PIB Headquarters
কৃষিতে বৃত্তাকার অর্থনীতি : বর্জ্য থেকে সম্পদ সৃষ্টি
প্রকাশিত:
17 FEB 2026 10:26AM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মূল বিষয়সমূহ
ভারতের কৃষিজ অবশিষ্ট থেকে বছরে ১৮,০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্রপ রেসিডিউ ম্যানেজমেন্ট উদ্যোগের আওতায় ২০১৮ - ১৯ থেকে ২০২৫ - ২৬ পর্যন্ত সরকার ৩,৯২৬ কোটি টাকা সহায়তা প্রদান করেছে।
সুস্থায়ী অবশিষ্ট ব্যবস্থাপনা বাড়াতে ৪২,০০০-এর বেশি কাস্টম হায়ারিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং ৩.২৪ লাখ যন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।
গোবর্ধন কর্মসূচির অধীনে ৫১.৪ শতাংশ জেলায় ৯৭৯টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট চালু রয়েছে (১৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত)। এগুলিতে গোবর, ফসলের অবশিষ্ট এবং খাদ্যবর্জ্য থেকে পরিচ্ছন্ন শক্তি ও জৈব সার উৎপাদন করা হচ্ছে।
বৃত্তাকার কৃষি সুস্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক স্তরে ১০৫ কোটি টন খাদ্য অপচয়ের ৬০ শতাংশই গৃহস্থালি পর্যায়ে ঘটেছে।
সূচনা
বর্জ্য উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান পরিমাণ পরিবেশের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। ভারতে কৃষি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি হলেও চাষ, ফসল তোলা এবং প্রক্রিয়াকরণের সময় বিপুল বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এই বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় বায়ু, মাটি ও জল দূষণ বাড়ছে। ভারতে বছরে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন টন কৃষিজ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফসলের অবশিষ্ট, তুষ, খড় এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণজনিত উপজাত। নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই অবশিষ্ট থেকে বছরে ১৮,০০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি, এগুলি থেকে পুষ্টিসমৃদ্ধ জৈব সার তৈরি করা যায়। এই সার মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং রাসায়নিক উপকরণের ওপর নির্ভরতা কমায়। আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতি বছর মানুষের ব্যবহারের জন্য উৎপাদিত প্রায় ১৩০ কোটি টন খাদ্য নষ্ট হয়। জৈব বর্জ্যের বড় অংশ গৃহস্থালির রান্নাঘর থেকে আসে। খাদ্যবর্জ্য ও কৃষিজ বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না হলে তা আবর্জনার স্তূপে পচে মিথেনসহ বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত করে। এতে বায়ু ও ভূগর্ভস্থ জল দূষিত হয় এবং পরিবেশের অবনতি ত্বরান্বিত হয়। ফলে, ভূমি ব্যবহার, সম্পদ ব্যবহার এবং সুস্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন পরিবেশ ও অর্থনীতি - উভয়ের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুস্থায়ী উন্নয়নের জন্য বৃত্তাকার অর্থনীতি
বর্জ্যকে সমস্যা নয়, সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের ধারণাই “বর্জ্য থেকে সম্পদ” পদ্ধতির মূল। এতে অর্থনীতির ভেতরে উপকরণের পুনরুদ্ধার, পুনর্ব্যবহার ও পুনঃ-একীভবনের ওপর জোর দেওয়া হয়। বৃত্তাকার অর্থনীতি পণ্য ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার পুরো জীবনচক্র জুড়ে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার একটি কার্যকর পদ্ধতি।
এই মডেলের লক্ষ্য কাঁচামাল, জল ও শক্তির ব্যবহার কমানো এবং প্রতিটি পর্যায়ে বর্জ্য হ্রাস করা। Reduce, Reuse, Recycle, Refurbish, Recover এবং Repair - এই ছয়টি নীতির ওপর এটি ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। “ট্রু রিসাইক্লিং” ধারণায় বর্জ্যকে গুণমান নষ্ট না করে আবার মূল উপকরণে রূপান্তর করা হয়।
কৃষিজ বর্জ্যের উৎস
খামার থেকে খাদ্যগ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কৃষিজ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফসলের অবশিষ্ট, পশুর বর্জ্য, প্রক্রিয়াজাতকরণজনিত উপজাত এবং তরল বর্জ্য।
ফসলের অবশিষ্ট
ফসল কাটার পরে খড়, গাছের ডাঁটা অবশিষ্ট থাকে। এর একটি অংশ পশুখাদ্য, কম্পোস্ট, বায়োগ্যাস বা জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত জমি প্রস্তুতির জন্য এগুলি পোড়ানো হয়। এতে মাটির পুষ্টি নষ্ট হয় এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়।
পশুজনিত বর্জ্য
ভারতে বৃহৎ পশুসম্পদের কারণে বিপুল পরিমাণ গোবর ও অন্যান্য বর্জ্য উৎপন্ন হয়। রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় মৃত পশুর নিরাপদ নিষ্পত্তি জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।
ফসল তোলার পর ক্ষতি
সংরক্ষণ, পরিবহণ ও প্রক্রিয়াকরণের সময় খাদ্যের পরিমাণ ও গুণমান কমে যায়। উন্নত সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এই ক্ষতি কমাতে পারে এবং কৃষকের আয় বাড়াতে সহায়তা করে।
খাদ্যবর্জ্য বাজার, খুচরো বিক্রয় কেন্দ্র এবং গৃহস্থালিতে ভোজ্য খাদ্য নষ্ট হয়। এই বর্জ্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে বড় ভূমিকা রাখে। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বর্জ্য থেকে বায়োচারসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা হচ্ছে।
কৃষিতে বৃত্তাকার অর্থনীতি প্রসারে সরকারি উদ্যোগ
সরকার বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে।
গোবর্ধন কর্মসূচি
এই কর্মসূচির মাধ্যমে গোবর, ফসলের অবশিষ্ট ও খাদ্যবর্জ্য থেকে কমপ্রেসড বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করা হয়। ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দেশের ৫১.৪ শতাংশ জেলায় ৯৭৯টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট কার্যকর রয়েছে।
ক্রপ রেসিডিউ ম্যানেজমেন্ট
ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়ে যাওয়া হ্রাস করতে ইন-সিটু ও এক্স-সিটু ব্যবস্থাপনা প্রচার করছে। ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ ও দিল্লি-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ৩,৯২৬.১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ৪২,০০০-এর বেশি কাস্টম হায়ারিং সেন্টার স্থাপন এবং ৩.২৪ লাখ যন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
কৃষিজ বর্জ্য থেকে মূল্য সৃষ্টির পরিকাঠামো
এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড
এই তহবিল কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য সংযোজনের সুবিধা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। ২০২০-২১ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ পর্যন্ত জৈব উপকরণ উৎপাদন সংক্রান্ত ৫৪৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদিত হয়েছে।
মোট ১,১৩,৪১৯টি প্রকল্পে ৬৬,৩১০ কোটি টাকা অনুমোদিত হয়েছে, যার ফলে, প্রায় ১,০৭,৫০২ কোটি টাকার বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাস্টম হায়ারিং সেন্টার, প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট, গুদাম, বাছাই ও গ্রেডিং কেন্দ্র এবং কোল্ড স্টোরেজ।
প্রাণিসম্পদ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিল
২০২০ সালে আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের অংশ হিসেবে ১৫,০০০ কোটি টাকার এই তহবিল গঠন করা হয়। মাংস ও দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ, পশুখাদ্য উৎপাদন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জন্য বেসরকারি ও সমবায় বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হচ্ছে।
জল ব্যবস্থাপনা
জল শক্তি মন্ত্রক কৃষি ও উদ্যানপালনে ব্যবহারের জন্য পরিশোধিত বর্জ্যজলের পুনর্ব্যবহার উৎসাহিত করছে। জল সংরক্ষণ, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, জলাধার পুনরুজ্জীবন এবং ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ কর্মসূচিও পরিচালিত হচ্ছে।
জল জীবন মিশন গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানীয় জলের সর্বজনীন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
সুস্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য
বৃত্তাকারে কৃষি ক্ষুধা নিরসন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সুস্থায়ী কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়তা করে। কম্পোস্টিং, বায়োচার ব্যবহার এবং বায়োমাস পুনর্ব্যবহার মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিকে উৎসাহিত করে।
উপসংহার
কৃষিতে বৃত্তাকার অর্থনীতির দিকে ভারতের অগ্রগতি প্রমান করে যে, পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন একসঙ্গে সম্ভব। উপযুক্ত নীতি, পরিকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিজ বর্জ্যকে শক্তি, জৈব উপকরণ, জলসম্পদ এবং জীবিকার উৎসে রূপান্তর করা হচ্ছে। গোবর্ধন ক্রপ রেসিডিউ ম্যানেজমেন্ট, এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড বা কৃষি পরিকাঠামো সংক্রান্ত তহবিল এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন তহবিল কৃষির স্থায়িত্ব, মাটির উর্বরতা এবং জল নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই উদ্যোগগুলির সম্প্রসারণ দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং গ্রামীণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Agriculture & Farmers Welfare
Indian Council of Agricultural Research (ICAR)
Ministry of New & Renewable Energy / Energy-linked Platforms
Ministry of Food Processing Industries
Ministry of Housing & Urban Affairs
Ministry of Fisheries, Animal Husbandry & Dairying
Department of Administrative Reforms & Public Grievances (DARPG)
Ministry of Environment, Forest and Climate Change
Ministry of Jal Shakti
Parliament of India (Sansad)
International & Multilateral Organisations / Research
Click here for pdf file.
SSS/AS....
(রিলিজ আইডি: 2229104)
ভিজিটরের কাউন্টার : 3