নির্বাচনকমিশন

সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশন আজ কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে সীমানার বিন্যাস চূড়ান্ত করেছে

Posted On: 05 MAY 2022 3:23PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লী, ০৫  মে, ২০২২

 

সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের সভাপতিত্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শ্রী সুশীল চন্দ্র এবং কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচন কমিশনার শ্রী কে কে শর্মাকে নিয়ে গঠিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিটি আজ জম্মু ও কাশ্মীরের সীমানা পুর্নবিন্যাস চূড়ান্ত করতে বৈঠকে মিলিত হয়। এ সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি আজ প্রকাশিত হয়েছে।

চূড়ান্ত সীমানা পুর্নবিন্যাস অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যেদিন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে সেদিন থেকেই নিম্নলিখিত বিষয়গুলি কার্যকর হবে। 

কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে ৯০টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৪৩টি থাকছে জম্মু অঞ্চলে এবং ৪৭টি কাশ্মীর অঞ্চলে। সংশ্লিষ্ট সমস্ত সহযোগী সদস্য, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর ৯টি বিধানসভা কেন্দ্র তপশীলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৬টি জম্মু অঞ্চলে এবং ৩টি কাশ্মীর উপত্যকায়। 

সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে সংসদীয় কেন্দ্রের সংখ্যা ৫। সীমানা পুনর্নির্ধারণ  কমিশন সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীরকে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে গণ্য করেছে। সেই অনুযায়ী কাশ্মীর উপত্যকার অনন্তনাগ অঞ্চল তথা জম্মু অঞ্চলে রাজৌরি ও পুঞ্চ-কে মিলিত করে একটি নতুন সংসদীয় এলাকা তৈরি করা হয়েছে। এরফলে প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় সমসংখ্যক ১৮টি করে বিধানসভা কেন্দ্র থাকছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি বিবেচনায় রেখে কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। 

উল্লেখ করা যেতে পারে কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা ও সংসদীয় কেন্দ্রগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্দেশ্যে ২০০২-এর সীমানা পুর্নবিন্যাস আইনের ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতা বলে কেন্দ্রীয় সরকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশন গঠন করে। সীমানা পুর্নবিন্যাসের কাজে কমিশন কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীর থেকে লোকসভায় নির্বাচিত ৫ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে। লোকসভার অধ্যক্ষ এই ৫ জন সদস্যকে মনোনিত করেন। 

২০১১-এর জনগণনার ভিত্তিতে কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা ও লোকসভা কেন্দ্রগুলির সীমানা পুর্নবিন্যাসের দায়িত্ব সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিটিকে দেওয়া হয়। একইভাবে সংবিধানের ৩৩০ ও ৩৩২ নম্বর ধারায় প্রাসঙ্গিক সংস্থান তথা জম্মু ও কাশ্মীর পুর্নগঠন আইন ২০১৯-এর ১৪ নম্বর ধারার ৬ এবং ৭ উপধারা মোতাবেক বিধানসভায় তপশীলি জাতি ও তপশীলি উপজাতিদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে। সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশন সেই অনুযায়ী এই প্রথম জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় তপশীলি উপজাতির জন্য ৯টি আসন এবং তপশীলি জাতির জন্য ৭টি আসন সংরক্ষণ করেছে। উল্লেখ করা যেতে পারে পূর্বতন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের সংবিধানে বিধানসভায় তপশীলি উপজাতিদের জন্য আসন সংরক্ষণের কোনো সংস্থান ছিলনা। 

সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিটি প্রশাসনিক ইউনিট যেমন জেলা, তহসিল, পতওয়ার প্রভৃতি বিবেচনায় রেখে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি বিধানসভায় তপশীলি জাতি ও তপশীলি উপজাতিদের জন্য নির্বাচনী এলাকাগুলি চিহ্নিতকরণেও অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করে। যেসমস্ত এলাকায় তপশীলি জাতি ও তপশীলি উপজাতি মানুষের সংখ্যাধিক্য রয়েছে সেই এলাকাগুলিকে সংরক্ষিত আসন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

সীমানা পুর্নবিন্যাসের জন্য গত চৌঠা এপ্রিল জম্মুতে এবং ৫-ই এপ্রিল শ্রীনগরে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ এ সম্পর্কে নিজেদের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশ করে। সীমানা পুর্নবিন্যাসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর যারা অভিযোগ দাখিল এবং প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তাদের মতামত শোনা হয়। এরপর সীমানা পুর্ননির্ধারণ কমিটি সমস্ত মতামত বা পরামর্শ খতিয়ে দেখার জন্য এক অভ্যন্তরীণ বৈঠক আয়োজন করে। এই বৈঠকের ভিত্তিতেই খসড়া প্রস্তাবে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচনী এলাকার নাম পরিবর্তন সম্পর্কে যে মতামত ও পরামর্শ পাওয়া গেছে কমিশন তা গ্রহণ করেছে। সেই অনুযায়ী একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এমনকি একটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অন্য একটি কেন্দ্রে তহসিল স্থানান্তরের স্বপক্ষে একাধিক মতামত ও পরামর্শ পাওয়া যায়। কমিশন সেগুলি বিবেচনা করে গ্রহণ করেছে। 

কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা এবং সংসদীয় নির্বাচনী এলাকাগুলির সীমানা পুর্নবিন্যাসের কাজ ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের। এইজন্য কমিশন দু-বার জম্মু ও কাশ্মীর সফর করে। প্রথমবার সফরের সময় কমিশন শ্রীনগর, পাহেলগাম, কিস্তোয়ার এবং জম্মু এই চারটি এলাকার ২৪২টি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কমিশনের দ্বিতীয় সফরে গত চৌঠা ও ৫ই এপ্রিল যথাক্রমে জম্মু ও কাশ্মীরে যে সভার আয়োজন করা হয় সেখানে প্রায় ১৬০০ জন ব্যক্তি উপস্থিত থেকে তাদের মতামত জানান। 

সাধারণ মানুষের মতামত শোনার সময় কমিশন উদ্বাস্তু কাশ্মীরি এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে জম্মু কাশ্মীরে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে একাধিক মতামত ও পরামর্শ পায়। উদ্বাস্তু কাশ্মীরিরা কমিশনকে জানায় যে তাদেরকে জোর করে নিজ ভূমি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তাই তাদের রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা এবং সংসদীয় কেন্দ্রে আসন সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষ কমিশনকে জানায় তাদের জন্য বিধানসভা ও সংসদীয় কেন্দ্রে আসন সংরক্ষণ করা আবশ্যক। সেই অনুযায়ী সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিটি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একাধিক প্রস্তাব জমা দেয়। উল্লেখ করা যেতে পারে পূর্বতন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে শেষবার ১৯৯৫-এ বিধানসভার আসন পুর্নবিন্যাস করা হয়েছিল ১৯৮১-র জনগণনার ভিত্তিতে। 

 

CG/BD/NS



(Release ID: 1822995) Visitor Counter : 424