প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

নভি মুম্বাইয়ে শ্রী গুরু তেগ বাহাদুরজির ৩৫০তম আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তার বঙ্গানুবাদ

প্রকাশিত: 01 MAR 2026 7:58PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১ মার্চ, ২০২৬

 

জো বলে সো নিহাল, সৎ শ্রী আকাল! আজ ‘হিন্দ দি চাদর’ শ্রী গুরু তেগ বাহাদুরজির ৩৫০তম আত্মবলিদান দিবসে তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে। এই উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সকলকে নমস্কার জানাই। এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। 

বন্ধুরা, 

ভারতের ইতিহাস সাহসিকতা এবং সহযোগিতার আখ্যান। মহারাষ্ট্রে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা সেই ঐতিহ্য আবার প্রত্যক্ষ করছি। আমাদের গুরুরা আত্মবলিদানের আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। সেই সময় সামাজিক ঐক্যের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রতিটি স্তরের মানুষ আমাদের গুরুদের কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েছেন। সত্য এবং নিজের সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধ থাকার শিক্ষা পেয়েছে সমাজ। সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতির সেই ধারায় শ্রী গুরু গোবিন্দ সিং-জির গুরু নানক নামলেভা সঙ্গত বড় ভূমিকা নিয়েছিল। আজও সামাজিক ঐক্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়। এই সঙ্গত-এর আয়োজন আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে যে গুরু ও সন্তদের আশীর্বাদ রয়েছে আমাদের সঙ্গে। 

বন্ধুরা,

এই সঙ্গমম এক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নাগপুরের পবিত্র ভূমি থেকে গত বছর এর সূচনা হয়। এরপর, নানদেদ-এ ঐতিহাসিক তখৎ শ্রী হজুর সাহিব-এ তা আরও দৃঢ় হয়েছে। আজ নভি মুম্বাইতে সেই যাত্রা পৌঁছেছে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে। এই যাত্রার বার্তা কেবলমাত্র তিনটি শহরেই সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামে গ্রামান্তরে। শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিবজির বার্তায় অনুপ্রাণিত হচ্ছেন অগণিত মানুষ। এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মহারাষ্ট্র সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। 

বন্ধুরা,

শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিবজির চরম আত্মবলিদানের স্মরণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কিছুক্ষণ আগেই হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম আমি। আমাদের গুরু সাহিবদের আদর্শ তুলে ধরতে তাঁদের অনুষঙ্গ রয়েছে এমন প্রতিটি ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করা হচ্ছে জাতীয় স্তরে। শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিবজির ৪০০তম আবির্ভাব বার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট এবং বিশেষ মুদ্রা প্রকাশ করা হয়েছে। গুরু নানক দেবজির ৫৫০তম আবির্ভাব বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে দেশ জুড়ে। সাহিবজাদাদের সম্মান জানাতে প্রতি বছর বীর বাল দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

বন্ধুরা,

রেকর্ড সময়ে কর্তারপুর সাহিব করিডরের নির্মাণ, শ্রী হেমকুন্ড সাহিব যাত্রার ক্ষেত্রে তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে নতুন ব্যবস্থাপনা, শিখ সংগঠনগুলিকে এফসিআরএ বিষয়ক ছাড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠক্রমে শিখ ইতিহাসকে গুরুত্ব দেওয়া – এসবই আমাদের শিখ ভাই-বোনেদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আমরা তা পূরণ করতে উদ্যোগী হয়েছি। 

ভাই ও বোনেরা,

আমাদের সরকার শিখদের ন্যায়বিচার ও মর্যাদার প্রশ্নে দায়বদ্ধ। সেজন্যই ১৯৮৪-র দাঙ্গার তদন্তে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। সেই সময়ে চেপে যাওয়া অনেক মামলা আবার নতুন করে শুরু করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দোষীরা সাজা পেয়েছে। ঐ দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাড়তি ক্ষতিপূরণের ঘোষণা হয়েছে। জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনকে আরও সক্রিয় করে তোলা হয়েছে। আফগানিস্তানে শিখ ভাই-বোনেদের নিরাপত্তা ও গুরু গ্রন্থ সাহিবের মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সরকার মিশন মোডে কাজ করেছে। আমরা ঐ পবিত্র গ্রন্থ ফিরিয়ে এনেছি। আফগান-শিখ ও হিন্দুদের এ দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ প্রশস্ত করেছি আমরা। সিএএ-এর জেরে অসুবিধায় পড়া শিখ শরণার্থীদের পাশে থেকেছি আমরা। জম্মু ও কাশ্মীরের শিখ পরিবারগুলির জন্য বিশেষ পুনর্বাসন প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। ওসিআই এবং ভিসা বিধি সরল করা হয়েছে। অকারণে কালো তালিকাভুক্ত শিখদের নাম ঐ তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিন দেশে থাকা শিখদের ভারতে যাতায়াতের প্রক্রিয়া সরল করা হয়েছে। 

বন্ধুরা,

শিখ গোষ্ঠীভুক্ত মানুষের সামনে নতুন সুযোগের পরিসর খুলে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এই লক্ষ্যে কাজ করা সৌভাগ্যের বলে আমি মনে করি। 

বন্ধুরা,

সাহসিকতার সঙ্গে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো আজও প্রাসঙ্গিক – যেমনটা ছিল শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর সাহিবজির সময়েও। আমাদের নতুন প্রজন্ম তাঁর মূল্যবোধের অনুসারী হলে সেই ঐতিহ্য নিছক স্মৃতিকথা হয়ে থাকবে না, হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের চলার পথ। ইতিহাসকে নিছক স্মরণ নয়, তার থেকে পাওয়া শিক্ষাকে জীবনে প্রয়োগ করার বার্তা দেয় আজকের সম্মেলন। আমি আবার অনুষ্ঠানের আয়োজকদের কুর্নিশ জানাই। ওয়াহেগুরু জি কা খালসা, ওয়াহেগুরু জি কি ফতেহ।

 

SC/AC/DM


(রিলিজ আইডি: 2234480) ভিজিটরের কাউন্টার : 50