PIB Headquarters
azadi ka amrit mahotsav

ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬

সকলের কল্যাণ, সকলের সুখ

प्रविष्टि तिथि: 21 JAN 2026 1:58PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

 

মূল বিষয়সমূহ

* ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ গ্লোবাল সাউথে আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলন হতে চলেছে।
* ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে পাঁচ দিনের কর্মসূচি হিসাবে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। নীতি, গবেষণা, শিল্প এবং জনসম্পর্ক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
* সম্মেলনের তিনটি মৌলিক স্তম্ভ বা ‘সূত্র’ – মানুষ, প্রকৃতি ও অগ্রগতি।
* ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট এক্সপোতে ১০-টিরও বেশি বিষয়ভিত্তিক প্যাভিলিয়নে ৩০০-র বেশি প্রদর্শক অংশ নেবেন ৩০-টি দেশ থেকে।

ভূমিকা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভারতের উন্নয়ন যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি। এটি শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে এবং পরিসেবা প্রদান উন্নত করছে। ভারতের ক্ষেত্রে এআই বৃহৎ পরিসরে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারতের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বহুভাষিক ও বহুমাধ্যমিক এআই ব্যবস্থার বিকাশে দেশকে বিশেষভাবে সক্ষম করে তুলেছে।

উন্নয়নকেন্দ্রিক এআই বিকাশের ধারাবাহিকতায়, ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ আগামী ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এটি গ্লোবাল সাউথে আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলন হবে। এই সম্মেলনে বিশ্বনেতা, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি সংস্থা, উদ্ভাবক এবং বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়ে শাসনব্যবস্থা, উদ্ভাবন এবং সুস্থায়ী উন্নয়নে এআইয়ের রূপান্তরকারী সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও প্রদর্শন করবেন।

আন্তর্জাতিক এআই মঞ্চগুলির গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলের ভিত্তিতে, ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এর মাধ্যমে ভারতের উদ্দেশ্য হবে আন্তর্জাতিক আলোচনাকে জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নমূলক ফলাফলে রূপান্তর করা। ইন্ডিয়াএআই মিশন ও ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের অধীনে এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে। এই সম্মেলন বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে জোরদার করবে এবং ভারতের শাসনব্যবস্থা, অর্থনীতি ও সমাজের জন্য প্রাসঙ্গিক, মানবকেন্দ্রিক এআই কাঠামোকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ভারতের জন্য এআই-এর গুরুত্ব

এআই একটি রূপান্তরকারী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটি মানুষ, প্রকৃতি ও অগ্রগতির নীতির উপর ভিত্তি করে ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত করতে, শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এবং নাগরিকদের জীবনমান উন্নত করতে সক্ষম।

মানুষের ক্ষেত্রে, এআই-নির্ভর সমাধান টেলিমেডিসিন ও রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার প্রসার ঘটাচ্ছে, অভিনব প্রশিক্ষণব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিগত শিক্ষাকে এগিয়ে নিচ্ছে এবং জালিয়াতি সনাক্তকরণের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করছে।

প্রকৃতির ক্ষেত্রে, এআই শস্য পূর্বাভাস, নির্ভুল কৃষিকাজ এবং ড্রোন-ভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে আরও বুদ্ধিমান ও সুস্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা করছে।

অগ্রগতির ক্ষেত্রে, এআই আদালতের রায় অনুবাদ, পরিষেবা প্রদানের উন্নতি এবং খাদ্য সরবরাহ, গতিশীলতা ও ব্যক্তিগত ডিজিটাল পরিষেবার মাধ্যমে দৈনন্দিন দক্ষতা বাড়িয়ে শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে। এটি গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রেই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজপ্রাপ্য প্রযুক্তির দিকে অগ্রগতিকে নির্দেশ করে।

১. স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এআই

এআই বিশেষত গ্রামীণ ও বঞ্চিত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা ও ফলাফল উন্নত করছে। এআই-নির্ভর দূরবর্তী রোগ নির্ণয় এবং বহনযোগ্য যন্ত্র চিকিৎসকের অভাবপূর্ণ এলাকায় রোগ চিহ্নিতকরণে সহায়তা করে। স্বয়ংক্রিয় রক্ত ও মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে। চ্যাটবট ও উপসর্গ নির্ণায়ক-সহ এআই-ভিত্তিক টেলিমেডিসিন গ্রামীণ রোগীদের চিকিৎসকদের সঙ্গে সংযুক্ত করছে, ফলে যাতায়াত ও অপেক্ষার সময় কমছে। চিকিৎসা চিত্র বিশ্লেষণে এআই যক্ষ্মা, ক্যান্সার-সহ বিভিন্ন রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়তা করছে। ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বিশ্লেষণ রোগের প্রাদুর্ভাব পূর্বাভাসে সহায়ক, আর এআই-নির্ভর ওষুধ আবিষ্কার ও ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান দিচ্ছে।

২. কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এআই

এআই তথ্যনির্ভর কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি করছে। আবহাওয়া, পোকামাকড়ের আক্রমণ ও সেচের প্রয়োজন পূর্বাভাস দিয়ে এআই মোবাইল পরামর্শের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা করে। এআই-চালিত ড্রোন শস্যের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করে এবং অপচয় কমায়। স্যাটেলাইট চিত্র ও আবহাওয়ার তথ্য ফসল কাটার পূর্বাভাসে সহায়ক। বাজারমূল্য পূর্বাভাস মডেল কৃষকদের চাহিদা ও সরবরাহের প্রবণতা বুঝতে সাহায্য করে। মরশুম জিপিটি এবং কিষান ই-মিত্রের মতো উদ্যোগ আঞ্চলিক ভাষায় তাৎক্ষণিক ও স্থানীয় কৃষি তথ্য প্রদান করে।

৩. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে এআই

এআই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও ব্যক্তিগতকৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজপ্রাপ্য করে তুলছে। এআই-চালিত প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিষয়বস্তু মানিয়ে নেয়। ভাষা অনুবাদের মাধ্যমে আঞ্চলিক ভাষায় বিষয়বস্তু প্রদান করে ভাষাগত বাধা দূর করা হচ্ছে। এআই-ভিত্তিক টিউটরিং সিস্টেম তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও ২৪ ঘণ্টা শিক্ষাসহায়তা দেয়। দীক্ষার মতো প্ল্যাটফর্ম এআই ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর জন্য প্রাসঙ্গিক শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করছে।

৪. আর্থিক ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে এআই

এআই আর্থিক নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তি ও পরিষেবার দক্ষতা বাড়াচ্ছে। রিয়েল টাইমে জালিয়াতি শনাক্ত করে ডিজিটাল লেনদেন সুরক্ষিত করা হচ্ছে। এআই-ভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিং ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়াচ্ছে। ব্যাংকিং চ্যাটবট ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা প্রদান করে অপেক্ষার সময় কমাচ্ছে। ব্যক্তিগতকৃত আর্থিক পণ্য ও পরামর্শ প্রদানেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

৫. শাসনব্যবস্থা ও জনপরিসেবায় এআই

এআই জনপরিসেবার দক্ষতা, প্রাপ্যতা ও স্বচ্ছতা বাড়াচ্ছে। আদালতের রায় আঞ্চলিক ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্মার্ট সিটি ব্যবস্থাপনায় যান চলাচল, বর্জ্য ও জননিরাপত্তা উন্নত হচ্ছে। সরকারি প্রকল্প ও আবেদন প্রক্রিয়াকরণে সময় কমছে। বিচার বিভাগে মামলার ব্যবস্থাপনা ও আইনি প্রাপ্যতা উন্নত হচ্ছে।

এআই-এর কৌশলগত গুরুত্ব স্বীকার করে ভারত সরকার একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই পরিসর গঠনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ইন্ডিয়াএআই মিশন, এআই কম্পিউট পরিকাঠামো উন্নয়ন, দেশীয় এআই মডেল উন্নয়ন এবং বৃহৎ পরিসরের দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মসূচি দেশে দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য এআই গ্রহণের ভিত্তি তৈরি করছে।

ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা, দায়িত্বশীল ও নৈতিক এআই প্রচার এবং অর্থনীতির অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলিতে এআই গ্রহণ ত্বরান্বিত করার উপর গুরুত্ব দেবে। এই সম্মেলন ভারতকে এআই উদ্ভাবন ও প্রয়োগের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হবে।

মৌলিক স্তম্ভ: এআই প্রভাবের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চালিকাশক্তি, তিন সূত্র ও সাত চক্র

ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এর লক্ষ্য হবে ফলাফলমুখী ও মানবকেন্দ্রিক এআই ব্যবহারের প্রসার। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পরিমাপযোগ্য সুফল প্রদানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সম্মেলনের ভিত্তি এআই ব্যবহারের দিশা নির্ধারক তিনটি মৌলিক স্তম্ভ বা ‘সূত্র’।

এই তিন সূত্রের উপর ভিত্তি করে আলোচনাগুলি সাতটি ‘চক্র’-এর মাধ্যমে সংগঠিত হবে।

১. মানবসম্পদ
২. সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য অন্তর্ভুক্তি
৩. নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য এআই
৪. স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন ও দক্ষতা
৫. বিজ্ঞান
৬. এআই সম্পদের গণতন্ত্রীকরণ
৭. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণের জন্য এআই

যৌথ শিক্ষালাভ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সর্বোচ্চ সমষ্টিগত সুফল অর্জন করতে এই চক্রগুলি একত্রে দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অংশীদারদের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রদান করে।

সম্মেলনের এআই প্রভাবিত অনুষ্ঠান

ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এর লক্ষ্য বিভিন্ন এআই ইমপ্যাক্ট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

প্রি-সামিট বা শীর্ষ সম্মেলন পূর্ববর্তী অনুষ্ঠান

ভারত ও বিদেশে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানগুলি প্রাথমিক পরামর্শ ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সহজতর করবে।

আঞ্চলিক এআই সম্মেলন
অক্টোবর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মেঘালয়, গুজরাট, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, কেরল ও তেলেঙ্গানায় আয়োজিত সম্মেলনগুলি আঞ্চলিক প্রয়োজন চিহ্নিত করবে।

মূল সম্মেলন

সাতটি চক্রের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনগুলিতে শিল্প, শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা অংশ নেবেন।

এআই কম্পেন্ডিয়াম

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হতে চলা এই সংকলনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই প্রয়োগের বাস্তব উদাহরণ থাকবে।

ফ্ল্যাগশিপ অনুষ্ঠানসমূহ
এআই ফর অল, এআই বাই হার, ইউভাই, গবেষণা সিম্পোজিয়াম, ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট এক্সপো ২০২৬ এবং ইন্ডিয়া এআই টিঙ্কারপ্রেনিয়র কর্মসূচি এই সম্মেলনের অংশ হবে।

সমাপ্তি

ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ ভারতের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের জন্য এআইকে একটি কৌশলগত সহায়ক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এই সম্মেলন শাসনব্যবস্থা, জনপরিসেবা, গবেষণা ও শিল্পক্ষেত্রে এআই প্রয়োগের বাস্তব পথ নির্দেশ করবে এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে।

তথ্যসূত্র
https://impact.indiaai.gov.in/

Click here to see PDF


SSS/RS


(रिलीज़ आईडी: 2217293) आगंतुक पटल : 6
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , Gujarati , Tamil