প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

প্রকাশিত: 25 JAN 2024 4:42PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ২৫ জানুয়ারি ২০২৪

 


ভারত মাতার জয়!

ভারত মাতার জয়!

উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দিবেন প্যাটেল জী, শ্রদ্ধেয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জী, উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী ভি.কে. সিং জী,  ভারতীয় জনতা পার্টির উত্তরপ্রদেশের সভাপতি শ্রী ভূপেন্দ্র চৌধুরী জী, অনুষ্ঠানে উপস্থিত শ্রদ্ধেয় প্রতিনিধিরা এবং আমার বুলন্দশহরের প্রিয় ভাই ও বোনেরা!  

যে ভালোবাসা এবং আস্থা আপনারা আমার দিয়েছেন তা অপরিমেয়। আপনাদের ভালবাসায় আমি আপ্লুত। এই অনুষ্ঠানে আমি অনেক ভাই ও বোনেদের দেখতে পাচ্ছি। রান্নার এই সময়ে তাঁরা ঘরের কাজ ফেলে এখানে এসেছেন, দেখে আমি অভিভূত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল মহিলাকে বিশেষ ভাবে শুভেচ্ছা জানাই। 

পবিত্র অযোধ্যা ধামে ২২ জানুয়ারি ভগবান শ্রী রামের আশীর্বাদ নিয়ে আসার পর এখানে আসার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আজ পশ্চিম উত্তর প্রদেশে ১৯ হাজার কোটি টাকার একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেছি। এই প্রকল্পগুলি রেল, সড়ক, তেলের পাইপলাইন, জল সরবরাহ, মেডিকেল কলেজ, শিল্পশহর, যমুনা ও রামগঙ্গা নদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সঙ্গে সংযুক্ত। আমি বুলন্দশহর সহ পশ্চিম উত্তর প্রদেশের সকলকে এজন্য অভিনন্দন জানাই। 


ভাই ও বোনেরা, 

এই অঞ্চল কল্যাণ সিং জীর মতো বিশিষ্ট এক মানুষকে উপহার দিয়েছে, যিনি ভগবান রাম ও দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আজ তিনি আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু তাঁর আত্মা অযোধ্যা ধামকে দেখে আনন্দ পেয়েছে। কল্যাণ সিং জীর স্বপ্নকে পূরণ করার সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের। প্রকৃত সামাজিক ন্যায় যাতে সকলের কাছে পৌঁছায়, কল্যাণ সিং জীর সেই অসমাপ্ত কাজকে আমরা সমাপ্ত করব।

বন্ধুগণ, 

অযোধ্যায় আমি রামলালার উপস্থিতি অনুভব করেছি। আর এখন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করা হবে। আমরা দেব থেকে দেশে এবং রাম থেকে রাষ্ট্রে উন্নীত হচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। উত্তরপ্রদেশে দ্রুত হারে উন্নয়নের ফলে সমস্ত সম্পদকে যথাযথ ভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। আজ আমরা সেই লক্ষ্যে আর এক ধাপ এগিয়েছি। 

বন্ধুগণ, 

স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন ভারতের উন্নয়ন গুটিকয়েক জায়গাতে হয়েছে। বাকি সব অঞ্চল ছিল অনুন্নত। উত্তর প্রদেশের মতো বিপুল সংখ্যার নাগরিকের রাজ্যে যতটা উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তার কিছুই হয়নি। সেই সময় যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন তাঁরা সম্রাটের মতো আচরণ করতেন। জনগণকে দারিদ্র্যের মধ্যে রেখে দিয়ে তাঁরা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে উত্তরপ্রদেশের বহু মানুষ সেই অব্যবস্থার শিকার হয়েছেন। আচ্ছা উত্তরপ্রদেশের কি প্রথমে শক্তিশালী হওয়া উচিত ছিল না? রাজ্যের সাংসদ হিসেবে আমার কিছু বিশেষ দায়িত্ব আছে। 

আমার প্রিয় পরিবারের সদস্যরা, 

২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠিত হওয়ার পর রাজ্যে আর্থিক উন্নয়ন শুরু হয়। বর্তমানে দেশে যে দুটি প্রতিরক্ষা করিডোর হচ্ছে, তার একটি উত্তরপ্রদেশে। দেশ বর্তমানে দ্রুত গতিতে জাতীয় সড়ক নির্মাণ দেখছে। এগুলির মধ্যে অনেকগুলি পশ্চিম উত্তর প্রদেশে। আমরা এখন রাজ্যের প্রতিটি কোণায় আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছি। ভারতে প্রথম নমো ভারত ট্রেন প্রকল্প পশ্চিম উত্তরপ্রদেশেরই হয়েছে। রাজ্যের অনেক শহরে মেট্রোরেল পরিষেবা শুরু হয়েছে। ইস্টার্ন এবং ওয়েস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর এই রাজ্যে থাকায় উত্তরপ্রদেশ ব্যবসা বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেওয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ শেষ হলে এই অঞ্চল আরও উন্নত হবে।  

সরকারের উদ্যোগের কারণে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে এখন নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডা ইন্টারন্যাশনাল স্মার্ট সিটি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দৈনন্দিন জীবনের সবধরনের গুরুত্বপূর্ণ জিনিস এই অঞ্চলে পাওয়া যাচ্ছে। এই শহর বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন খুলে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ক্ষুদ্র শিল্প ও হস্তশিল্প এর ফলে উপকৃত হবে। কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলিও এর সুফল পাবে। 

বন্ধুগণ, 

আপনারা তো জানেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় আগে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য যথাযথ সময়ে বাজারে নিয়ে যেতে পারতেন না। তাই তাঁরা বহু টাকা খরচ করে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যেতেন। 

আমার পরিবারের প্রিয় সদস্যরা,  

ডাবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই কৃষক এবং দরিদ্র পরিবারগুলির জীবনযাত্রা আরও সহজ সরল হয়েছে। এজন্য আমি যোগীজীর সরকারকে অভিনন্দন জানাই। অতীতে আখ, গম, ধান-সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর সেগুলি যখন কৃষকরা বিক্রি করতেন তার দাম পেতে অনেক দেরি হতো। কিন্তু আমাদের ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কারণে এখন কৃষক ফসল বিক্রির টাকা সহজেই পেয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা চলে আসছে। বর্তমানে ডাবল ইঞ্জিন সরকার আখচাষীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছে। আমাদের সরকার ইথানল উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তাই তাঁদের আয় বৃদ্ধির জন্য সরকার ইথানলের উৎপাদন বাড়িয়েছে। 

বন্ধুগণ, 

আমাদের সরকার কৃষকদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। বর্তমানে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক পরিবার যাতে সর্বাঙ্গীন এক নিরাপত্তার আওতায় আসে সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যয় সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আজ যেখানে বিশ্বের বাজারে এক ব্যাগ ইউরিয়ার দাম ৩০০০ টাকা, ভারতে কৃষকরা সেই সার পাচ্ছেন ৩০০ টাকারও কম দামে। এছাড়াও, ন্যানো ইউরিয়া সার বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। এক বোতল সার একটি বড় সারের বস্তার থেকে বেশি কার্যকর। এর ফলে, কৃষকের কৃষিকাজের ব্যয় যেমন কমবে, তাঁদের সাশ্রয়ও বাড়বে। সরকার পিএম কিষাণ সম্মাননিধি যোজনায় কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ৩ লক্ষ কোটি টাকা পাঠিয়েছে। 

আমার পরিবারের প্রিয় সদস্যরা, 

দেশে কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পিএসিএস, সমবায় সমিতি, কৃষিপণ্য উৎপাদক সংগঠনের মতো প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এই সংগঠনগুলি ক্ষুদ্র চাষীকে নানাভাবে সহায়তা করছে। এছাড়াও, এতদিন খাদ্যশস্য মজুত রাখার জন্য বেশি জায়গা ছিল না। কিন্তু বর্তমান সরকার দেশজুড়ে হিমঘর নির্মাণে সহায়তা করছে। 

বন্ধুগণ, 

কৃষিকাজের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিকে যুক্ত করতে আমরা উদ্যোগী হয়েছি। গ্রামাঞ্চলে মহিলাদের বিপুল সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ‘নমো ড্রোন দিদি’ প্রকল্প সূচনা করেছে। এই প্রকল্পে মহিলাদের স্বনির্ভরগোষ্ঠীগুলির সদস্যদের ড্রোন পাইলটের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাঁদের ড্রোনও দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এই নমো ড্রোন দিদিরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে এবং কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। 

বন্ধুগণ, 

গত ১০ বছরে আমাদের সরকার কৃষক কল্যাণে যত কাজ করেছে এর আগে অন্য কোন সরকার এত কাজ করেনি। ক্ষুদ্র চাষীরা প্রত্যেকটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। কোটি কোটি পাকাবাড়ি নির্মিত হয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষক এবং ক্ষেতমজুররা এই প্রকল্পের মূল সুবিধাভোগী। গ্রামাঞ্চলে কোটি কোটি শৌচাগার নির্মিত হয়েছে। নলবাহিত কলের জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কৃষি পরিবারগুলির মা ও বোনেরা সবথেকে বেশি এই সুবিধা পেয়েছেন। এই প্রথম কৃষক এবং ক্ষেতমজুরের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

পিএম ফসল বীমা যোজনায় কৃষি কাজের ক্ষতি হলে ১ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ দেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে রেশন, স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত সুবিধাপ্রাপকরা পান, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এজন্য মোদীর ‘গ্যারান্টির গাড়ি’ প্রত্যেক গ্রামে পৌঁছেছে। উত্তরপ্রদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ এতে উপকৃত হয়েছেন। 

ভাই ও বোনেরা, 

মোদী বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে শপথ নিয়েছে। যখন কোন সরকার তার প্রকল্পগুলির সুবিধা প্রত্যেক সুবিধা প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেয়, তখন আর বৈষম্য বা দুর্নীতির কোন সুযোগ থাকে না। এই ধারণা আসলে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক ন্যায় থেকে তৈরি হয়। একজন কৃষক যে সমাজেরই অন্তর্ভুক্ত হোক না কেন, তার চাহিদা এবং স্বপ্ন ওই সমাজের নিয়ম অনুসারে হয়। একই ভাবে কোন সমাজের মহিলার চাহিদাও একই থাকে, আর তাই মোদী প্রত্যেকের কাছে তাঁর চাহিদা পূরণের জন্য পৌঁছে যেতে চান। এখানে বৈষম্যের কোন স্থান নেই। 

স্বাধীনতার পরে গরিবী হটাও বলে দীর্ঘদিন ফাঁকা বুলি আওড়ানো হয়েছে। সামাজিক ন্যায়ের নামে লম্বা লম্বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গরিবরা প্রত্যক্ষ করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক নেতার পরিবারেই শুধু সমৃদ্ধি এসেছে। সাধারণ মানুষ, দলিত এবং পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের লোকেরা অপরাধ ও দাঙ্গার ভয়ে কুঁকড়ে থাকতেন। কিন্তু এখন দেশে পরিবর্তন এসেছে। গত ১০ বছরে আমাদের সরকারের সময়কালে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছেন। বাকি মানুষেরাও আশা করছেন, একদিন তাঁরাও দারিদ্র্যের নাগপাশ থেকে মুক্ত হবেন। 

বন্ধুগণ, 

আমার কাছে আপনারাই আমার পরিবার। আপনাদের আকাঙ্খা পূরণই আমার অঙ্গীকার। তাই যখন আপনাদের মতো দেশের সাধারণ পরিবারের মানুষের ক্ষমতায়ন হয়, তখন আসলে সেটি মোদীর জন্য সম্পদ। গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র মানুষ, যুবসম্প্রদায়, মহিলা এবং কৃষকদের সরকারের উদ্যোগে ক্ষমতায়ন হচ্ছে। 

আজ আমি দেখলাম কয়েকজন সাংবাদিক বলছেন, মোদী বুলন্দশহর থেকে লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করবেন। কিন্তু মোদী উন্নয়ন যজ্ঞ শুরু করেছেন, দরিদ্রদের কল্যাণে কাজ করছেন। মোদীর নির্বাচনী প্রচার শুরু করার কোন প্রয়োজন নেই। মোদীর জন্য জনগণই প্রচার করবেন। যখন জনগণ এই কাজ করবেন, তখন মোদী তাঁদের সেবা করার জন্য, তাঁদের চাহিদা পূরণের জন্য কাজ করবেন। 

আজ যে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির সূচনা হয়েছে তার জন্য আপনাদের সকলকে আরও একবার অভিনন্দন জানাই। আপনারা সকলে আমার সঙ্গে বলুন -

ভারত মাতার জয়!

ভারত মাতার জয়!

ভারত মাতার জয়!

অনেক অনেক ধন্যবাদ!


(প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণটি হিন্দিতে ছিল)


******

SSS/CB/AS


(রিলিজ আইডি: 2177954) ভিজিটরের কাউন্টার : 28