Economy
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপি উপলব্ধি
Posted On:
02 SEP 2026 8:41PM
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এ বছর ৩১ আগস্ট ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষ ধরে বার্ষিক ও ত্রৈমাসিক জিডিপি উপলব্ধির নতুন ধারা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন এই ধারায় উৎপাদন ক্ষেত্রের জন্য 'ডাবল ডিফ্লেশন' (Double Deflation) পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে, যেটিকে IMF বা আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার একটি পছন্দসই পদ্ধতি হিসাবে বর্ণনা করেছে। এতে আউটপুট এবং মধ্যবর্তী স্তরে ভোগব্যয়ের স্ফিতিকে আলাদাভাবে হ্রাস করা হয়।
মূল্য সংকোচন পদ্ধতি
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে উৎপাদন ক্ষেত্রে ইনপুট মান আউটপুট মানের চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নামমাত্র স্থূল মূল্য সংযোজন (Nominal GVA) বৃদ্ধির হার (৭.৭%) প্রকৃত স্থূল মূল্য সংযোজন (Real GVA) বৃদ্ধির হারের (৯.২%) চেয়ে কম ছিল। এর ফলে, ইমপ্লিসিট জিভিএ বা পরোক্ষ জিভিএ মূল্য সংকোচক অবস্ফিতিকারকে -১.৫% নেতিবাচক মুদ্রাস্ফীতি দেখা যায়। আন্তর্জাতিক কাঁচামাল ও শক্তির মূল্যে ওঠানামার সময় উন্নত অর্থনীতিগুলির ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, কৃষিক্ষেত্রের মোট মূল্যসংযোজিত ফলাফল উৎপাদক মূল্য সূচক দিয়ে গণনা করা হয়। এই সময়ে কৃষি, বন ও মৎস্যক্ষেত্রের আউটপুট পিপিআই প্রায় ৫% বৃদ্ধি পাওয়ায় এর মুদ্রাস্ফীতি ৩.৯% (ধনাত্মক) ছিল।
বেসরকারি চূড়ান্ত ভোগব্যয় (PFCE) সরাসরি ডাবল ডিফ্লেশন বা দ্বৈত সংকোচন পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ, এটি একটি চূড়ান্ত চাহিদা এবং এতে বাদ দেওয়ার মতো কোনো মধ্যবর্তী ভোগ ব্যয় থাকে না।
ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) ৩.৯% এবং পাইকারি মূল্যসূচক (WPI) ৯%-এর বেশি হওয়া সত্ত্বেও জিডিপি ডিফ্লেটর ২.৫% হওয়ার মধ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই। কারণ, জিডিপি ডিফ্লেটর বা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের সূচকের কোনো সরাসরি লেনদেন মূল্য নয়, এটি পুরো অর্থনীতির মোট মূল্য সংযোজনের একটি অর্জিত সূচক। সিপিআই এবং ডাব্লিউপিআই নির্দিষ্ট কিছু সামগ্রীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, কিন্তু জিডিপি ডিফ্লেটর সরকারি ব্যয়, কর্পোরেট বিনিয়োগ এবং আর্থিক ও আর্থিক নয় এমন পরিষেবাসহ সমগ্র অর্থনীতিকে আওতাভুক্ত করে।
খনি ও কোয়ারি ক্ষেত্রের ক্ষেত্রেও প্রকৃত জিভিএ বৃদ্ধি (-২.৪%) শিল্প উৎপাদন সূচকের (IIP) সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। কিন্তু অসংশোধিত পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে (৩৩.৭% থেকে ৭২.২%) বৃদ্ধি পাওয়ায় নমিনাল জিভিএ বৃদ্ধি ২২.৩%-এ পৌঁছেছে।
সংশোধন ও পরিসংখ্যানগত সমন্বয়
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের নমিনাল জিডিপি ৮৬.০৫ লক্ষ কোটি টাকা (২০১১-১২ ভিত্তিবর্ষ) থেকে কমে ৮০.০০ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছানো কোনো কৃত্রিম বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংশোধন নয়। ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তন (২০২২-২৩) এবং নতুন তথ্যের প্রয়োগের ফলেই এই পরিবর্তন হয়েছে। তুলনার উদ্দেশ্যে পুরোনো ২০১১-১২ ধারার হিসাবের সঙ্গে নতুন ২০২২-২৩ ধারার হিসাব সরাসরি তুলনা করা সঠিক নয়। নতুন ধারার প্রথম ত্রৈমাসিকের হিসাবের (৮৮.২৭ লক্ষ কোটি টাকা) সঠিক তুলনা হল পূর্বের ৮০.৩২ লক্ষ কোটি টাকার হিসাবের সঙ্গে।
বর্তমান পরিসংখ্যানগত তারতম্য (discrepancy) উৎপাদন ও ব্যয় পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে আসা একটি সাধারণ বিষয়। চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের সময় এটি স্বাভাবিকভাবেই নগণ্য বা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
তথ্যবিবরণী:
Click here to see pdf
*******
SSS/PK...
(Explainer ID: 159831)
आगंतुक पटल : 5
Provide suggestions / comments