PIB Headquarters
ভারত এআই শাসন নির্দেশিকা
নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্ভাবনের পথে
প্রকাশিত:
15 FEB 2026 11:12AM by PIB Kolkata
মূল বিষয়বস্তু
ভারত সাতটি সূত্রের ভিত্তিতে নীতিনির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসন কাঠামো গ্রহণ করেছে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপদ, বিশ্বাসযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।
এআই গভর্ন্যান্স গ্রুপ, প্রযুক্তি ও নীতি বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং এআই সেফটি ইনস্টিটিউট গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সংযমের পরিবর্তে উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং বিকশিত ভারত ২০৪৭ লক্ষ্য অর্জনকে ত্বরান্বিত করার উপায় হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভূমিকা
পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের নির্ধারক শক্তি হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আত্মপ্রকাশ করেছে। জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ এআই স্ট্যাক গড়ে তোলার সুস্পষ্ট ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমায় এই কৌশল আবদ্ধ নয়। গণতান্ত্রিক প্রবেশাধিকার, বৃহৎ পরিসর এবং অন্তর্ভুক্তির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে অল্প কয়েকটি সংস্থা বা অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শাসন, উৎপাদন ও জলবায়ু কার্যক্রমে বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সবার জন্য এআই ধারণাকে সামনে রেখে সার্বভৌম সক্ষমতা ও উন্মুক্ত উদ্ভাবনের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। জনমুখী ডিজিটাল পরিকাঠামো, দেশীয় মডেল উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী কম্পিউটিং ক্ষমতা উৎপাদনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভারতের এআই শাসন দর্শন
অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তরমূলক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায় ভারত। একই সঙ্গে ব্যক্তি ও সমাজের সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক একটি খসড়া প্রণয়ন কমিটি গঠন করে। চলতি আইনের পর্যালোচনা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ এবং জনমত অন্তর্ভুক্ত করে শাসন নির্দেশিকা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রথম অংশ: মূল নীতি
শাসন কাঠামোর নীতিগুলি বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার উপযোগী করে তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি-নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়েছে। বহুমাত্রিক ব্যবহারক্ষেত্র ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিভিন্ন স্তরে প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করা হয়েছে। দায়িত্বশীল উন্নয়ন ও প্রয়োগের জন্য নমনীয় ও ভবিষ্যৎ উপযোগী ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অংশ: প্রধান বিষয় ও সুপারিশ
সাতটি সূত্রকে ভিত্তি করে উদ্ভাবন, গ্রহণযোগ্যতা ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে উৎসাহিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের বিপত্তি প্রবণতা হ্রাসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সুপারিশ করা হয়েছে। কার্যকর শাসন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠান গঠন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ছয়টি স্তম্ভে সুপারিশ উপস্থাপিত হয়েছে।
১. পরিকাঠামো
উদ্ভাবন ও বৃহৎ পরিসরে গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২. সক্ষমতা বৃদ্ধি
ইন্ডিয়াএআই ফিউচারস্কিলস, ফিউচারস্কিলস প্রাইম এবং উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে এআই-প্রস্তুত কর্মশক্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে।
৩. নীতি ও নিয়ন্ত্রণ
উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি উৎসাহিত করার পাশাপাশি, মূল্য শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে ঝুঁকি হ্রাস নিশ্চিত করা হয়েছে।
৪. ঝুঁকি প্রশমন
নীতি ও নিয়ন্ত্রণের নীতিগুলিকে বাস্তব সুরক্ষায় রূপান্তর করা হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষতি প্রতিরোধ ও হ্রাসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্যতা-ভিত্তিক ও অভিযোজিত এআই ব্যবস্থা ব্যক্তি, বাজার ও সমাজে নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
৫. জবাবদিহি
জবাবদিহি শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। বিদ্যমান আইন বহু ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম। কার্যকর ও সময়োচিত প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৬. প্রতিষ্ঠান
সমন্বিত সরকারি পদ্ধতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা হবে।
তৃতীয় অংশ: কর্মপরিকল্পনা
পর্যায়ক্রমিক রূপরেখার সাহায্যে শাসন কাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুস্থায়ী গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে।
নির্দেশিকাগুলি প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বশীল প্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তব প্রভাব নিশ্চিত করবে। উদ্ভাবন, আস্থা ও জবাবদিহি একত্রে এগিয়ে নেওয়া হবে।
চতুর্থ অংশ: শিল্প ও নিয়ন্ত্রকদের জন্য ব্যবহারিক নির্দেশিকা
শাসন কাঠামোর সুসংগত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে শিল্প সংস্থা ও এআই ব্যবস্থা উন্নয়ন বা প্রয়োগকারী অংশীদারদের জন্য ব্যবহারিক নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি সংস্থা ও ক্ষেত্রভিত্তিক নিয়ন্ত্রকদের নীতি প্রণয়ন ও প্রয়োগে সহায়ক নীতিও নির্ধারিত হয়েছে।
উপসংহার
ভারত এআই শাসন নির্দেশিকা একটি বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও গতিশীল কাঠামো উপস্থাপন করেছে। নিরাপদ, বিশ্বাসযোগ্য ও দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।
সাতটি দিশারি সূত্র এই কাঠামোর ভিত্তি। আস্থা, মানুষ-প্রথম দৃষ্টিভঙ্গি, সংযমের পরিবর্তে উদ্ভাবন, ন্যায্যতা ও সমতা, জবাবদিহি, নকশাগত স্বচ্ছতা এবং সুরক্ষা ও স্থিতিস্থাপকতা - এই নীতিগুলি উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সঙ্গে সম্ভাব্য বিপত্তি ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত করেছে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কার্যকর উপকরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার রূপরেখা এই নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র
Press Information Bureau:
English PDF
******
SSS/SS......
(রিলিজ আইডি: 2229088)
ভিজিটরের কাউন্টার : 4