PIB Headquarters
azadi ka amrit mahotsav

ভারতের দুগ্ধ ক্ষেত্রের ডিজিটালাইজেশন একটি আধুনিক, স্বচ্ছ এবং কৃষক-কেন্দ্রিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার সুব্যবস্থা

प्रविष्टि तिथि: 09 JAN 2026 10:32AM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

 


মূল বিষয়

ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইভস্টক মিশনের আওতায় ৩৫.৬৮ কোটির বেশি পশুকে 'পশু আধার' দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের সঠিক পরিচালনা ও ট্র্যাকিং করা যায়।
৫৪টি মিল্ক ইউনিয়নের ১৭.৩ লক্ষের বেশি দুগ্ধ উৎপাদনকারী এই ব্যবস্থার সুফল পাচ্ছেন, যার ফলে পেমেন্ট স্বচ্ছ হয়েছে এবং কাজ দ্রুত হচ্ছে।
তথ্য-নির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে এবং কাজের মান যাচাই করতে ১৯৮টি মিল্ক ইউনিয়ন এবং ১৫-টি ফেডারেশন এই সিস্টেম ব্যবহার করছে।
জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে দুধ সরবরাহের পথ বা রুট উন্নত করা হয়েছে, যার ফলে অনেক রাজ্যে সমবায় সমিতিগুলির যাতায়াত খরচ অনেকটাই কমেছে। সূচনা
বিশ্বের মোট দুধ উৎপাদনের ২৫% ভারত একাই উৎপাদন করে। এই বিশাল ক্ষেত্রটিকে আরও আধুনিক করতে ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, কাজে স্বচ্ছতা আনা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষক ও সমবায় সমিতিগুলির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে ভারতের দুগ্ধ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করা।

জাতীয় ডিজিটাল পশুপালন মিশন  জাতীয় ডিজিটাল পশুপালন মিশন (NDLM) হল, ভারত সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, যা ‘ভারত পশুধন’ নামক একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের পশুপালন ক্ষেত্রকে আধুনিক করে তুলছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পশুকে ১২-সংখ্যার বারকোডযুক্ত একটি ইউনিক আইডি বা ‘পশু আধার’ দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে পশুর টিকাকরণ, প্রজনন এবং চিকিৎসার সমস্ত তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেসে সংরক্ষিত থাকে। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৫.৬৮ কোটিরও বেশি পশুকে এই আধারের আওতায় আনা হয়েছে এবং ৮৪ কোটির বেশি তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।কৃষকদের সহায়তার জন্য এখানে ‘১৯৬২’ টোল-ফ্রি নম্বর ও অ্যাপের সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে তাঁরা ঘরে বসেই পশু চিকিৎসা পরিষেবা ও সরকারি প্রকল্পের তথ্য পেতে পারেন। মূলত উন্নত প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে পশুর উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং পশুপালকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করাই এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য। 

স্বয়ংক্রিয় দুগ্ধ সংগ্রহ ব্যবস্থা
ভারতের দুগ্ধ সমবায় মডেলকে আরও স্বচ্ছ ও কৃষক-বান্ধব করতে ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড  স্বয়ংক্রিয় দুগ্ধ সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু করেছে। এটি একটি সমন্বিত সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, যা দুধের পরিমাণ ও গুণমান ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেকর্ড করে সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেয়। ওপেন-সোর্স প্রযুক্তিতে তৈরি এই ব্যবস্থায় হাতে কলমে হিসাবের ভুল বা জালিয়াতি বন্ধ হয় এবং কৃষকরা রিয়েল-টাইম এসএমএস-এর মাধ্যমে তাদের লেনদেনের তথ্য পান। বর্তমানে ১২-টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রায় ২৬,০০০ সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১৭.৩ লক্ষের বেশি দুগ্ধ উৎপাদনকারী এই ডিজিটাল ব্যবস্থার সুবিধা পাচ্ছেন, যা পুরো দুগ্ধ শিল্পে স্বচ্ছতা ও কাজের গতি বাড়িয়েছে।

সমন্বিত AMCS সমাধানটি মূলত তিনটি প্রধান স্তরে কাজ করে: প্রথমত, সমবায় সমিতি স্তরের জন্য একটি বহুভাষিক DCS অ্যাপ্লিকেশন, যা উইন্ডোজ বা অ্যান্ড্রয়েড সমস্ত প্ল্যাটফর্মেই চলে; দ্বিতীয়ত, ইউনিয়ন ও জাতীয় স্তরের জন্য একটি কেন্দ্রীয় পোর্টাল এবং তৃতীয়ত, সম্পাদক, সুপারভাইজার ও কৃষকদের জন্য আলাদা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। এই মোবাইল অ্যাপটি কৃষকদের জন্য ‘ডিজিটাল পাসবুক’ হিসেবে কাজ করে এবং আধিকারিকদের সঠিক সময়ের তথ্য ও সতর্কবার্তা প্রদান করে। ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২.৪৩ লক্ষ কৃষক এবং ১৫ হাজারেরও বেশি সুপারভাইজার ও সম্পাদক এই আধুনিক অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

এনডিডিবি ডেয়ারি ইআরপি
NDERP দুগ্ধ ও ভোজ্য তেল শিল্পের জন্য তৈরি একটি আধুনিক এবং ওয়েব-ভিত্তিক পরিচালনা ব্যবস্থা। এটি একটি ওপেন-সোর্স প্ল্যাটফর্মে তৈরি, যার জন্য কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করার প্রয়োজন হয় না এবং কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে সহজেই ব্যবহার করা যায়। পরিবেশকদের জন্য এটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপেও উপলব্ধ। এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং এর জন্য কোনো লাইসেন্স ফি দিতে হয় না।

NDERP ব্যবস্থায় অর্থ ও হিসাবরক্ষণ, কেনাকাটা, মজুত রক্ষণাবেক্ষণ, বিপণন, উৎপাদন এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ যুক্ত রয়েছে। প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এতে উন্নত কর্মপদ্ধতি এবং তথ্যের নির্ভুলতা যাচাইয়ের  ব্যবস্থা আছে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হল, এটি স্বয়ংক্রিয় দুগ্ধ সংগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এর ফলে, দুগ্ধ সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ এবং গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি একটি ডিজিটাল চেইনে পরিণত হয়। এছাড়া, উৎপাদন পর্বে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এটি দুধের অপচয় কমিয়ে ডেয়ারিগুলির দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।

সিমেন স্টেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম 

সিমেন স্টেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হল, একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা ভারত সরকারের নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে উন্নত মানের হিমায়িত সিমেন  উৎপাদন নিশ্চিত করে। এই ব্যবস্থাটি ষাঁড়ের জীবনচক্র থেকে শুরু করে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, বায়োসিকিউরিটি বা জৈব নিরাপত্তা এবং বিক্রয় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে ডিজিটাল মনিটরিং ও আরএফআইডি  ট্যাগের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে পরিচালনা করে। এটি জাতীয় পোর্টাল এবং 'পশু আধার'-এর মতো মাঠ পর্যায়ের সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সারা দেশে সরবরাহ করা সিমেনের উৎস ও গুণমান সহজেই ট্র্যাক করা যায়। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ন্যাশনাল ডেয়ারি প্ল্যান-১-এর অধীনে তৈরি এই প্রযুক্তিটি বর্তমানে ভারতের ৩৮-টি গ্রেডেড সিমেন স্টেশনে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা গবাদি পশুর প্রজনন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সরল করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করছে।

ইন্টারনেট-ভিত্তিক দুগ্ধ তথ্য ব্যবস্থা

দুগ্ধ ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড  ইন্টারনেট-ভিত্তিক দুগ্ধ তথ্য ব্যবস্থা তৈরি করেছে। এটি একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেখানে দুগ্ধ সমবায়, ইউনিয়ন এবং ফেডারেশনগুলি দুধ সংগ্রহ, বিক্রি, উৎপাদন ও কারিগরি তথ্যের আদান-প্রদান ও বিশ্লেষণ করতে পারে। এর মাধ্যমে প্রতিটি সংস্থা নিজেদের কাজের মান অন্য সংস্থার সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ পায়। বর্তমানে দেশের প্রায় ১৯৮টি ইউনিয়ন এবং ১৫-টি ফেডারেশন এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, যা একটি শক্তিশালী জাতীয় দুগ্ধ ডাটাবেস তৈরি করতে সাহায্য করছে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটিকে আরও কার্যকর করে তোলা হচ্ছে যাতে তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক নীতি নির্ধারণ করা যায়।

দুধ সংগ্রহ ও পরিবহন রুটের অপ্টিমাইজেশন

ভারতের দুগ্ধ সরবরাহ শৃঙ্খলের সাফল্যের জন্য দুধ সংগ্রহ ও পরিবহনের দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়াকে আরও সাশ্রয়ী ও সুসংগঠিত করতে জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন বোর্ড (এনডিডিবি) জিআইএস (ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা) প্রযুক্তির মাধ্যমে মিল্ক রুট অপ্টিমাইজেশন চালু করেছে। এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাতে-কলমে পরিকল্পনার পরিবর্তে ডিজিটাল মানচিত্রে দুধ সংগ্রহ ও বিতরণ রুট ম্যাপ করা হয়, যার ফলে, একাধিক বিকল্প রুট সহজে দেখা যায় এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়।

জিআইএস-ভিত্তিক রুট পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিবহন দূরত্ব, জ্বালানি ব্যয় ও সময় কমে আসে, ফলে, দুধ সংগ্রহ ও সরবরাহের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এনডিডিবি ২০২২ সালের আগস্টে বিদর্ভ–মারাঠওয়াড়া দুগ্ধ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মিল্ক রুট অপ্টিমাইজেশনের কাজ শুরু করে। এই প্রকল্পে চারটি দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের রুট পুনর্নকশা করা হয়, যার ফলে পরিবহন ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় সম্ভব হয়। একই ধরনের উদ্যোগ বারাণসী মিল্ক ইউনিয়ন, পশ্চিম অসম মিল্ক ইউনিয়ন, ঝাড়খণ্ড মিল্ক ফেডারেশন এবং ইন্দোর মিল্ক ইউনিয়ন-এও বাস্তবায়িত হয়েছে এবং সেখানেও উৎসাহজনক ফল মিলেছে।

এই প্রযুক্তি সর্বস্তরে গ্রহণে সহায়তা করতে এনডিডিবি একটি ওয়েব-ভিত্তিক রুট প্ল্যানিং সফটওয়্যার তৈরি করেছে, যা বৈজ্ঞানিক, কাঠামোবদ্ধ ও ব্যবহার-উপযোগী উপায়ে ফ্লিট ও রুট অপ্টিমাইজেশন করতে সক্ষম। দুগ্ধ সমবায়গুলির জন্য বিনামূল্যে উপলব্ধ এই টুলটি রিয়েল-টাইম রুট পরিকল্পনার সুযোগ দেয় এবং কার্যকর অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে। প্রযুক্তির সঙ্গে সমবায় দক্ষতার সংযোগ ঘটিয়ে এনডিডিবির এই রুট অপ্টিমাইজেশন উদ্যোগ ভারতের দুগ্ধ ক্ষেত্রে সুস্থায়ী ও সাশ্রয়ী দুধ পরিবহনের এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে।

উপসংহার

বিশ্বের মোট দুধ উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশের যোগান দেওয়া ভারতের দুগ্ধ ক্ষেত্র বর্তমানে জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন পর্ষদের নেতৃত্বে এক উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এনডিএলএম, এএমসিএস, এনডিইআরপি, এসএসএমএস, আই-ডিআইএস এবং রুট অপ্টিমাইজেশন টুল, এই সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে ক্ষেত্রটি আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠছে। এই ব্যবস্থাগুলি কেবল উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে না, বরং অসংখ্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক দুগ্ধচাষিকে সরাসরি একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করছে।

সমবায় শক্তি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের সমন্বয়ে ভারত সুস্থায়ী দুগ্ধ উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে, যেখানে প্রতিটি লিটার দুধ ও প্রতিটি প্রাণী একটি সংযুক্ত, অনুসরণযোগ্য এবং সুদক্ষ মূল্য শৃঙ্খলের অংশ। এই চলমান উদ্যোগগুলি একটি ডিজিটালভাবে ক্ষমতায়িত দুগ্ধ ক্ষেত্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনডিডিবির সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যা উৎপাদক ও ভোক্তা, উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করে নিরাপদ, সুস্থায়ী ও প্রযুক্তিনির্ভর দুধ উৎপাদনে বিশ্বনেতৃত্বের পথে ভারতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র

  • PIB
  1. https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2114715
  2. https://www.pib.gov.in/PressReleseDetail.aspx?PRID=2115188
  1. https://amcs.nddb.coop/
  2. https://amcs.nddb.coop/Home/UnionDetails
  3. https://amcs.nddb.coop/Home/About
  • NDDB Dairy ERP –
  1. https://nderp.nddb.coop/subpage?i-NDERP
  2. https://nderp.nddb.coop/subpage?m-NDERP
  3. https://nderp.nddb.coop/subpage?NDERP

Click here to see pdf 

 

***********
SSS/AS/SS..


(रिलीज़ आईडी: 2213124) आगंतुक पटल : 7
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Gujarati , Tamil