নারীওশিশুবিকাশমন্ত্রক
বাল্য-বিবাহ মুক্ত ভারত নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পৌঁছল ৬ কোটিরও বেশি নাগরিকের কাছে
প্রকাশিত:
04 FEB 2026 1:26PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ভারতকে বাল্য-বিবাহ মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর ‘বাল্য-বিবাহ মুক্ত ভারত’ শীর্ষক জাতীয় প্রচারাভিযানের সূচনা করেন। এর আওতায় বিকশিত ভারতের লক্ষ্য অর্জনে ‘সামগ্রিক সরকার’ ও ‘সামগ্রিক সমাজ’ দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে শিশুকন্যা ও মহিলাদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা অর্জন ও উদ্যোগ গঠনে উৎসাহ দেওয়া হয়। এই প্রচারাভিযানের উদ্দেশ্য হল, বাল্য-বিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে তোলা, এই সংক্রান্ত উদ্যোগে অভিভাবক, পরিবার ও সম্প্রদায়গুলির যোগদান বাড়ানো, বাল্য-বিবাহ প্রতিরোধ আধিকারিকদের ভূমিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাল্য-বিবাহের ঘটনা দ্রুত জনসমক্ষে আনায় উৎসাহ দেওয়া এবং বয়ঃসন্ধিক্ষণের স্কুলছুট কিশোরীদের চিহ্নিত করে তাদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা করা।
এই প্রচারাভিযানের সাফল্য উদযাপন এবং এই প্রয়াসকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ১০০ দিনের এক বিশেষ প্রচারাভিযানের সূচনা হয়েছে। এর আওতায় সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান, সম্প্রদায়ের মেধা ও পরিষেবা প্রদানকারীদের কাছে পৌঁছনো হচ্ছে। এর পাশাপাশি, বাল বিবাহ মুক্ত ভারত পোর্টালে বাল্য-বিবাহ প্রতিরোধ আধিকারিকদের তথ্য আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই প্রচারাভিযানের দুটি পর্যায় ছিল। প্রথম পর্যায়ে ২৭ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। এই সংক্রান্ত বিতর্ক, রচনা প্রতিযোগিতা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং মন্দির, মসজিদ, কেটারার, টেন্ট হাউজ, ডিজে সহ বিভিন্ন বিবাহ সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাল্য-বিবাহের কুফল সম্পর্কে তাদের সচেতন করা হয়। গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পৌরসভাগুলিকে তাদের শাসনাধীন এলাকা বাল্য-বিবাহ মুক্ত করে তোলার অঙ্গীকার গ্রহণ করতে বলা হয়।
বাল্য-বিবাহ রোধের লক্ষ্যে ‘বাল বিবাহ মুক্ত ভারত’ শীর্ষক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে (https://stopchildmarriage.wcd.gov.in)। এখানে বাল্য-বিবাহের ঘটনার উল্লেখ, এ সংক্রান্ত তথ্য এবং শপথ নথিবদ্ধ করার ব্যবস্থা রয়েছে। নাগরিক, প্রতিষ্ঠান এবং জনপ্রতিনিধিরা এই পোর্টাল অথবা MyGov পোর্টালে বাল্য-বিবাহ মুক্ত ভারত গড়ার অঙ্গীকার নিতে পারেন। এ পর্যন্ত এই সচেতনতা কর্মসূচি ৬ কোটিরও বেশি নাগরিকের কাছে পৌঁছেছে। পোর্টালে নথিবদ্ধ হয়েছে ২৮ লক্ষেরও বেশি অঙ্গীকার।
প্রচারাভিযানে শিশু-বিবাহ প্রতিরোধ আইন, ২০০৬ আরও কড়াভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে বাল্য-বিবাহ প্রতিরোধ আধিকারিক, পুলিশ আধিকারিক, শিশু সুরক্ষা কমিটি, আশা কর্মী প্রমুখদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ‘বাল বিবাহ মুক্ত ভারত’ পোর্টালে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৬০,৭০০-এরও বেশি বাল্য-বিবাহ প্রতিরোধ আধিকারিকের নাম ও যোগাযোগের তথ্য দেওয়া রয়েছে যাতে নাগরিকরা অতি দ্রুত ও সহজে বাল্য-বিবাহ প্রতিরোধে এঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রচার চালানো হচ্ছে। ‘মিশন শক্তি’র আওতায় কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রক ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ অভিযান চালাচ্ছে। এখানেও লিঙ্গসাম্য ও বাল্য-বিবাহ প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শিশু অধিকার রক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় কমিশন এবং জাতীয় আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ এই প্রচারে সামিল হয়েছে। 15100 হেল্পলাইনে বিনামূল্যে এ সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে।
ভারত সরকার একটি শিশু হেল্পলাইন চালু করেছে। এর নম্বর হল – 1098। যে কোনো শিশু বিপদে পড়লে এই নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এর সঙ্গে পুলিশ, -বিবাহ প্রতিরোধ আধিকারিক, জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিট প্রভৃতিরও সংযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি, 181 মহিলা হেল্পলাইনও চালু রয়েছে।
রাজ্যসভায় আজ এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শ্রীমতী অন্নপূর্ণা দেবী এই তথ্য জানিয়েছেন।
SC/SD/DM
(রিলিজ আইডি: 2223241)
ভিজিটরের কাউন্টার : 8