নেট ওয়ার্কের এক বৈচিত্র্যপূর্ণ শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলা যাবে। এক জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। ব্যবসার স্বাচ্ছন্দ্য বিধানের ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদন এবং নিয়মতান্ত্রিক নিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাবোধ গড়ে তুলবে। শহর এবং আধা শহর এলাকাতে গ্যাস পাইপ লাইন নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তোলায় গতি আসবে। এছাড়াও রান্না, পরিবহন, এমনকি শিল্পের প্রয়োজনেও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাড়তি ব্যবহার বাড়বে। ফলে, কার্বণ নির্গমের পরিমান হ্রাস পেয়ে বাতাসে গুণগতমান বৃদ্ধি পাবে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ শিল্প ও ব্যবসায়িক কাজকর্মে সহায়ক হয়ে উঠবে।
দেশ জুড়ে সরকার প্রাকৃতিক গ্যাসের ভূমিকার সম্প্রসারণ ঘটাতে দায়বদ্ধ। এক্ষেত্রে নীতিগত পরিমন্ডল গড়ে তোলার পাশাপাশি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং সুস্থায়ীত্বের প্রসার ঘটানো হচ্ছে।
এই নির্দেশ গ্যাস ভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা দক্ষ পরিকাঠামো, ব্যবসার স্বাচ্ছন্দ্য বিধান এবং বৃহত্তর পরিবেশবান্ধব জ্বালানির সুযোগ গড়ে দেবে।
SC/AB/CS
(রিলিজ আইডি: 2245464)
ভিজিটরের কাউন্টার : 7