প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর জির ৪০০ তম প্রকাশ পরব উদযাপনে অংশগ্রহণ করেছেন


এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী একটি স্মারক মুদ্রা ও ডাক টিকিট প্রকাশ করেন

“শ্রদ্ধেয় গুরুদের শিক্ষায় দেশ এগিয়ে চলেছে”

“শত বছরের দাসত্ব থেকে ভারতের স্বাধীনতাকে তার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক যাত্রাকে আলাদা করা যায় না”

“ঔরঙ্গজেবের অত্যাচারী চিন্তাধারার সামনে গুরু তেগ বাহাদুর ‘হিন্দ দি চাদর’ হিসেবে কাজ করেছিলেন”

“আমরা ‘নতুন ভারতের’ আলোয় সর্বত্র গুরু তেগ বাহাদুর জির আশীর্বাদ অনুভব করি”

“আমরা গুরুদের জ্ঞান ও আশীর্বাদের মধ্যে ‘এক ভারত’ দেখতে পাই”

“আজকের ভারত বিশ্বব্যাপী সংঘাতের মধ্যেও সম্পূর্ণ স্থিতিশীলতার সঙ্গে শান্তির জন্য প্রয়াস চালাচ্ছে এবং ভারত দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সমানভাবে শক্তিশালী”

প্রকাশিত: 21 APR 2022 11:20PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ২১ এপ্রিল, ২০২২

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার (২১শে এপ্রিল) নতুন দিল্লির লালকেল্লায় গুরু তেগ বাহাদুর জির ৪০০ তম প্রকাশ পরব উদযাপনে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর কাছে প্রার্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী যখন প্রার্থনায় বসেন তখন ৪০০ জন শিখ সঙ্গীত শিল্পী শবদ/ কীর্তন পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে শিখ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানানো হয়। এদিন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একটি স্মারক মুদ্রা ও ডাক টিকিট প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুরুদের কৃপায়, শ্রদ্ধেয় গুরুদের শিক্ষা অনুযায়ী দেশ এগিয়ে চলেছে। গুরুদের চরণে প্রণাম জানান তিনি। শ্রী মোদী লালকেল্লার ঐতিহাসিক তাৎপর্যের উপর জোর দেন। কারণ, এই স্থান গুরু তেগ বাহাদুর জির আত্মবলিদান প্রত্যক্ষ করেছে এবং এখানে দেশের ইতিহাস ও আকাঙ্খা প্রতিফলিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিক স্থানে এদিনের অনুষ্ঠান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

শত বছরের দাসত্ব থেকে ভারতের স্বাধীনতা লাভের উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের স্বাধীনতাকে তার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক যাত্রা থেকে আলাদা করা যায় না। সেই কারণেই দেশ আজাদি কি অমৃত মহোৎসব এবং শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর জির ৪০০ তম প্রকাশ পরব একই সংকল্পের সঙ্গে উদযাপন করছে। তিনি বলেন, “আমাদের গুরুরা সর্বদা জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সমাজ এবং সংস্কৃতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তারা শক্তিকে সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখতেন।”

শ্রী মোদী বলেন, “ভারতের এই ভূমি শুধু একটি দেশ নয়, এখানে আমাদের মহান ঐতিহ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পরম্পরাগত প্রথা রয়েছে। এটি আমাদের ঋষি, গুরুদের মাধ্যমে শত সহস্র বছরের তপস্যার ফল এবং এতে চিন্তাধারা সমৃদ্ধি লাভ করেছে।” প্রধানমন্ত্রী জানান, নিকটবর্তী গুরুদ্বার শীশগঞ্জ সাহিব, যা গুরু তেগ বাহাদুর জির অমর আত্মত্যাগের প্রতীক। এটি আমাদের গুরু তেগ বাহাদুরের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী সেই সময়ে ধর্মের নামে যারা হিংসা চালিয়েছিলেন, তাদের ধর্মীয় উগ্রতা এবং চরম নৃশংসতার কথাও স্মৃতিচারণ করেন। শ্রী মোদী বলেন, “সেই সময়ে গুরু তেগ বাহাদুর জি ভারতের পরিচয় রক্ষার জন্য একটি বড় আশা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ঔরঙ্গজেবের অত্যাচারী চিন্তাধারার সামনে গুরু তেগ বাহাদুর জি ‘হিন্দ দি চাদর’ হয়ে পাথরের মতো দাঁড়িয়েছিলেন।” তিনি বলেন, গুরু তেগ বাহাদুর জির আত্মত্যাগ ভারতের বহু প্রজন্মকে তাদের সাংস্কৃতিক  মর্যাদা এবং সম্মান রক্ষার্থে বাঁচতে ও শহীদ হতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি আরও বলেন, বড় শক্তিগুলি অদৃশ্য হয়ে গেছে, বড় ঝড় শান্ত হয়েছে, কিন্তু ভারত এখনও অমর হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, এগিয়ে চলেছে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব আবারও আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, “আমরা ‘নতুন ভারতের’ আলোয় সর্বত্র গুরু তেগ বাহাদুর জির আশীর্বাদ অনুভব করি।” 

দেশের প্রতিটি কোণে গুরুর প্রভাব এবং তাঁদের জ্ঞানের আলোর উপস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুরু নানক দেব জি সমগ্র দেশকে এক সুতোয় বেঁধে ছিলেন। গুরু তেগ বাহাদুরের অনুগামীরা সর্বত্র রয়েছেন। পাটনার পবিত্র পাটনা সাহিব এবং দিল্লির রাকাবগঞ্জ সাহিবের কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী জানান, “আমরা গুরুদের জ্ঞান ও আশীর্বাদের মধ্যে সর্বত্র ‘এক ভারত’ দেখতে পাই।” শিখ ঐতিহ্য উদযাপনের জন্য সরকারের প্রয়াস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, গত বছর সরকার সাহিবজাদাদের মহান আত্মত্যাগের স্মরণে ২৬শে ডিসেম্বর বীর বাল দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইভাবে কেন্দ্রীয় সরকার শিখ ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত তীর্থস্থানগুলিকে যুক্ত করার জন্য নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। কর্তার সাহিবের জন্য অপেক্ষার দিন শেষ এবং অনেক সরকারি প্রকল্প এই পবিত্র স্থানগুলির তীর্থযাত্রাকে সহজ ও সুলভ করে তুলেছে। স্বদেশ দর্শন প্রকল্পের আওতায় আনন্দপুর সাহিব এবং অমৃতসর সাহিব সহ একাধিক বিশিষ্ট স্থানের সমন্বয়ে একটি তীর্থযাত্রা সার্কিট তৈরি হচ্ছে। হেমকুন্ড সাহিব রোপওয়ের কাজ চলছে। গুরু গ্রন্থ সাহিবের মহিমাকে প্রণাম জানিয়েছে শ্রী মোদী বলেন, “শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহিব জি আমাদের জন্য আত্ম-উপলব্ধির পথপ্রদর্শক এবং সেইসঙ্গে ভারতের বৈচিত্র্য ও ঐক্যের জীবন্ত উদাহরণ। তাই, আফগানিস্তানে যখন সঙ্কট দেখা দেয়, তখন সরকার কোনো খামতি রাখেনি এবং গুরু গ্রন্থ সাহিবের পবিত্র ‘স্বরূপ’ যথাযথ সম্মানের সঙ্গে দেশে নিয়ে আসা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আগত শিখ ও সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্বের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। 

ভারতের দর্শনের মূল কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, “ভারত কখনও কোনো দেশ বা সমাজের জন্য ভীতি প্রদর্শনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। আজও আমরা সারা বিশ্বের কল্যাণের জন্য চিন্তা করি। আমরা যখন আত্মনির্ভর ভারতের কথা বলি, তখন সমগ্র বিশ্বের অগ্রগতিকে সামনে রাখি।” আজকের ভারত বিশ্বব্যাপী সংঘাতের মধ্যেও সম্পূর্ণ স্থিতিশীলতার সঙ্গে শান্তির জন্য প্রয়াস চালাচ্ছে এবং ভারত দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সমানভাবে শক্তিশালী। আমাদের সামনে গুরুদের দেওয়া মহান শিখ ঐতিহ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গুরুরা পুরনো ভাবধারাগুলিকে একপাশে সরিয়ে রেখে নতুন চিন্তাধারাগুলিকে সামনে রেখেছিলেন। তাদের শিষ্যরাও সেই শিক্ষাই গ্রহণ করেছেন। নতুন চিন্তাধারার এই সামাজিক প্রচারাভিযান ছিল চিন্তন স্তরের উদ্ভাবন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “নতুন চিন্তা, কঠোর পরিশ্রম এবং ১০০ শতাংশ নিষ্ঠা, এটিই আজও আমাদের শিখ সমাজের পরিচয়। আজাদি কা অমৃত মহোৎসবের সময় এটিই দেশের সংকল্প। আমাদের পরিচয় নিয়ে গর্ব করতে হবে। আমাদের স্থানীয়দের জন্য গর্বিত হতে হবে, আমাদের একটি স্বনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে হবে।”

 

CG/SS/SKD/


(রিলিজ আইডি: 1818905) ভিজিটরের কাউন্টার : 151