তথ্যওসম্প্রচারমন্ত্রক
শৈশব গড়ন এবং এর আর্থ-সামাজিক অনুষঙ্গ : ইউনিসেফ-এর সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে ৫৪তম আইএফএফআই-এর বিশেষ বিভাগে ৫টি ছবির প্রদর্শন
গোয়া, ২৬ নভেম্বর, ২০২৩
ইউনিসেফ আইএফএফআই-এর যৌথ উদ্যোগে ৫৪তম ভারত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ৫টি উল্লেখযোগ্য ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। ছবিগুলিতে শৈশব গড়ার ক্ষেত্রে প্রাণবন্তময় শক্তি এবং এর আর্থ-সামাজিক অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে।
চলতি বছরে ইউনিসেফ এবং জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন নিগম (এনএফডিসি) চলচ্চিত্র শিল্পের নজর কাড়তে এবং শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। শিশু ও মহিলাদের বিরুদ্ধে হিংসা সম্পর্কে সবার নজর কাড়তে এই যৌথ অংশীদারিত্ব। সেই সঙ্গে নাগরিক সমাজের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।
ইউনিসেফের ভারতীয় শাখার কমিউনিকেশন প্রধান জাফরিন চৌধুরী বলেন, "এই নিয়ে দ্বিতীয় বছর আইএফএফআই-এ এনএফডিসি-র সহযোগী হতে পেরে ইউনিসেফ অত্যন্ত আনন্দিত। এই ছবিগুলি শিশুর অধিকার সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।" তিনি শিশুদের ওপর তৈরি এই সব ছবির প্রচারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের মানুষজন, সমালোচক এবং দর্শকদের কাছে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে আইএফএফআই হল একটি উপযুক্ত মঞ্চ।
নিম্নলিখিত ছবিগুলি বিশেষ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে -
দামু: পরিচালক রাজা সেনের জাতীয় পুরস্কার জয়ী বাংলা ছবি হল দামু। দামু হলেন গ্রামের এক অত্যন্ত সাধাসিধে সরল মনের মানুষ। একটি ছোট্ট মেয়ের কাছে দামু প্রতিজ্ঞা করেছিল যে, তাকে হাতি দেখাবে। বাংলার অজ পাড়াগাঁয়ে হাতি কোথায় মিলবে! কিন্তু প্রতিজ্ঞা পালন করতে হাতি খোঁজে বেরিয়ে পড়ে দামু। শুরু হয় দামুর অ্যাডভেঞ্চার। নানা জায়গা ঘুরে, নানা বিপদের মাঝে পড়ে, বহু প্রতিকূলতাকে জয় করে শেষে দামু কি পারবে তার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে?
ফর দ্য সেক অফ আভা: ইরানের পরিচালক মোহসেন সেরাজির প্রথম কাহিনী চিত্র হল এটি। পার্সি ভাষায় তৈরি এই ছবিতে ইরানের একটি থিয়েটার গোষ্ঠীর পাসপোর্ট সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সমস্যার মূলে ছিলেন, মিশ্র পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে এই গোষ্ঠীর প্রধান অভিনেত্রী আভা। আভাকে সাহায্য করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এই নাট্যগোষ্ঠীর সদস্যরা ঘুষ, মানুষ পাচার সহ নানা ঝুঁকিপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁরা পাসপোর্ট উদ্ধার করেন এবং বিদেশে উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।
গান্ধী অ্যান্ড কোং: ২০২৩-এর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ক্ষেত্রে স্বর্ণকমল জয়ী সেরা শিশু ছবি। মণীশ সাইনি পরিচালিত এই গুজরাতী ছবিতে দুষ্টুবুদ্ধিতে ভরা দুই বালকের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এদের একজন গান্ধীজির শিক্ষাকে মূর্ত করে তোলার চেষ্টা করে এবং অন্যজন গান্ধীজিকে অনুকরণ করার সিদ্ধান্ত নিলেও নিজের দুষ্টুমির পথ পরিহার করতে পারে না।
পিকক ল্যামেন্ট: ২০২২-এ টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা শৈল্পিক অবদান পুরস্কার জয়ী ছবি। সঞ্জীব পুষ্পকুমারের তৈরি এই সিংহলী ছবিতে শ্রীলঙ্কার এক তরুণ আমিলার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। নিজের বোন ইনোকার হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের জন্য ১৫, ০০০ পাউন্ড অর্থ সংগ্রহে নেমেছেন তিনি। অর্থের জন্য মরিয়া আমিলা শিশু পাচারে জড়িয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অপরাধ জগৎ থেকে বেরিয়ে আসেন।
সিঙ্গো: আলিরেজা মহম্মদী রাউজবাহানির তৈরি এই পার্সি ছবিতে শাফা নামে ছোট্ট বালিকার কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। এক মৎস্যজীবীর ধরা ৪টি মূল্যবান নাল কাঁকড়া বিক্রি করতে যাচ্ছেন দ্বীপবাসী মানুষ। একটি ছোট্ট বালিকা সেগুলিকে বিক্রির হাত থেকে রক্ষা করে। এতে দ্বীপবাসীরা ওই পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাঁরা ওই পরিবারকে বিতাড়িত করার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের মঙ্গল, নাকি কাঁকড়ার জীবন রক্ষা, এখন এই দুটির যে কোনও একটিকে বেছে নিতে হবে শাফাকে।
১৯৮৯-এ শিশুদের অধিকার রক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কনভেনশনে ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়। গোটা বিশ্ব এই চুক্তিকে সমর্থন জানায় এবং শিশুদের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে এই চুক্তি। কিন্তু এখনও বহু শিশু তাদের শৈশব জীবন ঠিকভাবে উপভোগ করতে পারে না।
ইউনিসেফ বিশ্বাস করে, শিশুদের অধিকার রক্ষায় আমাদের প্রজন্মের সবাইকে মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
PG/MP/AS/
(रिलीज़ आईडी: 1980076)
आगंतुक पटल : 176