PIB Headquarters
azadi ka amrit mahotsav

প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসাবে সৃজনশীল শিল্প

সংবাদমাধ্যম, বিনোদন, এভিজিসি, গেমিং এবং অরেঞ্জ ইকোনমি

প্রকাশিত: 16 FEB 2026 11:44AM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ 

 

অর্থনৈতিক শক্তির কেন্দ্রে সৃজনশীলতা
প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে সৃজনশীল শিল্প

একবিংশ শতাব্দী শিল্পের পাশাপাশি, কল্পনাশক্তির দ্বারাও গঠিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক শক্তি এখন আর শুধু কারখানা বা মালবাহী করিডর দিয়ে মাপা হয় না। বৌদ্ধিক সম্পত্তি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ। ধারণা পণ্যের চেয়ে দ্রুত ছড়ায়। বর্ণনা বাজারকে প্রভাবিত করে। সৃজনশীল পরিবেশ ক্রমশ নির্ধারণ করছে বিশ্বমঞ্চে একটি দেশকে কীভাবে দেখা, শোনা এবং গ্রহণ করা হবে। এই প্রেক্ষাপটে সৃজনশীল অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির একটি নির্ধারক ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে।

সৃজনশীল অর্থনীতির অন্তর্ভুক্ত সেই সব শিল্প যেখানে মূল্য সৃষ্টি হয় মূলত সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি এবং বৌদ্ধিক সম্পত্তি থেকে। এর মধ্যে রয়েছে মিডিয়া ও বিনোদন, অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং, সরাসরি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বৃহৎ পরিসরে সীমান্ত অতিক্রমকারী ডিজিটাল কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম। এগুলি কোনো প্রান্তিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নয়। এগুলি প্রযুক্তিনির্ভর, আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্যযোগ্য এবং আধুনিক পরিষেবা অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্বজুড়ে সৃজনশীল শিল্প সাংস্কৃতিক পরিসর থেকে অর্থনৈতিক মূলধারায় প্রবেশ করেছে। বিভিন্ন দেশে এগুলির অবদান মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ০.৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশেরও বেশি। সরাসরি বিনোদন শিল্প পর্যটন ও নগর পরিষেবায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বিশ্বব্যাপি এই পরিবর্তনের মধ্যে ভারতের সৃজনশীল অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং মূল্য সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠছে।

বৃহৎ পরিসরে ভারত

মিডিয়া ও বিনোদন ক্ষেত্রের মূল্য ২০২৪ সালে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা। ডিজিটাল মিডিয়া মোট আয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। উৎপাদন ও বিতরণের ধরণ পরিবর্তিত হচ্ছে।

উচ্চ প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রগুলি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে :

অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল এফেক্টস: প্রায় ১০,৩০০ কোটি টাকা

গেমিং: প্রায় ২৩,২০০ কোটি টাকা

সরাসরি বিনোদন: ১০,০০০ কোটি টাকারও বেশি

এই ক্ষেত্র সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ১ কোটিরও বেশি মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত।
বার্ষিক উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা।

এই প্রবণতা কেবল একটি ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ নয়। এটি দেখায় যে সৃজনশীলতা এখন কৌশলগত সক্ষমতায় পরিণত হয়েছে এবং বিশ্বমঞ্চে প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যোগসূত্র তৈরি করছে।

অর্থনৈতিক পরিকাঠামো হিসেবে মিডিয়া ও বিনোদন

ভারতের সংবাদমাধ্যম ও বিনোদন ক্ষেত্র স্থিতিশীলভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর প্রায় ৭ শতাংশ হারে আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৪ সালের ২,৫০,২০০ কোটি টাকা থেকে ২০২৭ সালে প্রায় ৩,০৬,৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। পরিষেবা অর্থনীতিতে এই ক্ষেত্র একটি স্থায়ী প্রবৃদ্ধির উৎস হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

এভিজিসি - এক্সআর : ডিজিটাল সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের চালিকাশক্তি

অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং, কমিকস এবং এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি একত্রে এভিজিসি-এক্সআর নামে পরিচিত। এটি সৃজনশীল অর্থনীতির সবচেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্র। প্রতিটি বৃহৎ ভিজ্যুয়াল প্রযোজনা, ভার্চুয়াল গেম বা ইন্টারঅ্যাক্টিভ ডিজিটাল অভিজ্ঞতার পিছনে শিল্পী, প্রোগ্রামার, ডিজাইনার ও প্রকৌশলীদের সমন্বিত কাজ রয়েছে। এই শিল্পগুলি উন্নত গণনাশক্তি, বাস্তবসময়ের রেন্ডারিং এবং ডিজিটাল উৎপাদন প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। চলচ্চিত্র, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, বিজ্ঞাপন এবং ভার্চুয়াল প্রযোজনায় এগুলির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে।

গেমিং এখন দৈনন্দিন জীবনের একটি প্রধান ডিজিটাল মাধ্যম। অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল এফেক্টস আন্তর্জাতিক বিনোদনের দৃশ্যভাষা গড়ে তুলছে। এই ক্ষেত্রগুলি সৃজনশীলতাকে বৌদ্ধিক সম্পত্তিতে রূপান্তর করছে এবং বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল অর্থনীতির পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, কমিকস ও এক্সআর

ভারতের এই ক্ষেত্র এখন আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত একটি উৎপাদনভিত্তি। ভারতীয় দল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র, স্ট্রিমিং কনটেন্ট, বিজ্ঞাপন এবং ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা তৈরিতে কাজ করছে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সৃজনশীল আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে।

একটি শক্তিশালী ও বহুস্তরীয় দক্ষ জনবল এই সম্প্রসারণকে সমর্থন করছে। অভিজ্ঞ পেশাদাররা জটিল আন্তর্জাতিক প্রকল্প পরিচালনা করছেন। বৃহৎ মধ্যস্তরের কর্মীবাহিনী উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে। ফলে ভারত একটি নির্ভরযোগ্য অন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

গেমিং

গেমিং ভারতের ডিজিটাল পরিবর্তনের অন্যতম দৃশ্যমান প্রকাশ। মহানগর থেকে ছোট শহর - সব জায়গায় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ অনলাইনে যুক্ত হচ্ছে। মোবাইল ফোন একই সঙ্গে বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল প্রজন্মের কাছে গেমিং দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

এই ব্যাপক অংশগ্রহণ বাজার সম্প্রসারণে রূপান্তরিত হয়েছে। ব্যবহারকারীর সংখ্যা, আয়ের বৃদ্ধি, দেশীয় স্টুডিও-র বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযোগ গেমিংকে একটি সুসংগঠিত ডিজিটাল শিল্পে পরিণত করছে।

নীতি ও প্রতিষ্ঠান : 
এভিজিসি - এক্সআর পরিবেশের কাঠামো

এই ক্ষেত্রে ভারতের উদ্যোগ কেবল শিল্প গড়ে তোলার জন্য নয়। তরুণ ডিজাইনার, অ্যানিমেটর, প্রোগ্রামার ও গল্পকারদের জন্য স্থায়ী পেশার পথ তৈরি করা হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিকল্পনা দক্ষতা উন্নয়ন, মৌলিক বৌদ্ধিক সম্পত্তি সৃষ্টি, শিল্প সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করছে। আগামী দশকে প্রায় ২০ লক্ষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিস। এটি এভিজিসি - এক্সআর ও গেমিং ক্ষেত্রের জন্য জাতীয় উৎকর্ষ কেন্দ্র। এখানে প্রশিক্ষণ, উন্নত পরিকাঠামো এবং শিল্প সহযোগিতা একত্রে পাওয়া যায়।

দেশজুড়ে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রও গড়ে উঠছে। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, মুম্বই, পুনে, চেন্নাই এবং তিরুবনন্তপুরম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। নতুন শহরগুলিতেও সৃজনশীল ক্লাস্টার তৈরি হচ্ছে। ফলে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিভা এই অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

সরাসরি বিনোদন ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক অর্থনীতি

ভারতের সরাসরি বিনোদন ক্ষেত্র এখন বড় আকারের সামাজিক অভিজ্ঞতার অংশ। স্টেডিয়াম অনুষ্ঠান, সঙ্গীত উৎসব এবং বৃহৎ সমাবেশ শহরের অর্থনীতিকে সক্রিয় করে। দর্শকের অংশগ্রহণনির্ভর একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক শিল্পী এবং দেশীয় শিল্পীরা নিয়মিত বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠান করছেন। মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং আহমেদাবাদ প্রধান কেন্দ্র। বৃহৎ স্টেডিয়াম থেকে আধুনিক অনুষ্ঠানস্থল - সবই এই বৃদ্ধিকে সমর্থন করছে।

এই ক্ষেত্র পর্যটন বাড়ায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং শহুরে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।

অরেঞ্জ ইকোনমি: নীতি, প্ল্যাটফর্ম ও আন্তর্জাতিক সংযোগ

অরেঞ্জ ইকোনমি সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতাকে অর্থনৈতিক সম্পদ হিসাবে বিবেচনা করে। সাংস্কৃতিক শিল্প, সৃজনশীল পরিষেবা, ঐতিহ্যভিত্তিক কার্যক্রম এবং অভিজ্ঞতানির্ভর ক্ষেত্র এর অন্তর্ভুক্ত। এগুলি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, রপ্তানি বাড়ায় এবং নগর অর্থনীতিকে সমর্থন করে।

ভারতের ক্ষেত্রে এটি দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তরিত করে এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ায়।

প্ল্যাটফর্ম ও বাজারে প্রবেশ

সৃজনশীল উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছাতে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। সৃষ্টিশীল ব্যক্তিদের বিনিয়োগকারী, প্রযোজক এবং আন্তর্জাতিক দর্শকের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড অডিও ভিজ্যুয়াল অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট সামিট এই ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এখানে সৃষ্টিশীল ব্যক্তি, উদ্যোগ এবং নীতিনির্ধারকরা একত্রিত হন। ওয়েভ-এক্স স্টার্ট-আপ উন্নয়নে সহায়তা করে। ওয়েভস বাজার স্ক্রিপ্ট, সঙ্গীত, কমিকস এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্য-শ্রাব্য অধিকারের বাজার হিসেবে কাজ করে।

ক্রিয়েট ইন ইন্ডিয়া চ্যালেঞ্জ নতুন প্রতিভা চিহ্নিত করে এবং আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করে।

শিক্ষা, দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি

সৃজনশীল অর্থনীতির সম্প্রসারণের জন্য শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। বিদ্যালয় স্তর থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।

আইআইসিটি শিল্প-সম্মত প্রশিক্ষণ, স্টার্ট-আপ সহায়তা এবং উন্নত প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো প্রদান করছে।

দেশের ১৫,০০০ মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয় এবং ৫০০-টি কলেজে AVGC কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ দক্ষ পেশাজীবীর প্রয়োজন হবে বলে অনুমান।

কৌশলগত ভবিষ্যৎ : সৃজনশীল শক্তির পরবর্তী দশক

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কেন্দ্র, চলচ্চিত্র প্রযোজনা, অনুষ্ঠান এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম - সব মিলিয়ে একটি নতুন সৃজনশীল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। সৃষ্টিশীলতা এখন কর্মসংস্থান, উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি হয়ে উঠছে।

এর প্রভাব ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। তরুণ শিল্পীরা আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজ করছেন। স্টার্ট-আপগুলি সীমান্ত অতিক্রম করে দর্শকের কাছে পৌঁছাচ্ছে। শহরগুলি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

দক্ষতা, প্ল্যাটফর্ম এবং প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক বিনিয়োগ সৃজনশীলতাকে স্থায়ী অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করবে। বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা এখন সংস্কৃতি, কনটেন্ট এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। ভারত সৃজনশীল অর্থনীতিকে কৌশলগত সক্ষমতা হিসাবে গড়ে তুলছে এবং আগামী দশকে এটিকে প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করছে।

তথ্যসূত্র

Click here to see PDF


SSS/AS...


(রিলিজ আইডি: 2229084) ভিজিটরের কাউন্টার : 3
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Tamil , Malayalam