উপ-রাষ্ট্রপতিরসচিবালয়
বিশ্বশক্তি হিসেবে ভারতের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক শক্তির উত্থানও আবশ্যক: উপরাষ্ট্রপতি
Posted On:
10 JUL 2025 2:03PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১০ জুলাই, ২০২৫
উপরাষ্ট্রপতি শ্রী জগদীপ ধনখড় বলেছেন, বিশ্বশক্তি হিসেবে ভারতের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে বৌদ্ধিক এবং সাংস্কৃতিক শক্তির উত্থানও আবশ্যক। কারণ, একটি দেশের শক্তি তার চিন্তাভাবনার মৌলিকত্ব, তার মূল্যবোধ এবং বুদ্ধিগত ঐতিহ্যের স্থিতিস্থাপকতার মধ্যে নিহিত রয়েছে।
উপনিবেশ পরবর্তী সময়ে গঠিত ভারতের পরিচয় পুনর্ব্যক্ত করে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, ভারত কেবল বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক দেশ নয়। এটি একটি সভ্যতার ধারাবাহিকতা- চেতনা, অনুসন্ধান এবং শিক্ষার একটি প্রবাহমান নদী যা এখনও টিকে রয়েছে।
তিনি বলেন, আদি অন্তর্দৃষ্টিগুলিকে আদিম অতীতের ধ্বংসাবশেষ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আরও দুঃখজনক বিষয় হল, স্বাধীনতার পরেও এই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। পশ্চিমের বিষয়গুলিকে সর্বজনীন সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। অসত্যকে সত্য হিসেবে চালানো হয়েছিল।
ভারতের বৌদ্ধিক যাত্রার ঐতিহাসিক ভাঙনের কথা স্মরণ করে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে ইসলামিক আক্রমণ ভারতীয় বিদ্যা পরম্পরার গৌরবময় যাত্রায় প্রথম অন্তরায় সৃষ্টি করেছিল। আলিঙ্গন এবং আত্মীকরণের পরিবর্তে অবজ্ঞা ও ধ্বংসের সৃষ্টি হয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা দ্বিতীয় অন্তরায় তৈরি করে। তখন শিক্ষার কেন্দ্রগুলিকে তারা তাদের নিজেদের স্বাথে পরিবর্তন করে।
নতুন দিল্লিতে ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থা (আইকেএস)-র বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। শ্রী ধনখড় বলেন, ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অনেক আগেই ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিজেদের শিক্ষার সমৃদ্ধ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আমাদের প্রাচীন ভূমি ছিল বৌদ্ধিক জীবনের আলোকিত কেন্দ্র- তক্ষশীলা, নালন্দা, বিক্রমশীলা, বল্লভী এবং ওদন্তপুরী এর প্রমাণ। এগুলি ছিল জ্ঞানের সুউচ্চ প্রতিষ্ঠান। তাদের গ্রন্থাগারগুলি জ্ঞানের অগাধ সমুদ্র ,যেখানে হাজার হাজার পাণ্ডুলিপি ছিল।
তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কোরিয়া, চিন, তিব্বত এবং পারস্যের মতো দেশ থেকে অনেকেই আসতেন। এই স্থানগুলিতে বিশ্বের বুদ্ধিজীবিরা ভারতের চেতনাকে গ্রহণ করতেন। ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে উপরাষ্ট্রপতি বাস্তব কর্মকাণ্ডের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন। সংস্কৃত, তামিল, পালি এবং প্রাকৃতের মতো সমস্ত ধ্রপদী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করে ধ্রপদী ভারতীয় গ্রন্থের ডিজিটাইজড ভাণ্ডার তৈরি করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। উপরাষ্ট্রপতি জানান, এই ভাণ্ডারগুলিকে এমন ভাবে গড়ে তোলা উচিত যাতে দেশের পণ্ডিতদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে গবেষকরা কাজে লাগাতে পারেন। ঐতিহ্য এবং উদ্ভাবনের মধ্যে গতিশীল সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের জ্ঞান উদ্ভাবনের অন্তরায় নয় বরং এটি অনুপ্রাণিত করে।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
SC/SS/NS…
(Release ID: 2143733)
Visitor Counter : 3